
সংক্ষেপে
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম, বাবা বা মায়ের নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, জন্মতারিখ, রক্তের গ্রুপ আর ঠিকানা, এই সাতটি তথ্য সংশোধন করা যায়। আবেদন হয় BRTA-র ফরম ৪(খ) দিয়ে, যেটা নবায়ন, প্রতিলিপি আর ঠিকানা পরিবর্তনেরও একই ফরম।
BRTA-র ফির তালিকায় সংশোধন বা ঠিকানা পরিবর্তনের মোট খরচ ১,১০৭ টাকা: মূল ফি ৩০০, কার্ড ফি ৬১০, ভ্যাট ১৩৭ আর ডাক খরচ ৬০ টাকা। লাইসেন্সের মেয়াদ ২ মাসের কম বাকি থাকলে অবশ্য এই ফি নয়, নবায়নের ফি দিতে হয়।
নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে লাইসেন্সের ফি দেওয়া, আবেদনের অবস্থা আর ই-লাইসেন্স দেখা যায়।
এই লেখায়
১. লাইসেন্সে কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়
ফরম ৪(খ)-এর ১১ নম্বর অংশে তথ্য সংশোধনের একটা ছক আছে। সেখানে প্রতিটি বিষয়ের পাশে ‘বিদ্যমান তথ্য’ আর ‘প্রস্তাবিত সংশোধন’ লিখতে হয়। ছকে যে সাতটি বিষয় রাখা আছে:
- নাম
- পিতার নাম
- মাতার নাম
- স্বামী বা স্ত্রীর নাম
- জন্মতারিখ
- রক্তের গ্রুপ
- ঠিকানা
মনে রাখুন, সংশোধনের প্রমাণ হিসেবে মূলত জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়া হয়। তাই লাইসেন্সে নামের বানান NID-র সঙ্গে না মিললে লাইসেন্স ঠিক করা সহজ। কিন্তু ভুলটা যদি NID-তেই থাকে, আগে NID সংশোধন করুন, তারপর লাইসেন্স, কারণ প্রমাণ হিসেবে সেই NID-ই জমা দিতে হবে।
BRTA-র সিটিজেন চার্টারে বলা আছে, পেশাদার লাইসেন্স নবায়নের সময় লাইসেন্স আর NID-তে কোনো গরমিল থাকলে রিফ্রেশার প্রবেশপত্র নেওয়ার আগেই BSP-তে অমিল অনুমোদনের আবেদন করতে হবে। অনুমোদন পেলে তারপর প্রবেশপত্র।
২. ড্রাইভিং লাইসেন্স সংশোধন ফি কত: ১,১০৭ টাকার হিসাব
| খাত | সংশোধন বা ঠিকানা পরিবর্তন | তুলনায়: হারানো লাইসেন্সের প্রতিলিপি |
|---|---|---|
| মূল ফি | ৩০০ টাকা | ২০০ টাকা |
| কার্ড ফি | ৬১০ টাকা | ৬১০ টাকা |
| ১৫% ভ্যাট | ১৩৭ টাকা | ১২২ টাকা |
| ডাক খরচ (পোস্টাল সার্ভিস চার্জ) | ৬০ টাকা | ৬০ টাকা |
| মোট | ১,১০৭ টাকা | ৯৯২ টাকা |
ধরুন আপনার লাইসেন্সের মেয়াদ আরও ৪ বছর আছে আর শুধু ঠিকানা বদলাতে চান। তাহলে খরচ ১,১০৭ টাকাই। কিন্তু মেয়াদ যদি দেড় মাস বাকি থাকে, সংশোধনের জন্য আলাদা টাকা না দিয়ে নবায়নের আবেদনের সঙ্গেই নতুন ঠিকানা দিন, তাতে একবারেই দুটো কাজ হয়ে যায়।
হিসাব BRTA-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ড্রাইভিং লাইসেন্স ফির তালিকা থেকে। শ্রেণি যোগ করা বা লাইসেন্সের ধরন বদলানোর (যেমন অপেশাদার থেকে পেশাদার) ফি আলাদা, মোট ১,২২২ টাকা। অনলাইনে কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দিলে পেমেন্ট গেটওয়ের চার্জ আলাদা যোগ হয়।
ফির তালিকার নিচে লেখা আছে, বিদ্যমান লাইসেন্সের মেয়াদ ২ মাসের কম থাকলে নবায়ন ফি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তখন সংশোধনের ১,১০৭ টাকা নয়, নবায়নের পুরো ফি দিয়ে একসঙ্গে নবায়ন আর সংশোধন করাই ভালো।
৩. সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে
- ১ফরম ৪(খ) নামানBRTA-র ওয়েবসাইটের ফরম অংশ থেকে ফরম ৪(খ) ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন। ইংরেজির ঘর বড় হাতের অক্ষরে পূরণ করতে বলা আছে।
