
সংক্ষেপে
ঢাকায় ভিডিও বা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া মামলার নোটিশ ডিএমপির ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যার থেকে তৈরি হয়ে রেজিস্ট্রি ডাকে গাড়ির মালিক বা চালকের ঠিকানায় যায়। দরকার হলে এসএমএস পাঠানো হয় শুধু ০১৩২০-০৪২২০৭ আর ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ডিএমপির ওয়েবসাইটে সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক মামলা খোঁজার কোনো পাতা আমরা পাইনি।
নোটিশ পেলে ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে গিয়ে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়, অনলাইন ব্যাংকিংয়ে উপায় ও সিবিবিএলের মাধ্যমেও। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে টাকা দিলে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, না দিলে আদালতে অভিযোগ যায়।
ট্রাফিক বিভাগের যোগাযোগ আর বিজ্ঞপ্তি ডিএমপির ওয়েবসাইটে।
এই লেখায়
১. ট্রাফিক মামলা চেক: মামলার খবর আসে কোন পথে
রাস্তায় সার্জেন্ট মামলা দিলে অভিযোগের একটি কপি সঙ্গে সঙ্গে আপনার হাতে দেওয়ার কথা, সড়ক পরিবহন আইনের ধারা ১০৮-এ এটি বলা আছে। কিন্তু ক্যামেরায় ধরা পড়া আইন ভাঙার খবর আপনি নোটিশ আসার আগে হয়তো জানতেই পারবেন না। ডিএমপির ৩ মে ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি আর ২৫ মে-র সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে পথগুলো এমন:
| কোথায় ধরা পড়ল | খবর কীভাবে আসে | জরিমানা কোথায় |
|---|---|---|
| ঢাকা শহরে, সার্জেন্টের সামনে | অভিযোগের কপি হাতে দেওয়া হয়, সই বা টিপসই দিয়ে নিতে হয় | কপিতে লেখা স্থান ও তারিখ অনুযায়ী |
| ঢাকা শহরে, ভিডিও বা সিসিটিভি ক্যামেরায় | ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকে, দরকারে ০১৩২০-০৪২২০৭ বা ০১৩২০-০৪২২২৭ থেকে এসএমএস | ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে |
| ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে, হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরায় | গাড়ির নিবন্ধনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস (১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে) | নির্ধারিত মোবাইল আর্থিক সেবায়, যেমন বিকাশ ও নগদ |
নোটিশ যায় গাড়ির মালিকের ঠিকানায়, মহাসড়কের এসএমএস যায় নিবন্ধনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে। গাড়ি কেনার পর মালিকানা বদল না করলে নোটিশ আগের মালিকের কাছে চলে যেতে পারে।
২. ট্রাফিক মামলা ভাঙ্গানোর নিয়ম: জরিমানা পরিশোধের ধাপ
- ১নোটিশ বা কপি মিলিয়ে নিনগাড়ির নম্বর, তারিখ, স্থান আর অপরাধের বিবরণ মিলিয়ে দেখুন। রেজিস্ট্রি ডাকের খাম আর নোটিশ দুটোই রেখে দিন।
- ২ট্রাফিক বিভাগে যানডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিরা ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে গিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করছেন। নোটিশ, গাড়ির কাগজ আর নিজের NID সঙ্গে নিন।
- ৩জরিমানা দিননির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া যায়। ডিএমপি জানিয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিংয়ে উপায় আর সিবিবিএলের মাধ্যমেও টাকা দেওয়া যায়।
