দৈনন্দিন সেবা

ওয়ারিশ সনদ আর নাগরিকত্ব সনদ কোথায়, কীভাবে পাবেন

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬eticket.railway.gov.bd

সংক্ষেপে

ওয়ারিশ সনদ আর নাগরিকত্ব সনদ দেয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান: গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌর এলাকায় পৌরসভা, আর সিটি এলাকায় সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। সাধারণত স্থায়ী ঠিকানার কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করে, কাগজ যাচাইয়ের পর সনদ পাওয়া যায়।

ওয়ারিশ সনদ শুধু জানায় মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী কারা। কে কত অংশ পাবেন তা এতে ঠিক হয় না, আর ব্যাংকের আমানত বা শেয়ার তুলতে অনেক সময় আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট চাওয়া হয়।

নিজের ইউনিয়ন বা পৌরসভার ওয়েবসাইট খুঁজুন

জাতীয় তথ্য বাতায়ন থেকে নিজের ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার ওয়েবসাইটে গিয়ে যোগাযোগের নম্বর আর সেবার তথ্য দেখে নিন।

জাতীয় তথ্য বাতায়ন
এই লেখায়
  1. দুটি সনদের তফাত
  2. কে দেন, কোথায় যাবেন
  3. আবেদন করবেন যেভাবে
  4. কত দিন লাগে, অনলাইনে হয় কি না
  5. ব্যাংকের টাকার জন্য ওয়ারিশ সনদ যথেষ্ট নয় কেন
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. দুটি সনদের তফাত

বিষয়ওয়ারিশ সনদনাগরিকত্ব সনদ
কী জানায়মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী কারাআপনি ওই এলাকার বাসিন্দা ও বাংলাদেশের নাগরিক
কে আবেদন করেনসাধারণত ওয়ারিশদের একজনযাঁর সনদ তিনি নিজে, নাবালক হলে অভিভাবক
কোথায় লাগেসিমের মালিকানা বদল, পেনশন বা বিদ্যুৎ সংযোগের নাম বদল, জমির নামজারিচাকরির আবেদন বা যোগদান, ভর্তি, বিভিন্ন যাচাইয়ের কাগজ

যে প্রতিষ্ঠান সনদ চাইছে, তারা কোনটি চাইছে তা বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন। একই কার্যালয় চারিত্রিক সনদ, পারিবারিক সনদ বা অবিবাহিত সনদও দেয়, এগুলো নাগরিকত্ব সনদের বদলে চলে না।

২. কে দেন, কোথায় যাবেন

  • ইউনিয়ন এলাকায়: ইউনিয়ন পরিষদ। সাধারণত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তথ্য দেখে দেন, চেয়ারম্যান সই করেন।
  • পৌর এলাকায়: পৌরসভা কার্যালয়। নির্বাচিত মেয়র বা কাউন্সিলর না থাকলে সরকার যাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি সই করেন।
  • সিটি এলাকায়: ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়। ২০২৪ সালে কাউন্সিলরদের অপসারণের পর ঢাকার দুই সিটিতে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ এসব সনদ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া শুরু হয়।

কে এখন সই করছেন, তা এলাকা আর সময়ভেদে বদলায়। যাওয়ার আগে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কার্যালয়ে ফোন করে জেনে নিন, তাতে একটা দিন বাঁচবে।

৩. আবেদন করবেন যেভাবে

  • ১
    কাগজ জোগাড় করুননিচের তালিকা ধরে ফটোকপি করুন, মূল কপিও সঙ্গে রাখুন।
  • ২
    লিখিত আবেদন দিনকার্যালয়ে নির্ধারিত ফরম থাকলে তা পূরণ করুন, না থাকলে চেয়ারম্যান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর সাদা কাগজে আবেদন লিখুন। ওয়ারিশ সনদের আবেদনে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে প্রত্যেক ওয়ারিশের সম্পর্ক পরিষ্কার করে লিখুন।
  • ৩
    যাচাইওয়ার্ডের সদস্য, ওয়ার্ড সচিব বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাগজ মিলিয়ে দেখেন, দরকার হলে এলাকায় খোঁজ নেন। তথ্য ঠিক পেলে সনদ দেওয়া হয়।
  • ৪
    সনদ নিয়ে বানান মিলিয়ে দেখুননির্ধারিত ফি থাকলে রসিদ নিয়ে দিন। সনদ হাতে পেয়ে নাম, বাবা-মায়ের নাম আর ওয়ারিশদের তালিকার বানান NID-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, ভুল থাকলে তখনই ঠিক করান।

