দৈনন্দিন সেবা

ড্রাইভিং লাইসেন্স: শিক্ষানবিশ থেকে স্মার্ট কার্ড

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৭ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬eticket.railway.gov.bd

সংক্ষেপে

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন এখন BRTA সার্ভিস পোর্টালে (BSP) নিজের NID দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্ট থেকে করতে হয়। প্রথমে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নেবেন, নির্ধারিত দিনে লিখিত, মৌখিক ও মাঠ পরীক্ষা দেবেন, পাস করলে ফি দিয়ে স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের আবেদন করবেন।

BRTA-র ওয়েবসাইটে দেওয়া হিসাবে শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের ফি এক শ্রেণির জন্য ৫১৮ টাকা। স্মার্ট কার্ডের ফি অপেশাদারের জন্য ৪,৪৯৭ টাকা আর পেশাদারের জন্য ২,৭৭২ টাকা, ডাকে কার্ড পেতে আরও ৬০ টাকা।

BRTA সার্ভিস পোর্টালে যান

অ্যাকাউন্ট খোলা, আবেদন, ফি পরিশোধ, পরীক্ষার ফল আর ফি ক্যালকুলেটর এই পোর্টালেই।

BSP খুলুন
এই লেখায়
  1. কারা আবেদন করতে পারেন, কী কী লাগে
  2. শিক্ষানবিশ লাইসেন্স থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত
  3. পাস করার পর স্মার্ট কার্ড
  4. আবেদন বা লাইসেন্সের অবস্থা দেখবেন যেভাবে
  5. মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. কারা আবেদন করতে পারেন, কী কী লাগে

অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর, পেশাদারের জন্য ২১ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস, আর শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

আবেদনের সময় যা আপলোড করবেন

BRTA জানিয়েছে, অনলাইন আবেদনে ভুয়া তথ্য দিলে শিক্ষানবিশ আর স্মার্ট কার্ড দুটো লাইসেন্সই বাতিল হবে, সঙ্গে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না।

২. শিক্ষানবিশ লাইসেন্স থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত

  • ১
    BSP-তে অ্যাকাউন্ট খুলুনBRTA সার্ভিস পোর্টালে নিজের NID দিয়ে নিবন্ধন করুন। প্রোফাইলে বিভাগ, জেলা আর থানা ঠিকভাবে দিন, কারণ এই থানা দেখেই আপনার আবেদন কোন BRTA সার্কেল অফিসে যাবে তা ঠিক হয়। এক অ্যাকাউন্ট থেকে শুধু সেই NID-ধারীর আবেদনই করা যায়।
  • ২
    আবেদন করে ফি দিনকাগজ আপলোড করে অনলাইনে ফি দিন। এক শ্রেণির (যেমন শুধু কার) জন্য ৫১৮ টাকা, দুই শ্রেণির (যেমন কার ও মোটরসাইকেল) জন্য ৭৪৮ টাকা। শিক্ষানবিশ লাইসেন্স সিস্টেম থেকেই প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।
  • ৩
    প্রশিক্ষণ নিনশিক্ষানবিশ লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো শেখা যায়। BRTA-র নির্দেশনায় দুই-তিন মাস প্রশিক্ষণের পর নির্ধারিত তারিখ, সময় আর কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলা আছে।
  • ৪
    পরীক্ষার দিনমূল শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, দরকারি কাগজ আর লিখিত পরীক্ষার জন্য কলম নিয়ে নিজে কেন্দ্রে যান। আপনার আঙুলের ছাপ NID সার্ভারের সঙ্গে মিললে তবেই পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা হয় তিন ভাগে: লিখিত, মৌখিক আর মাঠে গাড়ি চালিয়ে।
  • ৫
    ফল জানুনBRTA সর্বোচ্চ এক কর্মদিবসের মধ্যে ফল অনলাইনে দেয় আর SMS-এ জানায়। BSP-র হোম পেজে ড্রাইভিং পরীক্ষার (ডিসিটিসি) ফলাফল অংশেও দেখা যায়।

৩. পাস করার পর স্মার্ট কার্ড

  • ১
    স্মার্ট কার্ডের ফি দিনBSP অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে ফি দিন। পাস বা ফেলের সিলসহ শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের স্ক্যান কপি আপলোড করুন। আগে কোনো কাগজ ঠিকমতো না দিয়ে থাকলে সেটিও বাড়তি সংযুক্তি হিসেবে দিন।
  • ২
    অনুমোদন আর অস্থায়ী কাগজকাগজ আর ফি ঠিক থাকলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয়। তখন অ্যাকাউন্টে একটি অস্থায়ী অনুমতিপত্র (Temporary authorization) প্রিন্টের সুযোগ আসে। স্মার্ট কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এটি প্রিন্ট করে ল্যামিনেট করে গাড়ি চালানোর সময় সঙ্গে রাখুন।
  • ৩
    কার্ড আসে ডাকেকার্ড ছাপা শেষ হলে আবেদনে দেওয়া ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হয়। তাই ঠিকানা লেখায় ভুল রাখবেন না।
ফির খাতটাকা
শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, ১ শ্রেণি৫১৮
শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, ২ শ্রেণি৭৪৮
স্মার্ট কার্ড, অপেশাদার (মেয়াদ ১০ বছর)৪,৪৯৭
স্মার্ট কার্ড, পেশাদার (মেয়াদ ৫ বছর)২,৭৭২
ডাকযোগে কার্ড পাঠানো৬০

