
সংক্ষেপে
মোবাইল অপারেটর বা ইন্টারনেট সেবাদাতা সমস্যার সমাধান না দিলে বিটিআরসিতে অভিযোগ করা যায় ১০০ নম্বরে কল করে, অথবা অনলাইনে বিটিআরসির অভিযোগ বক্সে (crm.btrc.gov.bd) ফরম পূরণ করে। বিটিআরসির ওয়েবসাইটে ১০০-কে টেলিযোগাযোগ সেবা সংক্রান্ত হটলাইন বলা আছে।
অনলাইন ফরমে জানতে চাওয়া হয় অপারেটরকে আগে জানিয়েছেন কি না, কবে জানিয়েছেন আর টিকিট নম্বর কত। তাই আগে অপারেটরের কাছে অভিযোগ করে টিকিট নম্বর নিয়ে রাখুন।
মোবাইল, আইএসপি, পিএসটিএন বা আইপিটিএসপি সেবার বিরুদ্ধে অনলাইনে অভিযোগ দেওয়ার ফরম।
এই লেখায়
১. বিটিআরসিতে কোন সমস্যার অভিযোগ করা যায়
রাত বারোটায় কেনা ডেটা প্যাক সকালেই শেষ দেখাচ্ছে, বাসার ব্রডব্যান্ড তিন দিন বন্ধ, কাস্টমার কেয়ার শুধু বলছে অপেক্ষা করুন। অপারেটর যখন সমাধান দেয় না, তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসির কাছে যাওয়া যায়।
বিটিআরসির অনলাইন অভিযোগ বক্সে অপারেটরের ধরন হিসেবে আছে মোবাইল, আইএসপি বা ইন্টারনেট সেবাদাতা, পিএসটিএন বা ল্যান্ডফোন, আইপিটিএসপি, বিডব্লিউএ বা ওয়াইম্যাক্স আর অন্যান্য। অভিযোগের ধরনে আছে ভয়েস, ডেটা আর অন্যান্য। আবেদনের ধরন বেছে নিতে হয়: জিজ্ঞাসা, অনুরোধ বা অভিযোগ।
ফরমের শুরুতে আবেদনের ধরন বাছাই নিয়ে অনেকে দ্বিধায় পড়েন। কোনো প্যাকেজ বা নিয়ম সম্পর্কে শুধু জানতে চাইলে জিজ্ঞাসা, কোনো সেবা চালু বা বন্ধ করাতে চাইলে অনুরোধ, আর সেবা না পাওয়া, টাকা কাটা বা খারাপ নেটওয়ার্কের মতো সমস্যায় অভিযোগ বেছে নিন। ঠিক ধরন বাছলে অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট শাখায় যেতে সুবিধা হয়। জরুরি হলে অগ্রাধিকার কলের ঘরে হ্যাঁ দিতে পারেন, তবে সত্যিই জরুরি না হলে না দেওয়াই ভালো।
২. আগে অপারেটরের কাছে অভিযোগ, টিকিট নম্বর নিন
দ্য ডেইলি স্টারের ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বিটিআরসি বলেছিল, অপারেটর যথাসময়ে সমস্যা না মেটালে ১০০ নম্বরে কল করতে। অনলাইন ফরমেও অপারেটরকে জানানো হয়েছে কি না, জানানোর তারিখ, সমাধানের প্রতিশ্রুত তারিখ আর টিকিট নম্বরের ঘর আছে।
অপারেটর অনেক সময় বলে সমস্যা সমাধান হয়েছে, অথচ আপনার দিকে তখনও একই অবস্থা। তখন একই টিকিট নম্বর উল্লেখ করে আবার জানান, নতুন টিকিট দিলে সেটাও লিখে রাখুন। এতে বোঝা যাবে আপনি একাধিকবার চেষ্টা করেছেন।
অপারেটরের সঙ্গে কথা বলার সময় লিখে রাখুন
৩. BTRC complaint number ১০০: কখন ফোন করবেন
বিটিআরসির ওয়েবসাইটের হটলাইন তালিকায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ সেবা সংক্রান্ত হটলাইন হিসেবে ১০০ নম্বর দেওয়া। ডেইলি স্টারের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই শর্ট কোডে কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কল নেওয়া হয়, আর আগের ২৮৭২ কোডটি বন্ধ। সময় এখনো একই আছে কি না, বিটিআরসির সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নিন।
কল করলে অপারেটরের নাম, সমস্যার নম্বর, অপারেটরের টিকিট নম্বর আর কবে থেকে সমস্যা, এগুলো হাতে রাখুন। আলাদা বিকল্প নম্বরও দিন, যাতে আপনার সমস্যার নম্বর বন্ধ থাকলেও যোগাযোগ করা যায়।
অনলাইন ফরমে বিকল্প নম্বর দেওয়ার ঘরও আছে। যে নম্বরে সমস্যা, সেটি বন্ধ বা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলে বিটিআরসির কর্মকর্তা যেন অন্য নম্বরে আপনাকে পান, তাই এই ঘর ফাঁকা রাখবেন না।
