
সংক্ষেপে
গ্রাহক মারা গেলে তাঁর নামের সিম বৈধ উত্তরাধিকারী নিজের নামে নিতে পারেন। বিটিআরসি ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের সভায় একে "বিশেষ পদ্ধতি" হিসেবে নির্দেশনায় এনেছে। এ জন্য লাগে মৃত গ্রাহকের NID, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশনামা আর উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্র।
শুরু করুন সিমটির অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে। আগে এমন আবেদন অপারেটর বিটিআরসিতে পাঠাত আর একটি একটি করে নিষ্পত্তি হতো। এখন নির্দেশনা থাকায় কাগজ দেখিয়েই সিম নেওয়ার কথা। মনে রাখবেন, এক NID-তে ১০টির বেশি সিম রাখা যায় না।
সিম নিয়ে অভিযোগ আর নির্দেশনার জন্য বিটিআরসির ওয়েবসাইট।
এই লেখায়
১. কেন মৃত ব্যক্তির সিম আটকে যায়
বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের নিয়মে সিমের মালিকানা বদলাতে বা রিপ্লেস করতে সাধারণত মূল গ্রাহকের আঙুলের ছাপ লাগে। গ্রাহক মারা গেলে সেটা আর সম্ভব নয়। ফলে পরিবারের কেউ বছরের পর বছর নম্বরটি চালালেও সিম হারালে বা বন্ধ হলে তুলতে পারতেন না।
প্রথম আলোর ৩ এপ্রিল ২০২৬-এর প্রতিবেদনে এক শিক্ষার্থীর কথা আছে। বাবার নামের সিমটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, কারণ বাবার নামে ১০টির বেশি সিম ছিল। বাবা মারা যাওয়ায় মালিকানা বদলের সুযোগও ছিল না। বিটিআরসি ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে এক নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে কম ব্যবহৃত সিম বন্ধ করা শুরু করে, তাই মৃত বাবা-মায়ের নামে অনেক সিম থাকলে চালু নম্বরটিও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি আছে।
গত এক বছরে চার অপারেটরের এমন ৮৮টি জটিল অনুরোধ অনুমোদন দিয়েছিল বিটিআরসি: ৫১টি সিম রিপ্লেসমেন্ট, ৮টি নতুন নিবন্ধন আর ২৯টি মালিকানা পরিবর্তন। অপারেটরের নিজের পর্যায়ে সমাধানের সক্ষমতা সীমিত ছিল বলে এখন নির্দেশনা করা হয়েছে।
২. যে কাগজগুলো লাগবে
মৃত গ্রাহকের সিম হস্তান্তরে
মৃত্যু সনদ না থাকলে আগে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে মৃত্যু নিবন্ধন করে নিন। ওয়ারিশ সনদে মৃত ব্যক্তির সব উত্তরাধিকারীর নাম থাকে। কয়েকজন ওয়ারিশ থাকলে কার নামে সিম যাবে, অন্যদের লিখিত সম্মতি লাগবে কি না, কাস্টমার কেয়ারে জেনে নিন।
নিজের NID-র মূল কার্ড, সব কাগজের মূল কপি আর ফটোকপি, দুটোই নিয়ে যান। কোনটা জমা রাখবে আর কোনটা শুধু দেখবে, কাউন্টারই ঠিক করবে, তাতে আরেক দিন যেতে হবে না।
৩. হস্তান্তরের ধাপ
- ১সিমটি এখন চালু কি না দেখুনসিম চালু থাকলে নম্বরটি নিশ্চিত করে রাখুন। হারিয়ে বা বন্ধ হয়ে থাকলে নম্বরটি কোথাও লিখে রাখুন, কাস্টমার কেয়ারে লাগবে।
- ২নিজের নামে কয়টি সিম আছে দেখুনসিম আপনার নামে এলে আপনার NID-র সিম সংখ্যায় যোগ হবে। নিজের নামে আগেই ১০টি থাকলে নতুনটি নেওয়ার আগে অপ্রয়োজনীয় সিম বাতিল করুন।
- ৩অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যানযে অপারেটরের সিম, তাদের নিজস্ব কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে কাগজ নিয়ে নিজে যান। বলুন, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী মৃত গ্রাহকের সিম উত্তরাধিকারীর নামে হস্তান্তর চান।
- ৪আঙুলের ছাপ দিয়ে নিজের নামে নিবন্ধনকাগজ যাচাইয়ের পর সিমটি আপনার NID-তে নিবন্ধন হবে। হারানো সিম হলে একই সঙ্গে রিপ্লেসমেন্ট চাইতে পারেন।
- ৫না হলে লিখিত অভিযোগকাস্টমার কেয়ার ফিরিয়ে দিলে কারণ লিখে নিন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী আগে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক সরাসরি কমিশনেও আবেদন করতে পারতেন, তাই বিটিআরসিতে লিখিতভাবে জানাতে পারেন।
৪. আরও দুই ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি
একই সিদ্ধান্তে আরও দুই ধরনের বায়োমেট্রিক জটিলতার সমাধান রাখা হয়েছে। পরিবারে এমন কেউ থাকলে কাজে লাগবে।
| অবস্থা | যা লাগবে | বাড়তি শর্ত |
|---|---|---|
| গ্রাহক মারা গেছেন, সিম উত্তরাধিকারীর নামে | মৃতের NID, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশনামা, উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্র | নেই |
| মূল গ্রাহক বিদেশে, মনোনীত ব্যক্তি সিম তুলবেন | পাসপোর্ট ও ভিসার কপি, কাজের অনুমতিপত্র, NID, যিনি তুলবেন তাঁর পরিচয়পত্র | যাচাইয়ের পর মূল গ্রাহকের সঙ্গে ভিডিও কল |
| বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষের আঙুলের ছাপ মেলে না | NID আর মেডিক্যাল বোর্ডের প্রত্যয়নপত্র | নেই |
৫. সিম নিজের নামে আসার পর
নম্বরটি এখন আপনার NID-তে নিবন্ধিত, তাই এর দায়ও আপনার। কয়েকটি কাজ এখনই সেরে ফেলুন।
- এই নম্বরে যেসব ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য সেবার অ্যাকাউন্ট খোলা ছিল, সেগুলো মৃত ব্যক্তির নামে থাকলে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিয়মে বন্ধ বা হস্তান্তর করুন। সিম হস্তান্তর মানেই সেই অ্যাকাউন্টের মালিকানা পাওয়া নয়।
- মৃত বাবা-মায়ের নামে আরও সিম থাকলে সেগুলো কার কাছে আছে খোঁজ নিন। দরকারি নম্বর একইভাবে উত্তরাধিকারীর নামে নিন, বাকিগুলো বাতিলের ব্যবস্থা করুন।
- নিজের নামে মোট সিম ১০টির বেশি যেন না হয়, কারণ বিটিআরসি বাড়তি সিমের মধ্যে কম ব্যবহৃতটি বন্ধ করে দেয়।
- কাস্টমার কেয়ার থেকে পাওয়া রসিদ বা আবেদনের কপি রেখে দিন, পরে কোনো জটিলতা হলে লাগবে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
মৃত বাবার সিম হারিয়ে গেছে, এখন কি তোলা যাবে?
ওয়ারিশ সনদ ছাড়া কি হবে?
হস্তান্তরে কত টাকা লাগে?
সিমটি চালু আছে, হস্তান্তর না করলে কী সমস্যা?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।