
সংক্ষেপে
বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিলে প্রথমে জানুন কেন কাটা হয়েছে, কারণ কারণভেদে খরচ আলাদা। বকেয়া বিলের কারণে কাটা হলে পুরো বকেয়া আর এক ফেজে ৩৬০ টাকা বিচ্ছিন্ন (DC) ও ৩৬০ টাকা পুনঃসংযোগ (RC) ফি, মোট ৭২০ টাকা দিতে হয়। তিন ফেজে মোট ১,৯২০ টাকা। অঙ্কগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের ২০২৪ সালের প্রজ্ঞাপনের, ডেসকোর অক্টোবর ২০২৬ এর সেবা প্রতিশ্রুতিতেও একই।
ডেসকোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা দিয়ে পরিশোধিত কপি ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিসে (OPS) জমা দিলে ১ কর্মদিবসে সংযোগ দেওয়ার কথা। নিজে অনুরোধ করে সংযোগ বন্ধ রাখতে চাইলে ফি কম, এক ফেজে ২৪০ টাকা।
বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগসহ প্রতিটি সেবার কাগজ, ফি আর সময় এখানে দেওয়া আছে।
এই লেখায়
১. কেন বিদ্যুৎ লাইন কাটা হয়
বিতরণ কোম্পানি চার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। কোনটা আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে, তা জানা দরকার। বিলের কাগজে, এসএমএসে বা কোম্পানির নোটিশে সাধারণত কারণ লেখা থাকে। না থাকলে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে হিসাব নম্বর দিয়ে জিজ্ঞেস করুন।
- বকেয়া বিল: পোস্টপেইড মিটারে বিল সময়মতো না দিলে।
- অবৈধ হস্তক্ষেপ: মিটার খোলা, বাইপাস বা অননুমোদিত সংযোগ ধরা পড়লে।
- অতিরিক্ত লোড: টানা ৩ মাস সর্বোচ্চ চাহিদা অনুমোদিত লোডের ১১০% ছাড়ালে নোটিশ, চতুর্থ মাসেও ছাড়ালে ১৫ দিনের নোটিশ দিয়ে।
- গ্রাহকের অনুরোধ: বাড়ি খালি থাকলে বা সংস্কারের সময় নিজে বন্ধ রাখতে চাইলে।
প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স ফুরিয়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। রিচার্জ করলেই বিদ্যুৎ ফেরে, ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের নিয়ম আমাদের প্রিপেইড মিটার নিয়ে লেখায় আছে।
পোস্টপেইড মিটারে বিল বকেয়া পড়েছে কি না নিয়মিত দেখুন। বাসা বদল বা বিদেশে থাকার সময় অনেকের বিল জমে যায়, পরে লাইন কাটা পড়লে বকেয়ার সঙ্গে ফি মিলিয়ে বড় অঙ্ক দিতে হয়।
২. পুনঃসংযোগ ফি কত: কারণভেদে
| কারণ | এক ফেজ | তিন ফেজ | আর যা দিতে হয় |
|---|---|---|---|
| বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগ | ৩৬০ + ৩৬০ = ৭২০ | ৯৬০ + ৯৬০ = ১,৯২০ | সমুদয় বকেয়া বিল |
| অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে | ৭২০ | ১,৯২০ | বকেয়া (থাকলে), ধার্য করা জরিমানা বিল, প্রযোজ্য হলে মিটারের দাম |
| গ্রাহকের অনুরোধে বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগ | ২৪০ + ২৪০ = ৪৮০ | ৪৮০ + ৪৮০ = ৯৬০ | আবেদন |
এমটি ও এইচটি সংযোগে বকেয়াজনিত বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগে মোট ১২,০০০ টাকা। সব ফিতে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট যোগ হয়। প্রজ্ঞাপন বলেছে, এই দুই ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো বিবিধ সেবা দেওয়ার সময় বিচ্ছিন্ন বা পুনঃসংযোগ চার্জ নেওয়া যাবে না।
সেচ পাম্পের গ্রাহক মৌসুম শেষে, আর কৃষিভিত্তিক মৌসুমি ক্ষুদ্র শিল্প মৌসুম শেষে, বিচ্ছিন্ন চার্জ দিয়ে সংযোগ বন্ধ রাখতে পারেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁদের আবার সংযোগ নিতে পুনঃসংযোগ চার্জ লাগে না।
