
সংক্ষেপে
বিআরটিএতে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ১০০ সিসি পর্যন্ত (বা ৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত ইলেকট্রিক) ২,০০০ টাকা, তার বেশি হলে ৩,০০০ টাকা, ২০২২ সালের গেজেট অনুযায়ী। তবে হাতে মোট খরচ এর চেয়ে বেশি, কারণ সঙ্গে রোড ট্যাক্স, ভ্যাট, নম্বর প্লেট আর ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের দাম যোগ হয়।
যুগান্তরের মে ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বিআরটিএর হিসাব ধরে বলা হয়েছে, ৫০ থেকে ১২৫ সিসির বাইকে রেজিস্ট্রেশনের সময় মোট লাগে ৯,২৯১ টাকা আর ১২৫ সিসির বেশি হলে ১১,৭৬৪ টাকা। পরে দুই বছর পরপর রোড ট্যাক্সের কিস্তি দিতে হয়।
নিবন্ধন, ফি হিসাব আর পেমেন্টের অনলাইন কাজ এই পোর্টালে হয়।
এই লেখায়
১. বাইক রেজিস্ট্রেশন ফি ২০২৬ কত
মোটরযানের ফি ঠিক করা আছে সড়ক পরিবহন বিধিমালার তফসিলে, যা ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে গেজেট হয়েছে। মোটরসাইকেলের অংশটুকু এমন:
| সেবা | ফি (টাকা) |
|---|---|
| নিবন্ধন: ইঞ্জিন ১০০ সিসি পর্যন্ত, বা ইলেকট্রিক মোটর ৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত | ২,০০০ |
| নিবন্ধন: ১০০ সিসির বেশি, বা ৫ কিলোওয়াটের বেশি | ৩,০০০ |
| অস্থায়ী নিবন্ধন | সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ফির অর্ধেক |
| মালিকের ঠিকানা পরিবর্তন | ৫০০ |
| রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের প্রতিলিপি | ৫০০ |
এই ফি দুটি আগে অনেক বেশি ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১০০ সিসি পর্যন্ত বাইকে ৪,২০০ থেকে কমিয়ে ২,০০০ আর বেশি সিসিতে ৫,৬০০ থেকে কমিয়ে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছিল। ফি কমার পর থেকে নতুন বাইকের নিবন্ধনে এই হারই চলছে।
২. বাইক রেজিস্ট্রেশন করতে মোট কত টাকা লাগে
শোরুমে বা বিআরটিএ অফিসে আপনাকে শুধু নিবন্ধন ফি দিলে চলে না। অ্যাসেসমেন্ট স্লিপে একসঙ্গে কয়েকটি খাত আসে। সরকারি উৎস থেকে যা জানা যায়:
- নিবন্ধন ফি: ২,০০০ বা ৩,০০০ টাকা, ওপরের টেবিল অনুযায়ী।
- ভ্যাট: বিআরটিএর সেবা ফিতে ১৫% ভ্যাট যোগ হয়।
- রোড ট্যাক্স: প্রথম কিস্তি নিবন্ধনের সময়, পরে দুই বছর পরপর।
- নম্বর প্লেট আর আরএফআইডি ট্যাগ: যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের আদেশে প্লেটের ধরন অনুযায়ী দাম ২,২০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা।
- ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ডিআরসি): একই আদেশে গ্রাহক মূল্য ৫৪০ টাকা।
| মোটরসাইকেল | নিবন্ধনের সময় মোট | পরে রোড ট্যাক্স |
|---|---|---|
| ৫০ থেকে ১২৫ সিসি | ৯,২৯১ টাকা | দুই বছর পরপর ১,১৫০ টাকা করে ৪ কিস্তি, মোট ৪,৬০০ |
| ১২৫ সিসির বেশি | ১১,৭৬৪ টাকা | দুই বছর পরপর ২,৩০০ টাকা করে ৪ কিস্তি, মোট ৯,২০০ |
এই মোট অঙ্কগুলো যুগান্তরের ১২ মে ২০২৬ সালের প্রতিবেদনের। নিজের বাইকের সঠিক অঙ্ক দেখতে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে লগইন করে ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন, বিআরটিএর সাইটে এর টিউটোরিয়ালও দেওয়া আছে।
২০২৬-২৭ বাজেটের আগে মোটরসাইকেলে সিসিভেদে ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়করের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। প্রথম আলোর ৫ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী এনবিআর সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
৩. বাইক রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম
নতুন বাইক কিনলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডিলার কাগজ তৈরি করে দেয়, তবু ধাপগুলো জেনে রাখলে কোথায় আটকে আছে বুঝতে পারবেন। বিআরটিএর সাইটে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এভাবে দেওয়া আছে:
- ১আবেদন জমামালিক আর ডিলারের স্বাক্ষরসহ নির্ধারিত ফরম, বিক্রয় সনদ, আমদানির কাগজ বা ইনভয়েস, পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি নিয়ে নিজের এলাকার বিআরটিএ সার্কেল অফিসে বা বিএসপির মাধ্যমে আবেদন।
- ২অ্যাসেসমেন্ট স্লিপ আর ফিকাগজ যাচাইয়ের পর ফি জমার অ্যাসেসমেন্ট স্লিপ দেওয়া হয়। ব্যাংকে বা অনলাইনে টাকা জমা দিন।
- ৩বাইক পরিদর্শনফি জমার পর বাইকটি বিআরটিএ অফিসে এনে পরিদর্শন করাতে হয়। এরপর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) নিবন্ধন অনুমোদন দেন।
- ৪নম্বর আর ট্যাক্স টোকেনরেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ প্রাপ্তিস্বীকারপত্র আর ট্যাক্স টোকেন প্রিন্ট করে দেওয়া হয়।
- ৫বায়োমেট্রিক আর ডিআরসিডিআরসি তৈরির জন্য ছবি, স্বাক্ষর আর আঙুলের ছাপ দিতে এসএমএসে ডাকা হয়। কার্ড তৈরি হলে নেওয়ার জন্যও এসএমএস আসে।
ডিলারের কাছ থেকে যে কাগজ বুঝে নেবেন
ডিলার যদি রেজিস্ট্রেশনসহ দাম বলে, অঙ্কটি বিআরটিএর ফির সঙ্গে মিলিয়ে নিন আর রসিদ চেয়ে নিন। কয়েক মাসেও নম্বর বা ডিআরসি না এলে বিএসপিতে নিজের আবেদনের অবস্থা দেখুন, অথবা সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে খোঁজ নিন।
৪. বাইক রেজিস্ট্রেশন করতে কি ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগে
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিআরটিএ নির্দেশনা দিয়েছিল, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। নির্মাতাদের অনুরোধে সময়সীমা ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়, আর নোটিশে বলা হয় ১৫ ডিসেম্বর থেকে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল বিক্রি করা যাবে না। তাই কেনার আগে অন্তত শিক্ষানবিশ লাইসেন্স করে রাখুন, আর শোরুমে জেনে নিন তারা কোন লাইসেন্সের কপি চাইছে।
লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় বাইক চালালেও সড়ক পরিবহন আইনে জরিমানা আছে। শিক্ষানবিশ লাইসেন্স কীভাবে নেবেন, তা আমাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের গাইডে আছে।
৫. সামনেও নম্বর প্লেট: ১৫ নভেম্বরের মধ্যে যা করতে হবে
দ্য ডেইলি স্টারের ১৬ অক্টোবর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিআরটিএ গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে মোটরসাইকেলের সামনেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখানো বাধ্যতামূলক করেছে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মালিকদের নিজ খরচে এই প্লেট লাগাতে বলা হয়েছে। পেছনের আরএফআইডিসহ রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট আগের মতোই থাকবে।
সামনের প্লেটের মাপ
কাগজপত্রের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বিআরটিএ সম্প্রতি ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া শুধু মূল কর ও ফি দিয়ে হালনাগাদের সুযোগ দিয়েছে বলে যুগান্তর জানিয়েছে। বাইক বিক্রি করলে নতুন মালিকের নামে মালিকানা বদলও বাধ্যতামূলক।
৬. অনেকে যা জানতে চান
বাইক রেজিস্ট্রেশন করতে কত টাকা লাগে?
বাইক রেজিস্ট্রেশন ফি ২০২৬ কি বেড়েছে?
bike registration korte ki driving licence lage?
মোটরসাইকেলের রোড ট্যাক্স কত দিন পরপর দিতে হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।