অঙ্কগুলো BRTA-র ওয়েবসাইটের ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া’ পাতা থেকে নেওয়া। ফি দিতে হয় মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং বা অন্য অনলাইন গেটওয়েতে, ব্যাংকের কাউন্টারে গিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। টাকা দেওয়ার আগে BSP-র ফি ক্যালকুলেটরে মিলিয়ে নিন।

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স

BRTA মোবাইলে দেখানোর মতো ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করেছে, যা QR কোডে যাচাই করা যায়। BSP থেকে এটি পাওয়ার ছবিসহ টিউটোরিয়াল BRTA-র ওয়েবসাইটের অনলাইন সেবা অংশে আছে।

৪. আবেদন বা লাইসেন্সের অবস্থা দেখবেন যেভাবে

  • BSP-তে লগইন করলে ড্যাশবোর্ডে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়।
  • BSP-র হোম পেজের ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাইকরণ’ অংশ থেকে লাইসেন্সের তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়।
  • ফি জমা হয়েছে কি না, BSP-র ‘পেমেন্ট যাচাইকরণ’ অংশে দেখুন।
  • BRTA-র ওয়েবসাইটে ‘বিআরটিএ সেবা’ আর ‘ডিএল চেকার’ অ্যাপের লিংক দেওয়া আছে। অন্য কোনো অ্যাপে NID বা লাইসেন্স নম্বর দেবেন না।

স্মার্ট কার্ড ছাপায় আগে বড় জট তৈরি হওয়ার খবর এসেছে। কার্ড আসতে দেরি হলে অনুমোদনের অস্থায়ী কাগজ বা ই-লাইসেন্স সঙ্গে রাখুন, আর নিজের সার্কেল অফিসে খোঁজ নিন।

৫. মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন

নবায়নের আবেদনও BSP থেকে করা যায়। ফি জমার পর নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে গিয়ে ডিজিটাল ছবি, সই আর আঙুলের ছাপ দিতে হয়। পেশাদার লাইসেন্সধারীকে নবায়নের আগে আবার একটি ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হয়।

লাইসেন্সমেয়াদ শেষের ১৫ দিনের মধ্যে১৫ দিন পেরোলে
অপেশাদার৪,১৫২ টাকাএর সঙ্গে প্রতি বছরের জন্য ৫১৮ টাকা জরিমানা
পেশাদার২,৪২৭ টাকাএর সঙ্গে প্রতি বছরের জন্য ৫১৮ টাকা জরিমানা

নবায়নের এই অঙ্ক BRTA-র নবায়ন পাতায় দেওয়া, পাতাটি শেষ হালনাগাদ হয়েছে ২০২৩ সালে। ডাকে কার্ড পাঠানোর ৬০ টাকা আলাদা যোগ হতে পারে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করলে জরিমানার ঝামেলা থাকে না।

নবায়নে যা লাগে

৬. অনেকে যা জানতে চান

পেশাদার মাঝারি বা ভারী লাইসেন্স কখন পাওয়া যায়?
BRTA-র নিয়মে আগে পেশাদার হালকা লাইসেন্স নিতে হয়। তা অন্তত ৩ বছর ব্যবহারের পর মাঝারি, আর মাঝারি লাইসেন্স পাওয়ার অন্তত ৩ বছর পর ভারী লাইসেন্সের আবেদন করা যায়।
দালাল ধরলে কি লাইসেন্স তাড়াতাড়ি হয়?
আবেদন আর ফি পুরোটাই অনলাইনে, পরীক্ষা নেওয়া হয় আপনার আঙুলের ছাপ মিলিয়ে। তাই কাউকে বাড়তি টাকা দেওয়ার দরকার নেই। কেউ পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বললে এড়িয়ে চলুন, ভুয়া তথ্যে পাওয়া লাইসেন্স বাতিল হয়।
শিক্ষানবিশ লাইসেন্স দিয়ে কি একা গাড়ি চালানো যায়?
শিক্ষানবিশ লাইসেন্স দেওয়া হয় শেখার জন্য। চূড়ান্ত লাইসেন্স বা অনুমোদনের অস্থায়ী কাগজ হাতে পাওয়ার আগে একা রাস্তায় গাড়ি চালাবেন না, প্রশিক্ষকের সঙ্গে অনুশীলন করুন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

দৈনন্দিন সেবা নিয়ে আরও লেখা

পুরো বিভাগ

অনেকে খোঁজেন