
সংক্ষেপে
পল্লী বিদ্যুতের একক কোনো অভিযোগ নম্বর নেই। দেশে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস), প্রতিটির আলাদা হটলাইন। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) ওয়েবসাইটে সব সমিতির হটলাইন আর জেনারেল ম্যানেজারের মোবাইল নম্বরের তালিকা আছে, বেশির ভাগ হটলাইন ০১৭৬৯৪০৪ দিয়ে শুরু।
লাইন নেই, ট্রান্সফরমার নষ্ট বা তার ছিঁড়ে পড়ার মতো জরুরি সমস্যায় আগে হটলাইনে ফোন করুন। বিল, মিটার বা সংযোগ নিয়ে অভিযোগ না মিটলে জিএমকে জানান, বিআরইবির অনলাইন অভিযোগ ফরম ব্যবহার করুন, শেষে সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা জিআরএসে যান।
বিআরইবির তালিকায় ৮০টি সমিতির হটলাইন আর জেনারেল ম্যানেজারের মোবাইল নম্বর।
এই লেখায়
১. আপনার সমিতির হটলাইন খুঁজবেন যেভাবে
প্রথমে জানুন আপনি কোন সমিতির গ্রাহক। বিলের কাগজ বা প্রিপেইড কার্ডে সমিতির নাম লেখা থাকে, যেমন ঢাকা পবিস-১ বা কুমিল্লা পবিস-২। একই জেলায় একাধিক সমিতি থাকতে পারে, তাই জেলার নাম দেখে নম্বর বেছে নেবেন না।
| সমিতি | হটলাইন | জিএম বা সিনিয়র জিএম |
|---|---|---|
| ঢাকা পবিস-১ | ০১৭৬৯৪০৪০০১ | ০১৭৬৯৪০০০২৪ |
| গাজীপুর পবিস-১ | ০১৭৬৯৪০৪০৩০ | ০১৭৬৯৪০০০৩১ |
| নারায়ণগঞ্জ পবিস-১ | ০১৭৬৯৪০৪০৩১ | ০১৭৬৯৪০০০৫৫ |
| কুমিল্লা পবিস-১ | ০১৭৬৯৪০৪০১৬ | ০১৭৬৯৪০০০২১ |
| ময়মনসিংহ পবিস-১ | ০১৭৬৯৪০৪০০৯ | ০১৭৬৯৪০০০৫১ |
| রাজশাহী পবিস | ০১৭৬৯৪০৪০৩৩ | ০১৭৬৯৪০০০৬৮ |
এগুলো বিআরইবির ওয়েবসাইটের তালিকার কয়েকটি উদাহরণ, অক্টোবর ২০২৬ এ দেখা। সব নম্বর একই ধাঁচের নয়, যেমন কুষ্টিয়া আর মুন্সীগঞ্জ পবিসের হটলাইন ০১৭৬৯৪০৭ দিয়ে শুরু। নিজের সমিতির নম্বর তালিকা থেকে মিলিয়ে ফোনে সেভ করে রাখুন।
বিআরইবির ওয়েবসাইটে প্রতিটি সমিতির নিজস্ব ওয়েবসাইট আর ফেসবুক পেজের তালিকাও আছে। পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বন্ধ, লাইন মেরামত বা লোডশেডিংয়ের নোটিশ সমিতিগুলো সাধারণত সেখানে দেয়। অভিযোগ করার আগে একবার দেখে নিন, অনেক সময় সমস্যার কারণ আর আনুমানিক সময় সেখানেই লেখা থাকে।
২. কোন সমস্যায় কোথায় যাবেন
| সমস্যা | প্রথমে কোথায় | সঙ্গে যা রাখবেন |
|---|---|---|
| এলাকায় বা বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, তার ছেঁড়া, ট্রান্সফরমারে শব্দ | সমিতির হটলাইন | ঠিকানা, খুঁটি বা ট্রান্সফরমারের নম্বর |
| বিল বেশি এসেছে বা রিডিং ভুল | জোনাল বা সাব-জোনাল অফিসে লিখিত দরখাস্ত | বিলের কপি আর মিটারের রিডিংয়ের ছবি |
| মিটার ঠিক চলছে না | অফিসে মিটার পরীক্ষার আবেদন | গ্রাহক নম্বর, পরীক্ষার ফি |
| নতুন সংযোগ আটকে আছে | আগে অনলাইনে আবেদনের অবস্থা, পরে অফিস | আবেদনের ট্র্যাকিং নম্বর |
| রসিদ ছাড়া টাকা চাওয়া বা হয়রানি | জিএম, বিআরইবির অনলাইন ফরম, জিআরএস | তারিখ, নাম আর ঘটনার বিবরণ |
একটা উদাহরণ। রফিকুলের গ্রামে ঝড়ের পর দুই দিন বিদ্যুৎ নেই। তিনি বিলের কাগজ দেখে বুঝলেন তাঁর সমিতি ময়মনসিংহ পবিস-১, তালিকা থেকে হটলাইন নম্বর নিয়ে ফোন করলেন, আর ট্রান্সফরমারের খুঁটির নম্বর জানালেন। পরদিনও লাইন না এলে আগের কলের সময় উল্লেখ করে জিএমের নম্বরে জানালেন।
৩. অভিযোগে কী বলবেন
হটলাইনে অনেক কল আসে। পরিষ্কার তথ্য দিলে লাইনম্যান দ্রুত জায়গা খুঁজে পান, আর অভিযোগের রেকর্ডও ঠিকমতো থাকে।
ফোন করার আগে হাতে রাখুন
