
সংক্ষেপে
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনলাইনে আলাদা কোনো আবেদন ফরম নেই। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য নিচ্ছে, কাজ শেষ হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে, ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি হবে ডেটাবেজ। সেই তথ্যের পিএমটি স্কোর দেখে যোগ্য পরিবার ঠিক হবে।
কার্ড দেওয়া হয় পরিবারের মা বা নারী প্রধানের নামে, ভাতা মাসে ২,৫০০ টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে আনার কথা, আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য পরিবার।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই সাইটে বাছাই পদ্ধতি আর গাইডলাইন আছে, আবেদন ফরম নয়।
এই লেখায়
১. ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন আবেদন কি করা যায়
না, অন্তত এখন পর্যন্ত নয়। সরকারি সাইট familycard.gov.bd-তে কোনো আবেদন ফরম নেই, আর মন্ত্রণালয় বলছে তথ্য নেওয়া হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে। ১২ অক্টোবরের সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, কার্ড পেতে কাউকে কোনো দপ্তর বা ব্যক্তির পেছনে ঘুরতে হবে না, সরকারের তথ্য সংগ্রহকারীরাই প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় যাবেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| তথ্য সংগ্রহ শুরু | ১২ অক্টোবর ২০২৬, সারা দেশে একযোগে |
| শেষ হওয়ার কথা | ৩০ নভেম্বর ২০২৬ |
| ডেটাবেজ তৈরি | ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে |
| মাঠকর্মী | ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী, ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার |
| আওতা | প্রায় সাড়ে ৪ কোটি পরিবার |
| ভাতাযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হবে | ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ পরিবার |
তথ্য দিতে কোনো টাকা লাগে না। মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, কেউ টাকার বিনিময়ে তালিকায় নাম তোলার প্রতিশ্রুতি দিলে বিশ্বাস করবেন না, প্রয়োজনে ১০৯৮ নম্বরে জানান। কেউ সরকারি পরিচয় দিয়ে ফোনে NID নম্বর, ওটিপি বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন চাইলে দেবেন না।
২. ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবে
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬ অনুযায়ী বাছাই হয় প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরে। পরিবারের সম্পদ আর অবস্থার তথ্য থেকে সিস্টেম নিজে ০ থেকে ১০০০-এর মধ্যে একটি স্কোর দেয়, কোনো ব্যক্তি হাতে বসিয়ে দেন না।
| স্তর | পিএমটি স্কোর | পরিবারের ধরন |
|---|---|---|
| প্রথম কোয়ান্টাইল | ০ থেকে ৭৭৭ | অতি দরিদ্র, আবশ্যিকভাবে অন্তর্ভুক্ত |
| দ্বিতীয় কোয়ান্টাইল | ৭৭৮ থেকে ৭৯৬ | দরিদ্র |
| তৃতীয় কোয়ান্টাইল | ৭৯৭ থেকে ৮১৪ | ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত |
সরকারি সাইটে বলা আছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই তিন স্তরের পরিবার ফ্যামিলি কার্ড ভাতা পাবে। গ্রামে বসতভিটাসহ আবাদি জমি ০.৫০ একর বা কম হওয়া আর পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদ দেখে যোগ্যতা ঠিক হয়। গাইডলাইনে পরিবার বলতে বোঝানো হয়েছে একই রান্নাঘরে খান আর একসঙ্গে থাকেন এমন মানুষদের, সাধারণত ৫ জন।
৩. ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবে না
যুগান্তরের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬-এর বরাতে আট ধরনের পরিবারকে বাদ রাখার কথা এসেছে:
- পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা পেরোনো সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবার।
- মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন পেলে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও।
- নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন পেলে। প্রতিবন্ধী সন্তানের বিশেষ পেনশন এর ব্যতিক্রম।
- পরিবারের কারও নামে সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি, অথবা ব্যাংকে ৫ লাখ টাকার বেশি এফডিআর বা সঞ্চয় থাকলে।
- কারও নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার গাড়ি থাকলে, যেমন প্রাইভেট কার, পিকআপ বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
- কারও নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা হালনাগাদ ব্যবসার লাইসেন্স থাকলে।
- পরিবারের কেউ করযোগ্য আয়ে নিয়মিত আয়কর দিলে।
- বসতভিটাসহ আবাদি জমি ০.৫০ একর বা বেশি হলে, কিংবা অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলে।
এসব তথ্য যাচাই হবে NID, জন্ম নিবন্ধন, এনবিআর, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয় আর ব্যাংকের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সরাসরি মিলিয়ে। তাই ভুল তথ্য দিয়ে লাভ নেই, ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হয়।
৪. তথ্য সংগ্রহকারী বাড়িতে এলে কী করবেন
- ১পরিচয় দেখে নিনসরকারের প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী এসে পরিবারের অবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন করবেন। সন্দেহ হলে ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে খোঁজ নিন।
- ২সবার পরিচয়পত্র হাতের কাছে রাখুনপরিবারের প্রাপ্তবয়স্কদের NID আর শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সনদ। কার্ড হবে মা বা নারী প্রধানের নামে, তাই তাঁর NID অবশ্যই।
- ৩সত্য তথ্য দিনমন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, তথ্য কম-বেশি করে দেওয়া উচিত নয়, এতে প্রকৃত অভাবী পরিবারের অধিকার নষ্ট হয়।
- ৪বাদ পড়লে অভিযোগ বা আপিলপ্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকেন্দ্র থেকে অনলাইন ও অফলাইনে অভিযোগ আর আপিলের ব্যবস্থা রাখার কথা মন্ত্রী জানিয়েছেন।
৫. ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কীভাবে পাবেন, টিসিবি কার্ডের কী হবে
গাইডলাইন অনুযায়ী মাসে ২,৫০০ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে যায়। কার্ডে কিউআর কোড, এনএফসি আর চিপ থাকবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, কার্ডটি টাকা পে স্কিমের সঙ্গে যুক্ত, তাই যেকোনো ব্যাংকের এটিএম, দোকানের পিওএস মেশিন কিংবা বিকাশ-নগদের মতো সেবা থেকে টাকা তোলা যাবে।
গাইডলাইনে আরও বলা আছে, বিদ্যমান টিসিবি কার্ডের তথ্য ফ্যামিলি কার্ডের ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রিতে নেওয়া হবে। পাইলট শুরু হয়েছিল ১০ মার্চ ২০২৬, ঢাকার কড়াইল ও মিরপুরের বস্তি, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, বান্দরবানের লামা, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের মতো ১৪টি এলাকায়। এখন সেটি সারা দেশে ছড়াচ্ছে।
বরাদ্দের হিসাবও জানিয়ে রাখি। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ১২ অক্টোবর বলেছেন, চলতি অর্থবছরে কর্মসূচিতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, যার ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতার জন্য। এ বছর ৪১ লাখ নারী পরিবারপ্রধান যুক্ত হবেন, বাকি যোগ্য পরিবারগুলো আসবে আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে। তাই এবারের তালিকায় নাম না এলেও তথ্য ডেটাবেজে থাকলে পরের ধাপে সুযোগ আসতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডের নামে অ্যাপ, লিংক বা টাকা নিয়ে ফরম পূরণের প্রস্তাব এলে এড়িয়ে চলুন। সরকারি তথ্য আছে শুধু familycard.gov.bd আর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাইটে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন আবেদন 2026 লিংক কোনটি?
ফ্যামিলি কার্ডে মাসে কত টাকা পাওয়া যায়?
family card kara pabe na?
তথ্য সংগ্রহের সময় বাড়িতে না থাকলে কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।