
সংক্ষেপে
জন্মের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলে, বিশেষ করে বড় বয়সে প্রথমবার জন্ম নিবন্ধন করতে, বয়সের প্রমাণ হিসেবে লাগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ। সনদ না থাকলে বিএমডিসি স্বীকৃত এমবিবিএস বা তার ওপরের ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের বয়স প্রত্যয়ন। সঙ্গে স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ, যেমন বাড়ির হালনাগাদ কর পরিশোধের রসিদ বা বাবা-মায়ের NID।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাঁর নিবন্ধন হচ্ছে তাঁর বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়, তাঁদের যে তথ্য জানা আছে তা দিলেই হয়। সরকারি ফি ৫০ টাকা। আবেদন হয় bdris.gov.bd-তে, তারপর প্রিন্ট আর মূল কাগজ নিয়ে নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হয়।
'জন্ম নিবন্ধন' মেনুর 'জন্ম নিবন্ধন আবেদন' থেকে নতুন আবেদন শুরু হয়।
এই লেখায়
১. আগে দেখে নিন, কোথাও নিবন্ধন হয়েছিল কি না
বড়দের অনেকের ছোটবেলায় হাতে লেখা খাতায় নিবন্ধন হয়েছিল, যা অনলাইনে ওঠেনি। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, এমন রেকর্ড স্থানীয় কার্যালয়ের রেজিস্টার দেখে অনলাইনে তোলা যায়, তবে নম্বর বদলে যায়। তাই পুরোনো সনদ বা নম্বর থাকলে নতুন আবেদন না করে সেই কার্যালয়ে যান।
নতুন আবেদনের ফরমে ঘোষণা দিতে হয় যে আগে নিবন্ধন হয়নি। নাম, বাবা ও মায়ের নাম, অফিস আর জন্মতারিখ অন্য কোনো রেকর্ডের সঙ্গে মিলে গেলে সিস্টেম আবেদনটিকে 'পসিবল ডুপ্লিকেট' দেখায়। তখন খোঁজখবর শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন আটকে থাকে।
অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্যে একাধিক নিবন্ধন হলে বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধক যাচাই করে সনদ বাতিল করতে পারেন, আর আইনের ২১ ধারায় দণ্ডমূলক ব্যবস্থার সুযোগ আছে। আগের নিবন্ধন থাকলে সেটিই ঠিক করিয়ে নিন।
২. কোন কাগজ লাগবে
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর ৯ বিধিতে জন্মের পাঁচ বছর পরের আবেদনের জন্য দুই রকম প্রমাণ চাওয়া হয়েছে: বয়সের প্রমাণ আর স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ।
যা হাতে রাখবেন
নদীভাঙন বা অন্য কারণে স্থায়ী ঠিকানা হারিয়ে গেলে নতুন বসতির জমি বা বাড়ি কেনার দলিল, খাজনা ও কর পরিশোধের রসিদ দেখালে নতুন ঠিকানাই স্থায়ী ঠিকানা ধরা হয়। কোনো স্থায়ী ঠিকানাই না থাকলে ঠিকানার ঘরে 'অপ্রাপ্য' লিখে জন্মস্থানের নিবন্ধকের কাছে নিবন্ধন করতে হয়, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী প্রত্যয়ন করেন যে স্থায়ী ঠিকানা নেই।
অনলাইন ফরমে কাগজের স্ক্যান বা ছবি জুড়তে হয়। ফাইল jpg বা png, ২ মেগাবাইটের মধ্যে রাখুন।
৩. বাবা-মায়ের নিবন্ধন না থাকলে, আর বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়ার নির্দেশনায় বলা আছে, যাঁর নিবন্ধন হচ্ছে তাঁর বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে বাবা ও মায়ের জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, ১৮ বছরের ওপরে হলে বাধ্যতামূলক নয়। তাই বাবা-মা বেঁচে না থাকলে বা তাঁদের নিবন্ধন না থাকলেও বড়রা আবেদন করতে পারেন।
