
সংক্ষেপে
বাসায় এসি, পানির পাম্প বা ইলেকট্রিক চুলা যোগ করলে মিটারের অনুমোদিত লোড বাড়াতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (এস. আর. ও. ৪৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৪) অনুযায়ী লোড পরিবর্তনের আবেদন ফি এক ফেজে ১২০ টাকা, তিন ফেজে ৩৬০ টাকা। প্রিপেইড মিটারে লোড বাড়াতে কোনো নিরাপত্তা জামানত লাগে না, পোস্টপেইডে লাগে।
ডেসকোতে আবেদন হয় অনলাইনে, তাদের সেবা প্রতিশ্রুতিতে সময় ৭ কর্মদিবস। ডিপিডিসির অনলাইন ব্যবস্থায় আলাদা লোড বৃদ্ধির অপশন আছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লিখিত আবেদন পেলে বিতরণ কোম্পানিকে ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হয়।
নতুন সংযোগ, লোড পরিবর্তন আর মিটার সংক্রান্ত আবেদন এখানে লগইন করে করা যায়।
এই লেখায়
১. কখন লোড বাড়াতে হয়, না বাড়ালে কী হয়
সংযোগ নেওয়ার সময় আপনার মিটারের জন্য একটা অনুমোদিত লোড ঠিক করা হয়, কিলোওয়াটে। ধরুন সংযোগ নিয়েছিলেন ২ কিলোওয়াটে, এখন দুটি এসি লাগিয়েছেন। মিটার যদি নিয়মিত অনুমোদিত লোডের চেয়ে বেশি চাহিদা রেকর্ড করে, প্রজ্ঞাপনে তার জন্য স্পষ্ট নিয়ম আছে।
- অনুমোদিত লোডের বেশি চাহিদা রেকর্ড হলে বাড়তি অংশের জন্য দ্বিগুণ হারে ডিমান্ড চার্জ ধরা হয়।
- টানা ৩ মাস সর্বোচ্চ চাহিদা অনুমোদিত লোডের ১১০% ছাড়ালে কোম্পানি বাড়তি লোড অনুমোদন করাতে নোটিশ দেবে।
- চতুর্থ মাসেও ১১০% ছাড়ালে ১৫ দিনের নোটিশ দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
- কোম্পানি নিজে থেকে আপনার অনুমোদিত লোড বদলাতে পারে না, আপনাকে আবেদন করতে হয়।
ডিমান্ড চার্জ হিসাব হয় অনুমোদিত কিলোওয়াট ধরে। ডিপিডিসির জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর তালিকায় আবাসিকে এটি কিলোওয়াটপ্রতি মাসে ৪২ টাকা। ২ থেকে ৪ কিলোওয়াট করলে মাসে ডিমান্ড চার্জ ৮৪ থেকে ১৬৮ টাকা হবে। তাই দরকারের চেয়ে বেশি লোড নেবেন না।
২. কত কিলোওয়াট লোড নেবেন: সহজ হিসাব
লোড মানে একসঙ্গে যত যন্ত্র চলতে পারে, তাদের মোট ওয়াট। প্রতিটি যন্ত্রের গায়ে বা ম্যানুয়ালে ওয়াট লেখা থাকে। যেগুলো একসঙ্গে চলে, সেগুলোর ওয়াট যোগ করে ১,০০০ দিয়ে ভাগ করলে কিলোওয়াট পাবেন। ডেসকোর অনলাইন সেবা পোর্টালে একটি লোড ক্যালকুলেটরও আছে, আবেদনের আগে সেখানে হিসাবটা মিলিয়ে নিতে পারেন।
একটা উদাহরণ ধরুন। আপনার যন্ত্রগুলোর লেবেল মিলিয়ে দেখলেন, ফ্যান, বাতি আর ফ্রিজ মিলে ৮০০ ওয়াট, নতুন এসির লেবেলে ১,৮০০ ওয়াট, পানির পাম্পে ৭৫০ ওয়াট। সব একসঙ্গে চললে মোট ৩,৩৫০ ওয়াট, মানে প্রায় ৩.৪ কিলোওয়াট। আগে সংযোগ ছিল ২ কিলোওয়াটে, তাই এখন ৪ কিলোওয়াটের জন্য আবেদন করাই যুক্তিসঙ্গত।
- যে যন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলে না, যেমন ইস্ত্রি আর ওয়াশিং মেশিন, সেগুলো হিসাব থেকে বাদ রাখা যায়।
- বেশি লোড নিলে প্রতি মাসে ডিমান্ড চার্জ বাড়ে, কম নিলে ১১০% নিয়মে নোটিশ আসার ঝুঁকি। মাঝামাঝি হিসাব করুন।
- দোকান বা অফিসের সংযোগ হলে গ্রাহক শ্রেণি আলাদা, জামানতের হারও বেশি।
৩. লোড বৃদ্ধির চার্জ: ফি আর জামানত
| খাত | কার জন্য | টাকা |
|---|---|---|
| আবেদন ফি (প্রতি মিটার) | এলটি এক ফেজ | ১২০ |