৪. btrc complaint online: অভিযোগ বক্সে ফরম পূরণ
- ১গ্রাহকের তথ্যনাম আর যে নম্বর নিয়ে অভিযোগ সেটি লিখুন। অগ্রাধিকার কল লাগবে কি না বেছে নিন।
- ২অভিযোগের তথ্যধরন বাছুন: জিজ্ঞাসা, অনুরোধ বা অভিযোগ। তারপর অপারেটরের ধরন আর অপারেটরের নাম।
- ৩স্থানবিভাগ, জেলা আর থানা বা উপজেলা দিন। নেটওয়ার্কের অভিযোগে এলাকার নাম ঠিকঠাক দিন।
- ৪ধরন ও মন্তব্যভয়েস, ডেটা বা অন্যান্য বেছে উপবিভাগ দিন। মন্তব্যের ঘরে ৫০০ অক্ষরের মধ্যে ঘটনাটি লিখুন।
- ৫অপারেটরের তথ্য দিয়ে জমাঅপারেটরকে জানিয়েছেন কি না, তারিখ, টিকিট নম্বর আর কোনো জবাব পেয়েছেন কি না পূরণ করে দাখিল করুন।
ধরুন, খুলনার সুমাইয়া আক্তার ৩০ দিনের ডেটা প্যাক কিনে দুই দিনে শেষ দেখলেন। অপারেটরে অভিযোগ করে টিকিট পেলেন, এক সপ্তাহেও জবাব নেই। এখন অভিযোগ বক্সে মোবাইল, তাঁর অপারেটর, খুলনা, ডেটা বেছে মন্তব্যে প্যাক কেনার তারিখ আর টিকিট নম্বর লিখবেন।
জমা দেওয়ার আগে মন্তব্যের ঘরটি আবার পড়ুন। কবে থেকে সমস্যা, অপারেটরকে কবে জানিয়েছেন, তারা কী বলেছে আর আপনি কী সমাধান চান, এই চারটি কথা থাকলে অভিযোগ পরিষ্কার হয়।
৫. কোন সমস্যা কোথায় জানাবেন
| সমস্যা | কোথায় জানাবেন |
|---|---|
| মোবাইল নেটওয়ার্ক, কল ড্রপ, ডেটা বা ব্যালান্স কাটা | আগে অপারেটর, সমাধান না হলে বিটিআরসি ১০০ বা অভিযোগ বক্স |
| বাসার ব্রডব্যান্ড বা আইএসপির সেবা | আগে আইএসপি, তারপর অভিযোগ বক্সে অপারেটরের ধরন আইএসপি |
| বিটিআরসির কোনো কর্মকর্তার সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি | জিআরএস, বিটিআরসির ওয়েবসাইটের অভিযোগ দাখিল লিংক |
| আপনার এনআইডিতে অচেনা সিম | সিম যাচাই করে বন্ধ করার আবেদন |
| ফোন হারানো বা চুরি | থানায় বা অনলাইনে জিডি |
বিটিআরসি ২০২৬ সালের আগস্টে অনলাইনে গণশুনানি করে গ্রাহকদের অভিযোগ ও মতামত শুনেছে, ১৯ আগস্টের প্রেস রিলিজে তা জানানো হয়েছে। এ ধরনের শুনানির ঘোষণা বিটিআরসির ওয়েবসাইটের প্রেস রিলিজ অংশে আসে, পরের শুনানির খবর সেখানে দেখে নিতে পারেন।
অভিযোগ যেটাই হোক, একটি কাজ সবসময় করবেন: স্ক্রিনশট আর এসএমএস মুছবেন না। ডেটা কেটে নেওয়ার অভিযোগে প্যাক কেনার এসএমএস আর ব্যবহারের হিসাবের স্ক্রিনশট সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ। নেটওয়ার্ক না থাকার অভিযোগে কোন এলাকায়, কোন সময় সমস্যা হয়, সেটা কয়েক দিন ধরে লিখে রাখুন।
৬. বিটিআরসিতে সমাধান না পেলে
- বিটিআরসির ওয়েবসাইটে সরকারের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা জিআরএসের লিংক আছে। বিটিআরসির কোনো কর্মকর্তার সেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলে সেখানে জানাতে পারেন, ওয়েবসাইটে অভিযোগ নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার নামও দেওয়া আছে।
- দোকান থেকে কেনা ফোন বা পণ্যের প্রতারণা হলে সেটা ভোক্তা অধিকারের বিষয়, সে নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে।
- অচেনা সিম আপনার এনআইডিতে নিবন্ধিত থাকলে আগে কয়টি সিম আছে দেখে বন্ধ করুন।
বিটিআরসি বা অপারেটরের নাম করে কেউ ওটিপি, পিন বা সিম বদলের কোড চাইলে দেবেন না। অভিযোগের জন্য এসবের দরকার হয় না।
৭. অনেকে যা জানতে চান
btrc complaint number কত?
বিটিআরসিতে অভিযোগ করার আগে কী করতে হয়?
ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড নিয়ে কি বিটিআরসিতে অভিযোগ করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।