
সংক্ষেপে
না, সরকারি পোর্টালে শুধু জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে এনআইডি কার্ড বের করা যায় না। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলতে লাগে এনআইডি নম্বর অথবা ভোটার হওয়ার সময় পাওয়া ফরম নম্বর, সঙ্গে জন্মতারিখ। জন্ম নিবন্ধন নম্বরের কোনো ঘর সেখানে নেই।
উল্টো দিকেও একই কথা। জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের সাইটে লাগে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ, এনআইডি নম্বর দিয়ে সেখানে খোঁজা যায় না। কোনো নম্বর হাতে না থাকলে সমাধান নির্বাচন অফিস বা নিবন্ধক কার্যালয়ে।
ফরম নম্বর বা NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে কপি নামান।
এই লেখায়
১. জন্ম নিবন্ধন দিয়ে এনআইডি কার্ড বের করা যায় না কেন
জন্ম নিবন্ধন আর এনআইডি দুটো আলাদা দপ্তরের আলাদা সিস্টেম। জন্ম নিবন্ধন চালায় রেজিস্ট্রার জেনারেল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কার্যালয়। এনআইডি চালায় নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। ভোটার হওয়ার সময় আপনি জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাতে জন্ম নিবন্ধন নম্বরটা এনআইডি খোঁজার চাবি হয়ে যায়নি।
এনআইডি সেবা পোর্টালের অ্যাকাউন্ট খোলার পাতায় প্রথম ঘরের নাম জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অথবা ফর্ম নম্বর। তারপর জন্মতারিখ আর ছবির কোড। লগইনের ঘরেও লেখা এনআইডি নম্বর অথবা ইউজারনেম। জন্ম নিবন্ধন নম্বর বসানোর কোনো জায়গা নেই।
একটা উদাহরণ দিই। রাজশাহীর রুমানা ২০১৯ সালে ভোটার হয়েছেন, কিন্তু স্মার্ট কার্ড এখনো হাতে পাননি, স্লিপটাও হারিয়েছেন। হাতে আছে শুধু জন্ম নিবন্ধন সনদ। তিনি অনলাইনে যত চেষ্টাই করুন, সনদের নম্বর দিয়ে এনআইডি পোর্টালে ঢুকতে পারবেন না। তাঁর জন্য পথ দুটো: স্লিপের ফরম নম্বর খুঁজে বের করা, নয়তো নিজের উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাওয়া।
যে সাইট বা অ্যাপ শুধু জন্ম নিবন্ধন নম্বর নিয়ে এনআইডির কপি বা সার্ভার কপি দেওয়ার কথা বলে, সেগুলো সরকারি নয়। এতে আপনার তথ্য অন্যের হাতে যায়, আর ওই কপি কোনো সরকারি কাজে গ্রহণযোগ্য হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
২. জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে এনআইডি কার্ড বের করার নিয়ম নেই, তাহলে কোন পথে
আসল প্রশ্ন সাধারণত এটা: আমি ভোটার হয়েছি, কিন্তু এনআইডি নম্বর জানি না। পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় এর উত্তর আছে। ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েও যাঁরা নম্বর পাননি, তাঁরা নিজের কাছে থাকা ফর্ম নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলবেন, তারপর ডাউনলোড মেনু থেকে কপি নামাবেন।
- ১ফরম নম্বর খুঁজুনভোটার নিবন্ধনের সময় যে স্লিপ দেওয়া হয়েছিল, তাতে ফরম নম্বর লেখা থাকে। স্লিপটা যত্ন করে বের করুন, এটাই এখন আপনার চাবি।
- ২পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুনএনআইডি সেবা পোর্টালে রেজিস্টার অংশে ফরম নম্বর, জন্মতারিখ আর ছবির কোড দিন।
- ৩মোবাইলে কোড নিন, মুখ যাচাই করুননিবন্ধনের মোবাইল নম্বরে আসা কোড দিন। নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপে মুখমণ্ডল যাচাই করে প্রোফাইলে ঢুকতে হয়।
- ৪ডাউনলোড থেকে কপি নামানপ্রোফাইলে এনআইডি নম্বর দেখাবে। ডাউনলোড মেনু থেকে কার্ডের কপি নামিয়ে রাখুন।
