জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধনে বয়স কমানো যায় কি: ২০২৩ সালের নির্দেশনা আর যে প্রমাণে জন্ম তারিখ বদলায়

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬everify.bdris.gov.bd
জন্ম নিবন্ধনে বয়স কমানো যায় কি: ২০২৩ সালের নির্দেশনা আর যে প্রমাণে জন্ম তারিখ বদলায়

সংক্ষেপে

ইচ্ছামতো বয়স কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ জন্ম নিবন্ধনে নেই। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ২০২৩ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, সনদ নেওয়ার পর কেউ এনআইডি, পাসপোর্ট বা পাবলিক পরীক্ষার নিবন্ধনে অন্য জন্ম তারিখ দিলে, পরে সেই তারিখে সনদ বদলানোর আবেদন নিবন্ধক কার্যালয় গ্রহণই করবে না।

তবে নিবন্ধনের সময় বা হাতে লেখা সনদ অনলাইনে তোলার সময় সত্যিই ভুল হলে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে জন্ম তারিখ সংশোধন হয়। আবেদন ফি ১০০ টাকা, আর জন্মসালের ভুলে সিদ্ধান্ত সাধারণত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেন।

BDRIS-এ জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন

অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে প্রিন্ট নিয়ে নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হয়। পোর্টাল ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণে বন্ধ।

BDRIS পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. জন্ম নিবন্ধনে বয়স কমানো যাবে কি: সোজা উত্তর
  2. কোন ক্ষেত্রে জন্ম তারিখ সংশোধন হয়
  3. জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করতে কি কি লাগে, কত টাকা
  4. জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন যেভাবে করবেন
  5. আবেদন ফেরত এলে কী করবেন
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. জন্ম নিবন্ধনে বয়স কমানো যাবে কি: সোজা উত্তর

চাকরির বয়সসীমা, বিদেশে কাজের ভিসা বা খেলাধুলার বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পেতে অনেকে জন্ম নিবন্ধনে বয়স কমানোর কথা ভাবেন। আইনের চোখে জন্ম সনদের জন্ম তারিখ মানে আসল জন্মের তারিখ। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট, এনআইডি সবকিছুর বয়স এখান থেকেই ধরা হয়। তাই শুধু সুবিধার জন্য বয়স কমানোর কোনো নিয়ম নেই।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আর বিদেশের মিশনকে একটি নির্দেশনা পাঠায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী তাতে বলা হয়েছে:

  • জন্ম সনদ নেওয়ার পর কেউ পাবলিক পরীক্ষার নিবন্ধন, এনআইডি বা পাসপোর্টে ভিন্ন জন্ম তারিখ ব্যবহার করলে, সেই তারিখ বহাল রাখতে সনদ সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
  • নিবন্ধক কার্যালয় এমন আবেদন গ্রহণ, আপলোড বা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে না।
  • সত্যিকারের ভুল হলে ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে সংশোধন করা যাবে।

অর্থাৎ উল্টো দিক থেকে ভাবতে হবে। এসএসসি সনদ বা এনআইডির জন্ম তারিখ জন্ম সনদের সঙ্গে না মিললে কর্তৃপক্ষ সাধারণত পরের কাগজগুলো জন্ম সনদ অনুযায়ী ঠিক করতে বলে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম আলো এমন এক আবেদনকারীর কথা লিখেছিল, যাঁকে শিক্ষাসনদ, এনআইডি আর পাসপোর্ট জন্ম সনদের সাল অনুযায়ী মেলাতে বলা হয়েছিল।

২. কোন ক্ষেত্রে জন্ম তারিখ সংশোধন হয়

সব সংশোধনের দরজা বন্ধ নয়। যে ভুলগুলো সাধারণত প্রমাণ দিয়ে ঠিক হয়:

  • নিবন্ধনের সময় তথ্য তুলতে গিয়ে টাইপের ভুল, যেমন ২০০৫ লিখতে গিয়ে ২০০৬।
  • হাতে লেখা সনদ অনলাইনে তোলার সময় অন্য কারও তারিখ বসে যাওয়া। প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে খুলনার এক আবেদনকারীর সনদে মেয়ের জন্মসাল বসে গিয়েছিল, পরে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় আবেদন গ্রহণ করে।
  • জন্ম সনদ নেওয়ার আগেই পাসপোর্ট বা এনআইডি করা ছিল, আর সেটাই আসল তারিখ। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এমন মানুষ নতুন নিবন্ধনে এনআইডি বা পাসপোর্টকে জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে দিতে পারবেন।

রেজিস্ট্রার জেনারেল ২০২৩ সালে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, হাতে লেখা থেকে অনলাইনে নেওয়ার সময় সাল ভুল উঠেছে বলে যাচাইয়ে প্রমাণ হলে তা সংশোধন করা হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, অনেকে অসৎ উদ্দেশ্যে জন্মসাল বদলাতে চান বলে কর্তৃপক্ষ এখানে সাবধান।

৩. জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করতে কি কি লাগে, কত টাকা

