
সংক্ষেপে
বিদেশের কোনো অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা দূতাবাস বাংলাদেশের জন্ম সনদ চাইলে প্রায়ই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন চায়। বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে, আর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে এই সত্যায়ন হয় ই-অ্যাপোস্টিল হিসেবে, আবেদন করতে হয় মাইগভ প্ল্যাটফর্মে। জন্ম সনদ এই সেবার আওতায় আছে।
আবেদনের আগে সনদটা ঠিক করে নিন: রেকর্ড e-Verify-তে আসছে কি না, ইংরেজি অংশ আছে কি না, আর পাসপোর্টের সঙ্গে নামের বানান মিলছে কি না। হাতে পাওয়া ই-অ্যাপোস্টিলে একটি QR কোড থাকে, যা স্ক্যান করে যে কেউ যাচাই করতে পারে।
সেবার পরিচিতি, মাইগভে আবেদনের লিংক আর স্ট্যাটাস দেখার পথ।
এই লেখায়
১. অ্যাপোস্টিল কী, আর জন্ম সনদে কখন লাগে
অ্যাপোস্টিল হলো একটি সনদ, যা দিয়ে একটি দেশ নিশ্চিত করে যে কাগজটি তাদেরই সরকারি কাগজ। হেগ সম্মেলনের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর দপ্তর হিসেবে মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার), সেগুনবাগিচা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ই-অ্যাপোস্টিল পাতায় বলা আছে, জমা থেকে সত্যায়ন পর্যন্ত সব ধাপ অনলাইনে, আর কাজ শেষ হয় পাঁচ দিনের মধ্যে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বাসস জানিয়েছে, চালুর পর মন্ত্রণালয় ২৯ লাখের বেশি অ্যাপোস্টিল সনদ দিয়েছে। শিক্ষাসনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মেডিকেল সনদ, বিয়ে ও জন্ম সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ আর NID এই সেবার আওতায়।
মন্ত্রণালয়ের পাতায় এই ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখা আছে: পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল, তথ্য এনক্রিপ্ট করা, একাধিক স্তরে যাচাই আর ডিজিটাল স্বাক্ষর। অর্থাৎ কাগজের ওপর হাতে সিল-সই নয়, সত্যায়নটা নিজেই একটি ডিজিটাল সনদ।
- বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা পরিবারের ভিসার আবেদনে জন্ম সনদ জমা দিতে হলে।
- বিদেশে সন্তানের বা নিজের কোনো সরকারি নিবন্ধনে বাংলাদেশের জন্ম সনদ দেখাতে হলে।
- বিদেশের বাংলাদেশ মিশনে কোনো কাজে মিশন আগে থেকে সত্যায়িত কাগজ চাইলে। নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস যেমন বলেছে, বাংলাদেশে ইস্যু হওয়া জন্ম সনদ আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার শাখায় সত্যায়িত হতে হবে।
২. আবেদনের আগে সনদটা তৈরি করুন
ই-অ্যাপোস্টিল পাতায় লেখা আছে, যাচাই হয় সরাসরি সরকারি ডাটাবেজ থেকে। জন্ম সনদের ক্ষেত্রে সেই ডাটাবেজ হলো রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় সার্ভার। তাই আবেদনের আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন, না হলে আবেদন আটকে যেতে পারে।
যা মিলিয়ে নেবেন
সনদে ভুল থাকলে অ্যাপোস্টিল করালে ভুলটাই সত্যায়িত হয়ে যায়। নাম বা জন্মতারিখ ঠিক করতে হলে আগে নিবন্ধকের কাছে সংশোধন করিয়ে নতুন সনদ নিন, তারপর অ্যাপোস্টিলের আবেদন করুন।
৩. মাইগভে আবেদনের ধাপ
- ১মাইগভে নিবন্ধন করুনmygov.bd-তে নিজের অ্যাকাউন্ট খুলুন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যপাতার Apply Apostille লিংক আপনাকে মাইগভের সেবার তালিকায় নিয়ে যাবে।
- ২অ্যাপোস্টিলের আবেদন বেছে নিনসেবার তালিকা থেকে অ্যাপোস্টিলের আবেদন খুলুন, কাগজের ধরন হিসেবে জন্ম সনদ বেছে তথ্য দিন।
- ৩সনদ আপলোড করুনস্ক্যান কপি আপলোড করুন। নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাসের বর্ণনা অনুযায়ী নিবন্ধন করে কাগজ আপলোড করতে হয়, তারপর সিস্টেমেই ফি দিতে হয়।
