
সংক্ষেপে
একজন মানুষের একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকলে অপ্রয়োজনীয়টি বাতিল করাতে হয়। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর ১৫ বিধি অনুযায়ী সরল বিশ্বাসে বা যৌক্তিক কারণে একাধিক সনদ হয়ে গেলে নিবন্ধিত ব্যক্তি বা তার আইনানুগ অভিভাবকের আবেদনে নিবন্ধক যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় সনদটি বাতিল করেন। আবেদন হয় নির্ধারিত ফরম ৮-এ, আর bdris.gov.bd-তেও সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন অংশ আছে।
নতুন আবেদনে পসিবল ডুপ্লিকেট দেখালে তার মানে, আপনার নাম আর বাবা-মায়ের নাম ডেটাবেজের অন্য কারও সঙ্গে হুবহু মিলেছে। এটি সব সময় আসল ডুপ্লিকেট নয়, কর্মকর্তারা যাচাই করে নিষ্পত্তি করেন।
জন্ম নিবন্ধন অংশে সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদনের অপশন আছে।
এই লেখায়
১. দুটি জন্ম নিবন্ধন কেন সমস্যা
অনেকে সনদ হারিয়ে বা পুরোনো নিবন্ধনের কথা না জেনে আবার নিবন্ধন করেন। কারও আবার বাবার বাড়ি আর স্বামীর বাড়ির ঠিকানায় দুটি নিবন্ধন হয়ে যায়। দুটি সনদে নাম বা জন্মতারিখ আলাদা থাকলে NID, পাসপোর্ট বা সন্তানের নিবন্ধনে বারবার গরমিল ধরা পড়ে।
বিধিমালার ১৫ বিধি দুই রকম ঘটনা আলাদা করে। সরল বিশ্বাসে দুটি হয়ে গেলে আবেদনে একটি বাতিল হয়। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একাধিক সনদ নিলে নিবন্ধক যাচাই করে দায়ী ব্যক্তির সনদ বাতিল করতে এবং আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী দণ্ডমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন। তাই বিষয়টি জানার পর দেরি না করে নিজেই আবেদন করুন।
২. কোন নিবন্ধনটি রাখবেন
কোনটি রাখবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেখুন কোন নম্বরটি আপনার জরুরি কাগজে ব্যবহার হয়েছে। সাধারণত যেটির তথ্য এসএসসি সনদ, NID আর পাসপোর্টের সঙ্গে মেলে, সেটি রাখাই সুবিধাজনক। অন্যটি রাখলে পরে এসব কাগজও সংশোধন করাতে হতে পারে।
| যা মিলিয়ে দেখবেন | কেন |
|---|---|
| NID-তে কোন জন্ম নিবন্ধনের তথ্য | নাম আর জন্মতারিখ মিললে পরে সংশোধন লাগে না |
| পাসপোর্টের আবেদনে কোন নম্বর | অপ্রাপ্তবয়স্কের পাসপোর্ট জন্ম নিবন্ধনের তথ্যে হয় |
| এসএসসি বা স্কুলের রেকর্ড | শিক্ষাসনদের নাম ও জন্মতারিখ সাধারণত প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় |
| সন্তানের নিবন্ধনে কোন নম্বর দেওয়া | বাতিল হওয়া নম্বর সেখানে থাকলে তা-ও ঠিক করতে হবে |
৩. জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন: ধাপগুলো
- ১দুটি নিবন্ধনই যাচাই করুনeverify.bdris.gov.bd-তে দুটি নম্বর আলাদা করে জন্মতারিখসহ দিয়ে দেখুন, কোনটিতে কী তথ্য আছে। পাতাগুলো প্রিন্ট বা স্ক্রিনশট রাখুন।
- ২কোন কার্যালয়ে যাবেন ঠিক করুনযে সনদ বাতিল করতে চান, সেটি যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে নিবন্ধিত, সেখানকার নিবন্ধকের কাছে আবেদন করুন।
- ৩আবেদন জমা দিননিজে, অথবা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে আইনানুগ অভিভাবক আবেদন করবেন। বিধিমালার ফরম ৮ অনুযায়ী সংশোধন বা বাতিলের আবেদন করা যায়, bdris.gov.bd-র সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন অংশও আছে।
- ৪যাচাইয়ে সহযোগিতা করুননিবন্ধক দুটি নিবন্ধন যাচাই করে অপ্রয়োজনীয়টি বাতিল করবেন। কাগজ বা ব্যাখ্যা চাইলে দেরি না করে দিন।
- ৫বাতিলের পর যাচাই করুনবিধিমালা অনুযায়ী বাতিল হওয়া সনদের বিষয়ে নিবন্ধক কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে নোটিশ দেন। পরে everify-তে দেখে নিন বাতিল নম্বরটি আর সক্রিয় নেই, আর রাখা নম্বরটি ঠিক আছে।
বাতিলের আবেদনের আলাদা কোনো ফি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রকাশিত ফি তালিকায় নেই। কার্যালয় কোনো ফি চাইলে সরকারি রসিদ নিন।
৪. জন্ম নিবন্ধন পসিবল ডুপ্লিকেট দেখালে
নতুন আবেদনের পর আবেদনকারীর নাম, বাবার নাম আর মায়ের নাম ডেটাবেজের অন্য কারও সঙ্গে হুবহু মিলে গেলে সফটওয়্যার নিজে থেকেই পসিবল ডুপ্লিকেট বা সম্ভাব্য সদৃশ দেখায়। একই এলাকা ছাড়িয়ে অন্য জেলা, এমনকি বিদেশের নিবন্ধনের সঙ্গেও এমন মিল দেখাতে পারে।
- নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, নিবন্ধন কার্যালয় আর জন্মতারিখ, এই পাঁচটি মিলে গেলে সেটিকে আসল ডুপ্লিকেট ধরা হয়।
- দুজনের জন্মতারিখের ব্যবধান ৮ থেকে ১০ বছর বা বেশি হলে, বা স্থায়ী ঠিকানা না মিললে ডুপ্লিকেট হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত থাকে না।
- একই জেলায় হলে নিবন্ধক কার্যালয়ের অনুমোদিত ব্যবহারকারী, ক্ষেত্রবিশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক অনুসন্ধান করে নিষ্পত্তি করেন।
- অন্য জেলায় হলে সেই জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই হয়। কিছু না পাওয়া গেলে আবেদনকারীর কাছ থেকে অন্য কোথাও নিবন্ধন হয়নি মর্মে লিখিত নিয়ে আবেদন মঞ্জুর হতে পারে।
পসিবল ডুপ্লিকেটের আবেদন মঞ্জুর হোক বা বাতিল, তার লগ স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। তাই লিখিত বক্তব্যে সত্য তথ্য দিন।
৫. একই নম্বরে দুজনকে দেখালে
অনলাইন নিবন্ধনের শুরুর দিকে ভুলবশত একই নম্বর একাধিক মানুষের নামে বসে গিয়ে থাকতে পারে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তখন সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিবন্ধন অফিসে ডেকে সম্মতির ভিত্তিতে নম্বরটি একজনকে দেওয়া হয়, অন্যজন পান নতুন নম্বর। সমঝোতা না হলে যার নিবন্ধন আগে হয়েছে নম্বরটি তার থাকে। অপর ব্যক্তির অস্তিত্ব না পাওয়া গেলে সেই নিবন্ধন বাতিল হয়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধন দুইটা হলে কি করব?
জন্ম নিবন্ধন বাতিল করতে কত দিন লাগে?
ভুল করে দুটি নিবন্ধন করেছি, শাস্তি হবে কি?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।