
সংক্ষেপে
বাংলাদেশি বাবা-মায়ের সন্তান বিদেশে জন্ম নিলে তার জন্ম নিবন্ধন হয় সেই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করার কথা, আর এই সময়ের মধ্যে কোনো ফি লাগে না। আবেদন শুরু হয় BDRIS-এর অনলাইন ফরমে, তারপর প্রিন্ট কপি আর কাগজ নিয়ে মিশনে জমা দিতে হয়।
স্থানীয় হাসপাতাল বা সরকারের দেওয়া জন্মসনদ, বাবা-মায়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আর বাংলাদেশি পাসপোর্ট মূল কাগজ। বাবা বা মায়ের একজন বিদেশি হলে কয়েকটি মিশনে অনলাইনে আবেদন জমা হয় না, আগে মিশনে যোগাযোগ করতে হয়।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের অনলাইন ব্যবস্থা। দেশে হোক বা বিদেশে, নতুন জন্ম নিবন্ধনের ফরম এখান থেকেই পূরণ করতে হয়।
এই লেখায়
১. কেন দূতাবাসেই নিবন্ধন, আর কখন
বিদেশের হাসপাতাল যে জন্মসনদ দেয়, তা সেই দেশের কাগজ। বাংলাদেশের কাছে শিশুটির পরিচয়ের প্রথম কাগজ হলো ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদ। কোপেনহেগেনের বাংলাদেশ দূতাবাস মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতে জন্ম নিবন্ধন বা NID বাধ্যতামূলক, আর ছোট শিশুর NID থাকে না। তাই সন্তানের পাসপোর্ট করার আগেই এই নিবন্ধন শেষ করতে হয়।
- জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন করলে বিনা ফিতে নিবন্ধন হয়।
- ৪৫ দিন পেরিয়ে গেলেও নিবন্ধন করা যায়, শুধু অল্প ফি দিতে হয়।
- বিদেশে নিবন্ধন হলে পরে সংশোধন বা নতুন কপির কাজও সাধারণত সেই মিশনের মাধ্যমেই করতে হয়, তাই প্রথমবারেই বানান ঠিক রাখুন।
২. অনলাইন আবেদন থেকে মিশনে জমা
- ১BDRIS-এ নতুন জন্ম নিবন্ধনের ফরম খুলুনফরমের শুরুতে কোথায় নিবন্ধন করবেন জানতে চাওয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিকল্প বেছে নিয়ে আপনার দেশের মিশন বাছুন।
- ২ঠিকানা লিখুন নিয়ম মেনেকোপেনহেগেন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থায়ী ঠিকানা হবে বাংলাদেশের, বর্তমান ঠিকানা যে দেশে থাকেন সেখানকার, আর জন্মস্থান হবে যে দেশে শিশুটি জন্মেছে।
- ৩দুই ধরনের কাগজ আপলোড করুনএকটি জন্মের প্রমাণ, যেমন হাসপাতালের জন্মসনদ বা সে দেশের সরকারি জন্ম নিবন্ধনের কাগজ। অন্যটি স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ, যেমন বাবা বা মায়ের পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন বা NID। ছবি jpg বা png, প্রতিটি ২ মেগাবাইটের মধ্যে।
- ৪বাবা-মায়ের নিবন্ধন নম্বর মিলিয়ে নিন২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া শিশুর আবেদনে বাবা ও মায়ের ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে যাচাই করতে হয়। তাঁদের রেকর্ড অনলাইনে না পেলে ফরম এগোয় না।
- ৫আবেদন নম্বর রেখে প্রিন্ট নিনজমা দিলে একটি আবেদন নম্বর আসে। ফরম নামাতে না পারলে অন্তত আবেদন জমা হওয়ার পর্দার প্রিন্ট, যেখানে আবেদন নম্বর দেখা যায়, বা নিশ্চিতকরণ ইমেইল রাখুন, কোপেনহেগেন দূতাবাস সেটিও গ্রহণ করে।
- ৬কাগজসহ মিশনে জমা দিনক্যানবেরা ও আবুধাবিতে সরাসরি জমা দেওয়া যায়, ক্যানবেরায় ডাকেও পাঠানো যায়। নবজাতকের ক্ষেত্রে কোপেনহেগেন দূতাবাসে আবেদনকারীকে বাবা-মা দুজনকে নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
