
সংক্ষেপে
প্রথমে তিনটি জিনিস দেখুন: নম্বরটি ১৭ ডিজিটের কি না, জন্ম তারিখ ঠিক আকারে লিখেছেন কি না, আর আপনি সরকারি e-Verify পোর্টালেই আছেন কি না। সনদ পুরোনো বা হাতে লেখা হলে স্থানীয় নিবন্ধন অফিসে গিয়ে রেকর্ডটি ডিজিটাল করাতে হতে পারে।
এই লেখায়
১. নম্বরটা গুনে দেখুন
পুরোনো অনেক সনদে নম্বর থাকে ১০ বা ১৬ ডিজিটের। অনলাইনে যাচাই করতে সাধারণত ১৭ ডিজিট লাগে। নম্বর ১৭ ডিজিটের হলেও একবার গুনে নিন, শুরুতে, শেষে বা মাঝখানে কোনো সংখ্যা বাদ পড়েনি তো।
২. জন্ম তারিখ কোন ক্রমে লিখেছেন
তারিখ ভুল আকারে দিলেও রেকর্ড আসে না। সনদে যে তারিখ লেখা আছে, ঠিক সেটাই দিন। দিন, মাস আর সাল জায়গা বদল করে ফেলেছেন কি না, খেয়াল করুন।
৩. যাচাই করুন শুধু সরকারি পোর্টালে
সার্চ করলে নানা অচেনা সাইট সামনে আসে। সেগুলোর ফলাফলকে চূড়ান্ত ধরবেন না, যাচাই করুন সরকারি e-Verify পোর্টালে।
৪. রেকর্ড অনলাইনে না থাকলে
সব ঠিকঠাক দেওয়ার পরও তথ্য না এলে ধরে নিতে পারেন, পুরোনো সনদটি এখনো অনলাইন ডাটাবেজে ওঠেনি। তখন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের জন্ম নিবন্ধন শাখায় যান। সঙ্গে নিন সনদের কপি, বাবা-মায়ের তথ্য আর দরকারি পরিচয়পত্র।
আরও পড়ুন
- পুরোনো রেকর্ড অনলাইনে তোলার প্রক্রিয়া ও দরকারি কাগজ
- অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করবেন যেভাবে
- নাম বা জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন
অনলাইনে তোলার পর নম্বর বদলে যেতে পারে
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সাধারণ জিজ্ঞাসায় পরিষ্কার বলা আছে, হাতে লেখা পুরোনো নিবন্ধন এখন আর হুবহু আগের নম্বর দিয়ে অনলাইনে তোলার সুযোগ নেই। যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল, সেখানকার রেজিস্টার বইয়ে আপনার তথ্য পাওয়া গেলে নিবন্ধক সেই তথ্য দিয়েই সরাসরি অনলাইন নিবন্ধন করে দেবেন। তবে নম্বরটা নতুন হবে। কার্যালয় বলছে, এতে নাগরিকের কোনো ক্ষতি বা অসুবিধা হবে না।
- সনদে ১৭ ডিজিটের কম নম্বর থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে পুরোনো সনদ জমা দিয়ে ১৭ ডিজিটের নম্বরসহ সনদ নিতে হয়।
- আবেদনে নিজের, নয়তো বাবা, মা বা অভিভাবকের মোবাইল নম্বর দিতে হয়। পরিবারে মোবাইল না থাকলে কেবল তাঁদের সম্মতিতে কোনো নিকটজনের নম্বর দেওয়া যায়।
- আগে অন্য কোথাও আপনার জন্ম নিবন্ধন হয়ে থাকলে পুরোনো রেকর্ড থেকে নতুন নিবন্ধন হবে না। একজনের দুটি নিবন্ধন রাখা যায় না।
- ১নতুন নম্বরে যাচাই করুনসনদ হাতে পেয়ে e-Verify-তে নতুন ১৭ ডিজিটের নম্বর আর জন্ম তারিখ দিয়ে দেখুন রেকর্ড আসছে কি না।
- ২দুই ভাষার তথ্য মিলিয়ে নিনরেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নিয়মে সনদ বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই দিতে হয়। নাম, বাবা-মায়ের নাম আর তারিখ দুই ভাষায় ঠিক আছে কি না, কার্যালয়ে থাকতেই দেখে নিন।
- ৩এরপর নতুন নম্বরই ব্যবহার করুনস্কুল, পাসপোর্ট বা NID-র আবেদনে নতুন নম্বরটা দিন, আর পুরোনো হাতে লেখা সনদের একটি কপি রেখে দিন।
রেকর্ড আসে, কিন্তু তথ্য অসম্পূর্ণ বা অন্য কারও
কখনো No Record Found আসে না, কিন্তু যাচাইয়ে যা দেখায় তা মেলে না। এমন তিনটি অবস্থার কথা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় আলাদা করে বলেছে।
| যা দেখছেন | যা করতে হয় |
|---|---|
| শুধু বাংলায় তথ্য আছে, ইংরেজি নেই | ইংরেজি যোগ করাও সংশোধন হিসেবে ধরা হয়। বিধিমালার ১৫ বিধি অনুযায়ী সংশোধনের আবেদন করতে হয়। |
| আগে সংশোধন করিয়েছিলেন, অনলাইনে পুরোনো তথ্য দেখাচ্ছে | নিবন্ধক কার্যালয় এমন সংশোধনের তালিকা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপপরিচালকের (স্থানীয় সরকার) মাধ্যমে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠালে তা হালনাগাদ হয়। |
| আপনার নম্বরে অন্য একজনের নাম আসছে | দুজনকেই নিবন্ধন কার্যালয়ে ডাকা হয়। সমঝোতা না হলে যাঁর নিবন্ধন আগে, নম্বর তাঁর থাকে, অন্যজন নতুন নম্বর পান। |
সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী জন্ম তারিখ ছাড়া অন্য তথ্য সংশোধনে ৫০ টাকা, জন্ম তারিখ সংশোধনে ১০০ টাকা লাগে। সংশোধনের পর বাংলা ও ইংরেজি সনদের কপি দেওয়া হয় বিনা ফিতে, পরে আলাদা নকল নিলে ৫০ টাকা। যে টাকাই দিন, নিবন্ধক কার্যালয় থেকে রসিদ নিন।
দরকারি সরকারি লিংক
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
ফি, সময়সীমা আর নিয়ম বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে শেষবার মিলিয়ে নিন।