আবেদনের আগে যা গুছিয়ে রাখবেন

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ফি তালিকা অনুযায়ী জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন ফি ১০০ টাকা। নাম বা ঠিকানার মতো অন্য তথ্যে ফি ৫০ টাকা। সংশোধন মঞ্জুর হলে বাংলা ও ইংরেজি সনদের কপি বিনা ফিতে পাওয়ার কথা। ফি দেওয়ার রসিদ রেখে দিন।

সময়ের হিসাবও জেনে রাখুন। আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী সনদ পাওয়ার ৯০ দিন পার হলে নিবন্ধক নিজে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। আবেদন যায় ইউএনও, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা বা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে, আর সেখানে ১৫ কর্মদিবসে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জন্মসালের ভুলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে, আর বাস্তবে কয়েক মাসও লেগেছে।

৪. জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন যেভাবে করবেন

  • ১
    আগে নিশ্চিত হোন ভুলটা কোথায়জন্ম সনদ, টিকা কার্ড, এসএসসি সনদ আর এনআইডি পাশাপাশি রাখুন। কোনটির তারিখ আসল, তার পক্ষে সবচেয়ে পুরোনো কাগজ কোনটি, তা ঠিক করুন।
  • ২
    BDRIS-এ সংশোধনের আবেদন জমা দিনbdris.gov.bd-তে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের অংশে নিবন্ধন নম্বর আর জন্ম তারিখ দিয়ে ঢুকুন। জন্ম তারিখের ঘরে সঠিক তারিখ লিখুন, কারণ বেছে দিন আর প্রমাণ আপলোড করুন।
  • ৩
    প্রিন্ট নিয়ে নিবন্ধকের কার্যালয়ে যানযে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে সনদ নিয়েছিলেন, সেখানে প্রিন্ট আর মূল কাগজ দেখান। ফি জমা দিয়ে রসিদ নিন।
  • ৪
    যাচাই বা শুনানির খবর রাখুনঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রমাণ দেখতে চাইতে পারেন। মোবাইল চালু রাখুন, ডাকলে মূল কাগজ নিয়ে হাজির হোন।
  • ৫
    মঞ্জুর হলে বাকি কাগজ মেলাননতুন সনদ পেলে everify.bdris.gov.bd-তে যাচাই করুন। তারপর দরকার হলে এনআইডি বা পাসপোর্ট সংশোধনে যান।
মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তি আছে

আইনের ২১ ধারায় বলা আছে, জন্ম নিবন্ধনে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা দুটোই হতে পারে।

৫. আবেদন ফেরত এলে কী করবেন

জন্ম তারিখের আবেদন নামঞ্জুর হলে আগে লিখিত কারণটা জেনে নিন। কারণ যদি হয় প্রমাণ কম, তাহলে আরও পুরোনো কাগজ জোগাড় করে নতুন আবেদন করা যায়। আর যদি মনে করেন প্রমাণ থাকার পরও ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারেন। ইউএনওর আদেশের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে, জেলা প্রশাসকের আদেশের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে।

আবেদন যদি ২০২৩ সালের নির্দেশনার আওতায় পড়ে, অর্থাৎ পরে বানানো কাগজের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা, তাহলে বারবার আবেদনে ফল বদলানোর সম্ভাবনা কম। তখন বাস্তব পথ হলো এনআইডি বা অন্য কাগজ জন্ম সনদ অনুযায়ী ঠিক করা।

৬. অনেকে যা জানতে চান

জন্ম নিবন্ধন বয়স কমানো কি জায়েজ বা বৈধ?
আসল জন্ম তারিখ বদলে বয়স কমানো আইনে বৈধ নয়। জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দিলে আইনের ২১ ধারায় জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে। শুধু সত্যিকারের ভুল প্রমাণসহ সংশোধন করা যায়।
জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের তালিকায় জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন ফি ১০০ টাকা। এর বাইরে কেউ টাকা চাইলে রসিদ চান।
জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করতে কতদিন সময় লাগে?
সনদ পাওয়ার ৯০ দিন পর আবেদন হলে আইনে নিবন্ধকের ১০ কর্মদিবসে পাঠানো আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ১৫ কর্মদিবসে সিদ্ধান্তের কথা আছে। জন্মসালের ক্ষেত্রে বাস্তবে কয়েক মাসও লেগেছে।
এসএসসি সনদ অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধনের বয়স বদলানো যাবে?
জন্ম সনদ নেওয়ার পর এসএসসি নিবন্ধনে ভিন্ন তারিখ দেওয়া হলে, সেই তারিখে জন্ম সনদ বদলের আবেদন ২০২৩ সালের নির্দেশনায় গ্রহণ করা হয় না। জন্ম সনদের আগের এসএসসি সনদ হলে প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধনে নাম ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের কাগজ

নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদনে কোন প্রমাণ সবচেয়ে কাজে দেয়, আর স্ক্যান কপি তৈরির সময় কী খেয়াল রাখবেন।
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধন No Record Found: আগে যা মিলিয়ে দেখবেন

No Record Found দেখলেই অফিসে ছুটবেন না। আগে ১৭ ডিজিটের নম্বর, জন্ম তারিখের আকার আর পোর্টালের ঠিকানা মিলিয়ে নিন, তারপর ঠিক করুন পরের ধাপ।

অনেকে খোঁজেন