- ৪ফি জমা দিনআবেদনের সময় সিস্টেম যে ফি দেখাবে, সেটাই অনলাইনে দিন। ফির অঙ্ক আমরা কোনো সরকারি পাতায় লেখা পাইনি, তাই অন্যের মুখে শোনা অঙ্কে ভরসা করবেন না।
- ৫স্ট্যাটাস দেখুন, সনদ নামানমাইগভের Application Status অংশে আবেদন কোন ধাপে আছে দেখা যায়। অনুমোদন হলে QR কোডসহ ই-অ্যাপোস্টিল সনদ পাবেন।
কোনো সমস্যা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ই-অ্যাপোস্টিল পাতায় দেওয়া ফোন নম্বর +৮৮০২-২২৩৩৮১৮৫২। এজেন্সি বা দোকানের মাধ্যমে না করে নিজেই আবেদন করা যায়, তথ্যপাতাতেই বলা আছে নাগরিকেরা মাইগভ থেকে সেবাটি নিতে পারেন।
৪. হাতে পেলে যাচাই, আর কোন দেশে চলে
ই-অ্যাপোস্টিলে ডিজিটাল স্বাক্ষর আর একটি অনন্য QR কোড থাকে। কোড স্ক্যান করলে দেখা যায় সনদটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছে কি না। ডিজিটাল স্বাক্ষর আলাদাভাবে যাচাই করার জন্য তথ্যপাতায় সরকারের সার্টিফায়িং কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর যাচাই সাইটের লিংক আছে।
| আপনি যেখানে জমা দেবেন | সাধারণত যা লাগে |
|---|---|
| অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের সদস্য দেশের অফিস | ই-অ্যাপোস্টিলই যথেষ্ট হওয়ার কথা |
| সদস্য নয় এমন দেশ | সেই দেশের দূতাবাসের সত্যায়ন লাগতে পারে, তাদের নিয়ম দেখুন |
| বিদেশের বাংলাদেশ মিশন | মিশনের পাতায় যা চাওয়া আছে। কোপেনহেগেনের দূতাবাস যেমন বলেছে, অ্যাপোস্টিল করা কাগজে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা হাতে সত্যায়ন লাগে না |
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাতাতেই স্বীকার করা হয়েছে, ফ্রান্স, জার্মানি আর নেদারল্যান্ডসের মতো কিছু দেশ এই ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি তুলেছে, বিশেষ করে বিয়ের সনদের ক্ষেত্রে। তাই যে দেশে কাগজ জমা দেবেন, সেখানকার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের ই-অ্যাপোস্টিল নেয় কি না, আবেদনের আগে তাদের কাছ থেকে জেনে নিন।
কোন দেশ কনভেনশনের সদস্য, তার হালনাগাদ তালিকা আছে হেগ সম্মেলনের (HCCH) ওয়েবসাইটে। একই পরিবারের আরও কাগজ লাগলে, যেমন বিয়ের সনদ, শিক্ষাসনদ বা NID, সেগুলোও একই ই-অ্যাপোস্টিল সেবার আওতায় আছে বলে বাসস জানিয়েছে। প্রতিটি কাগজের জন্য আলাদা আবেদন আর আলাদা QR কোড হবে কি না, আবেদনের সময় সিস্টেমে দেখে নিন।
৫. বিদেশে থাকলে
বিদেশে বসেও মাইগভে আবেদন করা যায়। তবে বিদেশের বাংলাদেশ মিশন নিজেদের সত্যায়ন সেবার জন্য আলাদা নিয়ম আর ফি রাখে। নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস যেমন নিজের সত্যায়নের জন্য প্রথম ৫ পৃষ্ঠায় ২০ ইউরো নেয়, প্রতিটি বাড়তি পৃষ্ঠায় ২ ইউরো, সময় লাগে ৩ কর্মদিবস।
নেদারল্যান্ডসের দূতাবাসের পাতায় জরুরি সেবাও আছে, প্রথম ৫ পৃষ্ঠায় ৩০ ইউরো, একই কর্মদিবসে বিকেল ৩টার পর সংগ্রহ। সেখানে ফি নেওয়া হয় শুধু ডেবিট কার্ড বা ব্যাংক ট্রান্সফারে। অন্য দেশের মিশনের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
যে মিশনে কাজ, তাদের ওয়েবসাইটের Attestation বা Apostille পাতা আগে পড়ে নিন। সেখানে কোন কাগজ আগে ঢাকা থেকে সত্যায়িত হতে হবে, তা লেখা থাকে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
অ্যাপোস্টিল করাতে কি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেতে হবে?
কত দিন লাগে?
পুরোনো হাতে লেখা জন্ম সনদ অ্যাপোস্টিল করা যাবে?
অ্যাপোস্টিল সনদ আসল কি না, বিদেশের অফিস কীভাবে বুঝবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।