
সংক্ষেপে
বাসাবাড়িতে মিটার ছাড়া লাইনের গ্যাসে ডাবল চুলার বিল মাসে ১,০৮০ টাকা, এক চুলার ৯৯০ টাকা। মিটার বা প্রিপেইড মিটার থাকলে দাম প্রতি ঘনমিটার ১৮ টাকা, যতটা পোড়াবেন ততটাই দেবেন। এই হার বিইআরসি ঠিক করেছিল জুন ২০২২ বিলমাস থেকে।
২০২৬ সালের ২ জুলাই বিইআরসি যে সম্পূরক আদেশ দিয়েছে, তাতে গৃহস্থালির দাম ঘনমিটারে ১৮ টাকাই রাখা হয়েছে, আর ২০২২ সালের আদেশগুলো অপরিবর্তিত থাকবে বলে লেখা আছে। তাই এই মুহূর্তে চুলার বিলও আগের মতোই।
বিইআরসির মূল্যহারের আদেশগুলো তিতাস এখানে প্রকাশ করে।
এই লেখায়
১. গ্যাস বিল কত ২০২৬: চুলা আর মিটারের হার
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) ৪ জুন ২০২২ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে ভোক্তাপর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নতুন করে ঠিক করে। আদেশটি তিতাস, বাখরাবাদ, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল, কর্ণফুলী আর সুন্দরবন, ছয়টি বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকদের জন্যই। গৃহস্থালি অংশের হার এমন:
| গৃহস্থালি সংযোগ | দাম | কীভাবে হিসাব |
|---|---|---|
| মিটারবিহীন ডাবল বার্নার (দুই চুলা) | ১,০৮০ টাকা | প্রতি মাসে নির্দিষ্ট |
| মিটারবিহীন সিঙ্গেল বার্নার (এক চুলা) | ৯৯০ টাকা | প্রতি মাসে নির্দিষ্ট |
| মিটারভিত্তিক বার্নার | ১৮ টাকা | প্রতি ঘনমিটার ব্যবহার |
আদেশটি জুন ২০২২ বিলমাস থেকে কার্যকর, আর পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকার কথা লেখা আছে। প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের নতুন দাম অনুযায়ী প্রি-পেইড কার্ড হালনাগাদ করে নিতে বলা হয়েছিল।
২. ২০২৬ সালে কি গ্যাসের দাম বেড়েছে
গৃহস্থালির ক্ষেত্রে না। বিইআরসি ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে আদেশ নম্বর ২০২৬/২৬ দিয়েছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। এতে সরকারের রয়্যালটি যুক্ত করে দামের ভেতরের খাতগুলো নতুন করে ভাগ করা হয়েছে, কিন্তু আদেশে বলা আছে ভোক্তাপর্যায়ে দাম অপরিবর্তিত রাখা যায়। কোম্পানিভিত্তিক টেবিলে গৃহস্থালির দাম প্রতি ঘনমিটার ১৮ টাকাই আছে।
এর আগে ২০২৩ সালে তিতাস দুই চুলার বিল ১,৫৯২ টাকা আর এক চুলার ১,৩৮০ টাকা করার কথা তুলেছিল বলে ডেইলি স্টার জানিয়েছিল। বিইআরসি তখন বলেছিল, চিঠিটি দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়। সেই হার কার্যকর হয়নি।
সিলিন্ডারের এলপিজির দাম বিইআরসি প্রতি মাসে আলাদা ঘোষণা করে। লাইনের গ্যাসের চুলার বিলের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই, তাই খবরে এলপিজির দাম বাড়া-কমা দেখে চুলার বিল নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না।
৩. ডাবল চুলার গ্যাস বিল কত পড়ে, আর মিটারে কত
মিটার ছাড়া সংযোগে বিল ঠিক হয় চুলার সংখ্যা দিয়ে, ব্যবহার দিয়ে নয়। মাসে গ্যাস কম এলেও ডাবল চুলার বিল ১,০৮০ টাকাই। প্রিপেইড মিটার থাকলে হিসাব উল্টো, যতটুকু পোড়াবেন ততটুকুর দাম দেবেন। আপনার এলাকায় মিটার বসানোর কাজ চলছে কি না, নিজের বিক্রয় অফিসে জেনে নিন।
| মাসে ব্যবহার | মিটারে খরচ (১৮ টাকা হারে) | মিটারবিহীন ডাবল চুলা |
|---|---|---|
| ৪০ ঘনমিটার | ৭২০ টাকা | ১,০৮০ টাকা |
| ৫০ ঘনমিটার | ৯০০ টাকা | ১,০৮০ টাকা |
| ৬০ ঘনমিটার | ১,০৮০ টাকা | ১,০৮০ টাকা |
| ৭০ ঘনমিটার | ১,২৬০ টাকা | ১,০৮০ টাকা |
