
সংক্ষেপে
NID-তে স্বামীর নাম যোগ, বাদ বা বদলানো যায় সংশোধনের আবেদন করে, অনলাইনে বা উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে। বিয়ের পর যোগ করতে লাগে নিকাহনামা আর স্বামীর NID-র কপি, তালাকের পর বাদ দিতে তালাকনামা, আর তালাকের পর নতুন বিয়ে হলে আগের তালাকনামা আর নতুন কাবিননামা দুটোই।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে স্বামী বা স্ত্রীর নাম যোগসহ বিয়ে সংক্রান্ত সংশোধন খ-১ ক্যাটাগরিতে পড়ে, যা নিষ্পত্তি করেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। কর্মকর্তা প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্তও করতে পারেন, তাই আসল কাগজ গুছিয়ে আবেদন করুন।
লগইন করে সংশোধন অংশে বৈবাহিক তথ্য বদলান আর কাগজ আপলোড করুন।
এই লেখায়
১. কোন অবস্থায় কোন কাগজ
NID পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় বিয়ে আর তালাক নিয়ে আলাদা আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে। নিচের টেবিলে সেগুলো এক সঙ্গে সাজানো হলো। সব ক্ষেত্রেই আবেদন করা যায় অনলাইনে, এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইংয়ে, অথবা উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে।
| আপনার অবস্থা | যে কাগজ লাগবে |
|---|---|
| বিয়ের পর স্বামীর নাম যোগ করবেন | নিকাহনামা আর স্বামীর NID-র ফটোকপি |
| তালাক হয়েছে, স্বামীর নাম বাদ দেবেন | তালাকনামা |
| তালাকের পর আবার বিয়ে, নতুন স্বামীর নাম বসাবেন | আগের বিয়ের তালাকনামা আর নতুন বিয়ের কাবিননামা, সংশোধন ফরমসহ |
| অবিবাহিত, কিন্তু কার্ডে পিতার জায়গায় স্বামী লেখা | আপনি বিবাহিত নন, তার প্রমাণ; আবেদন নির্বাচন অফিসে |
| স্বামীকে ভুল করে মৃত দেখাচ্ছে | সেই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র |
যে স্ত্রীরা নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নামের অংশ বা টাইটেল জুড়েছেন বা বাদ দিতে চান, তাঁদের জন্য কমিশনের দলিলের তালিকায় আরও কয়েকটি কাগজের কথা আছে: কাবিননামা, তালাকনামা, স্বামীর মৃত্যু সনদ, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা হলফনামা বা বিবাহ বিচ্ছেদ ডিক্রির সত্যায়িত কপি। যেটা আপনার ঘটনার সঙ্গে মেলে, সেটা দিন।
২. আবেদনের ধাপ
- ১অ্যাকাউন্টে ঢুকুনNID পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে আগে রেজিস্টার করে নিন।
- ২বৈবাহিক তথ্যের ঘর বদলানসংশোধন অংশে বৈবাহিক অবস্থা আর স্বামী বা স্ত্রীর তথ্যের ঘর ঠিক করুন। শুধু যে ঘরে বদল দরকার, সেটাই ছুঁয়ে দেখুন।
- ৩কাগজ আপলোড করুননিকাহনামা, তালাকনামা বা যেটা প্রযোজ্য, তার পরিষ্কার স্ক্যান দিন। কাগজের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হলে সত্যায়ন করতে পারেন সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা অথবা মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
- ৪ফি দিন, স্ট্যাটাস দেখুনআবেদনের ধরন অনুযায়ী পোর্টাল যে ফি দেখায়, তা জমা দিন। এরপর অ্যাকাউন্টে আবেদনের অবস্থা দেখতে থাকুন, আর তদন্তে ডাকা হলে আসল কাগজ নিয়ে হাজির হন।
পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, একটি তথ্য শুধু একবার সংশোধন করা যায়, আর যুক্তিযুক্ত না হলে সংশোধন গ্রহণ করা হয় না। কমিশনের নিয়মে অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হয়। তাই কাগজ পুরো না হলে আবেদন জমা দেবেন না।
৩. কোন ক্যাটাগরি, কে অনুমোদন দেন
