
সংক্ষেপে
বয়স্ক ভাতার জন্য পুরুষের বয়স কমপক্ষে ৬৫ বছর আর নারীর কমপক্ষে ৬২ বছর হতে হয়, সঙ্গে বছরে গড় আয় ৪৫,০০০ টাকার বেশি হওয়া যাবে না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬২ লাখ জন মাসে ৭০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, আগের বছর হার ছিল ৬৫০ টাকা।
নতুন আবেদন হয় অনলাইনে, dss.bhata.gov.bd ঠিকানায়, স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী। ২০২৬-২৭ সালের আবেদন নেওয়া হয়েছিল আগস্ট মাসে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আগে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকলে নতুন করে আবেদন করতে হয়নি।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন আবেদন এই পোর্টালে নেওয়া হয়।
এই লেখায়
১. বয়স্ক ভাতার বয়স কত লাগে ২০২৬
সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মসূচি পাতায় ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে পাঁচটি শর্ত লেখা আছে। বয়সের শর্তটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয়, তবে বাকি শর্তগুলোও সমান জরুরি।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
- পুরুষের বয়স কমপক্ষে ৬৫ বছর, নারীর বয়স কমপক্ষে ৬২ বছর।
- বছরে গড় আয় ৪৫,০০০ টাকার বেশি নয়।
- বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে।
বয়স ঠিক করা হয় জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ বা এসএসসি সমমানের সনদ দেখে। বয়স নিয়ে মতভেদ হলে কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাই আবেদনের আগে NID-তে জন্মতারিখ ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন। NID-তে বয়স কম লেখা থাকলে ভাতার বয়স হতে দেরি হবে।
বাছাইয়ে বেশি বয়সী, পুরোপুরি কর্মক্ষমতাহীন, নিঃস্ব, উদ্বাস্তু ও ভূমিহীনরা অগ্রাধিকার পান। বসতবাড়ি বাদে জমি ০.৫ একর বা কম হলে ভূমিহীন ধরা হয়। বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, বিপত্নীক, নিঃসন্তান বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষও অগ্রাধিকার পান।
২. বয়স্ক ভাতা কত টাকা ২০২৬
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যে হিসাব দেওয়া আছে, তাতে বয়স্ক ভাতার উপকারভোগী ৬২ লাখ জন, জনপ্রতি মাসিক ভাতা ৭০০ টাকা আর মোট বরাদ্দ ৫,২৩৯.২৫ কোটি টাকা।
| অর্থবছর | উপকারভোগী | মাসিক ভাতা |
|---|---|---|
| ১৯৯৭-৯৮ (শুরু) | ৪.০৩ লাখ জন | ১০০ টাকা |
| ২০২৫-২৬ | ৬১ লাখ জন | ৬৫০ টাকা |
| ২০২৬-২৭ | ৬২ লাখ জন | ৭০০ টাকা |
অর্থাৎ বছরে একজন ভাতাভোগী মোট ৮,৪০০ টাকা পাওয়ার কথা। টাকা কত মাস পরপর ছাড় হয়, তা প্রতি বছর অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ঠিক হয়, তাই কোনো তারিখের গুজবে কান না দিয়ে মোবাইলের বার্তা আর ইউনিয়ন বা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নোটিশ দেখুন।
৩. কারা বয়স্ক ভাতা পাবেন না
- সরকারি কর্মচারী হিসেবে পেনশন পেলে।
- দুঃস্থ মহিলা হিসেবে ভিজিডি কার্ড থাকলে।
- অন্য কোনোভাবে নিয়মিত সরকারি অনুদান বা ভাতা পেলে।
- কোনো বেসরকারি সংস্থা বা সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান পেলে।
২০২৬-২৭ সালের আবেদনের নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, যাঁরা অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নিয়মিত সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা বিবেচিত হবেন না। ধরুন, মা আগে থেকেই বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। ৬২ বছর হলে তাঁর জন্য আলাদা করে বয়স্ক ভাতার আবেদন না করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জিজ্ঞেস করুন, কারণ বিধবা ভাতাভোগীকে বয়সে পৌঁছালে বয়স্ক ভাতায় স্থানান্তরের বিধান আছে।
