জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধনে নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধন: আবেদন, কাগজ ও ফি

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৩ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬everify.bdris.gov.bd

সংক্ষেপে

সরকারি পোর্টাল bdris.gov.bd-এ ঢুকে “জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন” মেনুতে যান। ১৭ ডিজিটের নম্বর আর জন্ম তারিখ দিলে আপনার নিবন্ধনের তথ্য চলে আসবে। যে ঘরে ভুল, সেখানে ঠিক তথ্যটা লিখুন আর প্রমাণের কাগজ আপলোড করুন। জমা দেওয়ার পর রসিদ প্রিন্ট করে নিজে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যান।

BDRIS-এ সংশোধনের আবেদন করুন

সংশোধনের আবেদন সরাসরি সরকারি পোর্টাল থেকেই করুন।

BDRIS পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. কোন ভুল কীভাবে ঠিক হয়
  2. অনলাইনে আবেদনের ধাপ
  3. কোন সংশোধনে কোন কাগজ লাগে
  4. ফি আর কত দিন লাগে
  5. পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন

১. কোন ভুল কীভাবে ঠিক হয়

কী ভুল হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে কাগজও বদলায়, ঝামেলাও। স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিমালা মোটামুটি এরকম:

  1. নামের বানান (বাংলা বা ইংরেজি): একটা অক্ষর বাদ পড়া বা বাড়তি বসে যাওয়ার মতো ছোট ভুল সহজেই ঠিক হয়। কিন্তু পুরো নাম বদলাতে চাইলে এফিডেভিট আর পত্রিকায় নাম পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তি লাগবে।
  2. জন্ম তারিখ: এখানে শিক্ষাগত সনদই মূল প্রমাণ। সনদ না থাকলে সিভিল সার্জনের দেওয়া বয়স প্রমাণের সনদ চাওয়া হতে পারে। বয়স কতটা কমানো বা বাড়ানো যাবে তার নির্দিষ্ট সীমা নেই, তবে দাবির পক্ষে খাঁটি প্রমাণ দেখাতেই হবে।
  3. বাবা-মায়ের নাম: আগে বাবা-মায়ের নিজেদের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আর NID ঠিক করা থাকতে হবে। তাঁদের কাগজে নাম যেভাবে লেখা, আপনার সনদেও হুবহু সেভাবেই বসবে।

২. অনলাইনে আবেদনের ধাপ

শুরুর আগে কাগজগুলো স্ক্যান করে রাখুন, আর যে মোবাইল নম্বরে OTP আসবে সেটি হাতের কাছে রাখুন। তারপর এভাবে এগোন।

  • ১
    পোর্টালে নিজের নিবন্ধন খুঁজুন bdris.gov.bd খুলে “জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন” মেনুতে ক্লিক করুন। ১৭ ডিজিটের নম্বর আর জন্ম তারিখ দিয়ে খুঁজুন, তারপর ফোন নম্বরে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে যাচাই সেরে নিন।
  • ২
    ভুল ঘরটি বেছে ঠিক তথ্য লিখুন নাম, ঠিকানা বা জন্ম তারিখ, যেটা বদলাতে চান সেই ঘরটি বেছে নিন। 'চাহিদাকৃত তথ্য' বক্সে ঠিক রূপটা লিখুন। এরপর তালিকা থেকে সংশোধনের কারণ বেছে দিন, যেমন ভুল এন্ট্রি।
  • ৩
    কাগজ আপলোড করে জমা দিন প্রমাণের কাগজগুলোর স্ক্যান কপি আপলোড করুন (পিডিএফ ফরম্যাটে, অনধিক ১০০ কেবি সাইজ)। শেষে চালু মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে আবেদনটি জমা দিন।

৩. কোন সংশোধনে কোন কাগজ লাগে

সনদের কপি সব আবেদনেই লাগবে। বাকি কাগজ নির্ভর করে আপনি কী সংশোধন করছেন তার ওপর।

কাগজের তালিকা

৪. ফি আর কত দিন লাগে

ফি সরকার নির্ধারিত। সময়ের হিসাবটা আনুমানিক, অফিসভেদে কমবেশি হতে পারে।

অনলাইনে জমা দিলেই কাজ শেষ নয়

আবেদনের প্রিন্ট কপি নিয়ে আপনার ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার উদ্যোক্তা বা সচিবের কাছে যেতে হবে। তাঁরা মূল কাগজের সঙ্গে আপলোড করা কপি মিলিয়ে দেখে আবেদনটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) বা সংশ্লিষ্ট অনুমোদনকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। চূড়ান্ত অনুমোদন হলে মোবাইলে এসএমএস আসবে, তখন সংশোধিত ডিজিটাল কপি তুলতে পারবেন।

৫. পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন

সংশোধনের আবেদন কি বাতিল হয়ে যেতে পারে?
হ্যাঁ, পারে। আবেদনের পক্ষে ঠিকঠাক বা মূল প্রমাণ না দিলে, কিংবা ফটোশপে এডিট করা বা জাল কাগজ জমা দিলে স্থানীয় সচিব বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদনটি নামঞ্জুর করতে পারেন। তাই সব সময় মূল কাগজ স্ক্যান করেই আপলোড করুন।
বাবা-মায়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কি আমারটা সংশোধন করা যাবে?
সাধারণত না। এখনকার বিধিমালায় সন্তানের জন্ম নিবন্ধনে বাবা বা মায়ের নাম সংশোধন করতে, কিংবা নতুন নিবন্ধন করতে, বাবা ও মা দুজনেরই ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন থাকতে হয়। তাই আগে তাঁদের নিবন্ধন অনলাইনে তুলুন, তারপর আপনারটা সংশোধন করা যাবে।

এরপর পড়তে পারেন

জেনে রাখুন: লেখাটি নাগরিক সেবা নিজ উদ্যোগে লিখেছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (BDRIS)-এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সংশোধন মঞ্জুর হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধনে নাম ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের কাগজ

নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদনে কোন প্রমাণ সবচেয়ে কাজে দেয়, আর স্ক্যান কপি তৈরির সময় কী খেয়াল রাখবেন।
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধন No Record Found: আগে যা মিলিয়ে দেখবেন

No Record Found দেখলেই অফিসে ছুটবেন না। আগে ১৭ ডিজিটের নম্বর, জন্ম তারিখের আকার আর পোর্টালের ঠিকানা মিলিয়ে নিন, তারপর ঠিক করুন পরের ধাপ।

অনেকে খোঁজেন