
সংক্ষেপে
ভিজিডি কার্ডের কর্মসূচির নাম এখন ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট বা ভিডব্লিউবি, চালায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। নির্বাচিত দরিদ্র নারী ২৪ মাসের চক্রে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল পান, কিছু উপজেলায় ৩০.৩০ কেজি পুষ্টিচাল।
চলতি চক্র জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৭। ভিডব্লিউবি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬ অনুযায়ী নতুন চক্রের অনলাইন আবেদন হয় ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, dwavwb.gov.bd বা ভিডব্লিউবি অ্যাপে। সেই হিসাবে পরের আবেদন সম্ভাব্য ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭, নির্দিষ্ট তারিখ পরিপত্রে আসবে।
আবেদনের সময় এলে এই সাইট, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা ভিডব্লিউবি অ্যাপে আবেদন করা যায়।
এই লেখায়
১. ভিজিডি কার্ড কি, এখন কী নামে চলছে
১৯৭৪ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় শুরু হওয়া দুঃস্থ নারীদের খাদ্য সহায়তা পরে ভিজিডি নামে পরিচিত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১০ সাল থেকে এর পুরো দায়িত্বে। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের সংস্কারে এটিকে ভিডব্লিউবি কার্যক্রমে রূপ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যের পাশাপাশি এখন সঞ্চয় আর আয়বর্ধক প্রশিক্ষণও এর অংশ, যা উপকারভোগীর এলাকার নির্বাচিত এনজিও দেয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতি মাসে | ৩০ কেজি চাল, নির্ধারিত উপজেলায় ৩০.৩০ কেজি পুষ্টিচাল |
| চক্রের মেয়াদ | ২৪ মাস |
| চলতি চক্র | জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৭ |
| বিতরণ | প্রতি মাসের ১২ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে, ওয়ার্ডভিত্তিক সময়সূচিতে |
| কার্ড | বিনামূল্যে, এক পরিবারে একটি |
কার্ড সাধারণত ইউনিয়ন পর্যায়ে দেওয়া হয়। নির্দেশিকা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন আর পৌরসভায় বরাদ্দ হয় না, তবে বিশেষ প্রেক্ষাপটে সরকারের অনুমোদনে দেওয়া যায়।
২. ভিজিডি কার্ড অনলাইন আবেদন কবে হয়
নির্দেশিকায় পুরো বাছাইয়ের একটি সময়সূচি দেওয়া আছে, যা নতুন চক্র শুরুর অন্তত ১২ মাস আগে চালু হয়। জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন চক্র শুরু হলে এই হিসাবে কাজ চলছে এখনই।
| মাস | কী হয় |
|---|---|
| জুলাই-আগস্ট | উপকারভোগী নির্বাচনের পরিপত্র, উপজেলাভিত্তিক কার্ড বরাদ্দ |
| সেপ্টেম্বর-অক্টোবর | জাতীয় ও মাঠপর্যায়ে প্রচার |
| নভেম্বর | উপজেলা কমিটির অবহিতকরণ কর্মশালা |
| ডিসেম্বর-জানুয়ারি | অনলাইনে আবেদনের সময় |
| ফেব্রুয়ারি | ইউনিয়ন কমিটির যাচাই ও সুপারিশ |
| মার্চ | গণজমায়েতে প্রাথমিক তালিকা যাচাই |
| এপ্রিল | উপজেলা কমিটির চূড়ান্ত তালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকা |
- ১ঘোষণার খোঁজ রাখুনইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাইটে আবেদন শুরুর তারিখ আসে।
- ২আবেদনের তিন পথইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, dwavwb.gov.bd সাইট অথবা ভিডব্লিউবি মোবাইল অ্যাপ। তথ্য আপা প্রকল্পের কর্মীরাও সাহায্য করেন।
- ৩NID সঙ্গে রাখুনজাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। পরিবারের আয়, জমি আর ঘরের অবস্থার তথ্য সত্য দিন, এগুলো পরে গণজমায়েতে যাচাই হয়।
- ৪তালিকা দেখুনচূড়ান্ত তালিকার প্রতি পাতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেন। তালিকা টাঙানো হয় ইউনিয়ন আর উপজেলা পরিষদের উন্মুক্ত জায়গায়।
আবেদনের পর ইউনিয়ন কমিটি প্রাথমিক তালিকা করে, তাতে কমিটির সব সদস্য স্বাক্ষর করেন। এরপর ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বা খোলা জায়গায় গণজমায়েত হয়, সেখানে এলাকার মানুষের সামনে তালিকা যাচাই হয়। কারও নাম ভুলভাবে উঠেছে মনে হলে বা যোগ্য কেউ বাদ পড়লে এই গণজমায়েতেই কথা তোলার সুযোগ। চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে অন্তত ১০ শতাংশ অপেক্ষমাণ তালিকাও করা হয়।
