
সংক্ষেপে
বাড়ি সংস্কার, দেয়াল ভাঙা বা নতুন গেট বানানোর সময় বিদ্যুতের মিটার সরাতে হয়। আবার মিটার পুড়ে গেলে বা চুরি হলে বদলাতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গ্রাহকের অনুরোধে মিটার স্থাপন, পরিবর্তন বা স্থানান্তরের ফি এক ফেজে ৩৬০ টাকা আর তিন ফেজে ৮৪০ টাকা, সঙ্গে ভ্যাট। সার্ভিস তার সরাতে হলে আলাদা ফি।
ডেসকোতে আবেদন হয় অনলাইনে, হিসাব নম্বর আর NID দিয়ে। মিটার চুরি বা হারালে থানায় জিডির কপি লাগে। ডেসকোর সেবা প্রতিশ্রুতিতে এলটি গ্রাহকের ক্ষেত্রে সময় ৩ কর্মদিবস। নিজে বা মিস্ত্রি দিয়ে মিটার খুলে সরানো অবৈধ হস্তক্ষেপ হিসেবে ধরা হতে পারে।
মিটার স্থানান্তর, পরিবর্তন, পরীক্ষা আর পরিদর্শনের আবেদন লগইন করে করা যায়।
এই লেখায়
১. মিটার স্থানান্তর ফি আর অন্য সেবার ফি
মিটার নিয়ে অনেকগুলো আলাদা সেবা আছে, আর প্রতিটির ফি আলাদা। কোনটা দরকার তা আগে বুঝে নিলে অফিসে গিয়ে ঘুরতে হয় না। নিচের ফি বিদ্যুৎ বিভাগের ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালের প্রজ্ঞাপনের সারণি থেকে নেওয়া, ডেসকোর অক্টোবর ২০২৬ সালের সেবা প্রতিশ্রুতিতেও একই অঙ্ক।
| সেবা | এক ফেজ | তিন ফেজ |
|---|---|---|
| মিটার বা মিটারিং ইউনিট স্থাপন, পরিবর্তন বা স্থানান্তর | ৩৬০ | ৮৪০ |
| সার্ভিস ড্রপ তার মেরামত, পরিবর্তন বা স্থানান্তর | ২৪০ | ৬০০ |
| গ্রাহকের অনুরোধে মিটার পরীক্ষা | ২৪০ | ৪৮০ |
| গ্রাহকের আঙিনায় মিটার পরিদর্শন | ১৮০ | ৩৬০ |
| প্রিপেইড মিটার কার্ড রি-ইস্যু | ২৪০ | ২৪০ |
এলটিসিটি মিটারে স্থানান্তরের ফি ২,৪০০ টাকা। সব ফির ওপর সরকার নির্ধারিত হারে ভ্যাট যোগ হয়। প্রজ্ঞাপন স্পষ্ট বলেছে, এই সারণির বাইরে অন্য কোনো ফি বা চার্জ নেওয়া যাবে না। কেউ বাড়তি টাকা চাইলে লিখিত রসিদ চান।
একটা উদাহরণ। কামাল সাহেব বাড়ির সামনের দেয়াল ভেঙে গেট বড় করবেন, তাই এক ফেজের মিটার আর সার্ভিস তার দুটোই পাশের দেয়ালে সরাতে হবে। তাঁর সরকারি খরচ মিটার স্থানান্তরে ৩৬০ আর সার্ভিস তার স্থানান্তরে ২৪০, মোট ৬০০ টাকা, সঙ্গে ভ্যাট। নতুন তার বা মিটার বক্স লাগলে সেটার দাম আলাদা।
২. মিটার সরানোর আবেদন: ধাপগুলো
- ১নতুন জায়গা ঠিক করুনমিটার যেখানে বসবে সেখানে রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা আর মিটার রিডারের যাওয়ার পথ আছে কি না দেখুন। নতুন জায়গা পর্যন্ত ওয়্যারিং করিয়ে রাখুন।
- ২অনলাইনে আবেদনডেসকোর গ্রাহক হলে OCSMS-এ লগইন করে হিসাব নম্বর বা মিটার নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করুন, NID-র কপি দিন। ডিপিডিসি বা পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক হলে তাদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র বা অনলাইন ব্যবস্থায় একই তথ্য দিন।
- ৩ফি পরিশোধবিল বা ডিমান্ড নোট এলে অনলাইনে টাকা দিন। ডেসকোর সেবা প্রতিশ্রুতিতে পরিশোধের পদ্ধতি ই-পেমেন্ট।
- ৪কোম্পানির লোক মিটার সরাবেনির্ধারিত দিনে কোম্পানির কর্মী এসে মিটার খুলে নতুন জায়গায় বসাবেন আর সিল দেবেন। ডেসকোর প্রতিশ্রুতিতে এলটি গ্রাহকের জন্য ৩ কর্মদিবস, এলটিসিটি ও এর ওপরের সংযোগে ৫ কর্মদিবস।
