
সংক্ষেপে
জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন আবেদন জমা দিলে মোবাইলে এসএমএসে আবেদনপত্রের নম্বর আসে। এই নম্বর দিয়ে bdris.gov.bd-এর 'জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা' অংশে দেখা যায় আবেদনটি কোথায় আছে। তবে আবেদনপত্র প্রিন্ট করে কাগজসহ নিবন্ধক কার্যালয়ে জমা না দিলে কাজ এগোয় না।
বিধিমালা অনুযায়ী কাগজ পাওয়ার পর নিবন্ধক সনদ দেওয়ার একটি সম্ভাব্য তারিখ লিখে দেবেন, আর সব ঠিক থাকলে সর্বোচ্চ ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সেরে সনদ দেবেন। সংশোধনের জন্য বিধিমালায় নির্দিষ্ট দিন বলা নেই। পসিবল ডুপ্লিকেট বা কাগজের ঘাটতিতে আবেদন আটকে যেতে পারে।
'জন্ম নিবন্ধন' মেনুতে আবেদনের বর্তমান অবস্থা, আবেদনপত্র প্রিন্ট আর তথ্য সংশোধনের আবেদন, সব অপশন পাশাপাশি আছে।
এই লেখায়
১. অনলাইনে জমা দিলেই আবেদন শেষ নয়
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনলাইনে ফরম জমার পর আপনার মোবাইলে এসএমএসে আবেদনপত্রের নম্বর, অর্থাৎ অ্যাপ্লিকেশন আইডি আসে। এরপর আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এই দ্বিতীয় ধাপ না হলে নিবন্ধক আবেদনটি যাচাই করতে পারেন না।
কার্যালয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিন
২. অবস্থা দেখবেন যেভাবে
- ১সরকারি পোর্টাল খুলুনব্রাউজারে নিজে bdris.gov.bd লিখে খুলুন। সার্চে আসা একই রকম নামের অন্য কোনো সাইটে আবেদনের নম্বর বা জন্মতারিখ দেবেন না।
- ২সঠিক মেনু বাছুন'জন্ম নিবন্ধন' মেনু থেকে 'জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা' চাপুন। আবেদনপত্র প্রিন্ট আর সনদ পুনর্মুদ্রণের অপশন একই মেনুতে আলাদা, ভুল করে সেগুলোতে ঢুকবেন না।
- ৩নম্বর দিয়ে খুঁজুনএসএমএসে পাওয়া আবেদনপত্রের নম্বরসহ পাতায় যে তথ্য চাওয়া হয় তা দিন। নম্বরের প্রতিটি অঙ্ক মিলিয়ে নিন।
- ৪ফল দেখে পরের কাজ ঠিক করুনআবেদন এগোয়নি মনে হলে আগে নিশ্চিত হোন কাগজ কার্যালয়ে জমা পড়েছে কি না। নিবন্ধন হয়ে গেলে e-Verify সাইটে ১৭ সংখ্যার নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে দেখে নিন রেকর্ডটি সরকারি ডাটাবেজে উঠেছে কি না।
দুটি জিনিস গুলিয়ে ফেলবেন না। আবেদনের অবস্থা দেখা যায় bdris.gov.bd-তে, আর নিবন্ধন হয়ে যাওয়ার পর সনদ যাচাই হয় everify.bdris.gov.bd-তে। নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার আগে e-Verify-তে খুঁজলে তথ্য না পাওয়াই স্বাভাবিক।
৩. কত দিন লাগার কথা
| ধাপ | সময়সীমা | কোথায় বলা আছে |
|---|---|---|
| অনলাইন আবেদন জমা | জমার পর এসএমএসে আবেদনপত্রের নম্বর | রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া |
| কার্যালয়ে আবেদনপত্র ও কাগজ জমা | পরের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সনদ দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ লিখে আবেদনকারীর অংশ ফেরত | জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮, বিধি ৯(২) |
| সব তথ্য ও কাগজ ঠিক, আগে নিবন্ধন হয়নি | সর্বোচ্চ ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিবন্ধন আর সনদ | বিধি ৯(৩) |