৪. বয়স্ক ভাতা আবেদন অনলাইন: যেভাবে করবেন
বাসস ও ইত্তেফাকের খবর অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন আবেদন নিয়েছে আগস্ট ২০২৬-এ। সার্ভার ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছিল। পরের বছরের আবেদন কবে, তা অধিদপ্তরের নোটিশ দেখে নিশ্চিত হোন।
আবেদনের আগে হাতের কাছে রাখুন
- ১পোর্টাল খুলুনআবেদন চলার সময় dss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায় যান। নিজে না পারলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সাহায্য নিন।
- ২কর্মসূচি বেছে নিনবয়স্ক ভাতা বেছে নিয়ে আবেদনকারীর NID ও জন্মতারিখের তথ্য দিন।
- ৩ঠিকানা আর হিসাবের তথ্য দিনস্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল নম্বর আর ভাতা নেওয়ার হিসাবের তথ্য সাবধানে লিখুন। হিসাবটি অবশ্যই আবেদনকারীর নিজের হতে হবে।
- ৪জমা দিয়ে তথ্য রেখে দিনজমার পর যে আবেদন নম্বর বা কপি দেখায়, তার ছবি তুলে বা প্রিন্ট করে রাখুন। পরে যাচাইয়ের সময় কাজে লাগবে।
নির্দেশনায় আবেদনকারীর NID দিয়ে নিবন্ধিত নম্বর চাওয়া হয়েছে। ছেলে বা মেয়ের নামে তোলা সিম দিলে পরে টাকা আটকে যেতে পারে। দরকার হলে বাবা বা মায়ের NID দিয়ে নতুন সিম তুলে নিন।
৫. আবেদনের আগে পরিবারের যে কাজগুলো সেরে রাখবেন
বয়স্ক ভাতার আবেদন বেশির ভাগ সময় ছেলে, মেয়ে বা নাতি-নাতনিরাই করে দেন। আবেদনের মৌসুম এলে তাড়াহুড়ায় ভুল হয়, তাই আগে থেকেই কয়েকটি কাজ গুছিয়ে রাখলে আবেদন আটকায় না।
- বাবা বা মায়ের NID-তে নাম, জন্মতারিখ আর ঠিকানা ঠিক আছে কি না দেখুন। ভুল থাকলে আগে সংশোধন করুন।
- তাঁর নিজের NID দিয়ে একটি সিম তুলুন এবং সেটি দিয়ে নিজের নামে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলে রাখুন।
- স্থায়ী ঠিকানা কোন ইউনিয়ন বা পৌরসভার, তা নিশ্চিত হোন। শহরে থাকলেও আবেদন হবে স্থায়ী ঠিকানায়।
- অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা নিয়মিত অনুদান পাচ্ছেন কি না জেনে নিন, কারণ তাহলে আবেদন বিবেচিত হবে না।
৬. আবেদন করার পর কী হয়, টাকা আসে কীভাবে
নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন আবেদন আর অপেক্ষমাণ তালিকার পুরোনো আবেদন যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দ অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা হয়। নির্বাচিতরা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা পাওয়ার যোগ্য গণ্য হবেন। আবেদন করলেই ভাতা নিশ্চিত নয়, কারণ আসন সংখ্যা বরাদ্দে বাঁধা।
অধিদপ্তরের তথ্যে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে সারা দেশে নগদ, বিকাশ আর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে ভাতা দেওয়া হয়। এখন উপকারভোগী নিজের পছন্দে মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং বা ব্যাংক শাখা বেছে নিতে পারেন। টাকা না এলে প্রথমে দেখুন হিসাবটি চালু আছে কি না, তারপর ভাতার বই আর NID নিয়ে উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
বয়স্ক ভাতার বয়স কত লাগে?
বয়স্ক ভাতা কত টাকা ২০২৬?
boyosko bhata online abedon কি এখন করা যায়?
পেনশন পেলে কি বয়স্ক ভাতা পাওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।