- বিবাহিত নারী আগে কোথাও নিবন্ধিত না হলে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় অথবা নিজের জন্মস্থানের ঠিকানায় নিবন্ধন করতে পারেন।
- ফরমে বাবা ও মায়ের নামই লিখতে হয়। জন্ম নিবন্ধনে স্বামীর নাম লেখার সুযোগ নেই।
- বাবা বা মা আলাদা থাকলে বা খোঁজ না থাকলে একজনের তথ্য দিয়ে আর অন্যজনের শুধু নাম লিখে নিবন্ধন করা যায়।
পরে সন্তানের নিবন্ধনে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর লাগবে, তাই নিজের নিবন্ধন হয়ে গেলে ১৭ সংখ্যার নম্বরটি যত্নে রাখুন।
৪. অনলাইনে আবেদন থেকে সনদ হাতে পাওয়া
- ১কোথায় নিবন্ধন হবে বেছে নিনbdris.gov.bd-তে 'জন্ম নিবন্ধন আবেদন' খুলে জন্মস্থান অথবা স্থায়ী ঠিকানা, যেকোনো একটির ভিত্তিতে নিবন্ধন কার্যালয় বেছে নিন।
- ২নিজের তথ্য দিননাম বাংলা ও ইংরেজিতে, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, বাবা-মায়ের কততম সন্তান আর জন্মস্থানের ঠিকানা লিখুন। নাম আর জন্মতারিখ এসএসসি সনদ বা NID-এর সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে দিন, কারণ পরে পাসপোর্টেও এই বানান লাগবে।
- ৩বাবা-মা, ঠিকানা আর আবেদনকারীবাবা-মায়ের তথ্য, তারপর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দিন। বর্তমান ঠিকানা মানে যেখানে ছয় মাসের বেশি সময় থাকছেন। বয়স ১৮ বা তার বেশি হলে আবেদনকারী আপনি নিজেই।
- ৪প্রমাণ জুড়ে ওটিপি দিয়ে জমাবয়স আর স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ সংযুক্ত করুন। সব তথ্য আরেকবার দেখে মোবাইলে ওটিপি পাঠান, ওটিপি বসিয়ে জমা দিন। এরপর মোবাইলে এসএমএসে আবেদনপত্রের নম্বর আসবে।
- ৫প্রিন্ট আর মূল কাগজ নিয়ে কার্যালয়েআবেদনপত্র প্রিন্ট করে মূল কাগজসহ নিবন্ধক কার্যালয়ে জমা দিন। বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধক আবেদন পাওয়ার পর পরের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সনদ দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ লিখে আবেদনকারীর অংশ ফেরত দেবেন, আর সব ঠিক থাকলে সর্বোচ্চ ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সেরে সনদ দেবেন।
৫. ফি আর খরচের হিসাব
| কাজ | সরকারি ফি |
|---|---|
| জন্মের ৫ বছর পরে নিবন্ধন | ৫০ টাকা |
| নিবন্ধনের পর প্রথম সনদ, বাংলা ও ইংরেজি | ফি নেই |
| পরে সনদের কপি বা পুনর্মুদ্রণ | ৫০ টাকা |
| জন্মতারিখ সংশোধন | ১০০ টাকা |
| নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানাসহ অন্য তথ্য সংশোধন | ৫০ টাকা |
চিকিৎসকের প্রত্যয়ন নেওয়ার খরচ বা দোকানে ফরম পূরণের খরচ এই ফির মধ্যে পড়ে না। নিবন্ধন কার্যালয়ে ফি দেওয়ার পর রসিদ চেয়ে নিন, পরে কোনো জটিলতায় কাজে লাগবে।
নিবন্ধনের পর প্রথম সনদেই বাংলা আর ইংরেজি দুই ভাষা থাকার কথা। ইংরেজি নামের বানান তখনই মিলিয়ে নিন, কারণ পরে বদলাতে হলে সংশোধনের আবেদন আর ফি লাগবে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
এসএসসি পাস করিনি, কোনো সনদ নেই। কী দিয়ে বয়স প্রমাণ করব?
বাবা-মা মারা গেছেন, তাঁদের জন্ম নিবন্ধন নেই। আবেদন আটকাবে?
বিয়ের পর স্বামীর ঠিকানায় নিবন্ধন করা যাবে?
ছোটবেলার হাতে লেখা সনদ আছে। নতুন করে করতে হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।