
সংক্ষেপে
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায় স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায়, যা ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য। লাগে জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা প্রত্যয়নপত্র আর সর্বশেষ বেতনের রসিদ। ফরমে সই করেন বাবা, মা বা আইনগত অভিভাবক।
এই হিসাব থেকে এটিএম বা কার্ডে মাসে ২,০০০ টাকা তোলা যায়, অভিভাবক চাইলে সীমা ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ে। ১৮ পার হলে সাধারণ হিসাবে যেতে হয়, তখন NID লাগে।
ব্যাংক যে কপি নেবে, তার তথ্য অনলাইন রেকর্ডের সঙ্গে মিলে কি না আগে যাচাই করুন।
এই লেখায়
১. জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায়
যায়, তবে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাব নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা হিসাব। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে সব ব্যাংককে স্কুল ব্যাংকিং চালু করতে বলে। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তখন দেশে প্রায় ৬০টি ব্যাংকের বেশির ভাগই এই সেবা দিচ্ছিল, হিসাব ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৮৬ হাজার।
অনেকে খোঁজেন, জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ইসলামী ব্যাংক বা ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট খোলা যায় কি না। নিয়মটা ব্যাংকভেদে নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে প্রতিটি ব্যাংক নিজের নামে পণ্য চালায়, যেমন কোথাও 'স্টুডেন্ট সেভিংস', কোথাও অন্য নাম। শাখায় গিয়ে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব চাইলেই হবে।
- বয়স: ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে ৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর কথা আছে।
- হিসাব চলে বাবা, মা বা আইনগত অভিভাবকের মাধ্যমে, তাঁর সই লাগে।
- শিক্ষার্থী হতে হবে, তাই স্কুল, মাদ্রাসা বা কলেজের প্রমাণ চায় ব্যাংক।
একটা উদাহরণ দিই। সপ্তম শ্রেণির রিয়া ঈদের সালামি জমিয়ে রাখতে চায়। বাবা তার জন্ম সনদ, স্কুলের পরিচয়পত্র আর গত মাসের বেতনের রসিদ নিয়ে কাছের শাখায় গেলেন, ফরমে নিজে সই করলেন। হিসাব রিয়ার নামে, কিন্তু চেক বা কার্ডের নিয়ন্ত্রণ বাবার হাতে।
২. জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে
শাখায় যা নিয়ে যাবেন
প্রথম তিনটি কাগজের কথা দ্য ডেইলি স্টার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থেকে লিখেছে। অভিভাবকের পরিচয়পত্র আর ছবির সংখ্যা ব্যাংক নিজের নিয়মে চায়, তাই যাওয়ার আগে শাখায় ফোন করে জেনে নিন। এতে একবার গিয়েই কাজ শেষ হয়।
৩. শাখায় গিয়ে হিসাব খোলার ধাপ
- ১সনদের তথ্য আগে মিলিয়ে নিনঅনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে দেখুন নাম আর জন্মতারিখ ঠিক আছে কি না। স্কুলের খাতায় যে বানান, সনদেও সেটাই থাকা ভালো।
- ২অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে শাখায় যানযে অভিভাবক হিসাব চালাবেন, তাঁকে উপস্থিত থাকতে হবে। ফরমে তাঁর সই লাগে।
- ৩ফরম আর কেওয়াইসি পূরণ করুনহিসাব খোলার ফরম আর গ্রাহক পরিচিতির ফরমে শিক্ষার্থী আর অভিভাবক দুজনের তথ্য লেখা হয়। টাকার উৎসও জানতে চাইতে পারে।
- ৪প্রথম জমা দিয়ে রসিদ নিননির্ধারিত প্রথম জমা দিন। হিসাব নম্বর আর রসিদ যত্নে রাখুন। ডেবিট কার্ড চাইলে সেটাও এখানেই বলে দিন।
