
সংক্ষেপে
বিল বেশি মনে হলে আগে মিটারের বর্তমান রিডিংয়ের ছবি তুলে বিলের রিডিংয়ের সঙ্গে মেলান, আর দেখুন বিদ্যুতের নতুন দাম আপনার বিলে কতটা প্রভাব ফেলেছে। জুন ২০২৬ বিল মাস থেকে নতুন দাম কার্যকর, বিদ্যুৎ বিভাগও বলেছে বেশি ব্যবহারে অনেকে উঁচু ধাপে চলে গেছেন, আর কিছু ক্ষেত্রে দাপ্তরিক ভুল পাওয়া গেছে।
গরমিল পেলে নিজের বিতরণ কোম্পানিতে বিল সংশোধনের আবেদন করুন। সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী এটি বিনা মূল্যে হয়: ডেসকোতে ৫ কর্মদিবস, ডিপিডিসি ও বিউবোতে ৩ কর্মদিবস। মিটারে সন্দেহ হলে মিটার টেস্টের আবেদন করা যায়, সিঙ্গেল ফেজে ফি ২৪০ টাকা।
ডেসকোর গ্রাহকেরা এখানে লগইন করে বিল সংশোধন আর মিটার টেস্টের আবেদন করতে পারেন।
এই লেখায়
১. বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার কারণ: আগে যা মিলিয়ে দেখবেন
জুন ২০২৬-এর বিল নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিদ্যুৎ বিভাগ ৬ জুলাই ব্যাখ্যা দিয়েছিল। তাদের ভাষ্য, নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর হয়েছে, তাপপ্রবাহ, ঈদ আর বিশ্বকাপের সময় ব্যবহার বেড়ে অনেকে উঁচু দামের ধাপে চলে গেছেন। মিটারের কারিগরি ত্রুটিকে তারা কারণ মানেনি, তবে কিছু ক্ষেত্রে দাপ্তরিক ভুল পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
অভিযোগের আগে মিলিয়ে নিন
বিউবোর সিটিজেন চার্টারেও গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া আছে, বিলে দেখানো ইউনিট মিটারের ইউনিটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, গরমিল হলে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করুন। ডেসকো জানিয়েছে, তাদের এলটি গ্রাহকদের মিটার রিডিং সাধারণত প্রতি মাসের ৫ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে নেওয়া হয়।
২. বিদ্যুৎ বিল রেট ২০২৬: আবাসিক গ্রাহকের ইউনিটের দাম
| মাসে ব্যবহার (ধাপ) | প্রতি ইউনিট (টাকা) |
|---|---|
| লাইফলাইন: ০ থেকে ৫০ ইউনিট | ৪.৬৩ |
| প্রথম ধাপ: ০ থেকে ৭৫ ইউনিট | ৫.২৬ |
| দ্বিতীয় ধাপ: ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট | ৮.৫০ |
| তৃতীয় ধাপ: ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট | ৯.১০ |
| চতুর্থ ধাপ: ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট | ৯.৬২ |
| পঞ্চম ধাপ: ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট | ১৫.০১ |
| ষষ্ঠ ধাপ: ৬০১ ইউনিটের বেশি | ১৭.৩৫ |
এই হার ডিপিডিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া, বিল মাস জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর। এর সঙ্গে আবাসিক গ্রাহকের ডিমান্ড চার্জ প্রতি কিলোওয়াট মাসে ৪২ টাকা। দাম বাড়ানোর পরদিন, ৪ জুন, বিইআরসি লাইফলাইন আর প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দাম প্রত্যাহার করে। ৪০০ ইউনিট পেরোলেই প্রতি ইউনিটের দাম এক লাফে ১৫ টাকার ওপরে চলে যায়, তাই গরমের মাসে বিল হঠাৎ অনেক বেড়ে যেতে পারে।
৩. পোস্টপেইড বিল ভুল হলে: বিল সংশোধনের আবেদন
- ১প্রমাণ গুছিয়ে নিনবিলের কপি, মিটার রিডিংয়ের ছবি আর হিসাব বা কাস্টমার নম্বর হাতে নিন।
- ২নিজের কোম্পানিতে আবেদন করুনডেসকোতে OCSMS-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করে বিলের স্ক্যান কপি, হিসাব নম্বর আর মাসের নাম দিয়ে জমা দিন, অথবা ফোন বা ইমেইলে ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিসে জানান। ডিপিডিসির অনলাইন অভিযোগ ফরমে ‘ভুল বিল’ বা ‘মিটারের সাথে বিলের রিডিং মিল নাই’ বেছে নিন। বিউবোর ওয়েবসাইটে এলটি বিল সংশোধনের ফরম আছে, আর পল্লী বিদ্যুতে সমিতির ‘এক অবস্থানে সেবা’ কাউন্টারে আবেদন করা যায়।
