
সংক্ষেপে
তিতাস গ্যাসের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী আবাসিক সংযোগে নাম বা মালিকানা পরিবর্তনের ফি ২,০০০ টাকা, যা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিতে হয়। সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ সময় ৩ কর্মদিবস, তবে কাগজ জোগাড়ে আপনার যে সময় লাগবে তা এর বাইরে।
লাগবে আবেদনকারীর ৩ কপি সত্যায়িত রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, ক্রয় বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানার প্রমাণ হিসেবে দলিল ও নামজারির নোটারি করা কপি, আর আগের মালিকের নামে কোম্পানির সব পাওনা শোধের রাজস্ব ছাড়পত্র। বাণিজ্যিক সংযোগে ফি ৫,০০০ টাকা, সময় ১৫ কর্মদিবস।
আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগভিত্তিক চার্টার, ফরম আর ব্যাংকের তালিকা কোম্পানির ওয়েবসাইটে পাবেন।
এই লেখায়
১. কখন গ্যাসের নাম পরিবর্তন করতে হয়
গ্যাস সংযোগ সাধারণত বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকের নামে থাকে। মালিক বদলালে সংযোগের নামও বদলানো দরকার। দুটি সাধারণ ক্ষেত্র: আপনি বাসা কিনেছেন কিন্তু সংযোগ বিক্রেতার নামে, অথবা সংযোগ ছিল বাবা বা মায়ের নামে, তিনি মারা গেছেন। তিতাসের চার্টারে সেবাটির নাম নাম পরিবর্তন বা মালিকানা পরিবর্তন, আবাসিক, বাণিজ্যিক আর শিল্প সংযোগের জন্য আলাদা নিয়ম।
নাম না বদলালে বিল আগের মালিকের নামেই আসতে থাকে। পরে সংযোগ নিয়ে কোনো আবেদন, যেমন রাইজার স্থানান্তর বা বিচ্ছিন্ন সংযোগ আবার চালু, করতে গেলে মালিকানার প্রশ্ন ওঠে।
২. তিতাস গ্যাস নাম পরিবর্তনে কী কাগজ লাগে
তিতাসের আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগগুলোর চার্টারে, যেমন গাজীপুর আর নারায়ণগঞ্জের, আবাসিক সংযোগের জন্য এই কাগজগুলো চাওয়া হয়েছে:
আবাসিক সংযোগের কাগজ
ওয়ারিশ সূত্রে নাম বদলাতে চাইলে মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ওয়ারিশদের নামে নামজারি থাকলে কাজ সহজ হয়। ভাই-বোন মিলে উত্তরাধিকার হলে কার নামে সংযোগ যাবে, আগে নিজেরা ঠিক করে নিন। ফরমটি কোম্পানির ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট বিপণন দপ্তর থেকে পাওয়া যায়।
একটা উদাহরণ ধরুন। রফিক সাহেব নারায়ণগঞ্জে একটি পুরোনো ফ্ল্যাট কিনেছেন। দলিল তাঁর নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে, নামজারিও শেষ। কিন্তু গ্যাস বিল আসছে আগের মালিকের নামে, আর দুই মাসের বিল বাকি। তাঁকে আগে ওই বকেয়া শোধ করে ছাড়পত্র নিতে হবে, তারপর দলিল ও নামজারির নোটারি কপি, ছবি, NID কপি আর ২,০০০ টাকার ব্যাংক রসিদ নিয়ে বিপণন দপ্তরে আবেদন।
৩. ওয়ারিশ সূত্রে বাবা বা মায়ের নামের সংযোগ
চার্টারে উত্তরাধিকার আর ক্রয়, দুই ক্ষেত্রেই মালিকানার প্রমাণ হিসেবে দলিল ও নামজারির নোটারি কপি চাওয়া হয়েছে। তাই বাবা বা মা মারা যাওয়ার পর আগে জমি বা ফ্ল্যাটের নামজারি ওয়ারিশদের নামে করিয়ে নিন। ওয়ারিশ সূত্রে নামজারির জন্য সাধারণত ওয়ারিশ সনদ লাগে, সেটা কোথায় আর কীভাবে পাবেন, আমাদের ওয়ারিশ সনদের লেখায় আছে।
নামজারি হয়ে গেলে ঠিক করুন সংযোগ কোন ওয়ারিশের নামে যাবে। পরিবারের সবাই একমত থাকলে কাজ দ্রুত হয়। মালিকানা নিয়ে মতভেদ থাকলে আগে তা মিটিয়ে নিন, দরকার হলে এসি (ল্যান্ড) অফিস বা আইনজীবীর পরামর্শ নিন। বাবার নামে কোনো বিল বাকি থাকলে সেটাও শোধ করে ছাড়পত্র নিতে হবে।
