
সংক্ষেপে
তিতাসের প্রিপেইড গ্যাস মিটারে টাকা ভরতে হয় দুই ধাপে। আগে স্মার্ট কার্ড নিয়ে কাছের POS সেন্টারে কার্ডে টাকা রিচার্জ করুন, তারপর বাসায় মিটারের A বোতাম দুইবার চেপে কার্ড ধরুন, পর্দায় End না আসা পর্যন্ত। গ্যাস ফুরিয়ে গেলে B বোতাম ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড চেপে, পর্দায় EC এলে A একবার চেপে ২০০ টাকার ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়া যায়।
কার্ড হারালে থানার জিডি, এনআইডি আর আগের বিল পরিশোধের কপি নিয়ে কারওয়ান বাজারের তিতাস গ্যাস ভবনে প্রকল্প অফিসে আবেদন করলে ৫০ থেকে ৬০ মিনিটে নতুন কার্ড দেওয়া হয়। কার্ডের দাম ১,০০০ টাকা পরের রিচার্জ থেকে কেটে নেওয়া হয়। প্রিপেইড সহায়তার ২৪ ঘণ্টার নম্বর আছে, আর তিতাসের কল সেন্টার ১৬৪৯৬।
প্রিপেইড মিটারের নির্দেশিকা, রিচার্জ সেন্টারের তালিকা আর জরুরি নম্বর।
এই লেখায়
১. স্মার্ট কার্ডে রিচার্জ: POS সেন্টারে যা করবেন
- ১কার্ড নিয়ে POS সেন্টারে যানআপনার স্মার্ট কার্ড নিয়ে কাছের একটি POS সেন্টারে যান। তিতাসের ওয়েবসাইটের প্রি-পেইড মিটার পাতায় 'রিচার্জ সেন্টার তালিকা' নামে একটি ফাইল আছে।
- ২কত টাকা, বলে দিনসেন্টারের প্রতিনিধিকে কার্ড দিন, কত টাকা রিচার্জ করবেন বলুন, সেই টাকা দিন।
- ৩রসিদসহ কার্ড ফেরত নিনরিচার্জ শেষে প্রতিনিধি টাকার রসিদসহ কার্ড ফেরত দেবেন। রসিদ রেখে দিন, পরে অমিল হলে কাজে লাগবে।
এই লেখার ধাপগুলো তিতাসের প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের নির্দেশিকা থেকে, যেখানে A ও B দুই বোতাম আর কার্ড রাখার জায়গাওয়ালা মিটার দেখানো। আপনার মিটার আলাদা হলে সঙ্গে দেওয়া নির্দেশিকা মেনে চলুন।
তিতাস জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা উত্তর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকের আঙিনায় ১১ লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার বসানোর প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত। এডিবির অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা দক্ষিণ ও নারায়ণগঞ্জে আরও ৬.৫ লাখ মিটার বসানোর লক্ষ্য ডিসেম্বর ২০২৭। তাই এসব এলাকায় যাঁরা এখনো মাসিক নির্দিষ্ট বিল দেন, তাঁদের বাসাতেও প্রিপেইড মিটার আসতে পারে। শিল্প বা বাণিজ্যিক গ্রাহকের আলট্রাসনিক এবং G-1.6 ও 2.5 মিটারের ব্যবহারবিধি আর জরুরি নম্বর তিতাসের একই পাতায় আলাদা ফাইলে দেওয়া।
২. কার্ড থেকে মিটারে টাকা তোলা
- ১A বোতাম দুইবার চাপুনমিটারের A বোতাম পরপর ২ বার, প্রতিবার ১ সেকেন্ডের একটু বেশি সময় চেপে ধরে ছেড়ে দিন।
- ২IN মিটমিট করছে কি না দেখুনমিটারের পর্দায় IN লেখাটি মিটমিট করে জ্বলছে কি না নিশ্চিত হোন।
- ৩কার্ড নির্দিষ্ট জায়গায় ধরুনIN মিটমিট করার সময় মিটারের গায়ে কার্ডের ছবি আঁকা জায়গায় রিচার্জ করা কার্ডটি ধরুন।
- ৪End না আসা পর্যন্ত ধরে রাখুনপর্দায় Card লেখা ভেসে উঠবে। End না আসা পর্যন্ত কার্ড সরাবেন না। End দেখালে বুঝবেন টাকা মিটারে চলে গেছে, এখন কেনা গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন।
তিতাসের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যালেন্স থাকা অবস্থায় কোনো কারণে মিটার CLOSE হয়ে গ্যাস বন্ধ হলে B বোতাম ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড চেপে ধরুন। মিটার OPEN হয়ে গ্যাস আবার চালু হবে।
৩. গ্যাস ফুরিয়ে গেলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স