তার ছিঁড়ে পড়লে বা খুঁটিতে আগুন দেখলে কাছে যাবেন না, শিশুদের সরিয়ে দিন আর সঙ্গে সঙ্গে সমিতির হটলাইনে জানান। প্রাণের ঝুঁকি থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করুন।
প্রিপেইড মিটারে টাকা দিয়েও টোকেন না এলে বা টোকেন বসছে না এমন সমস্যায় আগে লেনদেন নম্বর আর মিটার নম্বর হাতে নিন। রিচার্জের সাধারণ সমস্যাগুলোর সমাধান আমাদের প্রিপেইড মিটার নিয়ে লেখায় আছে, তাতে না মিটলে সমিতিতে জানান।
৪. পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ করার নিয়ম: না মিটলে ধাপে ধাপে
- ১সমিতির হটলাইন বা অফিসপ্রথমে হটলাইনে বা নিকটস্থ জোনাল ও সাব-জোনাল অফিসে অভিযোগ দিন। বিল বা মিটারের অভিযোগ হলে লিখিত দরখাস্ত দিয়ে রিসিভ কপি নিন।
- ২জেনারেল ম্যানেজারকে জানানযুক্তিসঙ্গত সময়ে সমাধান না হলে বিআরইবির তালিকায় দেওয়া জিএম বা সিনিয়র জিএমের মোবাইলে বিষয়টি জানান, আগের অভিযোগের তারিখ আর নম্বর বলুন।
- ৩বিআরইবির অনলাইন অভিযোগ ফরমবিআরইবির ওয়েবসাইটে অনলাইন অভিযোগ বা পরামর্শ দাখিলের ফরম আছে। সমিতির নাম, গ্রাহক নম্বর আর আগের অভিযোগের তথ্য দিয়ে জমা দিন।
- ৪জিআরএসে অভিযোগএরপরও সমাধান না হলে সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা জিআরএসের ওয়েবসাইটে অনলাইনে অভিযোগ করা যায়, সেখান থেকে অভিযোগের অগ্রগতিও দেখা যায়।
৫. ফি বা হয়রানির অভিযোগে যা জানা দরকার
অনেক অভিযোগ আসলে বাড়তি টাকা চাওয়া নিয়ে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (এস. আর. ও. ৪৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৪) পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর জন্যও প্রযোজ্য, আর সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে তালিকার বাইরে কোনো ফি নেওয়া যাবে না।
| সেবা (এক ফেজ) | নির্ধারিত ফি |
|---|---|
| নতুন সংযোগ বা লোড পরিবর্তনের আবেদন | ১২০ টাকা |
| মিটার স্থাপন, পরিবর্তন বা স্থানান্তর | ৩৬০ টাকা |
| গ্রাহকের অনুরোধে মিটার পরীক্ষা | ২৪০ টাকা |
| বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন সংযোগের পুনঃসংযোগ | ৩৬০ টাকা, সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ফি ৩৬০ টাকা |
এসব ফির ওপর ভ্যাট যোগ হয়। মিটার বা তারের দাম আলাদা আসতে পারে, তবে তার রসিদ থাকবে। রসিদ ছাড়া টাকা চাইলে বা কাজের বিনিময়ে বখশিশ দাবি করলে সেই কথা তারিখসহ অভিযোগে লিখুন। নতুন সংযোগের আবেদনের অবস্থা নিয়ে অভিযোগ থাকলে আগে অনলাইনে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা দেখে নিন, পদ্ধতি আমাদের পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নিয়ে লেখায় আছে।
অভিযোগ করার সময় শান্তভাবে তথ্য দিন আর প্রতিটি যোগাযোগের তারিখ একটি খাতায় বা ফোনের নোটে লিখে রাখুন। পরের ধাপে গেলে এই তালিকাই আপনার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, কারণ তাতে দেখা যায় কতবার জানিয়েছেন আর কত দিন সমাধান হয়নি।
৬. অনেকে যা জানতে চান
পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্র নাম্বার কত?
পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ অনলাইনে করা যায়?
হটলাইনে কাজ না হলে কাকে জানাব?
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বাড়তি টাকা চাইলে কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।