
সংক্ষেপে
ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এককালীন ১ লাখ টাকা দিচ্ছে। এ বছর ৬৫ হাজার রোগীর জন্য ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ। আবেদন হয় অনলাইনে, পরে প্রিন্ট কপি আর কাগজ জমা দিতে হয় উপজেলা, শহর বা হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে।
২০২৫-২৬ সালে আবেদন করেও যাঁরা টাকা পাননি, তাঁদের আবেদন নতুন বছরে আপনা থেকে যাবে না। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের নতুন নীতিমালা মেনে আবার আবেদন করতে হবে।
রোগী সহায়তার অনলাইন আবেদন এই পোর্টাল থেকে করা যায়।
এই লেখায়
১. কোন ৭ রোগে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়
| রোগ | কর্মসূচিতে যে অবস্থা ধরা হয় |
|---|---|
| ক্যান্সার | বিশেষজ্ঞের নির্ণয় করা যেকোনো ক্যান্সার, যার জন্য কেমো, রেডিও, অস্ত্রোপচার বা অন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা লাগে |
| কিডনি রোগ | ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, যার জন্য নিয়মিত ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপন লাগে বা প্রতিস্থাপন হয়ে গেছে |
| লিভার সিরোসিস | হেপাটোলজিস্ট বা গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের নির্ণয়, ব্যয়বহুল চিকিৎসা বা প্রতিস্থাপন প্রয়োজন |
| প্যারালাইসিস | স্ট্রোক, স্নায়বিক কারণ বা দুর্ঘটনাজনিত পঙ্গুত্ব, দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন |
| হৃদরোগ | জন্মগত হৃদরোগ, বা বাইপাস, রিং, পেসমেকার, ভাল্ব প্রতিস্থাপনের মতো অস্ত্রোপচার প্রয়োজন |
| থ্যালাসেমিয়া | হেমাটোলজিস্টের নির্ণয়, নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন |
| লিউকেমিয়া | হেমাটোলজিস্টের নির্ণয়, ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন |
আগের নীতিমালায় সহায়তা ছিল ৫০,০০০ টাকা আর রোগ ছিল কম। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অনুদান বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা আর রোগের তালিকা বড় করে নীতিমালা, ২০২৬ (সংশোধিত) করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই কর্মসূচিতে ৫৬১ জন সহায়তা পেয়েছিলেন। ২০২৬-২৭ সালে লক্ষ্য ৬৫ হাজার জন, অর্থাৎ সুযোগ অনেক বেড়েছে। তবু আবেদনের তুলনায় বরাদ্দ সীমিত, তাই কাগজ সম্পূর্ণ রেখে আগেভাগে আবেদন করাই ভালো।
২. পুরোনো আবেদন কি চলবে: নতুন করে আবেদন কেন
বাংলা ট্রিবিউন ও যুগান্তরের অক্টোবর ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৫ অক্টোবর এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আইডিএসডিপি সফটওয়্যারে যেসব আবেদনের বিপরীতে টাকা দেওয়া যায়নি, সেগুলো নতুন বছরে স্থানান্তর হবে না। কারণ আগের আবেদন হয়েছিল ২০১৯ সালের নীতিমালায়, আর এখন নতুন নীতিমালা চালু।
গত বছর আবেদন করে অপেক্ষায় থাকলে বসে থাকবেন না। নতুন নীতিমালার কাগজ গুছিয়ে আবার আবেদন করুন, না হলে এ বছরের তালিকায় নাম আসবে না।
নতুন আবেদনের সময়সীমা কবে পর্যন্ত, তা খবরে আসা নির্দেশনায় উল্লেখ নেই। তাই উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড আর সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখুন।
৩. ক্যান্সার রোগীদের আর্থিক সহায়তা আবেদনে কি কি কাগজ লাগে
সাধারণ কাগজ
| রোগ | যে রিপোর্ট দিতে হবে |
|---|---|
| ক্যান্সার | টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্ট |
| কিডনি রোগ | রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন রিপোর্ট, ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের কাগজ, নিয়মিত ডায়ালাইসিসের চিকিৎসক-সনদ |
| লিভার সিরোসিস | আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ফাইব্রোস্ক্যান রিপোর্ট |
