জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের অবস্থা যাচাই: সনদ পেতে কত দিন লাগার কথা, আটকে গেলে কী করবেন

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬everify.bdris.gov.bd
জন্ম নিবন্ধন আবেদনের অবস্থা যাচাই: সনদ পেতে কত দিন লাগার কথা, আটকে গেলে কী করবেন

সংক্ষেপে

জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন আবেদন জমা দিলে মোবাইলে এসএমএসে আবেদনপত্রের নম্বর আসে। এই নম্বর দিয়ে bdris.gov.bd-এর 'জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা' অংশে দেখা যায় আবেদনটি কোথায় আছে। তবে আবেদনপত্র প্রিন্ট করে কাগজসহ নিবন্ধক কার্যালয়ে জমা না দিলে কাজ এগোয় না।

বিধিমালা অনুযায়ী কাগজ পাওয়ার পর নিবন্ধক সনদ দেওয়ার একটি সম্ভাব্য তারিখ লিখে দেবেন, আর সব ঠিক থাকলে সর্বোচ্চ ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সেরে সনদ দেবেন। সংশোধনের জন্য বিধিমালায় নির্দিষ্ট দিন বলা নেই। পসিবল ডুপ্লিকেট বা কাগজের ঘাটতিতে আবেদন আটকে যেতে পারে।

আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখুন

'জন্ম নিবন্ধন' মেনুতে আবেদনের বর্তমান অবস্থা, আবেদনপত্র প্রিন্ট আর তথ্য সংশোধনের আবেদন, সব অপশন পাশাপাশি আছে।

BDRIS খুলুন
এই লেখায়
  1. অনলাইনে জমা দিলেই আবেদন শেষ নয়
  2. অবস্থা দেখবেন যেভাবে
  3. কত দিন লাগার কথা
  4. যেসব কারণে আবেদন আটকে থাকে
  5. দেরি হলে কী করবেন
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. অনলাইনে জমা দিলেই আবেদন শেষ নয়

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনলাইনে ফরম জমার পর আপনার মোবাইলে এসএমএসে আবেদনপত্রের নম্বর, অর্থাৎ অ্যাপ্লিকেশন আইডি আসে। এরপর আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এই দ্বিতীয় ধাপ না হলে নিবন্ধক আবেদনটি যাচাই করতে পারেন না।

কার্যালয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিন

২. অবস্থা দেখবেন যেভাবে

  • ১
    সরকারি পোর্টাল খুলুনব্রাউজারে নিজে bdris.gov.bd লিখে খুলুন। সার্চে আসা একই রকম নামের অন্য কোনো সাইটে আবেদনের নম্বর বা জন্মতারিখ দেবেন না।
  • ২
    সঠিক মেনু বাছুন'জন্ম নিবন্ধন' মেনু থেকে 'জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা' চাপুন। আবেদনপত্র প্রিন্ট আর সনদ পুনর্মুদ্রণের অপশন একই মেনুতে আলাদা, ভুল করে সেগুলোতে ঢুকবেন না।
  • ৩
    নম্বর দিয়ে খুঁজুনএসএমএসে পাওয়া আবেদনপত্রের নম্বরসহ পাতায় যে তথ্য চাওয়া হয় তা দিন। নম্বরের প্রতিটি অঙ্ক মিলিয়ে নিন।
  • ৪
    ফল দেখে পরের কাজ ঠিক করুনআবেদন এগোয়নি মনে হলে আগে নিশ্চিত হোন কাগজ কার্যালয়ে জমা পড়েছে কি না। নিবন্ধন হয়ে গেলে e-Verify সাইটে ১৭ সংখ্যার নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে দেখে নিন রেকর্ডটি সরকারি ডাটাবেজে উঠেছে কি না।

দুটি জিনিস গুলিয়ে ফেলবেন না। আবেদনের অবস্থা দেখা যায় bdris.gov.bd-তে, আর নিবন্ধন হয়ে যাওয়ার পর সনদ যাচাই হয় everify.bdris.gov.bd-তে। নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার আগে e-Verify-তে খুঁজলে তথ্য না পাওয়াই স্বাভাবিক।

৩. কত দিন লাগার কথা

ধাপসময়সীমাকোথায় বলা আছে
অনলাইন আবেদন জমাজমার পর এসএমএসে আবেদনপত্রের নম্বররেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া
কার্যালয়ে আবেদনপত্র ও কাগজ জমাপরের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সনদ দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ লিখে আবেদনকারীর অংশ ফেরতজন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮, বিধি ৯(২)
সব তথ্য ও কাগজ ঠিক, আগে নিবন্ধন হয়নিসর্বোচ্চ ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিবন্ধন আর সনদবিধি ৯(৩)
তথ্য সংশোধনের আবেদননির্দিষ্ট দিন বলা নেইবিধি ১৫

নিয়মের সময় আর বাস্তবের সময় সব জায়গায় এক নয়। কার্যালয়ের কাজের চাপ বা আবেদনের ধরনের কারণে দেরি হতে পারে। তাই আবেদনকারীর অংশে লেখা সম্ভাব্য তারিখটি খেয়াল করুন, তারিখ পেরিয়ে গেলে সেই কাগজ নিয়েই কার্যালয়ে খোঁজ নিন।