ব্যাংক সনদের কপি রেখে দেয়। পরে নাম সংশোধন হলে ব্যাংকেও হালনাগাদ করতে হবে। BDRIS-এর নোটিশ অনুযায়ী এর কাজ ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ, তাই সংশোধন বা নতুন কপির আবেদন এরপর করুন।
৪. টাকা তোলার সীমা আর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ
| বিষয় | নিয়ম |
|---|---|
| এটিএম বা কার্ডে মাসে টাকা তোলা | ২,০০০ টাকা পর্যন্ত |
| অভিভাবক আবেদন করলে | ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো যায় |
| হিসাবে সই ও নিয়ন্ত্রণ | বাবা, মা বা আইনগত অভিভাবক |
| স্কুলের বেতন | প্রতিষ্ঠান রাজি থাকলে এই হিসাব থেকেই নেওয়া যায় |
সীমাগুলো রাখা হয়েছে যাতে হিসাবের টাকা অন্য কাজে না যায়। খরচও কম রাখার কথা। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে ডাচ-বাংলা ব্যাংক জানিয়েছিল, তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেয় না। অন্য ব্যাংকের চার্জ শাখা থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন।
২০২০ সালের মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর স্কুল ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম স্থগিত হয়েছিল বলে ডেইলি স্টার ২০২১ সালে লিখেছিল। এখন আপনার ব্যাংক এই হিসাব খুলছে কি না, শাখায় নিশ্চিত হয়ে নিন।
৫. ব্যাংক হিসাব না মোবাইল ব্যাংকিং: কোনটা কখন কাজে লাগে
জন্ম সনদ দিয়ে এখন দুই ধরনের হিসাব খোলা যায়। কোনটা আপনার সন্তানের দরকার, তা নির্ভর করে বয়স আর ব্যবহারের ওপর।
| বিষয় | স্কুল ব্যাংকিং হিসাব | মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব |
|---|---|---|
| বয়স | শিক্ষার্থী, ১৮ বছরের কম | ১৪ থেকে ১৮ বছর |
| কোথায় খোলে | ব্যাংকের শাখায় | অ্যাপে, যেমন বিকাশের স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট |
| অভিভাবকের ভূমিকা | ফরমে সই করেন, হিসাব চালান | নিজের মোবাইল হিসাব যুক্ত থাকে, সম্মতি দেন |
| টাকা তোলা | মাসে ২,০০০ টাকা, বাড়িয়ে ৫,০০০ | ক্যাশ আউট মাসে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত |
| কাজে লাগে | সঞ্চয় আর স্কুলের বেতন দেওয়া | ফি দেওয়া, রিচার্জ, ছোট কেনাকাটা |
সঞ্চয়ের অভ্যাস করাতে চাইলে স্কুল ব্যাংকিং ভালো, প্রতিদিনের ছোট খরচের জন্য মোবাইল হিসাব সুবিধার। অনেক পরিবার দুটোই রাখে।
৬. ১৮ বছর হলে হিসাবের কী হবে
স্কুল ব্যাংকিং শিক্ষার্থী আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। প্রাপ্তবয়স্ক হলে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তর বা নতুন হিসাব খুলতে হয়, তখন নিজের পরিচয়পত্র লাগে। নির্বাচন কমিশনের সচিব ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, ব্যাংক হিসাব খোলার মতো কাজে NID লাগে বলেই ১৬ বছর থেকে NID নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হলো।
তাই ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে NID-র কাজ শুরু করে রাখুন। হিসাব রূপান্তরের সময় জন্ম সনদ আর NID-তে নাম ও জন্মতারিখ এক থাকলে ব্যাংকে কোনো প্রশ্ন ওঠে না।
আরেকটা কাজ মনে রাখবেন। হিসাব খোলার সময় যে মোবাইল নম্বর দেন, ব্যাংকের এসএমএস সেখানে যায়। নম্বর বদলালে শাখায় গিয়ে হালনাগাদ করুন, নইলে লেনদেনের খবর পাবেন না।
৭. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায়?
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ইসলামী ব্যাংক বা ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট খোলা যায়?
শিক্ষার্থী নই, বয়স ১৮-র কম। জন্ম সনদ দিয়ে হিসাব হবে?
এই হিসাব থেকে কত টাকা তোলা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।