| আবেদন ফি (প্রতি মিটার) | এলটি তিন ফেজ | ৩৬০ |
| নিরাপত্তা জামানত (বাড়তি প্রতি কিলোওয়াট) | আবাসিক ও সেচ, ২ কিলোওয়াট পর্যন্ত | ৪৮০ |
| নিরাপত্তা জামানত (বাড়তি প্রতি কিলোওয়াট) | আবাসিক ও সেচ, ২ কিলোওয়াটের বেশি | ৭২০ |
| নিরাপত্তা জামানত (বাড়তি প্রতি কিলোওয়াট) | বাণিজ্যিক, শিল্পসহ অন্য এলটি শ্রেণি | ৯৬০ |
| নিরাপত্তা জামানত | প্রিপেইড মিটার | লাগে না |
প্রজ্ঞাপনে বলা আছে, এই তালিকার বাইরে অন্য কোনো ফি বা জামানত নেওয়া যাবে না, তবে সরকার নির্ধারিত হারে ভ্যাট যোগ হবে। মিটার বা সার্ভিস তার বদলাতে হলে তার খরচ ডিমান্ড নোটে আলাদা আসতে পারে। হারগুলো ২০২৪ সালের প্রজ্ঞাপনের; ডেসকোর ওয়েবসাইটে বিবিধ সেবার মূল্যহারে এখনো এটিই দেওয়া আছে, আর ডেসকোর অক্টোবর ২০২৬ এর সেবা প্রতিশ্রুতির ফিও এর সঙ্গে মেলে।
৪. ডেসকোতে লোড বৃদ্ধির আবেদন: অনলাইনে ধাপগুলো
- ১ওয়্যারিং শেষ করে নিনডেসকোর সেবা প্রতিশ্রুতি বলছে, লোড বা মিটার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নির্মাণ আর ওয়্যারিং শেষ করে আবেদন করতে হয়। পরিদর্শনে ওয়্যারিং করা লোডই দেখা হয়।
- ২OCSMS-এ লগইননিবন্ধিত মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকুন। আগে অ্যাকাউন্ট না থাকলে মোবাইল নম্বর আর NID দিয়ে নিবন্ধন করে এসএমএসে আসা কোড দিয়ে সক্রিয় করুন।
- ৩New Connection/Load Change মেনুবাম পাশের মেনু থেকে এটি খুলুন। ফরমে তিনটি অংশ: মৌলিক তথ্য, সংযোগ বা মিটারের তালিকা আর সংযুক্তি। প্রতিটি অংশ পূরণ করে Save & Continue চাপুন।
- ৪কাগজ আপলোড করে জমা দিনNID বা পাসপোর্টের কপি আর ছবির স্ক্যান দিন। যৌথ মালিকানার বাড়ি হলে অন্য মালিকদের অনাপত্তিনামা লাগবে। Submit & Close চাপলে নিশ্চিতকরণ এসএমএস আসে।
- ৫পরিদর্শন আর ডিমান্ড নোটডেসকো মাঠে ওয়্যারিং করা লোড দেখে প্রতিবেদন দেয়, অনুমোদনের পর ডিমান্ড নোট ইস্যু হয়। ড্যাশবোর্ড থেকে অনলাইনে টাকা দিন। সেবা প্রতিশ্রুতিতে পুরো কাজের সময় ৭ কর্মদিবস।
গ্রাহক শ্রেণি বদলে গেলে, যেমন এলটি থেকে এমটিতে গেলে, ডেসকোর নিয়মে নতুন সংযোগ হিসেবেই আবেদন করতে হয়।
জমা দেওয়ার পর OCSMS ড্যাশবোর্ডে আবেদনের অবস্থা, অসম্পূর্ণ কাগজের বার্তা আর ডিমান্ড নোট দেখা যায়। কাগজ কম থাকলে ডেসকো সেখানেই জানায়, তাই কয়েক দিন পরপর লগইন করে দেখুন।
৫. ডিপিডিসি আর পল্লী বিদ্যুতে লোড বৃদ্ধি
ডিপিডিসির অনলাইন আবেদন ব্যবস্থার মেনুতে নতুন সংযোগের পাশেই Load Increase অপশন আছে। একই মেনুতে ট্র্যাকিং নম্বর আর পিন দিয়ে আবেদনের অবস্থা দেখার ব্যবস্থাও আছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লোড বৃদ্ধির আবেদন সাধারণত সমিতির সংশ্লিষ্ট জোনাল বা সাব-জোনাল অফিসে করতে হয়, অনলাইনে সুযোগ আছে কি না সমিতির হটলাইনে জেনে নিন। ফি আর জামানতের হার একই প্রজ্ঞাপনে ঠিক করা, কারণ প্রজ্ঞাপনটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর জন্যও প্রযোজ্য।
যেকোনো কোম্পানিতে যা হাতে রাখবেন
৬. অনেকে যা জানতে চান
লোড বৃদ্ধির চার্জ কত?
প্রিপেইড মিটারে লোড বাড়াতে জামানত লাগে?
লোড বৃদ্ধি করতে কত দিন লাগে?
লোড না বাড়ালে কী হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।