ক্যানবেরা ও আবুধাবির মিশন বলেছে, ফরম বাংলায় পূরণ করলেও মূল তথ্যগুলো ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে লিখতে হবে। পরে পাসপোর্টে এই ইংরেজি বানানই যায়, তাই বাবা-মায়ের পাসপোর্টের বানানের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন।
৩. মিশনে যে কাগজগুলো নিয়ে যাবেন
শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য
আবুধাবি ও ক্যানবেরার মিশন জানিয়েছে, সব কাগজ পাওয়ার পরই কাজ শুরু হয়, আর তার প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে সনদ তৈরি হয়। কোপেনহেগেন দূতাবাস সাধারণত ৭ কর্মদিবসে কাজ শেষ করে। নিবন্ধন হলে BDRIS থেকে স্বয়ংক্রিয় ইমেইলে ১৭ সংখ্যার নম্বর আসে, তার ৩ কর্মদিবস পর দূতাবাস থেকে সনদ তোলা যায়।
৪. ফি কত, কোন মুদ্রায়
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এ বিদেশের মিশনের জন্য আলাদা ফির তালিকা আছে, অঙ্ক ধরা মার্কিন ডলারে। মিশন তা নেয় স্থানীয় মুদ্রায়, তাই অঙ্ক দেশভেদে একটু আলাদা দেখায়।
| কাজ | বিধিমালায় (ডলার) | আবুধাবি | ক্যানবেরা |
|---|---|---|---|
| জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন | বিনা ফিতে | বিনা ফিতে | বিনা ফিতে |
| ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর | ১ | ৫ দিরহাম | ২ অস্ট্রেলীয় ডলার |
| ৫ বছর পর নিবন্ধন | ১ | ৫ দিরহাম | ২ অস্ট্রেলীয় ডলার |
| জন্মতারিখ সংশোধন | ২ | ১০ দিরহাম | ৩ অস্ট্রেলীয় ডলার |
| অন্য তথ্য সংশোধন | ১ | ৫ দিরহাম | ৩ অস্ট্রেলীয় ডলার |
| সনদের নকল কপি | ১ | ৫ দিরহাম | মিশনে জেনে নিন |
কোপেনহেগেনে ৪৫ দিনের পর নিবন্ধন, সংশোধন আর নতুন কপি, প্রতিটির ফি ৭ ডেনিশ ক্রোনা। আবুধাবিতে ফি নেওয়া হয় শুধু নগদে, ক্যানবেরায় নগদ চলে না, ব্যাংক চেক, মানি অর্ডার বা ব্যাংক ট্রান্সফারে দিতে হয়।
৫. বাবা বা মা বিদেশি হলে, আর পরে সংশোধন লাগলে
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী বাবা বা মায়ের একজন বিদেশি হলে বাংলাদেশি অভিভাবকের স্থায়ী ঠিকানার কাগজ নিয়ে নিবন্ধকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। নিবন্ধক প্রয়োজনীয় খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে নিবন্ধন করেন। কোপেনহেগেন দূতাবাস জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন জমা হয় না। ইমেইলে জন্মের তথ্যের ফরম আর কাগজ পাঠালে দূতাবাস অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে নিজেই আবেদন তুলে দেয়।
- বিদেশে নিবন্ধিত সনদে ভুল থাকলে সংশোধন বা পুনর্মুদ্রণ করতে হয় যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখান থেকেই, অর্থাৎ সেই মিশন থেকে। দেশে ফিরে এলেও অনলাইনে মূল কার্যালয়ের বরাবর আবেদন করা যায়।
- মিশনে নিবন্ধিত সনদ সংশোধনের সময় নিবন্ধনের সঙ্গে ইমেইল যুক্ত থাকতে হয়, তাই আবেদনে দেওয়া ইমেইলটি বন্ধ করবেন না।
- আগে কোথাও শিশুর নিবন্ধন হয়ে থাকলে দ্বিতীয়বার আবেদন করবেন না। একই শিশুর দুটি নিবন্ধন পরে বাতিল করাতে হয়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
সন্তানের জন্ম বিদেশে, এখন দেশে ফিরে এসেছি। দেশের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিবন্ধন করা যাবে?
বিদেশের জন্মসনদ কি অনুবাদ করে দিতে হয়?
দূতাবাসে নিবন্ধনের সনদ কি দেশের সনদের মতোই কাজে লাগে?
বাবা-মায়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নেই। কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।