NID সংশোধনের আবেদন কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ হয়। ডেইলি স্টারের ২ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রীর নাম যোগসহ বিয়ে সংক্রান্ত সংশোধন পড়ে খ-১ ক্যাটাগরিতে। বাসসের ৬ জুলাই ২০২৬-এর খবরে কমিশনের চিঠির উল্লেখ আছে: খ-১ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করবেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
মানে আবেদনটা উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে যায়। নামের বানান ঠিক করার মতো ক ক্যাটাগরির চেয়ে এতে একটু বেশি সময় লাগা স্বাভাবিক। কমিশনের দলিল তালিকায় বলা আছে, স্বামীর নামের অংশ যোগ বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্ত করতে পারেন। আপনার আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, তা উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে জেনে নিতে পারেন।
৪. স্বামী মারা গেলে, বা ভুল করে মৃত দেখালে
স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক নারী নিজের নামের সঙ্গে জোড়া স্বামীর নামের অংশ রাখতে বা বাদ দিতে চান। কমিশনের দলিলের তালিকায় বিয়ে, বিবাহ বিচ্ছেদ বা অন্য কোনো কারণে স্বামীর নামের অংশ যোগ, বাদ বা সংশোধনের কথা বলা আছে, আর প্রমাণ হিসেবে যে কাগজগুলো চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে মৃত্যু সনদ আছে। তাই আবেদনের আগে স্বামীর মৃত্যু নিবন্ধন করিয়ে অনলাইন মৃত্যু সনদ হাতে রাখুন।
উল্টো ঘটনাও ঘটে: স্বামী বেঁচে আছেন, অথচ আপনার কার্ডে তাঁকে মৃত দেখাচ্ছে। পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী জীবিত পিতা, স্বামী বা মাতাকে ভুল করে মৃত দেখালে সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করতে হয়। তাঁর NID চালু আছে, এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
৫. ফি কত
সংশোধনের ফি নির্ভর করে তথ্যটা কার্ডে ছাপা থাকে কি না, আর একই ধরনের আবেদন আপনি কতবার করছেন তার ওপর। দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আবেদন করলে ফি বাড়ে। তাই প্রথমবারেই কাগজ ঠিক রেখে আবেদন করা সবচেয়ে সাশ্রয়ী।
| পোর্টালের ফি পাতায় আবেদনের ধরন | কখন বেছে নেবেন |
|---|---|
| জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন | কার্ডে ছাপা তথ্য বদলাতে চাইলে, যেমন নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নামের অংশ |
| অন্যান্য তথ্য সংশোধন | কার্ডে ছাপা হয় না এমন তথ্য বদলাতে চাইলে |
| জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন | দুই ধরনের তথ্য একসঙ্গে বদলাতে চাইলে |
NID পোর্টালের ফি হিসাব করুন পাতায় নিজের NID নম্বর আর আবেদনের ধরন দিলে ঠিক কত টাকা লাগবে, তা দেখায়। বৈবাহিক তথ্য কোন ধরনে পড়বে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে আবেদনের আগে উপজেলা নির্বাচন অফিসে বা হেল্পলাইন ১০৫-এ জেনে নিন, তারপর পোর্টালের দেখানো অঙ্কটাই জমা দিন।
৬. পাসপোর্ট থাকলে যা মনে রাখবেন
NID-তে বৈবাহিক তথ্য বদলালে পরের পাসপোর্ট আবেদনেও তা মিলতে হবে। ই-পাসপোর্টের নির্দেশনায় বলা আছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ বা নিকাহনামা, আর বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে। তাই NID সংশোধন শেষ হলে এই কাগজগুলো যত্ন করে রেখে দিন, পাসপোর্ট অফিসেও লাগবে।
আবেদনের আগে গুছিয়ে নিন
৭. অনেকে যা জানতে চান
বিয়ের পর NID-তে স্বামীর নাম যোগ করা কি বাধ্যতামূলক?
তালাকের পর স্বামীর নাম বাদ দিতে কি আদালতে যেতে হবে?
অবিবাহিত, কিন্তু কার্ডে বাবার জায়গায় স্বামী লেখা। অনলাইনে ঠিক করা যাবে?
পুরুষেরা স্ত্রীর নাম যোগ করতে পারেন?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।