
সংক্ষেপে
শিশুর টিকার অনলাইন নিবন্ধন হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের VaxEPI পোর্টালে, ১৭ অঙ্কের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে। নিবন্ধন শেষে টিকা কার্ড নামিয়ে নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়, আর টিকা নেওয়ার পর সনদ অনলাইনেই পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের টাইফয়েড টিকা কর্মসূচিতে এভাবেই নিবন্ধন হয়েছিল।
জন্ম নিবন্ধন না থাকলেও শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেই কর্মসূচিতে বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর দিয়েও নিবন্ধনের সুযোগ ছিল।
শিশুর টিকার নিবন্ধন, টিকা কার্ড আর সনদ এই সরকারি পোর্টালে।
এই লেখায়
১. জন্ম নিবন্ধন দিয়ে টিকার আবেদন হয় কোথায়
VaxEPI হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থা। বড় টিকা ক্যাম্পেইনের সময় স্কুলে বা কেন্দ্রে যাওয়ার আগে এখানে শিশুর নাম তুলতে হয়। পরিচয় মেলানো হয় জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে, তাই নম্বরটা ঠিক থাকা জরুরি।
২০২৫ সালের টাইফয়েড টিকা কর্মসূচির কথাই ধরুন। ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে এক ডোজ করে বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার কথা ছিল। অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয় ১ আগস্ট, VaxEPI-র টাইফয়েড টিকার নিবন্ধন পাতায়। প্রথম ধাপে স্কুলের ক্যাম্পে প্রথম ১০ কর্মদিবস, পরের ধাপে ইপিআই কেন্দ্রে ৮ দিন টিকা দেওয়া হয়।
প্রতিটি ক্যাম্পেইনের বয়সসীমা, তারিখ আর নিবন্ধনের পাতা আলাদা হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘোষণা আর VaxEPI-র প্রথম পাতা দেখে তবেই নিবন্ধন করুন।
২. VaxEPI নিবন্ধনের ধাপ
টাইফয়েড কর্মসূচির সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর নিবন্ধনের যে ধাপ লিখেছিল, তা নিচে দিলাম। অন্য ক্যাম্পেইনেও কাঠামো সাধারণত এমনই থাকে।
- ১জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিনVaxEPI-র নিবন্ধন পাতায় শিশুর ১৭ অঙ্কের জন্ম নিবন্ধন নম্বর লিখুন। লিঙ্গ বেছে নিয়ে ছবির কোড বসান, তারপর তথ্য যাচাই করুন।
- ২বাবা-মায়ের তথ্য দিনবাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর, ইমেইল আর বর্তমান ঠিকানা লিখে জমা দিন। ফরমে পাসপোর্ট নম্বরের ঘরও ছিল।
- ৩মোবাইলে আসা কোড বসানদেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসে। সেটি বসালে প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ হয়।
- ৪টিকা বেছে নিনতালিকা থেকে যে টিকার জন্য নিবন্ধন করছেন, সেটি বেছে নিন। টাইফয়েডের সময় পাশে অন্য টিকার অপশনও ছিল, ভুল করে সেটি বাছবেন না।
- ৫স্কুল বা কেন্দ্রের তথ্য দিনশিশু স্কুলে পড়লে প্রতিষ্ঠানের নাম, পুরো ঠিকানা আর শ্রেণি দিন। স্কুলে না পড়লে কাছের টিকাকেন্দ্র বেছে নিন।
- ৬টিকা কার্ড নামিয়ে রাখুনজমার পর টিকা কার্ড আসে। এটি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রে নিয়ে যান।
নিবন্ধনের আগে হাতে রাখুন
৩. জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কি টিকা দেওয়া যাবে
যাবে। ২০২৫ সালের টাইফয়েড কর্মসূচির সময় ইপিআই কর্মসূচির ব্যবস্থাপক আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খানের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়, জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলেও বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করা যায়। অর্থাৎ শুধু সনদের অভাবে শিশুকে টিকা থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা নয়।
তবে জন্ম নিবন্ধন থাকলে সুবিধা বেশি। নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করলে টিকার তথ্য শিশুর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, পরে সনদ নামানো সহজ হয়। আর স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে নানা কাজে এই সনদ লাগবেই।
তাই টিকার সময়টাকে একটা মনে করিয়ে দেওয়া হিসেবে নিন। শিশুর জন্ম নিবন্ধন না থাকলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে আবেদন করে ফেলুন। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন বিনা মূল্যে হয়, দেরি হলে ফি বাড়ে। কীভাবে করবেন, তা নতুন জন্ম নিবন্ধনের গাইডে আছে।
৪. নম্বর যাচাই হচ্ছে না? আগে এগুলো দেখুন
| কী হচ্ছে | সম্ভাব্য কারণ | কী করবেন |
|---|---|---|
| নম্বর গ্রহণ করছে না | নম্বর ১৭ অঙ্কের নয়, পুরোনো ১০, ১৩ বা ১৬ অঙ্কের | নিবন্ধন অফিস থেকে ১৭ অঙ্কের অনলাইন নম্বর নিন |
| তথ্য মিলছে না | জন্মতারিখ বা লিঙ্গ সনদের সঙ্গে আলাদা | সনদ বা অনলাইন যাচাই কপি দেখে হুবহু দিন |
| কোড আসছে না | মোবাইল নম্বর ভুল বা নেটওয়ার্কের সমস্যা | নম্বর মিলিয়ে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন |
| জন্ম নিবন্ধনই অনলাইনে নেই | পুরোনো হাতে লেখা রেকর্ড | বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বরে নিবন্ধন করুন, পাশাপাশি রেকর্ড অনলাইনে তুলুন |
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৬টা পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধনের সব কাজ বন্ধ। ২৩ অক্টোবর e-Verify সাইট খুলেও রক্ষণাবেক্ষণের বার্তা দেখা গেছে। এই সময় নম্বর যাচাই বা নতুন নম্বর তোলার কাজ হবে না, সার্ভার চালুর পর চেষ্টা করুন।
৫. টিকা মিস করলে আর সনদ পাবেন কোথায়
টাইফয়েড কর্মসূচির নিয়মে স্কুলের ক্যাম্পে টিকা মিস করলে পরের ধাপে ইপিআই কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়া যেত। প্রতিটি ক্যাম্পেইনে এমন দ্বিতীয় সুযোগ থাকে কি না, তা সেই ক্যাম্পেইনের ঘোষণায় দেখে নিন, অথবা এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীকে জিজ্ঞেস করুন।
টিকা নেওয়ার পর টিকার সনদ অনলাইনে পাওয়া যায়। জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে থাকলে সেই তথ্য দিয়েই VaxEPI থেকে সনদ নামানোর কথা। সনদের নাম আর জন্মতারিখ জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, কোথাও ভুল থাকলে কেন্দ্রে জানান।
- টিকা কার্ড আর সনদ দুটোই ফোনে আর কাগজে রেখে দিন, স্কুল বা ভ্রমণের সময় চাইতে পারে।
- একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা নিবন্ধন করুন, প্রত্যেকের নিজস্ব জন্ম নিবন্ধন নম্বরে।
- দোকান বা অচেনা কাউকে দিয়ে নিবন্ধন করালে ওটিপি নিজে বসান, শিশুর তথ্য অন্যের ফোনে রাখবেন না।
৬. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কি টিকা দেওয়া যাবে?
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কিভাবে টিকার আবেদন করব?
টিকার সনদ কোথায় পাব?
পুরোনো ১৬ অঙ্কের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে কি হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।