
সংক্ষেপে
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা মাসে ১,০০০ টাকা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যে ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৪.৫০ লাখ থেকে বেড়ে ৩৮ লাখ হয়েছে, বরাদ্দ ৪,৫৮৭.৩৬ কোটি টাকা। আগের বছর ভাতা ছিল ৯০০ টাকা।
প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনলাইন পোর্টালে, আর এর জন্য সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বা তার নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। টাকা আসে নগদ, বিকাশ বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে, ভাতাভোগীর নিজের হিসাবে।
প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা পোর্টালে নেওয়া হয়।
এই লেখায়
১. প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা ২০২৬
অর্থমন্ত্রী ১১ জুন ২০২৬ সংসদে বাজেট বক্তৃতায় প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখে বাড়ানো আর মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা করার কথা বলেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মসূচি পাতাতেও এখন ২০২৬-২৭ সালের হার ১,০০০ টাকা লেখা।
| অর্থবছর | উপকারভোগী | মাসিক ভাতা |
|---|---|---|
| ২০০৫-০৬ (শুরু) | ১.০৪ লাখ জন | ২০০ টাকা |
| ২০১৫-১৬ | ৬.৫০ লাখ জন | ৫০০ টাকা |
| ২০২২-২৩ | ২৩.৬৫ লাখ জন | ৮৫০ টাকা |
| ২০২৬-২৭ | ৩৮ লাখ জন | ১,০০০ টাকা |
মাসে ১,০০০ টাকা হিসাবে বছরে মোট ১২,০০০ টাকা পাওয়ার কথা। টাকা কোন মাসে বা কত কিস্তিতে ছাড় হবে, তা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ঠিক হয়। ফেসবুকে ‘কাল টাকা দেবে’ জাতীয় খবর দেখে নিশ্চিত না হয়ে মোবাইলের বার্তা আর সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যের ওপর ভরসা করুন।
ভাতার হার বাড়লেও আগের ভাতাভোগীদের নতুন করে আবেদন করতে হয় না। নতুন হারের টাকা আগের হিসাবেই আসার কথা। নতুন করে আবেদন লাগে শুধু যাঁরা এখনো ভাতাভোগীর তালিকায় নেই, তাঁদের।
২. প্রতিবন্ধী ভাতা কিভাবে আবেদন করবো
প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে দুটি আলাদা কাজ লাগে, আর অনেক পরিবার এটাই গুলিয়ে ফেলে। প্রথমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিবন্ধন করে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নিতে হয়। তারপর আবেদনের মৌসুমে ভাতার জন্য আলাদা অনলাইন আবেদন করতে হয়। কার্ড থাকলেই ভাতা আপনা থেকে শুরু হয় না।
২০২৬-২৭ সালের নতুন আবেদন নেওয়া হয়েছে আগস্ট ২০২৬-এ, dss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায়, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আগের বছর আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকলে নতুন আবেদন লাগেনি। পরের আবেদনের সময় অধিদপ্তর আলাদা নোটিশে জানাবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর বা কপি সংরক্ষণ করুন। যাচাইয়ের সময় কমিটি কাগজ দেখতে চাইলে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড, NID বা জন্ম নিবন্ধন আর অভিভাবকের কাগজ নিয়ে উপস্থিত থাকুন। উপস্থিত না থাকলে আবেদন পিছিয়ে যেতে পারে।
- ১আগে সুবর্ণ নাগরিক কার্ডকার্ড না থাকলে আগে উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নিবন্ধন করুন। কার্ডের নম্বর ছাড়া ভাতার আবেদন এগোবে না।
- ২মোবাইল আর হিসাব ঠিক করুনভাতাভোগীর NID দিয়ে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর, অথবা নিজের ব্যাংক হিসাব রাখুন। ব্যাংক হিসাব দিলে যোগাযোগের জন্য আলাদা মোবাইল নম্বর দিতে হয়।
- ৩স্থায়ী ঠিকানায় আবেদন করুনআবেদন চলার সময় পোর্টালে প্রতিবন্ধী ভাতা বেছে নিয়ে তথ্য দিন। স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতেই আবেদন নেওয়া হয়।
- ৪যাচাইয়ে অংশ নিনযাচাই-বাছাই আর বরাদ্দ অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা হয়। নির্বাচিত হলে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ভাতার যোগ্য গণ্য হবেন।
আবেদনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাঁরা অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নিয়মিত সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা এই কর্মসূচিতে বিবেচিত হবেন না।
৩. শিশু বা নাবালকের ভাতা: কার নম্বর দেবেন
প্রতিবন্ধী শিশুর নিজের NID থাকে না, তাই অনেক পরিবার বুঝতে পারে না কার নামের হিসাবে টাকা আসবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সময় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জিজ্ঞেস করে নিন অভিভাবকের কোন কাগজ আর কোন হিসাব গ্রহণ করা হবে। আন্দাজে অন্য আত্মীয়ের নম্বর দেবেন না, পরে টাকা তুলতে বা হিসাব বদলাতে ঝামেলা হয়।
শিশুটি স্কুলে পড়লে প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তির কথাও ভাবুন। একই পরিবারে কোন সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যায় আর কোনটা যায় না, তা নীতিমালা অনুযায়ী ঠিক হয়, তাই আবেদনের আগে অফিসে নিশ্চিত হোন।
একটি উদাহরণ ধরুন। বারো বছরের মেয়েটির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা আছে, তার সুবর্ণ নাগরিক কার্ড আগেই হয়েছে। মা নিজের NID দিয়ে তোলা সিমে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলে রেখেছেন। আবেদনের সময় উপজেলা কার্যালয়ে জিজ্ঞেস করে তিনি জেনে নেন, অভিভাবক হিসেবে তাঁর হিসাবই দেওয়া যাবে কি না। এভাবে আগে জেনে নিলে পরে টাকা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
৪. প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি ২০২৬-২৭
বাজেট বক্তৃতায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির সংখ্যা ১ লাখে বাড়ানো আর স্তরভেদে মাসিক উপবৃত্তি ১,০০০ থেকে ১,৪০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০২৬-২৭ সালের তথ্যেও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তির উপকারভোগী ১ লাখ জন, বরাদ্দ ১২৮.০৯ কোটি টাকা।
এই উপবৃত্তির আবেদনও ভাতার সঙ্গে একই পোর্টালে নেওয়া হয় এবং এর জন্যও সুবর্ণ নাগরিক কার্ড লাগে। কোন শ্রেণির জন্য ঠিক কত টাকা, তা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় দেখে নিন।
শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পড়াশোনার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। স্কুল বা কলেজ থেকে ভর্তির কাগজ বা প্রত্যয়নপত্র আগেই নিয়ে রাখুন।
৫. টাকা আসে কীভাবে, না এলে কার কাছে যাবেন
অধিদপ্তরের তথ্যে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে সব প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী নগদ, বিকাশ আর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে টাকা পান। সরকারি হিসাব থেকে সরাসরি ভাতাভোগীর হিসাবে টাকা যায়, মাঝে কেউ হাত দিতে পারেন না।
ভাতার বই বা কার্ডের কপি সবসময় হাতের কাছে রাখুন, যেকোনো অভিযোগে এটি লাগে।
- টাকা না এলে আগে দেখুন মোবাইল হিসাবটি চালু আছে কি না এবং সেটি ভাতাভোগীর NID-তে নিবন্ধিত কি না।
- সিম বদলেছেন বা হিসাব বন্ধ হয়েছে? ভাতার বই, NID আর কার্ড নিয়ে উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে যান।
- সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যে এই সেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা।
- সমাধান না হলে সরকারের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) দিয়ে অনলাইনে অভিযোগ করা যায়।
মনে রাখুন, ভাতার টাকা সরকারের হিসাব থেকে সরাসরি আসে, এর জন্য কাউকে টাকা দিতে হয় না। কেউ মোবাইলে ফোন করে পিন বা ওটিপি চাইলে বা ‘ভাতা চালু রাখতে’ টাকা পাঠাতে বললে সেটা প্রতারণা। এমন ফোন পেলে নম্বরটি লিখে রেখে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জানান।
৬. অনেকে যা জানতে চান
প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা 2026?
সুবর্ণ নাগরিক কার্ড ছাড়া কি প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করা যায়?
protibondhi bhata online abedon কোথায় করব?
প্রতিবন্ধী ভাতা কবে দিবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।