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার যেসব ভিডিও দেখেন, সেগুলোতেও শেষ পর্যন্ত এই ফরম নম্বরের পথই দেখানো হয়, অথবা অনানুষ্ঠানিক সাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্বিতীয়টা এড়িয়ে চলুন।
৩. ফরম নম্বরও নেই: নির্বাচন অফিসে যা নিয়ে যাবেন
স্লিপ হারিয়ে গেলে অনলাইনে আর কিছু করার নেই। যে এলাকায় ভোটার হয়েছিলেন, সেই উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যান। পোর্টালের নির্দেশনা বলছে, কার্ড সেখান থেকেই সংগ্রহ করা যায়, আর সেখানেও না পেলে অনলাইনে রিইস্যুর আবেদন করতে হয়।
অফিসে সঙ্গে নিন
এখানেই জন্ম নিবন্ধন সনদ কাজে লাগে। নামে নামে অনেক মানুষ থাকে, তাই সনদে থাকা আপনার নাম, জন্মতারিখ আর বাবা-মায়ের নাম অফিসের কর্মীকে আপনাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করে। ফোনে আগে জানতে চাইলে এনআইডি হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে কল করুন, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
৪. এনআইডি কার্ড দিয়ে জন্ম নিবন্ধন বের করা যায় কি
এটাও সরাসরি হয় না। জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের সরকারি সাইটে প্রথম ঘরে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর, পরের ঘরে জন্মতারিখ দিতে হয়। এনআইডি নম্বর দিয়ে খোঁজার অপশন নেই।
জন্ম নিবন্ধন নম্বর মনে না থাকলে পুরোনো কাগজ ঘাঁটুন। স্কুলের ভর্তির ফরম, এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড, পাসপোর্ট বা এনআইডি আবেদনের কপি, টিকার কার্ড, অনেক জায়গায় নম্বরটা লেখা থাকে। আপনার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন হয়ে থাকলে তার আবেদনেও আপনার নম্বর থাকতে পারে, কারণ সেখানে বাবা-মায়ের নম্বর দিতে হয়।
কিছুতেই না পেলে যেখানে নিবন্ধন হয়েছিল, সেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধক কার্যালয়ে এনআইডি আর বাবা-মায়ের তথ্য নিয়ে যান। তাঁরা নিজেদের সিস্টেমে খুঁজে দেখতে পারেন। তবে মনে রাখুন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধনের সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণে বন্ধ, এর আগে গিয়ে লাভ নেই।
৫. কোন অবস্থায় কোন পথ
| আপনার হাতে যা আছে | যা করবেন |
|---|---|
| শুধু জন্ম নিবন্ধন নম্বর | অনলাইনে NID পাবেন না; ফরম নম্বর খুঁজুন বা নির্বাচন অফিসে যান |
| ভোটার স্লিপের ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ | এনআইডি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে কপি নামান |
| এনআইডি নম্বর আছে, জন্ম নিবন্ধন নম্বর নেই | পুরোনো কাগজ দেখুন, না পেলে নিবন্ধক কার্যালয়ে যান |
| কোনো নম্বরই নেই, ভোটারও হননি | জন্ম নিবন্ধন দিয়ে নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন করুন |
শেষ সারির ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনই আপনার প্রধান কাগজ। নতুন ভোটার হওয়ার অনলাইন ফরম পূরণ করে প্রিন্ট কপি, জন্ম নিবন্ধন সনদ, ঠিকানার প্রমাণ আর বাবা-মায়ের এনআইডির কপি নিয়ে নিকটস্থ নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয়। নিবন্ধন শেষ হলে মোবাইল বা ইমেইলে বার্তা আসে, তখন অনলাইনেই অ্যাকাউন্ট খুলে কার্ডের কপি নামানো যায়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
birth certificate diye nid card download করা যায়?
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি ভোটার আইডি কার্ডের আবেদন করা যায়?
nid number diye birth certificate check করা যায়?
এনআইডি হেল্পলাইনে ফোন করলে কি নম্বর বলে দেবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।