
সংক্ষেপে
নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া, ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, ওজনে কম, কিংবা টাকা নিয়ে পণ্য বা সেবা না দিলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা যায়। অনলাইনে অধিদপ্তরের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (CCMS) দিয়েই সবচেয়ে সহজে হয়, কোনো ফি লাগে না।
আইনের ধারা ৬০ অনুযায়ী ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে জরিমানা আদায় হলে ধারা ৭৬ অনুযায়ী আদায় করা অর্থের ২৫% তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে দেওয়ার কথা।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের 'অভিযোগ করুন' লিংক এই সাইটে নিয়ে যায়।
এই লেখায়
১. কোন কোন ঘটনায় অভিযোগ করা যায়
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এ ভোক্তা-অধিকার বিরোধী নানা কাজকে অপরাধ বলা হয়েছে। যেমন ধারা ৪০ অনুযায়ী আইন বা বিধিতে নির্ধারিত দামের বেশি নিলে, আর ধারা ৪৫ অনুযায়ী টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা ঠিকমতো না দিলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা দুটোই হতে পারে।
- নির্ধারিত বা গায়ে লেখা দামের বেশি নেওয়া, রেস্তোরাঁয় মেনুর চেয়ে বেশি বিল
- ভেজাল, নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, মোড়কে দাম বা মেয়াদের তারিখ না থাকা
- ওজন, পরিমাপ বা পরিমাণে কম দেওয়া
- মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপনে প্রতারণা
- টাকা নিয়েও সেবা না দেওয়া বা নিম্নমানের সেবা
- অনলাইনে অর্ডার করে পণ্য না পাওয়া, দেরিতে পাওয়া, বা অগ্রিম টাকা ফেরত না দেওয়া
২. ৩০ দিনের সময়সীমা আর যে কাগজ লাগবে
ধারা ৬০ স্পষ্ট বলেছে, কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালক বা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। পণ্য হাতে পাওয়ার দিন বা ঘটনার দিন থেকে হিসাব ধরুন, দেরি করবেন না।
অভিযোগের আগে গুছিয়ে নিন
ধারা ৭৬(৬) অনুযায়ী নকল বা ভেজালের বিষয়টি নিজ উদ্যোগে কোনো সরকারি বা বেসরকারি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করিয়ে ফলাফলসহ অভিযোগ করা যায়।
৩. অনলাইনে অভিযোগ করবেন যেভাবে
- ১নিবন্ধন করুনঅধিদপ্তরের CCMS সাইটে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। অভিযোগের জন্য মূলত আপনার মোবাইল নম্বর আর অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ লাগে।
- ২লগইন করুনমোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকুন। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে লগইন পাতার পাসওয়ার্ড উদ্ধারের অপশন ব্যবহার করুন।
- ৩নতুন অভিযোগ খুলুনভোক্তা প্যানেলে নতুন অভিযোগে গিয়ে 'আবেদন করুন' চাপুন। লাল তারকা চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হয়।
- ৪বর্ণনা আর প্রমাণ দিনকবে, কোথায়, কী কিনেছেন, কত দিয়েছেন আর কী সমস্যা হয়েছে, সংক্ষেপে লিখুন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিন, রসিদ আর অন্য প্রমাণ যুক্ত করে জমা দিন।
- ৫ট্র্যাকিং নম্বর রাখুনপ্রতিটি অভিযোগের জন্য আলাদা ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়া হয়, এটি দিয়ে অগ্রগতি দেখা যায়। CCMS সাইটে বলা আছে, অভিযোগ প্রক্রিয়া ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করা হবে।
অনলাইনে না পারলে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে অভিযোগ ফরম নামিয়ে পূরণ করে জমা দিতে পারেন। ঢাকায় জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে, প্রতিটি বিভাগে অধিদপ্তরের কার্যালয় আছে। ইমেইলে পাঠাতে চাইলে ঠিকানা nccc@dncrp.gov.bd। ধারা ৭১ অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও অভিযোগ করা যায়।
৪. অভিযোগের পর কী হয়, ২৫% কীভাবে পান
ধারা ৭৬ অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে তা অনুসন্ধান বা তদন্ত করবে। অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দোষী ব্যক্তিকে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করতে পারেন। আদায় হওয়া জরিমানার ২৫% তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে দেওয়ার বিধান আছে।
| ধাপ | আইনে কী আছে |
|---|---|
| অভিযোগ গ্রহণ | ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে, লিখিতভাবে (ধারা ৬০ ও ৭৬) |
| তদন্ত | অভিযোগ পাওয়ার পর অনতিবিলম্বে অনুসন্ধান বা তদন্ত |
| শাস্তি | প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক জরিমানা |
| অভিযোগকারীর অংশ | আদায় হওয়া জরিমানার ২৫%; আদালতে মামলায় জরিমানা আদায় হলেও ২৫% |
| যাঁরা পাবেন না | অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অভিযোগকারী হলে |
আইনে জরিমানা আর তার ২৫% অভিযোগকারীকে দেওয়ার কথা আছে। পণ্যের দাম ফেরত বা বদলে দেওয়া নিশ্চিত করার কথা ধারা ৭৬ এ নেই, তাই অভিযোগে কী সমস্যা হয়েছে সেটি স্পষ্ট করে লিখুন।
৫. হটলাইন আর যে ভুলগুলো এড়াবেন
অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১৬১২১, চালু থাকে ২৪ ঘণ্টা। অফিস সময়ে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, সরকারি ছুটির দিন বাদে ০১৭৭৭-৭৫৩৬৬৮ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।
- রসিদ ছাড়া অভিযোগ দুর্বল হয়, কেনার সময়ই রসিদ চেয়ে নিন
- ঘটনার ৩০ দিন পার হয়ে গেলে অভিযোগ নেওয়া হবে না
- অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের নাম আর ঠিকানা অস্পষ্ট রাখবেন না
- ধারা ৭১ অনুযায়ী এই আইনের অপরাধে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা যায় না, আগে অধিদপ্তর বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করতে হয়
৬. অনেকে যা জানতে চান
অভিযোগ করতে কি টাকা লাগে?
বাবা-মা বা বন্ধুর হয়ে কি আমি অভিযোগ করতে পারি?
ফেসবুক পেজ থেকে কিনে প্রতারিত হয়েছি, অভিযোগ হবে?
অভিযোগের অবস্থা জানব কীভাবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।