
সংক্ষেপে
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদনের শেষ ধাপে তথ্য মিলিয়ে দেখার পর মোবাইলে ওটিপি পাঠাতে হয়, ওটিপি বসিয়ে সাবমিট করলে আবেদন জমা হয়। দেশ থেকে আবেদনে ওটিপি যায় মোবাইলে, দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনে যায় ইমেইলে। আবেদন জমা হলে আবেদন নম্বর এসএমএসে আসে, সেই নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে আবেদনপত্র প্রিন্ট করা যায়।
মোবাইল নম্বর দিতে হয় নিবন্ধনাধীন ব্যক্তি বা তার বাবা-মা বা অভিভাবকের। একটি নম্বর পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজনের নিবন্ধনে ব্যবহার করা যায়। সমস্যার সমাধান না হলে কল সেন্টার ১৬১৫২।
এখান থেকে আবেদন, আবেদনপত্র প্রিন্ট আর আবেদনের অবস্থা দেখার অংশে যাওয়া যায়।
এই লেখায়
১. ওটিপি কোন ধাপে, কোথায় আসে
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়ার ছক অনুযায়ী তথ্য, ঠিকানা আর কাগজ দেওয়ার পর আবেদনের সব তথ্য আবার দেখাতে হয়। সেখানে ইমেইল আর ফোন নম্বরের ঘর পূরণ করে ওটিপি পাঠান চাপতে হয়। বাংলাদেশ থেকে আবেদনে মোবাইল নম্বর, আর দূতাবাসে আবেদনে ইমেইল ব্যবহার করতে হয়।
ওটিপি বসিয়ে সাবমিট করলে আবেদন জমা হয়েছে এমন বার্তা আর আবেদনপত্র নম্বর দেখায়। এই নম্বর মোবাইল ও ইমেইলেও পাঠানো হয়। নম্বরটি তখনই লিখে রাখুন, প্রিন্ট আর অবস্থা দেখতে এটি লাগে।
২. জন্ম নিবন্ধন ওটিপি আসে না: আগে যা দেখবেন
| সম্ভাব্য কারণ | কী করবেন |
|---|---|
| অন্য কারও নম্বর দিয়েছেন | নিবন্ধনাধীন ব্যক্তি, বাবা-মা বা অভিভাবকের নম্বর দিন |
| একই নম্বর অনেকের নিবন্ধনে ব্যবহার | একটি নম্বর সর্বোচ্চ পাঁচজনের জন্য, প্রয়োজনে পরিবারের অন্য নম্বর দিন |
| সিম বন্ধ বা নেটওয়ার্ক দুর্বল | নম্বরটি চালু আছে কি না দেখুন, ভালো নেটওয়ার্কে চেষ্টা করুন |
| বারবার ওটিপি চাওয়া | কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে তারপর আবার চান |
| দূতাবাসে আবেদন | ওটিপি ইমেইলে যায়, স্প্যাম ফোল্ডারও দেখুন |
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, পরিবারের কোনো মোবাইল না থাকলে নিবন্ধনাধীন ব্যক্তি বা বাবা-মায়ের সম্মতিতে কোনো নিকটজনের নম্বর দেওয়া যায়। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই নিবন্ধন কার্যালয়ের দাপ্তরিক নম্বর বা কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগত নম্বর দেওয়া যাবে না। একটি নম্বর পাঁচজনের বেশি নিবন্ধনে ব্যবহার করলে পরে সেসব নিবন্ধন খুঁজে পাওয়া যায় না।
BDRIS-এর লগইন নির্দেশনায় প্রতিবার Ctrl + Shift + R চেপে ব্রাউজারের পুরোনো ক্যাশ মুছে নেওয়ার কথা আছে। পাতা ঠিকমতো না চললে আপনিও তা করে দেখুন।
৩. জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করবেন যেভাবে
- ১প্রিন্টের অংশ খুলুনbdris.gov.bd-তে জন্ম নিবন্ধন অংশ থেকে জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট চাপুন।
- ২আবেদনের ধরন বেছে নিনআবেদনপত্রের ধরণ ঘরে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন বেছে নিন। অন্য ধরনের আবেদন হলে তালিকায় সেটি থাকলে বেছে নিন।
- ৩আবেদন নম্বর ও জন্মতারিখ দিনএসএমএসে আসা আবেদনপত্র নম্বর আর খ্রিষ্টাব্দে জন্মতারিখ দিন। পাতায় মোবাইল নম্বর বা ইমেইলের ঘর থাকলে আবেদনে দেওয়া তথ্যটিই লিখুন।
- ৪প্রিন্ট করুনপ্রিন্ট চাপলে আবেদনপত্র খোলে। কাগজে প্রিন্ট করুন বা পিডিএফ হিসেবে রেখে দিন।
- ৫কার্যালয়ে জমা দিনপ্রিন্ট করা আবেদন আর সংযুক্ত কাগজের ফটোকপি নিয়ে নিবন্ধক কার্যালয়ে যান। যাচাই শেষে তথ্য সঠিক থাকলে সনদ দেওয়া হয়।
প্রিন্ট না হলে আগে দেখুন জন্মতারিখ ঠিক ক্রমে দিয়েছেন কি না, আর আবেদনের ধরন ঠিক বেছেছেন কি না। ফোনের ব্রাউজারে না খুললে কম্পিউটার থেকে চেষ্টা করুন।
৪. birth certificate otp number change: মোবাইল নম্বর বদলাতে চাইলে
নিবন্ধিত সনদে মোবাইল নম্বর সংশোধন বা যোগ করা এখন BDRIS-এ করা যায়। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন কার্যালয় ইউনিয়ন পরিষদ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ইউজার আইডি থেকে, আর সিটি কর্পোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বা পৌরসভা হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপপরিচালক, স্থানীয় সরকারের ইউজার আইডি থেকে নম্বর বদলানো হয়। এজন্য নিবন্ধন কার্যালয়ে যেতে হয় না।
নম্বর বদলাতে সঙ্গে নিন
৫. আবেদন নম্বর হারালে বা সার্ভার সমস্যা হলে
- আবেদন নম্বরের এসএমএস মুছে গেলে ইমেইল দিয়ে থাকলে সেখানে খুঁজুন।
- নম্বর কোথাও না পেলে আবেদন জমার তারিখ, নাম আর মোবাইল নম্বর নিয়ে নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। নতুন করে আবার আবেদন করলে একই মানুষের দুটি আবেদন তৈরি হতে পারে।
- সাইট না খুললে বা বারবার আটকে গেলে কিছু সময় পরে চেষ্টা করুন। সমস্যা চলতে থাকলে কল সেন্টার ১৬১৫২-এ জানান।
কম্পিউটারের দোকানে আবেদন করালে অনেক সময় দোকানের নম্বর বসিয়ে দেওয়া হয়। এতে আবেদন নম্বর আর পরের সব বার্তা দোকানের ফোনে যায়, আর নিয়মেও তা অনুমোদিত নয়। নিজের বা বাবা-মায়ের নম্বর দিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধন ওটিপি আসে না কেন?
অন্য কারও নম্বর দিয়ে কি আবেদন করা যায়?
জন্ম নিবন্ধন সার্ভার সমস্যা হলে কোথায় জানাব?
সনদে মোবাইল নম্বর বদলাতে কি ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।