
সংক্ষেপে
জন্ম নিবন্ধনের সরকারি পোর্টাল BDRIS-এ সাধারণ মানুষের জন্য সনদের PDF নামানোর কোনো মেনু নেই। মানুষ যাকে ‘অনলাইন কপি’ বলেন, তা আসলে আপনার রেকর্ড কেন্দ্রীয় সার্ভারে আছে কি না, সেটা। এটা দেখা যায় everify.bdris.gov.bd-তে, ১৭ সংখ্যার নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে। সেই পাতার প্রিন্টকেই অনেকে ‘যাচাই কপি’ বলেন।
আইন অনুযায়ী জন্ম সনদ দেন নিবন্ধক, অর্থাৎ যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা মিশনে নিবন্ধন হয়েছে। প্রথম সনদ বাংলা ও ইংরেজিতে বিনা ফিতে, পরে নকল কপি নিলে ফি ৫০ টাকা। পাসপোর্টের মতো কাজে মূল সনদ দেখাতে হয়, শুধু যাচাই পাতার প্রিন্টে চলে না।
১৭ সংখ্যার নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে দেখুন রেকর্ড সরকারি সার্ভারে আছে কি না।
এই লেখায়
১. ‘অনলাইন কপি’ বলতে আসলে কী বোঝায়
bdris.gov.bd খুললে জন্ম নিবন্ধনের মেনুতে যা যা আছে: নতুন আবেদন, আবেদনের বর্তমান অবস্থা, সনদ পুনঃমুদ্রণ, সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন, তথ্য অনুসন্ধান, তথ্য সংশোধনের আবেদন আর আবেদনপত্র প্রিন্ট। এর কোথাও সনদ ডাউনলোড নামে কিছু নেই।
‘জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা’ মেনুতে শুধু আবেদন কোন ধাপে আছে দেখা যায়, আর ‘আবেদন পত্র প্রিন্ট’ দিয়ে জমা দেওয়ার ফরমটা ছাপানো যায়। এগুলোও সনদ নয়। নিবন্ধন শেষ হলে সনদ দেন নিবন্ধক, আর তখনই রেকর্ডটা e-Verify-তে আসে।
তাহলে ‘অনলাইন জন্ম নিবন্ধন’ কথাটা এল কোথা থেকে? পুরোনো অনেক নিবন্ধন হাতে লেখা খাতায় ছিল, কেন্দ্রীয় সার্ভারে ওঠেনি। যাঁর রেকর্ড সার্ভারে উঠেছে আর ১৭ সংখ্যার নম্বর আছে, তাঁর নিবন্ধনকেই সবাই অনলাইন বলে। পাসপোর্ট, NID বা স্কুলে যখন ‘অনলাইন জন্ম নিবন্ধন’ চায়, তার মানে এমন সনদ, যার রেকর্ড e-Verify-তে পাওয়া যায়।
| যা শুনে থাকেন | আসলে কী | কোথায় পাবেন |
|---|---|---|
| অনলাইন কপি | রেকর্ডটি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আছে | e-Verify-তে নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে দেখা |
| যাচাই কপি | e-Verify ফলাফল পাতার প্রিন্ট বা স্ক্রিনশট | নিজেই প্রিন্ট করতে পারেন |
| জন্ম সনদ | নিবন্ধকের দেওয়া বাংলা ও ইংরেজি সনদ | যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছে |
| নকল বা পুনঃমুদ্রিত সনদ | একই নিবন্ধনের নতুন প্রিন্ট | অনলাইনে আবেদন, সংগ্রহ নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে |
২. e-Verify-তে নিজের রেকর্ড দেখবেন যেভাবে
- ১পাতাটি খুলুনব্রাউজারে everify.bdris.gov.bd লিখুন। ঠিকানাটা ভালো করে দেখুন, এটাই রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের যাচাই পাতা।
- ২১৭ সংখ্যার নম্বর দিনBirth Registration Number ঘরে সনদের ১৭ সংখ্যার নম্বর লিখুন। পুরোনো সনদে নম্বর কম সংখ্যার হলে এখানে কাজ হবে না।
- ৩জন্মতারিখ দিন YYYY-MM-DD আকারেআগে সাল, তারপর মাস, তারপর দিন, যেমন ২০১০ সালের ৫ মার্চ হলে 2010-03-05। ক্রম উল্টে গেলে রেকর্ড আসে না।
- ৪যোগফলের প্রশ্নের উত্তর দিনপাতায় একটি ছোট যোগফলের প্রশ্ন থাকে, উত্তর লিখে খোঁজার বোতাম চাপুন। রেকর্ড থাকলে তথ্য দেখাবে।
- ৫দরকার হলে প্রিন্ট বা স্ক্রিনশট রাখুনকোনো ফরমে নাম, বাবা-মায়ের নামের বানান হুবহু লিখতে এই পাতা কাজে আসে।
নম্বর আর তারিখ ঠিক দিয়েও তথ্য না এলে সাধারণত রেকর্ডটি সার্ভারে ওঠেনি বা নম্বরটি পুরোনো। তখন যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখানে যেতে হয়। ধাপগুলো আমাদের No Record Found লেখায় আছে।
৩. যাচাই কপি দিয়ে কোথায় চলে, কোথায় চলে না
