
সংক্ষেপে
জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কোনো মোবাইল অ্যাপের লিংক তাদের ওয়েবসাইটে বা BDRIS-এ আমরা পাইনি। সরকারি যাচাই হয় everify.bdris.gov.bd পাতায়, ১৭ সংখ্যার নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে। মোবাইলের ব্রাউজারেই এটা খোলে, আলাদা অ্যাপ লাগে না।
প্লে স্টোরের ‘জন্ম নিবন্ধন চেক’ অ্যাপ বা অচেনা সাইট আপনার নম্বর আর তারিখ নিয়ে নিজের সার্ভারে পাঠাতে পারে। আর কারও দেওয়া সনদ আসল কি না বুঝতে চাইলে নম্বরটা নিজে e-Verify-তে দিয়ে মিলিয়ে দেখুন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করালে আইনে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে রেকর্ড দেখুন, কোনো অ্যাপ নামানোর দরকার নেই।
এই লেখায়
১. সরকারি অ্যাপ আছে কি
১৯ অক্টোবর ২০২৬-এ আমরা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট orgbdr.gov.bd আর BDRIS পোর্টালের সব লিংক দেখেছি। সেখানে আবেদন, যাচাই, পুনঃমুদ্রণ, সংশোধন আর সনদ বাতিলের পাতা আছে, কিন্তু কোনো মোবাইল অ্যাপের লিংক নেই।
তাই দোকানে বা প্লে স্টোরে ‘জন্ম নিবন্ধন চেক করার অ্যাপস’ নামে যা দেখেন, সেগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগের। কোনোটা ভেতরে শুধু e-Verify পাতাটাই খুলে দেয়, কোনোটা নিজেদের সার্ভার দিয়ে তথ্য নেয়। কোনটা কী করে, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।
জন্ম নিবন্ধনের কোনো ধাপেই অ্যাপ লাগে না। নতুন আবেদন, আবেদনের অবস্থা দেখা, আবেদনপত্র প্রিন্ট, সংশোধন আর পুনঃমুদ্রণ, সবই bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে হয়, আর যাচাই হয় e-Verify পাতায়। দুটোই মোবাইলের ব্রাউজারে খোলে।
| পথ | কে চালায় | ঝুঁকি |
|---|---|---|
| everify.bdris.gov.bd | রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় | নেই, এটাই সরকারি যাচাই |
| প্লে স্টোরের চেক অ্যাপ | ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান | নম্বর, জন্মতারিখ আর ফোনের অনুমতি অন্যের হাতে |
| নাম দিয়ে খোঁজার সাইট বা ফেসবুক পেজ | অজানা | সরকারি পাতায় নাম দিয়ে খোঁজার ব্যবস্থাই নেই, তাই দাবিটাই সন্দেহজনক |
| PDF বা PSD সনদের টেমপ্লেট | অজানা | এডিট করা সনদ জাল কাগজ, ব্যবহারে আইনি বিপদ |
২. মোবাইলে e-Verify ব্যবহার করবেন যেভাবে
- ১ব্রাউজারে ঠিকানা লিখুনক্রোম বা যেকোনো ব্রাউজারে everify.bdris.gov.bd টাইপ করুন। সার্চের বিজ্ঞাপন বা অচেনা লিংক থেকে ঢুকবেন না।
- ২নম্বর আর জন্মতারিখ দিন১৭ সংখ্যার নম্বর লিখুন, জন্মতারিখ দিন YYYY-MM-DD আকারে, যেমন 2012-07-21।
- ৩ছোট অঙ্কের উত্তর দিয়ে খুঁজুনপাতার যোগফলের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে খুঁজুন। রেকর্ড থাকলে তথ্য দেখাবে।
- ৪হোম স্ক্রিনে রেখে দিনবারবার লাগলে ব্রাউজারের মেনু থেকে পাতাটি হোম স্ক্রিনে যোগ করুন। দেখতে অ্যাপের মতোই, কিন্তু খুলবে সরকারি পাতা।
৩. সামনে থাকা সনদ আসল কি না, যা মিলিয়ে দেখবেন
বাসা ভাড়া, চাকরি, বিয়ে বা ভর্তির সময় অন্য কারও জন্ম সনদ হাতে এলে কাগজের চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। নিচের তালিকা ধরে মিলিয়ে নিন।
