
সংক্ষেপে
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে ৩০ কেজি চাল পায় ১৫ টাকা কেজি দরে, বছরে ছয় মাস। চলতি দফায় বিতরণ শুরু হয়েছে ১ আগস্ট ২০২৬, চলবে আগস্ট থেকে নভেম্বর আর পরের বছরের মার্চ-এপ্রিল, ৪৯৫ উপজেলার ৫৫ লাখ পরিবারে।
এই কার্ডের জন্য অনলাইন আবেদন নেই। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী ইউনিয়ন খাদ্যবান্ধব কমিটি পরিবার বাছাই করে, আর প্রতিবছর জুলাই ও আগস্টে তালিকা হালনাগাদ হয়।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নীতিমালা, নোটিশ আর ওএমএসের তথ্য অধিদপ্তরের সাইটে থাকে।
এই লেখায়
১. ১৫ টাকা কেজি চাল কবে দিবে, কত দিন পাওয়া যায়
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৩ আগস্ট ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তির বরাতে বাসস জানিয়েছে, এবার বিতরণ শুরু হয়েছে ১ আগস্ট। নীতিমালায় সাধারণভাবে পল্লী এলাকার কর্মাভাবের সময়কে ধরা হয়েছে, মার্চ-এপ্রিল আর সেপ্টেম্বর-নভেম্বর।
| বিষয় | ২০২৬-২৭ দফা |
|---|---|
| প্রতি মাসে | ৩০ কেজি চাল, ১৫ টাকা কেজি দরে |
| মাস | আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ২০২৬, তারপর মার্চ ও এপ্রিল ২০২৭ |
| আওতা | ৪৯৫ উপজেলার ৫৫ লাখ কার্ডধারী পরিবার |
| পুষ্টিচাল | ২৪৮ উপজেলায় প্রায় ২৫ লাখ ২৯ হাজার জন |
| সাধারণ চাল | ২৪৭ উপজেলায় ২৯ লাখ ৭১ হাজার জন |
জানুয়ারি ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এই কর্মসূচির পরিবার সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। আগস্টে বিতরণ শুরুর সময় মন্ত্রণালয় ৫৫ লাখ কার্ডধারীর কথা বলেছে, তাই বাড়তি পরিবার কবে যুক্ত হবে তা উপজেলা খাদ্য অফিসে জেনে নিন।
২. ১৫ টাকা কেজি চালের কার্ড কারা পায়
নীতিমালার ৩ নম্বর অংশে বাছাইয়ের নিয়ম দেওয়া আছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নিম্ন আয়ের দরিদ্র মানুষের মধ্য থেকে হতদরিদ্র পরিবার বাছাই করা হয়, পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য আর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উপজেলা দপ্তরের দুর্দশাগ্রস্ত তালিকা মিলিয়ে। কমিটিতে চেয়ারম্যান বা প্রশাসক ছাড়াও ইউনিয়নের সব সদস্য আর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি থাকেন।
- পরিবারকে ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- পরিবারপ্রধানের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
- গ্রামে বসবাসরত সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার: নিম্ন আয়ের মানুষ, ভূমিহীন, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম।
- অগ্রাধিকার পায় বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার, আর যেসব দুঃস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য আছে।
একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে তালিকায় রাখা যায় না। আর ভিজিডি (এখন ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের এই তালিকায় নেওয়া নিষেধ।
৩. ১৫ টাকা কেজি চালের অনলাইন আবেদন আছে কি
না। ইন্টারনেটে অনলাইন আবেদনের যে লিংক দেখা যায়, নীতিমালায় এমন কোনো ব্যবস্থার কথা নেই। ডিজিটাল ডাটাবেজ আছে ঠিকই, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে উপকারভোগী বাছাই করে তা তৈরি হয়েছে, কিন্তু নাম তোলার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় কমিটি। তাই কেউ অনলাইনে নাম তুলে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সাবধান হোন।
