
সংক্ষেপে
হোল্ডিং ট্যাক্স ঠিক হয় বাড়ি বা জমির বার্ষিক মূল্য ধরে। সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ অনুযায়ী ইমারত ও জমির ওপর কর বার্ষিক মূল্যের সর্বোচ্চ ৭%। এর সঙ্গে আলাদা রেইট যোগ হতে পারে: ময়লা নিষ্কাশন সর্বোচ্চ ৭%, সড়কবাতি সর্বোচ্চ ৫%, পানি সর্বোচ্চ ৩% আর স্বাস্থ্য কর সর্বোচ্চ ৮%। প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন এই সীমার মধ্যে নিজের হার ঠিক করে।
বার্ষিক মূল্য সাধারণত ভাড়ার ভিত্তিতে ধরা হয়। প্রথম আলোর ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরের ভাড়া থেকে দুই মাসের ভাড়া মেরামত বাবদ বাদ দিয়ে ১০ মাসের ভাড়ায় হিসাব হতো, নিজে থাকলে আরও ৪০% বাদ। ঢাকার দুই সিটি তখন মোট ১২% আদায় করত। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ই-রেভিনিউ পোর্টালে অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া যায়।
হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ রাজস্ব সেবার নাগরিক পোর্টাল, অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করতে হয়।
এই লেখায়
১. হোল্ডিং ট্যাক্স কিভাবে নির্ধারণ করা হয়
স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৮ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৮৪ ধারার ক্ষমতাবলে সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ জারি করে, যা সব সিটি কর্পোরেশনে প্রযোজ্য। এতে প্রতিটি কর ও রেইটের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দেওয়া আছে।
| কর বা রেইট | যার ওপর | সর্বোচ্চ হার |
|---|---|---|
| ইমারত ও জমির কর (হোল্ডিং কর) | বার্ষিক মূল্য | ৭% |
| ময়লা নিষ্কাশন রেইট | বার্ষিক কর মূল্যায়ন | ৭% |
| সড়কবাতি রেইট | বার্ষিক কর মূল্যায়ন | ৫% |
| পানি রেইট (ওয়াসা আদায় করলে প্রযোজ্য নয়) | বার্ষিক কর মূল্যায়ন | ৩% |
| স্বাস্থ্য কর | বার্ষিক কর মূল্যায়ন | ৮% |
তফসিল বলছে, বার্ষিক মূল্য ঠিক করার সময় জমির প্রকৃত ব্যবহার দেখতে হবে, আর ভাড়া দেওয়া থাকলে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটে দুজনের রসিদই বিবেচনায় নিতে হবে। করের অঙ্ক এক টাকার কম হলে পুরো এক টাকা ধরা হয়।
২. হোল্ডিং ট্যাক্স কত টাকা: একটি হিসাব
আসল অঙ্ক নির্ভর করে আপনার সিটি কর্পোরেশন কোন হার ধরেছে আর মূল্যায়নে বাড়ির বার্ষিক মূল্য কত ধরা হয়েছে, তার ওপর। প্রথম আলোর ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বর্ণিত পদ্ধতি ধরে একটা উদাহরণ:
- ১মাসিক ভাড়া ধরুনএকটি ফ্ল্যাট মাসে ২০,০০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া, বছরে ২,৪০,০০০ টাকা।
- ২দুই মাসের ভাড়া বাদ দিনমেরামত বাবদ দুই মাস বাদ দিলে ১০ মাসের ভাড়া, অর্থাৎ বার্ষিক মূল্য ২,০০,০০০ টাকা।
- ৩হার প্রয়োগ করুনসিটি কর্পোরেশন মোট ১২% আদায় করলে বছরে কর দাঁড়ায় ২৪,০০০ টাকা। ফ্ল্যাটে মালিক নিজে থাকলে প্রতিবেদনে বলা আরও ৪০% বাদ যাওয়ার কথা।
হার আর মূল্যায়নের পদ্ধতি সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি ২০১৭ সালের। আপনার হোল্ডিংয়ের নিজস্ব অঙ্ক সিটি কর্পোরেশনের বিল বা পোর্টালেই দেখুন।
শহরভেদে তফাত কত বড় হতে পারে, তা একই প্রতিবেদনের তুলনা থেকে বোঝা যায়। তখন ঢাকার দুই সিটি মোট ১২%, চট্টগ্রাম ১৭% আর রাজশাহী ২৭% হারে আদায় করত। এক হাজার বর্গফুটের একটি বাসার বছরে কর ঢাকায় ছিল ৬,০০০ থেকে ৭,৬৮০ টাকা, খুলনায় ১০,৪০০, রংপুরে ১১,০৪০ আর নারায়ণগঞ্জে ২০,৯০০ টাকা। পরে অনেক সিটি পুনর্মূল্যায়ন করেছে, তাই এগুলো এখনকার অঙ্ক ধরে নেবেন না। তবে একটা কথা পরিষ্কার: একই মাপের বাসায় শহরভেদে কর কয়েক গুণ আলাদা হতে পারে, কারণ হার আর মূল্যায়ন দুটোই সিটি কর্পোরেশন ঠিক করে।