যাচাই পাতার প্রিন্ট কোনো সনদ নয়, এটা শুধু দেখায় যে রেকর্ডটা আছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ১১ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত ফি আর পদ্ধতিতে সনদ দেন নিবন্ধক। ১২ ধারায় বলা আছে, নিবন্ধন বহির কোনো তথ্য বা উদ্ধৃতাংশ নিবন্ধক প্রত্যয়ন করে দিলে তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
বাস্তবে এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ পাসপোর্ট। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি চাওয়া হয়েছে, আর লেখা আছে মূল কপি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। তাই সনদ হারিয়ে থাকলে যাচাই কপি নিয়ে না গিয়ে আগে পুনঃমুদ্রণ করিয়ে নিন।
আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী কয়েকটি কাজে বয়স প্রমাণের জন্য এই আইনের অধীনে দেওয়া জন্ম সনদই ব্যবহার করতে হয়: পাসপোর্ট ইস্যু, বিয়ের নিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার তালিকা, জমি রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র আর লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি। এসব কাজে সনদ হাতের কাছে রাখুন, শুধু স্ক্রিনশটে ভরসা করবেন না।
- কোনো ফরমে বানান মেলাতে বা নিজে নিশ্চিত হতে: যাচাই কপিই যথেষ্ট।
- পাসপোর্ট, NID বা যেকোনো সরকারি আবেদনে মূল সনদ দেখাতে বললে: নিবন্ধকের সনদ লাগবে।
- কোনো প্রতিষ্ঠান কী নেবে, শেষ কথা তাদের। জমার আগে তাদের নোটিশ বা ফরমের নির্দেশনা পড়ে নিন।
৪. সনদের নতুন কপি পেতে যা করবেন
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী সংশোধন বা পুনঃমুদ্রণ করতে হয় যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখান থেকেই। আবেদন অবশ্য অনলাইনে নিজে করা যায়, মূল নিবন্ধন অফিস বরাবর।
- ১রেকর্ড আছে কি না দেখুনe-Verify-তে নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে দেখে নিন। রেকর্ড না থাকলে পুনঃমুদ্রণের আবেদন এগোবে না।
- ২পুনঃমুদ্রণের আবেদন করুনbdris.gov.bd-তে জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন অংশে গিয়ে নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে আবেদন করুন, আবেদন নম্বর লিখে রাখুন।
- ৩ফি দিন, রসিদ নিনরেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ফির তালিকায় বাংলা ও ইংরেজি সনদের নকল সরবরাহের ফি ৫০ টাকা।
- ৪কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করুনআবেদনের প্রিন্ট আর নিজের পরিচয়পত্র নিয়ে নিবন্ধকের কার্যালয়ে যান, সনদ হাতে নিয়ে নাম ও তারিখ মিলিয়ে নিন।
| কোন সনদ | সরকারি ফি |
|---|---|
| নিবন্ধনের পর প্রথম সনদ, বাংলা ও ইংরেজি | বিনা ফিতে |
| তথ্য সংশোধনের পর সনদের কপি | বিনা ফিতে |
| পরে সনদের নকল, বাংলা ও ইংরেজি | ৫০ টাকা |
দোকান বা ডিজিটাল সেন্টার ফরম পূরণ আর প্রিন্টের জন্য আলাদা টাকা নিতে পারে, সেটা সরকারি ফি নয়। সনদে ইংরেজি অংশ না থাকলে তা যোগ করা সংশোধন হিসেবে গণ্য হয়, সেই নিয়ম আমাদের ইংরেজি সংস্করণের লেখায় আছে।
সংশোধনের আবেদন অনুমোদন হলে নিবন্ধক বাংলা ও ইংরেজিতে নতুন সনদ দেন, এর জন্য আলাদা ফি নেই। তাই সংশোধন চলাকালে পুনঃমুদ্রণের আলাদা আবেদন না করে সংশোধন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই সাশ্রয়ী।
৫. অনেকে যা জানতে চান
মোবাইল দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধনের PDF ডাউনলোড করা যায়?
কেউ টাকা নিয়ে জন্ম নিবন্ধনের PDF দিচ্ছে। নেব?
ইংরেজি কপি আলাদা করে নামানো যায়?
পুনঃমুদ্রণ কি অন্য জেলা থেকে করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।