- ১ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগইউনিয়ন খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান বা প্রশাসক, সদস্য সব ইউপি সদস্য। নিজের ওয়ার্ডের সদস্যকে পরিবারের অবস্থা জানান।
- ২জুলাই-আগস্টের হালনাগাদে নজর রাখুননীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর জুলাই ও আগস্টে উপকারভোগীর তালিকা হালনাগাদ করতে হয়। মারা যাওয়া বা অযোগ্য কার্ডধারীর জায়গায় নতুন নাম ওঠে এ সময়েই।
- ৩উপজেলা কমিটির অনুমোদনইউনিয়ন কমিটি ওয়ার্ডভিত্তিক দারিদ্র্য দেখে তালিকা উপজেলা কমিটিতে পাঠায়, অনুমোদনের পর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে তালিকা প্রকাশ হয়।
- ৪কার্ড নিয়ে ডিলারের কাছেনাম উঠলে কার্ড আর NID নিয়ে নির্ধারিত ডিলারের দোকান থেকে চাল তুলুন। সপ্তাহে রবি থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে উপজেলা কমিটি ঠিক করা ২ বা ৩ দিন বিতরণ হয়।
কার্ড না থাকলে বা বিতরণের মাস না হলে সস্তায় চাল পাওয়ার আরেকটি পথ খোলা বাজারে বিক্রয় বা ওএমএস। খাদ্য মন্ত্রণালয় আগস্টে জানিয়েছে, সারা দেশে ১,১০৮টি দোকান ও ট্রাক থেকে নিয়মিত চাল ও আটা বিক্রি চলছে। এর জন্য কার্ড লাগে না। ঢাকা মহানগরের ওএমএস দোকান আর ট্রাকসেলের তালিকা খাদ্য অধিদপ্তরের সাইটের লিংক থেকে পাওয়া যায়, অন্য এলাকায় উপজেলা খাদ্য অফিসে খোঁজ নিন।
৪. চাল কম পেলে বা না পেলে কী করবেন
নীতিমালা অনুযায়ী চাল দিতে হবে ৩০ কেজি ধারণক্ষমতার বস্তায়, মুখ মেশিনে সেলাই করা। বস্তা খোলা বা ওজনে কম মনে হলে সেখানেই ওজন করিয়ে নিতে বলুন। সরকার নির্ধারিত দর কেজিপ্রতি ১৫ টাকা, ডিলার এর বেশি চাইলে সেটিও অভিযোগের বিষয়।
অভিযোগের আগে যা মিলিয়ে নেবেন
সমস্যা হলে প্রথমে ইউনিয়ন খাদ্যবান্ধব কমিটি, তারপর উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটি বা উপজেলা খাদ্য অফিসে লিখিত অভিযোগ দিন। নীতিমালায় অনিয়মে জড়িত ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল আর আইনগত ব্যবস্থার বিধান আছে।
৫. খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হতে কী লাগে
অনেকে ডিলার নিয়োগের নিয়মও খোঁজেন। নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা কমিটি প্রতি ইউনিয়নে মোটামুটি প্রতি ৫০০ উপকারভোগী পরিবারের জন্য একজন ডিলারের সুপারিশ করে, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আর চেকলিস্ট মিলিয়ে।
- ইউনিয়নের বড় হাট-বাজারে নিজের বা ভাড়া দোকান, পাকা মেঝে আর স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণের ব্যবস্থা।
- দোকান বা সংযুক্ত গুদামে অন্তত ১৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য রাখার জায়গা।
- আর্থিক সচ্ছলতা, হিসাব রাখার সক্ষমতা আর ট্রেড লাইসেন্স।
- সরকারি কর্মচারী বা জনপ্রতিনিধি ডিলার হতে পারেন না, খাদ্য বিভাগের কালো তালিকাভুক্তরাও নন।
- একই ব্যক্তি খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মসূচির ডিলার হতে পারেন না।
সামনে কী বদলাতে পারে, সেটাও জেনে রাখুন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড গাইডলাইনে বলা আছে, অন্য মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা দিতে পারবে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সেই পথে যাবে কি না, খাদ্য মন্ত্রণালয় এখনো ঘোষণা করেনি। তাই আপাতত পুরোনো কার্ড আর ইউনিয়নের তালিকাই চাল পাওয়ার ভিত্তি।
৬. অনেকে যা জানতে চান
১৫ টাকা কেজি চালের আবেদন কোথায় করব?
১৫ টাকা কেজি চাল কবে দিবে?
খাদ্যবান্ধব কার্ড থাকলে কি ভিজিডি কার্ড পাওয়া যায়?
khaddo bandhob card ki online e check kora jay?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।