
সংক্ষেপে
বিআরটিএর ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা একই দিনে তিন ভাগে হয়: লিখিত, মৌখিক আর মাঠে গাড়ি চালিয়ে দেখানো। বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা ২০ নম্বরের, পাস ১২, সময় ২০ মিনিট। মৌখিকে পাস নম্বর ৭৫%, আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাস করতে হয় ১০০%।
লিখিত প্রশ্নের জন্য বিআরটিএ তাদের ওয়েবসাইটে একটি প্রশ্নব্যাংক আর এমসিকিউর নমুনা রেখেছে। ফল সর্বোচ্চ এক কর্মদিবসের মধ্যে অনলাইনে আর এসএমএসে জানানো হয়।
লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক, এমসিকিউ নমুনা আর পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশনা এই পাতায়।
এই লেখায়
১. পরীক্ষার দিন যা হয়
শিক্ষানবিশ লাইসেন্সে দেওয়া তারিখে নির্ধারিত কেন্দ্রে নিজে যেতে হয়। বিআরটিএর আবেদন প্রক্রিয়া পাতায় বলা আছে, সেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়, আর আপনার আঙুলের ছাপ NID সার্ভারের সঙ্গে মিললে তবেই পরীক্ষার সুযোগ মেলে। এরপর একই দিনে লিখিত, মৌখিক আর মাঠ পরীক্ষা হয়।
পরীক্ষার দিন সঙ্গে নেবেন
২. লিখিত পরীক্ষা: ২০ নম্বর, পাস ১২
বিআরটিএ চেয়ারম্যানের ২২ মে ২০২৩ তারিখের এক চিঠিতে সব সার্কেল অফিসকে একই কাঠামোয় পরীক্ষা নিতে বলা হয়েছে, কার্যকর ১ জুন ২০২৩ থেকে। চিঠিতে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ এর বিধি ৮৪(৮) এর কথা বলা আছে।
| অংশ | প্রশ্ন ও নম্বর |
|---|---|
| সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন | ১৪টি, প্রতিটি ১ নম্বর |
| ইঞ্জিন মেকানিজম | ৬টি, প্রতিটি ১ নম্বর |
| পূর্ণমান আর সময় | ২০ নম্বর, ২০ মিনিট |
| পাস নম্বর | ১২ |
| বিশেষ শর্ত | ইঞ্জিন মেকানিজম অংশে অন্তত ২ নম্বর না পেলে অকৃতকার্য |
নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের চারটি সেট (ক, খ, গ, ঘ) তৈরি হয়, আর কোন সেটে পরীক্ষা হবে তা পরীক্ষার ঠিক আগে ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই কমিটি লটারিতে ঠিক করে। তাই প্রশ্ন আগে থেকে পাওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে বিশ্বাস করবেন না।
৩. প্রশ্ন আসে কোথা থেকে
বিআরটিএর ওয়েবসাইটে 'ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন ব্যাংক ও উত্তর' আর ইঞ্জিন মেকানিজমের এমসিকিউ নমুনা আছে। নির্দেশনায় প্রশ্নপত্র তৈরিতে এগুলোর সহায়তা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই প্রস্তুতির শুরু এখান থেকেই করুন।
- মোটরযান চালানোর সময় সঙ্গে রাখার কাগজ: ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন সনদ, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ (মোটরসাইকেলে প্রযোজ্য নয়) আর রুট পারমিট (মোটরসাইকেল ও চালক ছাড়া সর্বোচ্চ ৭ আসনের ব্যক্তিগত গাড়িতে প্রযোজ্য নয়)
- সাইনের রং ও আকার: লাল বৃত্ত নিষেধ বোঝায়, নীল বৃত্ত অবশ্য পালনীয় নির্দেশ, লাল ত্রিভুজ সতর্কতা