- ২প্রযোজ্য ঘরে টিক দিনফরমের ওপরে বিষয়ের তালিকায় ‘তথ্য সংশোধন’ বা ‘ঠিকানা পরিবর্তন’ টিক দিন। নাম, মোবাইল, NID নম্বর, লাইসেন্স নম্বর, সর্বশেষ ইস্যু বা নবায়নের তারিখ, রেফারেন্স নম্বর আর মেয়াদ শেষের তারিখ লিখুন।
- ৩সংশোধনের ছক পূরণ১১ নম্বর অংশে যে তথ্যটা ভুল, তার পাশে বর্তমান লেখা আর সঠিক লেখা দুটোই দিন। শুধু ভুল ঘরগুলো লিখুন, বাকি ফাঁকা রাখুন।
- ৪ফি জমা দিননিজের BSP অ্যাকাউন্ট থেকে কার্ড, বিকাশ, রকেট বা নগদে লাইসেন্সের ফি দেওয়া যায়, তালিকাভুক্ত ব্যাংকেও জমা দেওয়া যায়। ফরমের ৫ নম্বর ঘরে টাকার অঙ্ক আর ট্রানজেকশন নম্বর লিখুন।
- ৫ছবি লাগিয়ে কাগজসহ জমাফরমে স্ট্যাম্প সাইজের ছবি আঠা দিয়ে লাগিয়ে স্বাক্ষর করুন। ফরমের ওপরে যে সার্কেলের নাম লিখেছেন, সেই BRTA সার্কেল অফিসে নিচের কাগজসহ জমা দিন। গ্রহণের রসিদ বা ক্রমিক নম্বর রেখে দিন।
উদাহরণ: তানভীরের লাইসেন্সে নাম ছাপা হয়েছে MD TANVIR HOSEN, কিন্তু NID-তে MD TANVIR HOSSAIN। তিনি ছকের ‘নাম’ সারিতে বিদ্যমান তথ্যে প্রথমটা আর প্রস্তাবিত সংশোধনে দ্বিতীয়টা লিখবেন, সঙ্গে দেবেন NID-র সত্যায়িত কপি আর মূল লাইসেন্স।
৪. কোন সংশোধনে কী কাগজ লাগবে
ফরম ৪(খ)-এর সংযুক্তি তালিকা অনুযায়ী
ঠিকানার প্রমাণ নিয়ে একটু সতর্ক থাকুন। বিলটা যেন নতুন ঠিকানার হয় আর তাতে ঠিকানাটা পরিষ্কার পড়া যায়। ভাড়া বাসায় থাকলে বিল মালিকের নামে থাকতে পারে, তখন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকত্ব সনদ কাজে আসে।
জমার আগে সবচেয়ে বেশি যে ভুলগুলো হয়, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। ফটোকপি সত্যায়িত না করে জমা দেওয়া, মূল লাইসেন্স সঙ্গে না নেওয়া, আর ফি দেওয়ার পর রসিদের BRTA কপি হারিয়ে ফেলা। একসঙ্গে একাধিক তথ্য ভুল থাকলে, যেমন নাম আর জন্মতারিখ দুটোই, আলাদা আবেদন না করে একই ফরমের ছকে দুটো সারিই পূরণ করুন। প্রতিটি সংশোধনের পক্ষে প্রমাণ যেন ফাইলে থাকে।
৫. জমার পর কার্ড কবে, কোথায় পাবেন
সংশোধিত তথ্যে নতুন কার্ড ছাপা হয়, ফিতে কার্ড ফি আর ডাক খরচ ধরা আছে সেই কারণেই। BRTA-র চার্টারে লাইসেন্স সেবার ক্ষেত্রে বলা আছে, ফি দেওয়ার পর ১৫ থেকে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড ডাকযোগে গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠানো হয়। সংশোধনের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো সময়সীমা ফরমে বা চার্টারে লেখা নেই, তাই দেরি হলে সার্কেল অফিসে খোঁজ নিন।
- আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরটা চালু রাখুন, কার্ড তৈরি বা ডাকে পাঠানোর খবর সাধারণত সেখানেই আসে।
- BSP নিয়ে যেকোনো সমস্যায় BRTA-র কল সেন্টার ১৬১০৭ বা ০৯৬১০৯৯০৯৯৮, খোলা থাকে সরকারি ছুটির দিন বাদে রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
- পুরোনো কার্ডে ভুল ঠিকানা থাকায় নতুন কার্ড ভুল জায়গায় যাওয়ার ভয় থাকলে, আবেদনে বর্তমান ঠিকানা আর মোবাইল নম্বর ঠিকভাবে লিখেছেন কি না আবার দেখুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ড্রাইভিং লাইসেন্স নাম সংশোধন ফি কত?
ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুল সংশোধন ফরম কোনটা?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের ঠিকানা পরিবর্তন করতে কী লাগে?
NID-তেই ভুল থাকলে কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।