দৈনন্দিন সেবা

মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৬: মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে মাসে ৮৫০ টাকা, ৩৬ মাস, কারা পাবেন আর আবেদন যেভাবে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬dwa.gov.bd
মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৬: মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে মাসে ৮৫০ টাকা, ৩৬ মাস, কারা পাবেন আর আবেদন যেভাবে

সংক্ষেপে

মাতৃত্বকালীন ভাতা এখন চলে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP) নামে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একজন মা মাসে ৮৫০ টাকা পান, মোট ৩৬ মাস, আর উপকারভোগী ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন।

আবেদন করা যায় প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভাবস্থায়, বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছর হলে। আবেদন নেওয়া হয় প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, ইউনিয়ন বা পৌরসভার ডিজিটাল সেন্টারে, অনলাইনে। নিজের নামে NID আর ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থাকতে হবে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর

মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির নির্দেশিকা আর নোটিশ অধিদপ্তরের সাইটে পাওয়া যায়।

অধিদপ্তরের সাইট
এই লেখায়
  1. মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা ২০২৬
  2. মাতৃত্বকালীন ভাতা কারা পাবে
  3. মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইন আবেদন যেভাবে
  4. মাতৃত্বকালীন ভাতা কবে দিবে, টাকা আসে কীভাবে
  5. বিশেষ অবস্থায় কী হয়
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা ২০২৬

আগে গ্রামের দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা আর শহরের কর্মজীবী মায়েদের জন্য ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল আলাদা চলত। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে দুটি মিলিয়ে একটি কর্মসূচি করা হয়েছে, নাম মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি। লোকমুখে অবশ্য এখনো মাতৃত্বকালীন ভাতা নামই চলে।

বিষয়২০২৬-২৭ অর্থবছর
মাসিক ভাতা৮৫০ টাকা
মেয়াদ৩৬ মাস
উপকারভোগী১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন (আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার বেশি)
টাকা আসেমায়ের নিজের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবে

উপকারভোগীর সংখ্যা আর ৮৫০ টাকার হার জানা গেছে জানুয়ারি ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার পর বাসসের প্রতিবেদন থেকে। নির্দেশিকা অনুযায়ী সহায়তার মেয়াদ সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে বাড়াতে পারে।

২. মাতৃত্বকালীন ভাতা কারা পাবে

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৪-এ ছয়টি আবশ্যিক শর্ত দেওয়া আছে। সব জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা আর সিটি করপোরেশন এলাকা এবং সরকার নির্ধারিত কারখানা বা গার্মেন্টসের নারীরা এর আওতায়।

  1. বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছর।
  2. শুধু প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণ। তৃতীয় সন্তানের সময় আবেদন করা যায় না।
  3. জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, NID ছাড়া কেউ নিবন্ধিত হবেন না।
  4. গর্ভধারণ নিশ্চিত করতে গর্ভকালীন সেবা কার্ড (Antenatal Care Card) থাকতে হবে।
  5. নিজের নামে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব থাকতে হবে।
  6. ভাতা নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা কারখানা এলাকায় বসবাস করতে হবে।

এরপর অগ্রাধিকার ঠিক হয় পরিবারের দারিদ্র্য দেখে। গ্রামে যেমন খানাপ্রধান রিকশা বা ভ্যানচালক, দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক, জেলে বা কুলি হলে, পরিবারের নিজস্ব শৌচাগার, বিদ্যুৎ বা টিউবওয়েল না থাকলে, ঘরের দেয়াল পাটখড়ি, বাঁশ বা টিনের হলে, কিংবা বসতভিটা ও চাষের জমি মিলিয়ে ১৫ শতক বা কম হলে। শহরে অগ্রাধিকার পান গার্মেন্টস কর্মী আর গৃহকর্মী নারী, এবং যেসব পরিবারে আলাদা রান্নাঘর, স্মার্টফোন বা টেলিভিশন নেই, অথবা যারা সাবলেটে ভাড়া থাকেন। প্রতিবন্ধী নারী আর আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা গর্ভবতী নারীরাও অগ্রাধিকার পান।

একটা উদাহরণ ধরা যাক। রিনার বয়স ২৪, প্রথম সন্তান আসছে, স্বামী দিনমজুর, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গর্ভকালীন সেবা কার্ড নিয়েছেন। তাঁর নিজের নামে NID আর বিকাশ হিসাব আছে। তিনি সব আবশ্যিক শর্ত পূরণ করেন, আর স্বামীর পেশার কারণে অগ্রাধিকারও পান। একই রিনা যদি তৃতীয়বার গর্ভবতী হতেন বা হিসাবটা স্বামীর নামে হতো, তাহলে আবেদন আটকে যেত।

৩. মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইন আবেদন যেভাবে

নিজে মোবাইল থেকে কোনো ফরম পূরণ করার ব্যবস্থা নেই। নির্দেশিকা অনুযায়ী আবেদন হয় ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার মাধ্যমে, তিনি আপনার সামনে বসে তথ্য এমআইএসে তোলেন আর একটি প্রিন্ট কপি দেন।