- নিরাপদ দূরত্ব: পাকা ভালো রাস্তায় ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে ২৫ মিটার
- ওভারটেক, পার্কিং আর হর্ন বাজানো কোথায় নিষেধ, লেভেলক্রসিং আর জেব্রা ক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য
- সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া চালানো, অতিরিক্ত গতি বা মাতাল অবস্থায় চালানোর শাস্তি
- ইঞ্জিন অংশে ক্লাচ, কুলিং ফ্যান, এয়ার ক্লিনারের কাজ আর ইঞ্জিন বেশি গরম হওয়ার কারণ
৪. মৌখিক আর মাঠ পরীক্ষা
একই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৭৫ শতাংশ, আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় ১০০ শতাংশ। অর্থাৎ মাঠে গাড়ি চালানোর পরীক্ষায় কোনো ভুলের সুযোগ ধরা হয়নি।
- ১প্রশ্নব্যাংক পড়ুনবিআরটিএর প্রশ্নব্যাংকের উত্তরগুলো নিজের ভাষায় বলতে পারার মতো করে পড়ুন। সাইন আর সংকেতের ছবি দেখে চিনে নেওয়ার অনুশীলন করুন।
- ২ইঞ্জিন অংশ আলাদা করে দেখুনএই অংশে ২ নম্বরের কম পেলে মোট নম্বর যা-ই হোক অকৃতকার্য, তাই এমসিকিউ নমুনাগুলো ভালো করে দেখুন।
- ৩প্রশিক্ষকের সঙ্গে মাঠে অনুশীলনশিক্ষানবিশ লাইসেন্স দিয়ে প্রশিক্ষকের সঙ্গে চালানো শিখুন। গাড়ি চালু করার আগের পরীক্ষা, সিগন্যাল দেওয়া আর নিয়ন্ত্রিত গতিতে থামানো বারবার অনুশীলন করুন।
- আঙুলের ছাপ NID সার্ভারের সঙ্গে না মিললে পরীক্ষার সুযোগই মেলে না, তাই NID-তে আঙুলের ছাপ নিয়ে সমস্যা থাকলে আগে সমাধান করুন
- মূল শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া গেলে সমস্যায় পড়বেন
- লিখিত পরীক্ষায় মোট নম্বর ভালো হলেও ইঞ্জিন অংশে ২ নম্বরের কম পেলে অকৃতকার্য
- মাঠ পরীক্ষায় পাস নম্বর ১০০ শতাংশ, অর্থাৎ ছোট ভুলও ফল বদলে দিতে পারে
৫. ফলের পর যা করবেন
বিআরটিএ সর্বোচ্চ এক কর্মদিবসের মধ্যে উত্তীর্ণ বা অনুত্তীর্ণের ফল অনলাইনে আপলোড করে আর মোবাইলে এসএমএস পাঠায়। পাস করলে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) থেকে অনলাইনে স্মার্ট কার্ডের ফি দিন, ব্যাংকে গিয়ে কাউন্টারে ফি দেওয়ার সুযোগ নেই।
| লাইসেন্স | স্মার্ট কার্ডের ফি | মেয়াদ |
|---|---|---|
| অপেশাদার | ৪,৪৯৭ টাকা | ১০ বছর |
| পেশাদার | ২,৭৭২ টাকা | ৫ বছর |
| ডাকে কার্ড পাঠানোর খরচ | অতিরিক্ত ৬০ টাকা | প্রযোজ্য নয় |
ফি দেওয়ার সময় পাস বা ফেল সিলসহ শিক্ষানবিশ লাইসেন্স স্ক্যান করে আপলোড করতে হয়। পেশাদার লাইসেন্সে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনও লাগে। অনুমোদনের পর BSP অ্যাকাউন্ট থেকে অস্থায়ী অনুমোদনপত্র (Temporary authorization) প্রিন্ট করা যায়, কার্ড না আসা পর্যন্ত এটি দিয়েই গাড়ি চালানো যায়। অনুত্তীর্ণ হলে পরের পরীক্ষার তারিখের জন্য নিজের বিআরটিএ সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
লিখিত পরীক্ষা কি এমসিকিউ?
লিখিত পরীক্ষায় ১২ পেয়েছি, কিন্তু ইঞ্জিন অংশে ১। পাস হবে?
ফল কোথায় দেখব?
পরীক্ষার কাঠামো কি এখনো একই আছে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।