সংক্ষেপে
ব্যবসা যেখানে, সেখানকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স দেয়: সিটি এলাকায় সিটি করপোরেশন, পৌর এলাকায় পৌরসভা, গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ই-রেভিনিউ পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে আবেদন করা যায়।
লাইসেন্স এক অর্থবছরের (জুলাই থেকে জুন) জন্য, তাই প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। ফি সবার এক নয়, ব্যবসার ধরন ও আকার অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর তফসিলে ঠিক করা থাকে।
ডিএনসিসি এলাকার নতুন ট্রেড লাইসেন্স আর নবায়নের আবেদন এখান থেকে করা যায়।
এই লেখায়
১. কোথা থেকে লাইসেন্স নেবেন
লাইসেন্স নিতে হয় ব্যবসার ঠিকানা ধরে, আপনার বাসার ঠিকানা ধরে নয়। দোকান মিরপুরে হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পুরান ঢাকায় হলে ঢাকা দক্ষিণ। জেলা বা উপজেলা শহরে পৌরসভা, আর গ্রামের বাজারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ লাইসেন্স দেয়।
ঢাকার দুই সিটির ই-রেভিনিউ পোর্টালে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট আর বরিশাল সিটি করপোরেশন বেছে নেওয়ার ঘরও আছে। তবে নিজের সিটি, পৌরসভা বা ইউনিয়নে অনলাইনে আবেদন চালু আছে কি না, সেখানকার রাজস্ব বা লাইসেন্স শাখায় নিশ্চিত হয়ে নিন।
২. যে কাগজগুলো লাগে
আবেদনের আগে গুছিয়ে নিন
তালিকাটি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সেবা পাতা থেকে নেওয়া। পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদে কাগজ কিছুটা কম-বেশি লাগতে পারে, ফরম নেওয়ার সময়ই তালিকাটা জেনে নিন।
কিছু ব্যবসায় স্বাস্থ্য বিভাগ বা অন্য বিভাগের তদন্ত লাগে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনসংবেদনশীল ব্যবসার লাইসেন্স যাচাইয়ের পর দেওয়া হয়, ঢাকা দক্ষিণে এমন তদন্তে ৭ দিন পর্যন্ত লাগে।
৩. ঢাকা উত্তর সিটিতে অনলাইনে আবেদন
- ১পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুনঢাকা উত্তর সিটির ই-রেভিনিউ পোর্টালে গিয়ে CREATE ONE থেকে নতুন ইউজার খুলুন। একই অ্যাকাউন্ট থেকে পরে নবায়নও করবেন।
- ২আবেদন করে কাগজ আপলোড করুনট্রেড লাইসেন্সের ফরম পূরণ করে কাগজগুলো নির্ধারিত ফরম্যাটে আপলোড করুন।
- ৩যাচাই আর ফির বার্তালাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার কাগজ যাচাই করে অনুমোদনের জন্য পাঠান। অনুমোদন হলে ফি দেওয়ার জন্য SMS আর ইমেইল আসে।
- ৪ফি দিয়ে লাইসেন্স প্রিন্ট করুনফি দেওয়ার পর নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে লাইসেন্স প্রিন্ট করতে পারবেন, ছাপা কপি ডাক বা কুরিয়ারেও পাঠানো হয়। সিটির তথ্য অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা বাদে বাকি লাইসেন্স এখন পেমেন্টের সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয়। সেবার নির্ধারিত সময় ৩ কর্মদিবস।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ই-রেভিনিউ পোর্টালেও অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন করা যায়। কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন করতে চাইলে দক্ষিণ সিটিতে নির্ধারিত ‘কে’ ফরমে ৩ কপি ছবি, ভাড়ার চুক্তিপত্র, ভাড়ার রসিদ আর কর পরিশোধের রসিদসহ কর কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হয়। লাইসেন্স সুপারভাইজার সরেজমিনে দেখে ঠিক পেলে লাইসেন্স দেওয়া হয়, সাধারণত ৩ দিনে।
৪. প্রতি অর্থবছরে নবায়ন
ট্রেড লাইসেন্স চলে অর্থবছর ধরে, ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন। সময়মতো নবায়ন না করলে পরে বকেয়া ফির সঙ্গে সারচার্জ যোগ হতে পারে। সারচার্জ ছাড়া নবায়নের শেষ তারিখ সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, কখনো সময়ও বাড়ায়।
- ১আগের অ্যাকাউন্টে লগইন করুনঢাকা উত্তর সিটিতে আগের ইউজার থেকেই নবায়নের আবেদন করতে হয়। প্রথমবার অনলাইনে নবায়ন করলে হাতে লেখা পুরোনো লাইসেন্সটি আপলোড করতে হয়।
- ২অনুমোদনের পর ফি দিনযাচাই শেষে ফি দেওয়ার SMS আসে। ফি দিলে নবায়ন করা লাইসেন্স প্রিন্ট করা যায়, নির্ধারিত সময় ২ কর্মদিবস।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির সেবা পাতায় লেখা আছে, লাইসেন্স বইয়ের সঙ্গে থাকা নবায়নের চালানে সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় ফি জমা দিয়েও নবায়ন করা যায়। ২০২৬ সালের আগস্টে দক্ষিণ সিটি আর ঢাকা চেম্বার মিলে পাঁচ দিনের বিশেষ বুথে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নবায়ন করিয়েছে, এমন সুযোগের খবর সিটির ওয়েবসাইটে আসে।
৫. ফি কত, জানবেন কীভাবে
ট্রেড লাইসেন্সের কোনো একক ফি নেই। সিটি করপোরেশনে ফি ঠিক হয় ‘সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬’ অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন দেখে। পৌরসভা আর ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কর তফসিল আছে।
- লাইসেন্স ফির সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নির্ধারিত কিছু চার্জ যোগ হয়ে মোট অঙ্ক বাড়ে।
- অনলাইনে আবেদন করলে অনুমোদনের পর পোর্টাল থেকেই কত দিতে হবে তা জানানো হয়।
- কার্যালয়ে টাকা দিলে রসিদ নিন, ব্যাংকে বা অনলাইনে দিলে জমার রসিদ রেখে দিন। পরের বছর নবায়নে কাজে লাগবে।
ভুয়া কাগজে ট্রেড লাইসেন্স অনুমোদন হয়ে যাওয়ার খবরও এসেছে। নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে নিজে আবেদন করুন, NID বা দলিলের কপি অচেনা কারও কাছে রেখে আসবেন না।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ট্রেড লাইসেন্স পেতে কত দিন লাগে?
নবায়ন করতে ভুলে গেলে কী হবে?
ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সে কী লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।