  • ১
    কাগজ গুছিয়ে নিননিজের NID, গর্ভকালীন সেবা কার্ড, চালু মোবাইল নম্বর আর নিজের নামে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক হিসাবের নম্বর।
  • ২
    ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে ডিজিটাল সেন্টারে যানগ্রামে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, পৌরসভায় পৌর ডিজিটাল সেন্টার, সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ের ডিজিটাল সেন্টার। তথ্য আপা প্রকল্পের তথ্যসেবা সহকারীর মাধ্যমেও আবেদন করা যায়। কারখানার কর্মীরা আবেদন করেন কারখানার শ্রম কল্যাণ কর্মকর্তার মাধ্যমে।
  • ৩
    ২০ থেকে ২৫ তারিখে প্রাথমিক তালিকাইউনিয়ন বা পৌরসভা কমিটি আবেদন যাচাই করে প্রাথমিক তালিকা উপজেলায় পাঠায়।
  • ৪
    ২৫ থেকে ৩০ তারিখে চূড়ান্ত তালিকাউপজেলা কমিটি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সহায়তায় গর্ভাবস্থার তথ্য যাচাই করে তালিকা চূড়ান্ত করে। সিটি করপোরেশনে কাজটি করে জেলা কমিটি।
এক মাসে না হলে পরের মাসে

আবেদন প্রতি মাসে নেওয়া হয়, বছরে একবার নয়। কোনো মাসের ২০ তারিখ পেরিয়ে গেলে পরের মাসের ১ থেকে ২০ তারিখে আবেদন করা যায়।

৪. মাতৃত্বকালীন ভাতা কবে দিবে, টাকা আসে কীভাবে

নির্দেশিকা অনুযায়ী ভাতা যায় সরকার থেকে সরাসরি উপকারভোগীর হিসাবে, যাকে বলে জিটুপি পদ্ধতি। অনুমোদিত তালিকা ধরে পে-রোল হয়, তারপর আবেদনের পরের মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে টাকা পাঠানোর কথা। টাকা গেলে মায়ের মোবাইলে এসএমএস আসে।

টাকা না এলে প্রথমে দেখুন হিসাব নম্বর আর NID-র নাম মেলে কি না। ভুল নম্বর বা ডুপ্লিকেট হিসাবের কারণে টাকা ফেরত গেলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তথ্য সংশোধন করে পরে সম্পূরক পে-রোল করেন। তাই সরাসরি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন, সঙ্গে NID আর আবেদনের প্রিন্ট কপি নিন।

৫. বিশেষ অবস্থায় কী হয়

  • নিবন্ধিত মায়ের অসময়ে গর্ভপাত হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কাটাতে তিনি ৬ মাস পর্যন্ত ভাতা পান।
  • মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে, অথবা শিশুর বয়স ছয় মাস হওয়ার পর কোনো কারণে শিশু মারা গেলে কর্মসূচি থেকে বাদ যান (শিশুর মৃত্যু সনদ দেখিয়ে)।
  • উপকারভোগী মা মারা গেলে চিকিৎসকের সনদ বা মৃত্যু নিবন্ধন সনদ আর শিশুর প্রকৃত লালনপালনকারীর পক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন দেখিয়ে উপজেলা কমিটির অনুমোদনে লালনপালনকারী ভাতা পেতে পারেন।
  • যমজ সন্তান হলে দুই সন্তানের জন্য দুটি ভাতা পাওয়া যায়, তবে একজন মা একবারই এ সুযোগ পান। দ্বিতীয়বার গর্ভে যমজ হলে প্রমাণ দেখিয়ে দুই সন্তানের জন্যই ভাতা মেলে।

সরকারি চাকরিজীবী মায়েদের ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি আলাদা বিষয়, তার সঙ্গে এই ভাতার সম্পর্ক নেই। ছুটির নিয়ম নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে।

৬. অনেকে যা জানতে চান

মাতৃত্বকালীন ভাতা কত মাস দেয়?
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হওয়ার পর ৩৬ মাস ভাতা দেওয়া হয়। সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে এ মেয়াদ বাড়াতে পারে বলে নির্দেশিকায় লেখা আছে।
মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা 2026?
২০২৬-২৭ অর্থবছরে একজন মা মাসে ৮৫০ টাকা পান। টাকা যায় মায়ের নিজের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবে।
মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদনের বয়স কত লাগে?
২০ থেকে ৩৫ বছর। এর সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণ হতে হবে আর জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
matrikalin vata online abedon kothay korbo?
নিজে অনলাইনে ফরম পূরণের ব্যবস্থা নেই। প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে ইউনিয়ন বা পৌর ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে উদ্যোক্তার মাধ্যমে এমআইএসে আবেদন করতে হয়।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
দৈনন্দিন সেবা

অনলাইনে জিডি করার নিয়ম: মোবাইল, সিম বা কাগজ হারালে থানায় না গিয়ে যেভাবে করবেন

NID, সচল মোবাইল আর লাইভ ছবি দিয়ে নিবন্ধন, হারানো জিনিসের জিডি, কপি ডাউনলোড আর হারানো ফোনের IMEI।
দৈনন্দিন সেবা

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: অনলাইনে আবেদন, ১,৫০০ টাকা ফি, কাগজ আর স্ট্যাটাস চেক

পাসপোর্টের মেয়াদ, ঠিকানার শর্ত, ১,৫০০ টাকার চালান, PCC S এসএমএসে স্ট্যাটাস আর সনদ তোলার নিয়ম।
দৈনন্দিন সেবা

গাড়ির ট্যাক্স টোকেন আর ফিটনেস নবায়ন: BRTA অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কাগজ আর ফি দেখার নিয়ম

ফিটনেসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার চার ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজ, ট্যাক্স টোকেন নবায়ন আর অনলাইনে ফি দেখা।

অনেকে খোঁজেন