৩. ভিডব্লিউবি কার্ড কারা পাবেন
- শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম নারী।
- বয়স ২০ থেকে ৫০ বছর।
- জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
- পরিবারের স্থায়ী বা নিয়মিত আয়ের উৎস নেই, উপার্জনক্ষম সদস্যও নেই।
এর মধ্যে অগ্রাধিকার পান যাঁদের নিজের জমি নেই বা বসতভিটাসহ জমি ১৫ শতাংশ বা কম; অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী; রিকশা-ভ্যানচালক, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, জেলে বা কুলির মতো প্রান্তিক পেশার পরিবার; যাঁদের শৌচাগার, বিদ্যুৎ, পাখা বা নিজস্ব টিউবওয়েল নেই; মাটি, পাটখড়ি, বাঁশ বা টিনের ঘরের পরিবার; ১৫ থেকে ১৮ বছরের অবিবাহিত মেয়ে বা প্রতিবন্ধী সদস্য আছে এমন পরিবার; ফেরত আসা অভিবাসী নারী আর এসিড সারভাইভার। এই তালিকার কয়েকটি মিললেই চলে, সবগুলো লাগবে না।
যে দরিদ্র পরিবারে কিশোরী আছে, সেখানে মা অগ্রাধিকার পান। তবে অঙ্গীকার করতে হয় মেয়েটি নিয়মিত স্কুলে যাবে, বাল্যবিয়ে হবে না আর ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যাবে না। অঙ্গীকার ভাঙলে কার্ড সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়।
৪. কারা ভিডব্লিউবি কার্ড পাবেন না
- বয়স ২০ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি।
- সরকারের অন্য কোনো চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা প্রকল্পের উপকারভোগী, যেমন বিধবা ভাতা বা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি।
- আগের দুই চক্রের যেকোনোটিতে কার্ডধারী ছিলেন।
দ্বৈততা ঠেকাতে এখন তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ২০২৬ সালের এক নোটিশে দেখা যায়, চলতি চক্রে দ্বৈততার কারণে ২৮,১৮৮ জন উপকারভোগী বাতিল করে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন নারী নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন আবেদন না করলেও অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকলে চক্রের মাঝপথেও সুযোগ আসতে পারে। নির্দেশিকা অনুযায়ী চক্রের প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কেউ মারা গেলে বা স্থায়ীভাবে চলে গেলেও অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ক্রমানুসারে নেওয়া হয়।
এলাকার ভোটার না হলেও দীর্ঘদিন সেখানে থাকলে আর যোগ্যতা থাকলে বিবেচনার সুযোগ আছে বলে নির্দেশিকায় লেখা। তাই অন্য এলাকা থেকে এসে বহু বছর ধরে থাকলেও আবেদনের সময় ইউনিয়ন পরিষদে কথা বলে দেখুন।
৫. চাল তোলার দিন যা মনে রাখবেন
নির্দেশিকা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে খাদ্য পৌঁছানোর পর প্রতি মাসের ১২ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া, প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত সময়ে চাল দেওয়া হয়। কার্ডসংখ্যা অনুযায়ী সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
| ওয়ার্ড | সময় |
|---|---|
| ১, ২, ৩ | সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা |
| ৪, ৫, ৬ | সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা |
| ৭, ৮, ৯ | বিকেল ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা |
চাল দেওয়া হয় নির্ধারিত ৩০ কেজির বস্তায়। প্রত্যেকে তাঁর বরাদ্দের পুরো চাল পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইউপি চেয়ারম্যান আর ট্যাগ অফিসারের। কম পেলে সেখানেই জানান, না মিটলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ভিজিডি কার্ড অনলাইন আবেদন 2026 কবে?
ভিজিডি কার্ডে মাসে কত কেজি চাল দেয়?
vgd card kara pabe?
বিধবা ভাতা পেলে কি ভিডব্লিউবি কার্ড পাওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।