টেবিলটা শুধু গ্যাসের দামের হিসাব। দেখা যাচ্ছে মাসে ৬০ ঘনমিটারের কম পোড়ালে মিটারে খরচ কম, বেশি পোড়ালে ডাবল চুলার নির্দিষ্ট বিলই সস্তা। কোন পরিবারে মাসে কত ঘনমিটার লাগে, তা রান্নার ধরন আর সদস্যসংখ্যার ওপর নির্ভর করে, তাই এই টেবিলকে শুধু তুলনার জন্য ধরুন।
৪. তিতাস গ্যাস বিল দেওয়ার নিয়ম, বিকাশে
তিতাসের ওয়েবসাইটের অনলাইন বিল পেমেন্ট পাতায় বিকাশ অ্যাপে মিটারবিহীন গ্রাহকের বিল দেওয়ার ধাপগুলো দেখানো আছে। অন্য কোম্পানির গ্রাহক হলে অ্যাপের গ্যাস তালিকা থেকে নিজের কোম্পানি বাছবেন।
- ১পে বিল খুলুনবিকাশ অ্যাপের হোম স্ক্রিন থেকে পে বিল বেছে নিন।
- ২কোম্পানি বাছুনগ্যাস ট্যাপ করে Titas Gas (Non-metered) বাছুন।
- ৩তথ্য দিনবিলের মাস, কাস্টমার কোড আর মোবাইল নম্বর লিখুন। পরের মাসের জন্য অ্যাকাউন্টটি সেভ করে রাখতে পারেন।
- ৪নাম-ঠিকানা মিলিয়ে নিনপর্দায় গ্রাহকের নাম আর ঠিকানা আসবে। নিজের সংযোগের সঙ্গে মিললে তবেই এগোবেন।
- ৫টাকার অঙ্ক দিনবিলের পরিমাণ লিখুন। সারচার্জ থাকলে তার পরিমাণ দিন, না থাকলে শূন্য দিয়ে এগিয়ে যান।
- ৬পিন দিয়ে নিশ্চিত করুনপিন দিয়ে স্ক্রিনের নিচের অংশ চেপে ধরে রাখলে বিল পরিশোধ হয়, আর একটি ট্রানজেকশন আইডিসহ নিশ্চিতকরণ আসে।
বিল দেওয়ার আগে একটা জিনিস দেখে নেওয়া কাজের। কাস্টমার কোড দিলে অ্যাপে বিলের তথ্যে চুলার ধরন আর সংখ্যা দেখায়, যেমন Double Burner, Quantity 1। আপনার রান্নাঘরে এক চুলা অথচ রেকর্ডে ডাবল লেখা থাকলে প্রতি মাসে ৯০ টাকা বেশি যাচ্ছে। এমন অমিল পেলে বিল দিয়ে রসিদ রেখে নিজের বিক্রয় অফিসে লিখিতভাবে জানান। উল্টোটাও মাথায় রাখুন। অনুমোদনের চেয়ে বেশি চুলা চালালে তা অনুমোদনহীন ব্যবহার হিসেবে ধরা হতে পারে, আর তিতাস নিয়মিত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান চালায়।
কেউ ফোন করে বকেয়া বিলের কথা বলে ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বললে পাঠাবেন না। বিল দিন শুধু অ্যাপের পে বিল অপশনে বা ব্যাংকে, আর সন্দেহ হলে নিজের আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
৫. গ্যাস বিল বকেয়া দেখার নিয়ম আর বিল নিয়ে আপত্তি
- তিতাসের গ্রাহক পোর্টালে কাস্টমার কোড আর মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করা যায়। প্রথমবার হলে Sign up করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়।
- বকেয়ার কারণে সংযোগ কাটা পড়েছে কি না, তিতাস তার ওয়েবসাইটে বিক্রয় বিভাগভিত্তিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও পুনঃসংযোগকৃত গ্রাহকের তালিকা প্রকাশ করে।
- পুরোনো বিলের কাগজ বা ব্যাংকের রসিদ হাতে রাখুন। বকেয়া নিয়ে মতভেদ হলে এগুলোই প্রমাণ।
- বিলে ভুল বা হিসাব নিয়ে আপত্তি থাকলে নিজের জোন বা আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসে যান। তিতাসের সাইটে অনলাইনে অভিযোগ দাখিলের ব্যবস্থাও আছে।
বাসা ভাড়া নিলে চুক্তির সময়েই বাড়িওয়ালার কাছ থেকে গ্যাসের কাস্টমার কোড আর শেষ বিল দেওয়ার রসিদ দেখে নিন। আগের ভাড়াটের বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে, আর সেই সমস্যা মেটাতে সময় লাগে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ডাবল চুলার গ্যাস বিল কত?
গ্যাস কম পেলেও কি পুরো বিল দিতে হয়?
জালালাবাদ বা বাখরাবাদ গ্যাসের বিল কি তিতাসের মতোই?
তিতাস গ্যাস বকেয়া বিল চেক করব কীভাবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।