যাচাইয়ের তালিকা
No Record Found মানেই জাল নয়। পুরোনো হাতে লেখা নিবন্ধন অনেক সময় সার্ভারে ওঠেনি। আবার রেকর্ড পাওয়া গেলেই সব শেষ নয়। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের তিনটি ওয়ার্ডের ব্যবহারকারী আইডি হ্যাক করে ১৮টি জন্ম নিবন্ধন করার ঘটনা এসেছিল। বড় কোনো সিদ্ধান্তের আগে তাই কার্যালয়ে খোঁজ নেওয়াই নিরাপদ।
৪. এডিট করা বা মিথ্যা তথ্যের সনদ: আইনে যা বলা আছে
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১ ধারা অনুযায়ী কেউ নিবন্ধনের জন্য জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য বা ঘোষণা দিলে অনধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনধিক এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা দুটোই হতে পারে। মিথ্যা তথ্যের কথা জেনেও নিবন্ধক নিবন্ধন করলে তাঁরও একই শাস্তির বিধান আছে।
আইনের ১৫ক ধারায় বলা আছে, ভুল তথ্য বা মিথ্যা ঘোষণার কারণে কোনো সনদ দেওয়া হলে নির্ধারিত ফিসহ যেকোনো ব্যক্তির আবেদনে নিবন্ধক সেই সনদ বাতিল করবেন। অর্থাৎ পরে ধরা পড়লে সনদটাই টিকবে না।
একই আইনের ১৮ ধারায় বলা আছে, নিবন্ধন সংক্রান্ত সব নথি আর নিবন্ধন বহি সাক্ষ্য আইনের অর্থে সরকারি দলিল (Public Document)। কাজেই জন্ম সনদ বানানো বা বদলানো সাধারণ কাগজ জাল করার চেয়ে হালকা ব্যাপার নয়।
অনলাইনে ‘সার্টিফিকেট PSD ফরম্যাট’ নামে যে ফাইল ঘোরে, তাতে নাম বা তারিখ বসিয়ে প্রিন্ট করলে সেটা নিবন্ধকের দেওয়া সনদ নয়, জাল কাগজ। দরকার হলে নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে পুনঃমুদ্রণ করান।
৫. জাল বা ভুল সনদ ধরা পড়লে কী করবেন
- ১প্রমাণ রাখুনসনদের কপি আর e-Verify ফলাফলের স্ক্রিনশট রাখুন, তারিখসহ।
- ২সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জানানসনদে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নাম আছে, সেখানে লিখিতভাবে জানান।
- ৩বাতিলের আবেদননিজের নামে ভুল বা মিথ্যা তথ্যের দ্বিতীয় সনদ থাকলে BDRIS-এর সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন অংশ থেকে আবেদন করা যায়। নিবন্ধক সিদ্ধান্ত দেন।
- ৪আপিলনিবন্ধকের আদেশে আপত্তি থাকলে আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, অনলাইন নিবন্ধনের শুরুর দিকে কোথাও কোথাও একই নম্বর একাধিক জনকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তখন সবাইকে নিবন্ধন অফিসে ডেকে একজনকে নম্বরটি রেখে অন্যজনকে নতুন নম্বর দেওয়া হয়, সমঝোতা না হলে নম্বর থাকে যাঁর নিবন্ধন আগে হয়েছে তাঁর।
অন্য কেউ আপনার পরিচয় ব্যবহার করে সনদ করিয়েছে মনে হলে থানায় অভিযোগ করার কথাও ভাবুন, কারণ এটা প্রতারণার বিষয়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের কোনো সরকারি অ্যাপ আছে?
নাম দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন খোঁজা যায়?
e-Verify-তে তথ্য আসছে, কিন্তু সনদের সঙ্গে বানান মেলে না। কোনটা ঠিক?
অ্যাপে নম্বর দিয়ে ফেলেছি। এখন কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।