৩. কারা ছাড় পান
- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত ইমারত বা জমিতে কর নেই। তবে তার কোনো অংশ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হলে সেই অংশে কর বসে।
- রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত, শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার মালিকানাধীন বাড়ির নিজস্ব বসবাসের অংশে হোল্ডিং কর নেই।
- অন্যান্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নিজস্ব বসবাসের হোল্ডিংয়ে ১,০০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাটে হোল্ডিং কর নেই।
- মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির যে অংশ ভাড়া বা বাণিজ্যিক কাজে দেওয়া, সেই অংশে কর দিতে হয়।
তফসিল অনুযায়ী করদাতা চাইলে হোল্ডিং কর, সড়কবাতি রেইট বা ময়লা নিষ্কাশন রেইট একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য অগ্রিম দিতে পারেন। পরে কর কম বা বেশি হলে তা সমন্বয় করা হয়।
৪. হোল্ডিং ট্যাক্স অনলাইন পেমেন্ট: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ
ঢাকা উত্তর আর ঢাকা দক্ষিণ, দুই সিটি কর্পোরেশনেরই ই-রেভিনিউ নাগরিক পোর্টাল আছে, যেখানে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ রাজস্ব সেবা নেওয়া যায়। পোর্টালে আগে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়।
- ১নিজের সিটি বেছে নিনপোর্টালের ওপরে সিটি কর্পোরেশন বাছাইয়ের তালিকা থাকে, সেখান থেকে ঢাকা উত্তর বা দক্ষিণ বেছে নিন।
- ২অ্যাকাউন্ট খুলুনCREATE ONE চেপে নিবন্ধন করুন। ২০২২ সালে ঢাকা উত্তরের মেয়র জানিয়েছিলেন, এনআইডি নম্বর, ইমেইল আর মোবাইল নম্বর দিয়ে অনলাইনে বিল দেওয়া যাবে।
- ৩হোল্ডিং যুক্ত করে বিল দেখুনলগইন করে নিজের হোল্ডিংয়ের তথ্য দিয়ে বকেয়া ও চলতি বিল দেখুন, তারপর অনলাইনে পরিশোধ করুন।
- ৪রসিদ রাখুনপরিশোধের রসিদ নামিয়ে রাখুন। বিদ্যুৎ সংযোগসহ অনেক কাজে হালনাগাদ হোল্ডিং কর রসিদ চাওয়া হয়।
রিবেট বা ছাড় প্রতি বছর ঘোষণার ওপর নির্ভর করে। যেমন ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি অনলাইনে চার কিস্তিতে পরিশোধে বকেয়াসহ হোল্ডিং করে ১০% রিবেট দিয়েছিল। চলতি বছরের ছাড় আছে কি না, সিটির সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
৫. মূল্যায়নে আপত্তি থাকলে
বিলের অঙ্ক অস্বাভাবিক মনে হলে আগে দেখুন মূল্যায়নে বাড়ির ব্যবহার ঠিক ধরা হয়েছে কি না, যেমন নিজে থাকেন অথচ ভাড়া দেওয়া বা বাণিজ্যিক ধরা হয়েছে কি না। তফসিলে প্রকৃত ব্যবহার আর ভাড়ার রসিদ বিবেচনার কথা আছে, তাই ভাড়ার চুক্তি বা রসিদ গুছিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগে লিখিতভাবে জানান।
পৌরসভার কর তফসিল আলাদা, তাই পৌর এলাকায় থাকলে নিজের পৌরসভার রাজস্ব শাখা থেকে হার জেনে নিন।
যা-ই করুন, আগের বছরের বিল আর পরিশোধের রসিদ ফেলে দেবেন না। হোল্ডিং নম্বর, মূল্যায়িত বার্ষিক মূল্য আর কোন রেইট কত ধরা হয়েছে, তা সাধারণত সেখানেই লেখা থাকে। আপত্তি জানাতে, অনলাইনে হোল্ডিং যুক্ত করতে বা বাড়ি বিক্রির সময় এই কাগজগুলো কাজে লাগে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
হোল্ডিং ট্যাক্স কত টাকা?
হোল্ডিং ট্যাক্স কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?
ঢাকা উত্তর সিটির হোল্ডিং ট্যাক্স অনলাইনে দেব কীভাবে?
মুক্তিযোদ্ধাদের কি হোল্ডিং ট্যাক্স লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।