- ৫নতুন রিডিং মিলিয়ে নিনসরানোর আগে আর পরে মিটারের রিডিং বা ব্যালেন্সের ছবি তুলে রাখুন, যাতে পরের বিলে গরমিল হলে প্রমাণ থাকে।
ডেসকোর সেবা প্রতিশ্রুতিতে অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে জরিমানা বিল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মিটারের দাম আর এক ফেজে ৭২০ টাকা বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগ ফি দিয়ে তবেই আবার সংযোগ দেওয়ার কথা আছে। মিস্ত্রি দিয়ে মিটার সরানো তাই অনেক বেশি খরচের।
৩. মিটার চুরি, পুড়ে যাওয়া বা নষ্ট হলে
ডেসকোর সেবা প্রতিশ্রুতিতে মিটার পরিবর্তনের পদ্ধতি এভাবে বলা আছে: কোম্পানি মিটার খুলে এনে পরীক্ষা ও যাচাই করে বিল তৈরি করবে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মিটারের দামসহ। মিটার চুরি বা হারালে সেটা যাচাই করা হবে। বিল পরিশোধ আর মিটার জমা দেওয়ার পর সংযোগ দেওয়া হবে; স্টোরে মিটার না থাকলে গ্রাহককে মিটার জমা দিতে হতে পারে।
মিটার চুরি গেলে যা লাগবে
জিডি এখন অনলাইনেও করা যায়, সেই পদ্ধতি আমাদের অনলাইন জিডি নিয়ে লেখায় আছে। মিটার পুড়ে গেলে নিজে তার জোড়া দেবেন না, কোম্পানির জরুরি নম্বরে জানান।
প্রিপেইড মিটারের কার্ড হারালে বা নষ্ট হলে মিটার বদলাতে হয় না, কার্ড রি-ইস্যু করলেই চলে। প্রজ্ঞাপনে এর ফি ২৪০ টাকা, সঙ্গে ভ্যাট। হিসাব বা মিটার নম্বর আর NID নিয়ে কোম্পানির গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে আবেদন করুন। নতুন কার্ড পাওয়া পর্যন্ত মিটারে যে ব্যালেন্স আছে তা দিয়েই বিদ্যুৎ চলে, তাই ব্যালেন্স কমে এলে আগেভাগে আবেদন করুন।
৪. মিটার ঠিক চলছে কি না সন্দেহ হলে
মিটার বদলের আগে অনেক সময় পরীক্ষাই যথেষ্ট। বিল হঠাৎ বেশি এলে মিটার পরীক্ষার আবেদন করা যায়, এক ফেজে ফি ২৪০ টাকা। ডেসকোর প্রতিশ্রুতিতে এক ও তিন ফেজে পরীক্ষার সময় ৩ কর্মদিবস। শুধু আঙিনায় এসে দেখে যেতে বললে পরিদর্শন ফি এক ফেজে ১৮০ টাকা, সময় ২ কর্মদিবস।
বহুতল ভবনের আবাসিক সাব-মিটার বা ফ্ল্যাটের মিটারের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞাপনে বলা আছে, গ্রাহক বা ফ্ল্যাট মালিক সমিতি নির্ধারিত ফিসহ আবেদন করলে বিতরণ কোম্পানি মিটার পরীক্ষা করবে। বিল বেশি আসলে কী করবেন, তা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে।
৫. বাড়ির মালিক আর ভাড়াটিয়া, কে আবেদন করবেন
মিটার যাঁর নামে, আবেদন সাধারণত তাঁকেই করতে হয়, কারণ আবেদনে হিসাব নম্বর আর গ্রাহকের NID লাগে। ভাড়াটিয়া হলে বাড়ির মালিককে দিয়ে আবেদন করান অথবা তাঁর লিখিত সম্মতি নিয়ে রাখুন। মিটার আগের মালিক বা মৃত বাবা-মায়ের নামে থাকলে স্থানান্তরের সঙ্গে নাম পরিবর্তনের কাজটাও সেরে নিন, পদ্ধতি আমাদের মিটারের নাম পরিবর্তন নিয়ে লেখায় আছে।
স্থানান্তরের আগে মিলিয়ে নিন
৬. অনেকে যা জানতে চান
মিটার স্থানান্তর ফি কত?
মিটার পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?
মিটার সরানোর আবেদন কোথায় করব?
পল্লী বিদ্যুৎ মিটার স্থানান্তর ফি কত?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।