| তথ্য সংশোধনের আবেদন | নির্দিষ্ট দিন বলা নেই | বিধি ১৫ |
নিয়মের সময় আর বাস্তবের সময় সব জায়গায় এক নয়। কার্যালয়ের কাজের চাপ বা আবেদনের ধরনের কারণে দেরি হতে পারে। তাই আবেদনকারীর অংশে লেখা সম্ভাব্য তারিখটি খেয়াল করুন, তারিখ পেরিয়ে গেলে সেই কাগজ নিয়েই কার্যালয়ে খোঁজ নিন।
কর্মদিবস মানে সরকারি ছুটির দিন বাদে কাজের দিন। ঈদ বা অন্য লম্বা ছুটির আগে কাগজ জমা দিলে ক্যালেন্ডারের হিসাবে সময় বেশি লাগতে পারে। সংশোধনের আবেদনে জন্মতারিখ বদলের ফি ১০০ টাকা, নাম বা ঠিকানার মতো অন্য তথ্যের ৫০ টাকা, আর অনুমোদনের পর সংশোধিত সনদের বাংলা ও ইংরেজি কপি বিনা ফিতে পাওয়ার কথা।
৪. যেসব কারণে আবেদন আটকে থাকে
- পসিবল ডুপ্লিকেট: নাম, বাবা ও মায়ের নাম, অফিস আর জন্মতারিখ অন্য রেকর্ডের সঙ্গে মিলে গেলে সিস্টেম এমন দেখায়। একই জেলায় মিল হলে অনুমোদিত ব্যবহারকারী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) খোঁজ নেন। অন্য জেলায় মিল হলে আগে প্রশাসনিক তদন্ত হয়, কিছু না পাওয়া গেলে আবেদনকারীর লিখিত ঘোষণা নিয়ে নিষ্পত্তি হয়।
- কাগজ জমা না দেওয়া বা ঘাটতি: প্রিন্ট আর মূল কাগজ কার্যালয়ে না পৌঁছালে আবেদন যাচাই হয় না।
- যমজ সন্তান: একজনের নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আরেকজনের আবেদন জমা দেওয়া যায় না, তাই একটির পর একটি করুন।
- মোবাইল নম্বর: একটি নম্বর দিয়ে পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজনের নিবন্ধন করা যায়। নিবন্ধন কার্যালয়ের কর্মীর ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করা নিষেধ।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, দুই রেকর্ডের জন্মতারিখে ৮ থেকে ১০ বছর বা তার বেশি ফারাক থাকলে, কিংবা স্থায়ী ঠিকানা না মিললে, সেটি সাধারণত আসল ডুপ্লিকেট হয় না। নিজের কাগজ নিয়ে কার্যালয়কে এ কথা জানান।
৫. দেরি হলে কী করবেন
- ১নিজের অংশটি দেখুনকার্যালয় থেকে ফেরত পাওয়া আবেদনকারীর অংশে সম্ভাব্য তারিখ লেখা আছে কি না দেখুন। তারিখ না থাকলে কাগজ জমার দিনই চেয়ে নিন।
- ২কার্যালয়ে খোঁজ নিনআবেদনপত্রের নম্বর আর প্রিন্ট নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন শাখায় জিজ্ঞেস করুন আবেদন কোন ধাপে আছে, কোনো কাগজ বাকি কি না।
- ৩ডুপ্লিকেট হলে সহযোগিতা করুনপসিবল ডুপ্লিকেটের কারণে আটকে থাকলে তদন্তে যে কাগজ চাওয়া হয় তা দিন। কিছু না পাওয়া গেলে লিখিত ঘোষণা দিয়ে নিষ্পত্তির সুযোগ আছে।
- ৪ওপরের কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানলম্বা সময় সাড়া না পেলে ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) কার্যালয়ে লিখিত আবেদন দিন। আবেদনপত্রের নম্বর আর কাগজ জমার তারিখ উল্লেখ করুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
আবেদনপত্রের নম্বর হারিয়ে ফেলেছি। এখন কী করব?
নিবন্ধন হয়েছে বলছে, কিন্তু e-Verify-তে নাম আসছে না। কেন?
সংশোধনের আবেদন কত দিনে হবে?
অন্য কোনো সাইটে কি আবেদনের অবস্থা দেখা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।