- ৪রসিদ রাখুন, কাগজ ফেরত নিনপরিশোধের রসিদ বা লেনদেনের নম্বর সংরক্ষণ করুন। সার্জেন্ট কোনো কাগজ জব্দ করে থাকলে কোথা থেকে, কবে ফেরত পাবেন, তা ট্রাফিক বিভাগ থেকে জেনে নিন।
জরিমানা কত হবে, তা ঠিক করেন ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, আইনের ভাষায় ‘যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ’। নিচের টেবিলের অঙ্ক আইনের সর্বোচ্চ সীমা, প্রতিটি মামলায় এত টাকা দিতে হবে এমন নয়।
৩. সময়মতো জরিমানা না দিলে কী হয়
- ধারা ১০৮(২): নির্দিষ্ট তারিখে বা তার আগে নির্ধারিত স্থানে জরিমানা দিলে ওই অপরাধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
- ধারা ১০৮(৩): জরিমানা না দিলে পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন এলাকার ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) প্রতিবেদন পেয়ে উপযুক্ত আদালতে অভিযোগ দায়ের করবেন।
- ধারা ১০৮(৪): অভিযোগের কপি বা প্রাপ্তি রসিদ নিতে অস্বীকার করলে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করা যায়, আর আদালত দোষী পেলে মূল দণ্ডের সঙ্গে আরও ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে।
কত দিনের মধ্যে টাকা দিতে হবে, আইনে দিনের সংখ্যা লেখা নেই, নোটিশ বা অভিযোগের কপিতে তারিখ দেওয়া থাকে। সেই তারিখ পেরোনোর আগেই নিষ্পত্তি করুন।
৪. ট্রাফিক মামলার জরিমানা ২০২৬: সড়ক পরিবহন আইনে সর্বোচ্চ কত
| অপরাধ | ধারা | সর্বোচ্চ দণ্ড |
|---|---|---|
| লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো | ৬৬ | ৬ মাস কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় |
| নিবন্ধন ছাড়া গাড়ি | ৭২ | ৬ মাস বা ৫০ হাজার টাকা |
| ফিটনেস সনদ নেই বা মেয়াদোত্তীর্ণ | ৭৫ | ৬ মাস বা ২৫ হাজার টাকা |
| ট্যাক্স টোকেন নেই বা মেয়াদোত্তীর্ণ | ৭৬ | ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড |
| ট্রাফিক সংকেত বা সাইন অমান্য | ৮৫ | ১ মাস বা ১০ হাজার টাকা, চালকের ১ পয়েন্ট কাটা |
| উল্টো পথে চালানো, হেলমেট না পরা (চালক ও সহযাত্রী) | ৯২(১) | ৩ মাস বা ১০ হাজার টাকা, চালকের ১ পয়েন্ট কাটা |
| চালানোর সময় মোবাইল ফোন, সিটবেল্ট না বাঁধা | ৯২(২) | ১ মাস বা ৫ হাজার টাকা, চালকের ১ পয়েন্ট কাটা |
| নির্ধারিত জায়গার বাইরে পার্কিং | ৯০ | ৫ হাজার টাকা, চালকের ১ পয়েন্ট কাটা |
আইনের ধারা ১১ অনুযায়ী প্রত্যেক ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২ পয়েন্ট থাকে, অপরাধে পয়েন্ট কাটা যায়। ইত্তেফাকের ১১ মে ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী ডিএমপি গাড়িচালকদের পয়েন্ট কাটা শুরু করেছে। একই অপরাধ আবার করলে ধারা ১০০ অনুযায়ী সর্বোচ্চ দণ্ড দ্বিগুণ হতে পারে।
৫. ট্রাফিক মামলার ভুয়া এসএমএস থেকে সাবধান
২০২৬ সালের মে মাসে ট্রাফিক জরিমানার নামে ভুয়া এসএমএস ছড়ানোর পর ডিএমপি জানিয়েছে, এসব বার্তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কখনো কারও কাছে পিন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি চায় না।
এসএমএস পেলে মিলিয়ে নিন
৬. অনেকে যা জানতে চান
traffic mamla check online করা যায়?
ট্রাফিক মামলার জরিমানা অনলাইনে দেওয়া যায়?
ট্রাফিক আইনে হেলমেট না পরলে জরিমানা কত?
জরিমানা না দিলে কী হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।