
সংক্ষেপে
ডিমান্ড চার্জ বিদ্যুৎ বিলের একটা স্থির অংশ। এটা ধরা হয় আপনার সংযোগের অনুমোদিত লোড (কিলোওয়াট) দিয়ে, মাসে কত ইউনিট খরচ করলেন তা দিয়ে নয়। ডিপিডিসির জুন ২০২৬ বিল মাস থেকে কার্যকর ট্যারিফে আবাসিক গ্রাহকের ডিমান্ড চার্জ প্রতি কিলোওয়াটে মাসে ৪২ টাকা।
২ কিলোওয়াট লোডের বাসায় তাই মাসে ৮৪ টাকা, সঙ্গে ৫% ভ্যাট। প্রিপেইড মিটারে এটা মাসে একবার কাটে, কোনো মাসে রিচার্জ না করলে পরের রিচার্জে জমা মাসগুলোর চার্জ একসঙ্গে কাটে। চার্জ কমানোর পথ একটাই: প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লোড বা ভুল ট্যারিফ থাকলে সেটা ঠিক করা।
গ্রাহক শ্রেণি অনুযায়ী এনার্জি রেট আর ডিমান্ড চার্জের পুরো তালিকা।
এই লেখায়
১. ডিমান্ড চার্জ কি, কেন নেওয়া হয়
আপনার সংযোগ যত কিলোওয়াট লোডের জন্য অনুমোদিত, বিতরণ কোম্পানিকে তত বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি রাখতে হয়: তার, ট্রান্সফরমার, লাইনের সক্ষমতা। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, প্রতিটি ট্যারিফের জন্য একটি নির্দিষ্ট হার থাকে, আর সেটি অনুমোদিত লোডের সঙ্গে গুণ করে ডিমান্ড চার্জ বসে।
তাই এক মাস বাসা খালি থাকলেও, একটা ইউনিটও খরচ না হলেও, ডিমান্ড চার্জ বসে। ডিপিডিসি জানিয়েছে, এই চার্জ প্রিপেইড আর পোস্টপেইড দুই ধরনের গ্রাহকের জন্যই প্রযোজ্য।
২. কোন গ্রাহকের প্রতি কিলোওয়াটে কত
| গ্রাহক শ্রেণি (নিম্নচাপ) | ডিমান্ড চার্জ, প্রতি কিলোওয়াট প্রতি মাসে |
|---|---|
| এলটি-এ: আবাসিক | ৪২ টাকা |
| এলটি-বি: সেচ বা কৃষিকাজের পাম্প | ৪২ টাকা |
| এলটি-সি১: ক্ষুদ্র শিল্প | ৪৮ টাকা |
| এলটি-ডি১: শিক্ষা, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল | ৬০ টাকা |
| এলটি-ই: বাণিজ্যিক ও অফিস | ৯০ টাকা |
| এলটি-সি২: নির্মাণ | ১২০ টাকা |
| এলটি-টি: অস্থায়ী | ১২০ টাকা |
হারগুলো ডিপিডিসির ট্যারিফ পাতা থেকে নেওয়া, বিল মাস জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর। নিম্নচাপ (এলটি) সংযোগ মানে সিঙ্গেল ফেজে ০ থেকে ৭.৫ কিলোওয়াট আর থ্রি ফেজে ০ থেকে ৮০ কিলোওয়াট পর্যন্ত। ডেসকো, পল্লী বিদ্যুৎ বা অন্য কোম্পানির গ্রাহক হলে নিজের কোম্পানির ট্যারিফ পাতায় হার মিলিয়ে নিন।
৩. নিজের ডিমান্ড চার্জ হিসাব করুন
- ১অনুমোদিত লোড খুঁজুনপোস্টপেইড বিলে অনুমোদিত লোডের ঘর থাকে। প্রিপেইড গ্রাহক হলে গ্রাহক নম্বর দিয়ে নিজের বিদ্যুৎ অফিস বা হেল্পলাইন থেকে অনুমোদিত লোড জেনে নিন।
- ২ট্যারিফ শ্রেণি মিলিয়ে নিনবাসা হলে এলটি-এ, দোকান বা অফিস হলে এলটি-ই। বিলে লেখা শ্রেণি আপনার আসল ব্যবহারের সঙ্গে মেলে কি না দেখুন।
- ৩গুণ করুনলোড গুণ হার। ২ কিলোওয়াটের বাসায় ২ গুণ ৪২ সমান ৮৪ টাকা। ৫ কিলোওয়াট হলে ২১০ টাকা। ৩ কিলোওয়াটের দোকানে ৩ গুণ ৯০ সমান ২৭০ টাকা।