কর্মদিবস মানে সরকারি ছুটির দিন বাদে কাজের দিন। ঈদ বা অন্য লম্বা ছুটির আগে কাগজ জমা দিলে ক্যালেন্ডারের হিসাবে সময় বেশি লাগতে পারে। সংশোধনের আবেদনে জন্মতারিখ বদলের ফি ১০০ টাকা, নাম বা ঠিকানার মতো অন্য তথ্যের ৫০ টাকা, আর অনুমোদনের পর সংশোধিত সনদের বাংলা ও ইংরেজি কপি বিনা ফিতে পাওয়ার কথা।

৪. যেসব কারণে আবেদন আটকে থাকে

  • পসিবল ডুপ্লিকেট: নাম, বাবা ও মায়ের নাম, অফিস আর জন্মতারিখ অন্য রেকর্ডের সঙ্গে মিলে গেলে সিস্টেম এমন দেখায়। একই জেলায় মিল হলে অনুমোদিত ব্যবহারকারী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) খোঁজ নেন। অন্য জেলায় মিল হলে আগে প্রশাসনিক তদন্ত হয়, কিছু না পাওয়া গেলে আবেদনকারীর লিখিত ঘোষণা নিয়ে নিষ্পত্তি হয়।
  • কাগজ জমা না দেওয়া বা ঘাটতি: প্রিন্ট আর মূল কাগজ কার্যালয়ে না পৌঁছালে আবেদন যাচাই হয় না।
  • যমজ সন্তান: একজনের নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আরেকজনের আবেদন জমা দেওয়া যায় না, তাই একটির পর একটি করুন।
  • মোবাইল নম্বর: একটি নম্বর দিয়ে পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজনের নিবন্ধন করা যায়। নিবন্ধন কার্যালয়ের কর্মীর ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করা নিষেধ।
জন্মতারিখের মিল দেখে ভয় পাবেন না

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, দুই রেকর্ডের জন্মতারিখে ৮ থেকে ১০ বছর বা তার বেশি ফারাক থাকলে, কিংবা স্থায়ী ঠিকানা না মিললে, সেটি সাধারণত আসল ডুপ্লিকেট হয় না। নিজের কাগজ নিয়ে কার্যালয়কে এ কথা জানান।

৫. দেরি হলে কী করবেন

  • ১
    নিজের অংশটি দেখুনকার্যালয় থেকে ফেরত পাওয়া আবেদনকারীর অংশে সম্ভাব্য তারিখ লেখা আছে কি না দেখুন। তারিখ না থাকলে কাগজ জমার দিনই চেয়ে নিন।
  • ২
    কার্যালয়ে খোঁজ নিনআবেদনপত্রের নম্বর আর প্রিন্ট নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন শাখায় জিজ্ঞেস করুন আবেদন কোন ধাপে আছে, কোনো কাগজ বাকি কি না।
  • ৩
    ডুপ্লিকেট হলে সহযোগিতা করুনপসিবল ডুপ্লিকেটের কারণে আটকে থাকলে তদন্তে যে কাগজ চাওয়া হয় তা দিন। কিছু না পাওয়া গেলে লিখিত ঘোষণা দিয়ে নিষ্পত্তির সুযোগ আছে।
  • ৪
    ওপরের কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানলম্বা সময় সাড়া না পেলে ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) কার্যালয়ে লিখিত আবেদন দিন। আবেদনপত্রের নম্বর আর কাগজ জমার তারিখ উল্লেখ করুন।

৬. অনেকে যা জানতে চান

আবেদনপত্রের নম্বর হারিয়ে ফেলেছি। এখন কী করব?
আবেদনের সময় যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন, তাতে আসা এসএমএস খুঁজে দেখুন, প্রিন্ট করা আবেদনপত্রটিও উল্টে দেখুন। কোথাও না পেলে যে কার্যালয়ে কাগজ জমা দিয়েছেন সেখানে নিজের নাম, জন্মতারিখ আর জমার দিন বলে খোঁজ নিন।
নিবন্ধন হয়েছে বলছে, কিন্তু e-Verify-তে নাম আসছে না। কেন?
নম্বর আর জন্মতারিখ ঠিক ক্রমে দিয়েছেন কি না আগে দেখুন। তারপরও না এলে কার্যালয়ে জিজ্ঞেস করুন নিবন্ধন সত্যিই সম্পন্ন হয়েছে কি না, কারণ সম্পন্ন না হলে e-Verify-তে রেকর্ড আসে না।
সংশোধনের আবেদন কত দিনে হবে?
বিধিমালায় সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট দিন বলা নেই, কার্যালয় আর সংশোধনের ধরনের ওপর নির্ভর করে। জন্মতারিখ সংশোধনের ফি ১০০ টাকা, অন্য তথ্যের ৫০ টাকা। আবেদনের বর্তমান অবস্থা অংশে নিয়মিত খোঁজ রাখুন।
অন্য কোনো সাইটে কি আবেদনের অবস্থা দেখা যায়?
সরকারি ঠিকানা bdris.gov.bd। একই রকম নামের নানা সাইট আছে, সেগুলোতে আবেদনপত্রের নম্বর, জন্মতারিখ বা মোবাইল নম্বর দেবেন না।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধনে নাম ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের কাগজ

নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদনে কোন প্রমাণ সবচেয়ে কাজে দেয়, আর স্ক্যান কপি তৈরির সময় কী খেয়াল রাখবেন।
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধন No Record Found: আগে যা মিলিয়ে দেখবেন

No Record Found দেখলেই অফিসে ছুটবেন না। আগে ১৭ ডিজিটের নম্বর, জন্ম তারিখের আকার আর পোর্টালের ঠিকানা মিলিয়ে নিন, তারপর ঠিক করুন পরের ধাপ।

অনেকে খোঁজেন