জন্ম নিবন্ধন

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করবেন যেভাবে

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ২ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬everify.bdris.gov.bd

সংক্ষেপে

যাচাই করতে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) সরকারি পোর্টাল everify.bdris.gov.bd-এ যান। ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর (Birth Registration Number) আর জন্ম তারিখ দিন, তারপর নিচের ছোট অঙ্কটির উত্তর লিখে Search চাপুন। নম্বর ঠিক থাকলে সনদের তথ্য বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই দেখাবে।

সরাসরি e-Verify পোর্টালে যাচাই করুন

সরকারি ডাটাবেজে আপনার সনদের তথ্য কীভাবে আছে, পোর্টালে গিয়েই দেখে নিন।

e-Verify পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. অনলাইনে যাচাইয়ের তিনটি ধাপ
  2. সনদে পুরোনো ১৬ বা ১০ ডিজিটের নম্বর থাকলে
  3. সনদ অনলাইনে থাকা কেন দরকার
  4. যাচাইয়ে ভুল তথ্য দেখালে
  5. পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন

১. অনলাইনে যাচাইয়ের তিনটি ধাপ

মোবাইল বা কম্পিউটার, যেকোনোটা দিয়েই কাজটা হয়ে যায়। সনদটা হাতের কাছে রাখুন, তারপর এভাবে এগোন।

  • ১
    পোর্টাল খুলুন ব্রাউজারের ঠিকানার ঘরে everify.bdris.gov.bd লিখে ঢুকুন।
  • ২
    নম্বর আর জন্ম তারিখ দিন প্রথম ঘরে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর বসান। পরের ঘরে জন্ম তারিখ লিখুন YYYY-MM-DD আকারে, মানে আগে সাল, তারপর মাস, শেষে দিন (যেমন ২০০০-১০-১৫)।
  • ৩
    ছোট অঙ্কটা মিলিয়ে Search চাপুন নিচে একটা সহজ অঙ্ক দেওয়া থাকে। ধরুন লেখা আছে 45 + 5, তাহলে ঘরে 50 লিখে 'Search' বাটনে ক্লিক করুন। রেকর্ড থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সনদের পুরো তথ্য পর্দায় চলে আসবে।

২. সনদে পুরোনো ১৬ বা ১০ ডিজিটের নম্বর থাকলে

যাঁদের নিবন্ধন অনেক আগে হয়েছে, তাঁদের সনদে প্রায়ই ১৬ বা ১০ সংখ্যার নম্বর থাকে। ১৬ সংখ্যার নম্বর দিয়ে পোর্টালে খুঁজলে সাধারণত কোনো তথ্য আসে না, তাই আগে নম্বরটাকে ১৭ সংখ্যায় নিতে হয়। প্রচলিত নিয়মটা এরকম।

১৬ থেকে ১৭ সংখ্যা বানানোর নিয়ম

১৬ ডিজিটের নম্বরের প্রথম ১১টি সংখ্যা লিখুন। এরপর একটি ০ (শূন্য) বসান, তারপর বাকি ৫টি সংখ্যা জুড়ে দিন।

ধরুন নম্বরটি 1995123456789012। তাহলে ১৭ ডিজিটের নম্বর দাঁড়াবে 19951234567 0 89012।

সনদে ১০ ডিজিটের নম্বর থাকলে, কিংবা এই নিয়মেও কিছু না এলে, ধরে নিতে পারেন নিবন্ধনটি এখনো পুরোনো হাতে লেখা খাতাতেই রয়ে গেছে। তখন মূল সনদ নিয়ে যে নিবন্ধক কার্যালয়ে (ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা) নিবন্ধন হয়েছিল সেখানে যান, আর ডিজিটাল কপির জন্য আবেদন জমা দিন।

৩. সনদ অনলাইনে থাকা কেন দরকার

এখন বেশির ভাগ সরকারি সেবা আর পরিচয়পত্রের আবেদনে অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের নম্বর চাওয়া হয়। যেসব কাজে এটা সবচেয়ে বেশি লাগে:

  1. ই-পাসপোর্ট: আবেদনে যা লিখবেন, তা অনলাইনে থাকা জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে সার্ভারেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হয়।
  2. নতুন ভোটার ও NID: ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় ১৭ ডিজিটের অনলাইন নম্বরটি দিতে হয়।
  3. স্কুল-কলেজে ভর্তি ও ব্যাংক হিসাব: শিশুকে স্কুলে ভর্তি করাতে ১৭ সংখ্যার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন লাগে। অনেক ব্যাংকও হিসাব খোলার সময় এটি চায়।
  4. বিয়ে ও জমি কেনাবেচা: বিয়ের রেজিস্ট্রি, জমির নামজারি বা কেনাবেচার সময়ও ডিজিটাল পরিচয়ের কাগজ চাওয়া হয়।

৪. যাচাইয়ে ভুল তথ্য দেখালে

ভুল পেলে কী করবেন

যাচাই করে যদি দেখেন ইংরেজি নামের বানান ভুল, বা বাবা-মায়ের নাম অন্য কাগজের সঙ্গে মিলছে না, তাহলে BDRIS পোর্টাল থেকে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করুন। আবেদনের পর দরকারি কাগজের সত্যায়িত কপি নিয়ে নিজের ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। পাসপোর্ট বা NID-র কোনো সংশোধনে এমন জন্ম নিবন্ধনই দিন, যা অনলাইনে যাচাই করলে পাওয়া যায়।

৫. পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন

নম্বর ১৭ ডিজিটের, তবু No Record Found দেখাচ্ছে কেন?
অনেক সময় এর কারণ হলো, ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার কম্পিউটার অপারেটর আপনার তথ্য এখনো কেন্দ্রীয় সার্ভারে তোলেননি। এ অবস্থায় কী করবেন, তা আমাদের No Record Found এলে করণীয় লেখায় পাবেন।
মোবাইল দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?
হ্যাঁ, যায়। স্মার্টফোনে গুগল ক্রোম বা যেকোনো ব্রাউজারে everify.bdris.gov.bd খুলে ওপরের তিনটি ধাপ মেনে চললেই হবে। এর জন্য কোনো টাকা লাগে না।

এরপর পড়তে পারেন

জেনে রাখুন: লেখাটি নাগরিক সেবা নিজ উদ্যোগে লিখেছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (BDRIS)-এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কোন জন্ম নিবন্ধন বৈধ আর ডাটাবেজে কী থাকবে, সে সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধনে নাম ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের কাগজ

নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদনে কোন প্রমাণ সবচেয়ে কাজে দেয়, আর স্ক্যান কপি তৈরির সময় কী খেয়াল রাখবেন।
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধন No Record Found: আগে যা মিলিয়ে দেখবেন

No Record Found দেখলেই অফিসে ছুটবেন না। আগে ১৭ ডিজিটের নম্বর, জন্ম তারিখের আকার আর পোর্টালের ঠিকানা মিলিয়ে নিন, তারপর ঠিক করুন পরের ধাপ।

অনেকে খোঁজেন