- ৪ভ্যাট যোগ করুনবিলিংয়ে ৫% ভ্যাট প্রযোজ্য। ৮৪ টাকার ওপর ভ্যাট প্রায় ৪ টাকা ২০ পয়সা।
ডিপিডিসি জানিয়েছে, ২ কিলোওয়াটের আবাসিক গ্রাহক টানা তিন মাস রিচার্জ না করলে পরের রিচার্জে তিন মাসের ডিমান্ড চার্জ ২৫২ টাকা একসঙ্গে কাটে। ডিপিডিসির দেওয়া মিটার হলে সঙ্গে মাসিক ভাড়াও কাটে: সিঙ্গেল ফেজে ৪০ টাকা, থ্রি ফেজে ২৫০ টাকা।
৪. পুরো বিলের মধ্যে ডিমান্ড চার্জ কতটুকু
একটা উদাহরণে দেখা যাক, ঢাকায় ডিপিডিসির আবাসিক গ্রাহক, অনুমোদিত লোড ২ কিলোওয়াট, মাসে ১৫০ ইউনিট খরচ। ট্যারিফ পাতার ধাপ অনুযায়ী প্রথম ৭৫ ইউনিট ৫.২৬ টাকায়, পরের ৭৫ ইউনিট ৮.৫০ টাকায় ধরলে হিসাব দাঁড়ায় মোটামুটি এরকম। হিসাবটা আনুমানিক, মিটার ভাড়া বা রিবেট ধরা হয়নি।
| অংশ | হিসাব | টাকা |
|---|---|---|
| প্রথম ৭৫ ইউনিট | ৭৫ গুণ ৫.২৬ | ৩৯৪.৫০ |
| পরের ৭৫ ইউনিট | ৭৫ গুণ ৮.৫০ | ৬৩৭.৫০ |
| ডিমান্ড চার্জ | ২ কিলোওয়াট গুণ ৪২ | ৮৪.০০ |
| ভ্যাট | ওপরের মোটের ৫% | প্রায় ৫৫.৮০ |
| মোট | প্রায় ১,১৭২ |
অর্থাৎ এই বাসায় ডিমান্ড চার্জ বিলের ১০ ভাগেরও কম। কিন্তু লোড যদি অকারণে ৫ কিলোওয়াট থাকে, তাহলে একই খরচে ডিমান্ড চার্জ হবে ২১০ টাকা, বছরে বাড়তি দেড় হাজার টাকার বেশি। ছোট বাসায় বেশি লোড থাকলে তাই সেটা দেখার মতো বিষয়।
৫. ডিমান্ড চার্জ কমানোর উপায়
ইউনিট কম খরচ করে ডিমান্ড চার্জ কমে না, কারণ এটা লোডের ওপর বসে। কমানোর বাস্তব পথ দুটি।
- লোড প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাকলে কমানোর আবেদন। আগের মালিক বা ভাড়াটে হয়তো বেশি লোড নিয়েছিলেন, এখন আপনার এত লাগে না। ডিপিডিসির অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায় নতুন সংযোগ, লোড বৃদ্ধি, ট্যারিফ পরিবর্তন আর এসি লোড অনুমোদনের অপশন আছে, কিন্তু লোড কমানোর আলাদা অপশন আমরা দেখিনি। তাই নিজের বিক্রয় ও বিতরণ অফিসে লিখিত আবেদন করে জেনে নিন কী লাগবে।
- ট্যারিফ ভুল থাকলে সংশোধন। বাসার সংযোগ বাণিজ্যিক শ্রেণিতে থাকলে প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকার জায়গায় ৯০ টাকা কাটছে, ইউনিটের দামও বেশি। ডিপিডিসির অনলাইন ব্যবস্থায় ট্যারিফ পরিবর্তনের আবেদন করা যায়।
উল্টো দিকটাও মনে রাখুন। নতুন এসি বসালে লোড বাড়ে, আর ডিপিডিসি এসির লোড আলাদা করে অনুমোদনের ব্যবস্থা রেখেছে। অনুমোদিত লোড বাড়লে ডিমান্ড চার্জও বাড়বে, তাই দরকার বুঝে লোড নিন।
অফিসে যাওয়ার আগে সঙ্গে নিন
৬. অনেকে যা জানতে চান
ডিমান্ড চার্জ কত টাকা?
ডিমান্ড চার্জ কেন নেওয়া হয়?
প্রিপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ কখন কাটে?
ডিমান্ড চার্জ কি বাতিল করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।