- ৩অফিস রিডিং যাচাই করবেডেসকোর চার্টার অনুযায়ী অভিযোগ পাওয়ার পর বাসায় গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া হয়, দরকার হলে মিটার পরীক্ষা হয়, তারপর সংশোধিত বিল দেওয়া হয়।
- ৪সংশোধিত বিল দিননতুন বিল এলে সেটি পরিশোধ করুন। বিতর্কিত বিলের টাকা দেওয়ার আগে অফিস থেকে জেনে নিন সংযোগ বা বিলম্ব মাশুল নিয়ে কোনো ঝুঁকি আছে কি না।
| কোম্পানি | বিল সংশোধনের সময় | খরচ |
|---|---|---|
| ডেসকো | ৫ কর্মদিবস | বিনা মূল্যে |
| ডিপিডিসি | ৩ কর্মদিবস | বিনা মূল্যে |
| বিউবো | ৩ কর্মদিবস | বিনা মূল্যে |
| পল্লী বিদ্যুৎ (ঢাকা পবিস-১-এর চার্টার) | বিল বিষয়ক অভিযোগ ৩ কার্যদিবস | চার্টার দেখুন |
৪. মিটারে সন্দেহ হলে মিটার টেস্ট
রিডিং ঠিক আছে অথচ ব্যবহারের তুলনায় ইউনিট অস্বাভাবিক বেশি মনে হলে মিটার পরীক্ষার আবেদন করতে পারেন। ডেসকো, বিউবো আর ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর চার্টারে ফি একই: সিঙ্গেল ফেজ ২৪০ টাকা, থ্রি ফেজ ৪৮০ টাকা, এলটিসিটি ৭২০ টাকা। ডিপিডিসির চার্টারে একই অঙ্কের সঙ্গে ১৫% ভ্যাট যোগ হয়।
ডেসকোতে মিটার টেস্টের আবেদন OCSMS থেকে করতে হয়, হিসাব বা মিটার নম্বর আর NID-র কপি দিয়ে। সিঙ্গেল ও থ্রি ফেজ মিটার পরীক্ষায় সময় ৩ কর্মদিবস। মিটার আপনার বাসায় অথবা খুলে নিয়ে মিটার পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়।
৫. প্রিপেইড মিটারে টাকা বেশি কাটলে
ডিপিডিসি ৩১ আগস্ট ২০২৬ জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটারে প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বেশি টাকা কাটার সুযোগ নেই। মাসে একবার অনুমোদিত লোড অনুযায়ী ডিমান্ড চার্জ কাটে, কোম্পানির মিটার হলে ভাড়া সিঙ্গেল ফেজে ৪০ টাকা আর থ্রি ফেজে ২৫০ টাকা, প্রতি রিচার্জে ৫% ভ্যাট। কোনো মাসে রিচার্জ না করলে সে মাসের চার্জ পরের রিচার্জে একসঙ্গে কাটে, তাই সেই রিচার্জে মিটারে কম টাকা যায়।
এর বাইরে অস্বাভাবিক কাটা হলে কমন নিউট্রালের মতো কারিগরি ত্রুটি থাকতে পারে বলে ডিপিডিসি জানিয়েছে। মিটার নম্বর আর কাস্টমার নম্বর নিয়ে ১৬১১৬-তে ফোন করুন, অথবা ডিপিডিসির অভিযোগ ফরমে ‘প্রি পেইড (মিটারে টাকা বেশি কাটছে)’ বেছে নিন। অন্য কোম্পানির গ্রাহক হলে নিজের হটলাইনে একই তথ্য দিন।
৬. বিদ্যুৎ বিল বেশি আসলে অভিযোগ কোথায় করবেন
| কোম্পানি | হটলাইন |
|---|---|
| বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা | ১৬৯৯৯ |
| বিউবো (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) | ১৬২০০ |
| পল্লী বিদ্যুৎ | ১৬৮৯৯ |
| ডিপিডিসি | ১৬১১৬ |
| ডেসকো | ১৬১২০ |
| নেসকো | ১৬৬০৩ |
| ওজোপাডিকো | ১৬১১৭ |
- নির্ধারিত সময়ে সমাধান না পেলে কোম্পানির চার্টারে দেওয়া অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার কাছে যান, তারপর আপিল কর্মকর্তা।
- সরকারি সেবার অভিযোগের জাতীয় ব্যবস্থা জিআরএসেও অভিযোগ করা যায়, এর লিংক ডেসকো ও বিউবোর ওয়েবসাইটে আছে।
- শেষ ধাপ হিসেবে বিইআরসিতে লাইসেন্সি ও ভোক্তার বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন করা যায়। দুই পক্ষের শুনানি শেষে সালিসে নিষ্পত্তি হয়, সময় ১ থেকে ৬ মাস। দশ লাখ টাকা পর্যন্ত বিরোধে প্রাথমিক সভার ফি ৫,০০০ আর প্রশাসনিক ফি ১০,০০০ টাকা।
বিল সংশোধন বিনা মূল্যের সেবা। কেউ বিল কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে দেবেন না, লিখিত আবেদন বা অনলাইন অভিযোগের নম্বর রেখে দিন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসলে করণীয় কী?
পল্লী বিদ্যুৎ বিল বেশি আসলে করণীয় কী?
বিদ্যুৎ বিলের ইউনিট কত টাকা করে?
মিটার টেস্ট করতে কত টাকা লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।