ওয়ারিশ সনদের জন্য সাধারণত যা লাগে

নাগরিকত্ব সনদের জন্য সাধারণত যা লাগে

৪. কত দিন লাগে, অনলাইনে হয় কি না

নাগরিকত্ব সনদে যাচাই কম লাগে বলে সাধারণত তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। ওয়ারিশ সনদে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর তথ্য মেলাতে হয়, তাই সময় বেশি লাগতে পারে। নির্দিষ্ট সময় আর ফি প্রতিটি কার্যালয়ের ‘সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি’ বা সিটিজেন চার্টারে লেখা থাকে, সেটি দেখে নিন।

এই দুটি সনদের আবেদন সাধারণত কার্যালয়ে গিয়েই করতে হয়। কোনো ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন নিজস্ব অনলাইন আবেদন চালু করলে তা তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে জানানো থাকে।

টাকা নিয়ে ‘ঘরে বসে সনদ’ দেওয়ার প্রস্তাবে সাবধান

সনদে সই করার এখতিয়ার শুধু সংশ্লিষ্ট পরিষদ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। অন্য কোথাও বানানো সনদ জমির নামজারি বা অফিসের যাচাইয়ে গিয়ে আটকে যায়, উল্টো ঝামেলাও হতে পারে।

৫. ব্যাংকের টাকার জন্য ওয়ারিশ সনদ যথেষ্ট নয় কেন

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কাগজ দেখে কেবল ওয়ারিশদের নাম প্রত্যয়ন করে, কে কত অংশ পাবেন তা ঠিক করার এখতিয়ার তাদের নেই। মৃত ব্যক্তির ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র বা শেয়ারের মতো সম্পদ ছাড়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় সাকসেশন অ্যাক্ট, ১৯২৫ অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট চায়।

তাই ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে আগে জেনে নিন তারা কোন কাগজ চায়। মৃত গ্রাহকের সিম উত্তরাধিকারীর নামে নিতে BTRC-র ঠিক করা নিয়মে মৃত ব্যক্তির NID, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশনামা আর উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্রই লাগে, এমন ছোটখাটো কাজে ওয়ারিশ সনদেই চলে।

৬. অনেকে যা জানতে চান

ওয়ারিশ সনদে কারও নাম বাদ পড়লে কী করব?
যে কার্যালয় সনদ দিয়েছে সেখানেই সংশোধনের আবেদন করুন, বাদ পড়া ওয়ারিশের NID বা জন্ম নিবন্ধন আর সম্পর্কের প্রমাণ দিন। জেনেশুনে কোনো ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে সনদ নিলে পরে মামলা পর্যন্ত গড়াতে পারে।
মৃত্যু নিবন্ধন করা না থাকলে কী করব?
অনেক কার্যালয় ওয়ারিশ সনদের আগে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ দেখতে চায়। মৃত্যু নিবন্ধনও হয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে, তাই আগে সেটি করিয়ে নিন।
নাগরিকত্ব সনদ কোন এলাকা থেকে নেব?
সাধারণত স্থায়ী ঠিকানার ইউনিয়ন, পৌরসভা বা ওয়ার্ড থেকে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী ঠিকানার সনদ চাওয়া হলে NID-তে যে স্থায়ী ঠিকানা আছে, সেই এলাকারটাই নিন।

এরপর কী করবেন

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

দৈনন্দিন সেবা নিয়ে আরও লেখা

পুরো বিভাগ

অনেকে খোঁজেন