রাতে বা ছুটির দিনে ব্যালেন্স শেষ হলে মিটার থেকেই তাৎক্ষণিক ২০০ টাকার গ্যাস ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স হিসেবে নেওয়া যায়।
- ১B বোতাম চেপে ধরুনB বোতাম ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড চেপে ধরুন।
- ২EC লেখা দেখুনপর্দায় EC লেখা ভেসে উঠবে।
- ৩A বোতাম একবার চাপুনএবার A বোতাম একবার চাপুন। ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স সচল হবে, গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন।
তিতাস জানিয়েছে, পরপর দুইবার ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়া যায় না। তাই এটি শেষ হওয়ার আগেই কার্ডে রিচার্জ করে মিটারে তুলে নিন।
৪. স্মার্ট কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে
আবেদনের সঙ্গে যা লাগবে
এসব নিয়ে কারওয়ান বাজারে তিতাস গ্যাস ভবনের ১২ তলায় প্রকল্প অফিসের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে (Customer Care Point) আবেদন দিন। আবেদনের নমুনা তিতাসের সাইটে হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত কার্ডের আবেদন নামে আছে, যা প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বরাবর লিখতে হয়। এতে নাম, ঠিকানা, মিটার নম্বর, গ্রাহক সংকেত নম্বর, জিডি নম্বর, থানা, তারিখ আর মোবাইল নম্বর লাগে।
তথ্য যাচাই করে ৫০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে ডুপ্লিকেট কার্ড প্রিন্ট করে দেওয়া হয়। কার্ডের দাম ১,০০০ টাকা পরের রিচার্জের সময় নিজে থেকে কেটে নেওয়া হয়, এর জন্য নগদ টাকা দিতে হয় না।
৫. জরুরি নম্বর আর পোস্টপেইড গ্যাস বিল
| প্রয়োজন | নম্বর |
|---|---|
| প্রিপেইড মিটার ও রিচার্জ সহায়তা (২৪ ঘণ্টা, ৭ দিন) | ০১৭০৩৭২৯৫০৫, ০১৭০৩৭২৯৩৮৯, ০১৭০৩৭২৯৪৫১, ০১৭৮৮৫৬৭২৯৬, ০১৭৮৮৫৬৮২৭৬, ০১৩০০২৮৭৫২০ |
| গ্যাস লিকেজ বা দুর্ঘটনা: জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, উত্তর | ০২-৫৫০৪৫১১৩, ০২-৫৫০৪৫১১৪, ০১৯৫৫৫০০৪৯৭, ০১৯৫৫৫০০৪৯৮ |
| জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, দক্ষিণ | ০২-৪১০৭০৯৫১, ০২-৪১০৭০৯৫২, ০১৯৫৫৫০০৪৯৯, ০১৯৫৫৫০০৫০০ |
| তিতাসের কল সেন্টার (২৪ ঘণ্টা) | ১৬৪৯৬ |
যাঁদের মিটার নেই, তাঁদের বিল প্রতি মাসে নির্দিষ্ট। বিইআরসির ৪ জুন ২০২২ তারিখের মূল্যহার আদেশে মিটারবিহীন এক চুলা ৯৯০ টাকা, দুই চুলা ১,০৮০ টাকা, আর মিটারভিত্তিক গৃহস্থালি গ্যাস প্রতি ঘনমিটার ১৮ টাকা। তিতাসের ট্যারিফ পাতায় এর পরের আদেশটি (ফেব্রুয়ারি ২০২৪) বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ক্যাপটিভ গ্রাহকের দাম বদলেছে, গৃহস্থালির নয়। দাম বদলালে নতুন আদেশ দেখে নিন।
বিল দেওয়া যায় তিতাসের তালিকাভুক্ত ৩৭টি ব্যাংকে, আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে রকেট, বিকাশ ও উপায় দিয়ে। নিজের হিসাব দেখতে তিতাসের গ্রাহক পোর্টালে নিবন্ধন করে লগইনের ব্যবস্থাও আছে।
আঙিনায় বসানো প্রিপেইড মিটার তিতাসের নিজস্ব সম্পত্তি, এর নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রাহকের। মিটারে অবৈধ হস্তক্ষেপ, মিটার খুলে রাখা বা অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে তিতাস সতর্ক করেছে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
titas prepaid meter emergency balance কত টাকা?
titas prepaid meter customer care number কোনটা?
কার্ডে রিচার্জ করেছি কিন্তু মিটারে টাকা যায়নি, কী করব?
তিতাস গ্যাস বিল কত ২০২৬?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।