৪. আবেদনের ধাপ
- ১বকেয়া মিটিয়ে ছাড়পত্র নিনআগের মালিকের নামে কোনো গ্যাস বিল বাকি থাকলে আগে শোধ করুন। সব পাওনা শোধের রাজস্ব ছাড়পত্র ছাড়া আবেদন এগোবে না।
- ২দলিল ও নামজারির নোটারি কপি করানসাধারণ ফটোকপি নয়, নোটারি পাবলিক দিয়ে প্রত্যয়িত কপি লাগবে।
- ৩ব্যাংকে ফি জমা দিনআবাসিক সংযোগে ২,০০০ টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিন। কোন ব্যাংকে জমা দেবেন, তার তালিকা কোম্পানির ওয়েবসাইটে আছে। জমার রসিদ রাখুন।
- ৪বিপণন দপ্তরে জমা দিনফরম পূরণ করে ছবি, NID কপি, নোটারি কপি, ছাড়পত্র আর ব্যাংক রসিদসহ আপনার এলাকার তিতাস বিপণন দপ্তরে জমা দিন।
চার্টারে লেখা আছে, গ্রাহককে যে কাজগুলো করতে হয় তার সময় এই ৩ কর্মদিবসের বাইরে। মানে সব কাগজ ঠিকঠাক জমা পড়ার পর থেকে হিসাব শুরু।
আবেদন জমার সময় দপ্তর থেকে প্রাপ্তির কোনো প্রমাণ দেওয়া হলে সেটা রেখে দিন। নাম বদলের পর প্রথম বিল হাতে পেয়ে দেখুন আপনার নাম এসেছে কি না। না এলে জমার রসিদ আর ব্যাংক রসিদ নিয়ে একই দপ্তরে খোঁজ নিন। চার্টারে প্রতিটি সেবার পাশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর আপিল কর্মকর্তার ঘর আছে, সময়সীমা পেরিয়ে গেলে তাঁদের কাছে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
৫. আবাসিক, বাণিজ্যিক আর শিল্প সংযোগে ফি ও সময়
| সংযোগের ধরন | ফি | সর্বোচ্চ সময় |
|---|---|---|
| আবাসিক | ২,০০০ টাকা | ৩ কর্মদিবস |
| বাণিজ্যিক | ৫,০০০ টাকা | ১৫ কর্মদিবস |
| শিল্প, ক্যাপটিভ, চা বাগান, বিদ্যুৎ, সার | ১৫,০০০ টাকা | ১৫ কর্মদিবস |
বাণিজ্যিক আর শিল্প সংযোগে নতুন মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় সব কাগজ নোটারি পাবলিক দিয়ে প্রত্যয়িত করে জমা দিতে হয়, আর আগের মালিকের সব বকেয়া শোধ করতে হয়। চার্টারে এই দুই ধরনের সময়সীমার পাশে লেখা আছে, তা বিধি বা নিয়ম দিয়ে নির্ধারিত নয়।
দোকান, রেস্তোরাঁ বা ছোট কারখানার সংযোগ কিনে নিলে তাই আবাসিকের ২,০০০ টাকার হিসাব খাটবে না। সংযোগটি কোন শ্রেণির, আবাসিক না বাণিজ্যিক, কেনার আগেই বিক্রেতা বা তিতাস দপ্তরের কাছে জেনে নিন। ফি সবসময় নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিন, কারও হাতে নগদ নয়।
৬. যে ভুলে আবেদন আটকে যায়
- দলিল বা নামজারির সাধারণ ফটোকপি দেওয়া, নোটারি না করানো
- আগের মালিকের বকেয়া বিল না দেখে বাসা কিনে ফেলা
- ছবি বা NID কপি সত্যায়িত না করা
- ব্যাংকের রসিদ হারিয়ে ফেলা
- তিতাসের বাইরে অন্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির এলাকায় থেকে তিতাসের নিয়ম ধরে নেওয়া
বাসা কেনার আগে বিক্রেতার কাছে সর্বশেষ পরিশোধিত গ্যাস বিল চেয়ে নিন। তিতাসের এলাকার বাইরে থাকলে নিজের গ্যাস কোম্পানির সিটিজেন চার্টারে নাম পরিবর্তনের ফি আর কাগজ মিলিয়ে নিন। প্রিপেইড মিটার থাকলে রিচার্জ আর কার্ড নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে।
৭. অনেকে যা জানতে চান
তিতাস গ্যাস নাম পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?
গ্যাসের নাম পরিবর্তনের আবেদনে কি কি কাগজ লাগে?
তিতাস গ্যাস মালিকানা পরিবর্তন ফরম কোথায় পাব?
নাম পরিবর্তনে কত দিন লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।