দোকান বা ছোট কারখানার তিন ফেজ সংযোগে হিসাবটা বড় হয়। ধরুন বকেয়া ১৫,০০০ টাকা। তখন ১৫,০০০ টাকার সঙ্গে ৯৬০ টাকা বিচ্ছিন্ন ফি আর ৯৬০ টাকা পুনঃসংযোগ ফি, মোট ১৬,৯২০ টাকা, তার ওপর ভ্যাট। অবৈধ হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে কোম্পানির ধার্য করা জরিমানা বিলও যোগ হয়, যার অঙ্ক ঘটনাভেদে আলাদা।
৩. পুনঃসংযোগের ধাপ
- ১বকেয়ার অঙ্ক জানুনবিলের কপি বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে মোট বকেয়া, বিচ্ছিন্ন ফি আর পুনঃসংযোগ ফির হিসাব নিন। একসঙ্গে সব পরিশোধ না করলে সংযোগ ফেরে না।
- ২অনলাইনে বা ব্যাংকে টাকা দিনডেসকোর সেবা প্রতিশ্রুতিতে পরিশোধের মাধ্যম ই-পেমেন্ট। টাকা দেওয়ার পর রসিদ বা পরিশোধের প্রমাণ নামিয়ে রাখুন।
- ৩পরিশোধিত কপি OPS-এ জমাবকেয়া বিল আর বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগ ফির পরিশোধিত কপি ডেসকোর ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিসে জমা দিন। অন্য কোম্পানিতে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে দিন।
- ৪সংযোগের অপেক্ষাডেসকোর প্রতিশ্রুতিতে বকেয়া বা অবৈধ হস্তক্ষেপ, দুই ক্ষেত্রেই সময় ১ কর্মদিবস। সময় পেরোলে রসিদ নিয়ে আবার যোগাযোগ করুন।
একটা উদাহরণ। মিনা আক্তারের বাসার পোস্টপেইড মিটারে তিন মাসের ৪,২০০ টাকা বকেয়া ছিল, লাইন কেটে দেওয়া হলো। এক ফেজ সংযোগ, তাই তিনি ৪,২০০ টাকা বকেয়া আর ৭২০ টাকা বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগ ফি, সঙ্গে ভ্যাট দিলেন। পরিশোধের কপি জমা দেওয়ার পরের কর্মদিবসে বিদ্যুৎ ফিরল।
৪. নিজে সংযোগ বন্ধ রাখতে চাইলে
বাড়ি অনেক দিন খালি থাকলে বা বড় সংস্কার চললে নিজে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করতে পারেন। ডেসকোর সেবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হিসাব নম্বর আর NID নিয়ে OPS-এ আবেদন করতে হয় আর বিচ্ছিন্ন ফির পরিশোধিত কপি দিতে হয়। পরে চালু করতে পুনঃসংযোগ ফি দেবেন।
বন্ধ রাখার আগে
অতিরিক্ত লোডের কারণে নোটিশ পেলে লাইন কাটার অপেক্ষা না করে লোড বৃদ্ধির আবেদন করুন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী টানা ৩ মাস ১১০% ছাড়ানোর পর নোটিশ আসে, চতুর্থ মাসেও ছাড়ালে ১৫ দিনের নোটিশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এর মধ্যে আবেদন করলে লাইন কাটা আর ৭২০ টাকা ফি দুটোই এড়ানো যায়।
৫. অন্যায়ভাবে লাইন কাটলে কোথায় যাবেন
বিল পরিশোধ করা থাকা সত্ত্বেও লাইন কাটলে পরিশোধের রসিদ নিয়ে প্রথমে কোম্পানির গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিন। প্রজ্ঞাপনের তালিকার বাইরে কেউ ফি চাইলে সেটাও লিখুন। নিষ্পত্তি না হলে সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থায় (জিআরএস) অনলাইনে অভিযোগ করা যায়।
লিখিত অভিযোগে যা রাখবেন
অভিযোগের রিসিভ কপি রাখুন। ডেসকোর সেবা প্রতিশ্রুতিতে প্রতিটি সেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর সময়সীমা লেখা আছে, সময় পেরোলে সেটা উল্লেখ করে পরের ধাপে যান।
৬. অনেকে যা জানতে চান
বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিলে করণীয় কী?
পুনঃসংযোগ ফি কত?
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন কীভাবে করব?
পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নিয়ম কি আলাদা?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।