| প্যারালাইসিস | এমআরআই বা সিটি স্ক্যান রিপোর্ট, রোগীর প্রমাণযোগ্য ছবি |
| হৃদরোগ | এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রাম রিপোর্ট |
| থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়া | হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস বা প্রযোজ্য পরীক্ষার রিপোর্ট |
রিপোর্ট এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। সত্যায়িত ফটোকপি দিলেই চলে, মূল কপি দিতে হয় না। ফিল্ম বা ইমেজের ফটোকপিও সঙ্গে দেওয়া যায়।
রিপোর্টের কপি কার স্বাক্ষরে সত্যায়িত হলে গ্রহণযোগ্য, নীতিমালায় তা নির্দিষ্ট থাকতে পারে। জমার আগে উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জেনে নিন, যাতে একই কাজ দুবার করতে না হয়।
৪. আবেদনের নিয়ম: অনলাইন থেকে অফিসে জমা
- ১অনলাইনে আবেদন করুনরোগী নিজে বা পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা আইনানুগ অভিভাবক সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা পোর্টাল mswservices.gov.bd-তে আবেদন করতে পারেন।
- ২আবেদনের প্রিন্ট নিনজমার পর আবেদনপত্র প্রিন্ট করে স্বাক্ষর দিন।
- ৩কাগজসহ অফিসে জমা দিনস্বাক্ষরিত প্রিন্ট কপি, ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি আর রিপোর্টের সত্যায়িত কপি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, শহর সমাজসেবা কার্যালয়, হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয় বা নির্দেশনায় বলা অন্য দপ্তরে জমা দিন।
- ৪বাছাইয়ের খবর রাখুনকমিটি বাছাই করে তালিকা করে। নির্বাচিত হলে টাকা যায় আবেদনে দেওয়া ব্যাংক হিসাবে, তাই হিসাবটি চালু রাখুন।
আবেদন করার আগে সব কাগজ স্ক্যান করে বা পরিষ্কার ছবি তুলে একটি ফোল্ডারে রাখুন। অনলাইনে তথ্য দেওয়ার সময় রোগীর নাম, NID নম্বর আর ব্যাংক হিসাবের নাম যেন সব জায়গায় এক রকম থাকে। নামের বানানে অমিল থাকলে যাচাইয়ে আবেদন আটকে যেতে পারে।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে নির্দেশনার বরাতে দুই কপি আবেদন উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমার কথাও এসেছে। জমার আগে নিজের কার্যালয়ে জেনে নিন কয় কপি লাগবে।
৫. কারা আগে পাবেন, কতবার পাওয়া যায়
- আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
- দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগী অগ্রাধিকার পাবেন, পারিবারিক আয়-ব্যয় দেখা হবে।
- দ্রুত চিকিৎসা দরকার বা জীবন ঝুঁকিতে আছে এমন রোগী, আর প্রতিবন্ধী, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগী প্রাধান্য পাবেন।
- এক অর্থবছরে একবার আর জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এই সহায়তা পাওয়া যায়।
- ভুল তথ্য, জাল কাগজ বা একই কাজে সরকারের অন্য আর্থিক সুবিধা নিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
ধরুন, বাবার ক্যান্সার ধরা পড়েছে ছয় মাস আগে। বায়োপসি রিপোর্ট এক বছরের মধ্যে, তাই সেটির সত্যায়িত কপি, বাবার NID, আপনার NID আর আপনার ব্যাংক হিসাবের তথ্য নিয়ে আপনি অভিভাবক হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকলে সেখানকার হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে খোঁজ নিন। নির্দেশনায় হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়েও আবেদন জমার সুযোগ রাখা হয়েছে, আর তারা কাগজ গোছাতে সাহায্য করতে পারে।
টাকা পাওয়ার পর সেই তথ্যও সংরক্ষণ করুন, কারণ জীবনে কতবার সহায়তা পেয়েছেন তা পরে আবেদনে লাগবে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ক্যান্সার রোগীদের আর্থিক সহায়তা কত টাকা?
ক্যান্সার রোগীদের আর্থিক সহায়তা আবেদন ফরম কোথায় পাব?
কিডনি রোগীদের আর্থিক সহায়তা পেতে কী রিপোর্ট লাগে?
একজন রোগী কতবার এই অনুদান পাবেন?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।