
সংক্ষেপে
জন্ম নিবন্ধন সনদের কাগজ হারালে নিবন্ধন হারায় না। অনলাইনে থাকা রেকর্ড থেকে সনদ আবার ছাপানো যায়, একে বলে পুনর্মুদ্রণ। bdris.gov.bd-তে জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন অংশ থেকে আবেদন করা যায়। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ফি তালিকা অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় সনদের নকল নিতে ৫০ টাকা লাগে।
পুনর্মুদ্রণ করতে হয় যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখান থেকে। নম্বর মনে না থাকলে পুরোনো কাগজে খুঁজুন, না পেলে নিবন্ধনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর আর পরিবারের তথ্য নিয়ে সেই কার্যালয়ে যান।
জন্ম নিবন্ধন অংশ থেকে সনদ পুনঃ মুদ্রনের আবেদন করা যায়।
এই লেখায়
১. সনদ হারালেও নিবন্ধন হারায় না
জন্ম নিবন্ধন হয়ে গেলে তথ্যটি নিবন্ধন কার্যালয়ের বহিতে আর অনলাইন সার্ভারে থাকে। কাগজের সনদ হারালে আবার নিবন্ধন করবেন না, তাতে একই মানুষের দুটি নিবন্ধন তৈরি হয়, যা পরে বাতিল করাতে হয়। আগে দেখুন আপনার রেকর্ডটি অনলাইনে আছে কি না।
যাচাইয়ের জন্য everify.bdris.gov.bd পাতায় ১৭ অঙ্কের নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ দিতে হয়। এই পাতায় নাম দিয়ে খোঁজার কোনো ঘর নেই। তাই নম্বরটি খুঁজে পাওয়াই প্রথম কাজ।
১০ বা ১৬ অঙ্কের পুরোনো নম্বর থাকলে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধকের কার্যালয়ে পুরোনো সনদ জমা দিয়ে ১৭ অঙ্কের নম্বরসহ সনদ নিতে হয়। এ সময়ও নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। পুরোনো সনদটিই হারিয়ে থাকলে সনদের ফটোকপি বা নম্বরটি যেখানে লেখা আছে সেই কাগজ নিয়ে কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
২. জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ভুলে গেলে করণীয়
- পুরোনো কাগজ দেখুন: স্কুলে ভর্তির ফরম, এসএসসি রেজিস্ট্রেশনের কাগজ, পাসপোর্ট বা NID আবেদনের কপি, টিকার কার্ড, আগে তোলা সনদের ফটোকপি বা ছবি।
- সন্তানের জন্ম নিবন্ধনে বাবা-মায়ের নিবন্ধন নম্বর দিতে হয়। আপনার সন্তানের নিবন্ধন হয়ে থাকলে তার আবেদন বা সনদের তথ্যে আপনার নম্বরটি থাকতে পারে।
- নিবন্ধনের সময় কোন মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছিল মনে করার চেষ্টা করুন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, একটি মোবাইল নম্বর পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজনের নিবন্ধনে ব্যবহার করা যায়, আর তার বেশি হলে পরে সেসব নিবন্ধন খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ নম্বরটি রেকর্ড খোঁজায় কাজে লাগে।
- কিছুই না পেলে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল, সেখানে নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম আর ঠিকানা নিয়ে যান।
যে হাতে লেখা নিবন্ধন কখনো অনলাইনে তোলা হয়নি, সেটি এখন একই নম্বরে অনলাইনে তোলার সুযোগ নেই। কার্যালয়ের বহিতে তথ্য পাওয়া গেলে নিবন্ধক সেই তথ্য দিয়ে অনলাইন নিবন্ধন করে দেন, তবে নম্বর বদলে নতুন ১৭ অঙ্কের নম্বর হয়।
৩. অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন পুনর্মুদ্রণের আবেদন
- ১bdris খুলুনব্রাউজারে bdris.gov.bd লিখে খুলুন। ওপরের মেনুতে জন্ম নিবন্ধন অংশে যান।
- ২পুনঃ মুদ্রন বেছে নিনতালিকা থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন চাপুন।
- ৩চাওয়া তথ্য দিননিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখসহ ফরমে যা চায় তা দিন। অনলাইন রেকর্ডের সঙ্গে না মিললে আবেদন এগোবে না, তাই যাচাইয়ের পাতায় আগে মিলিয়ে নিন।
- ৪আবেদন জমা দিয়ে প্রিন্ট নিনজমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর লিখে রাখুন, আবেদনের কপি প্রিন্ট করুন বা পিডিএফ হিসেবে রেখে দিন।
- ৫কার্যালয় থেকে সনদ নিনআবেদনের কপি আর পরিচয়পত্র নিয়ে নিবন্ধক কার্যালয়ে যান, ফি দিয়ে নতুন ছাপানো সনদ নিন।
৪. জন্ম নিবন্ধন পুনর্মুদ্রণ ফি কত, কোথা থেকে নেবেন
| সেবা | সরকারি ফি |
|---|---|
| বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় সনদের নকল | ৫০ টাকা |
| নিবন্ধনের পর বা সংশোধনের পর দুই ভাষায় মূল সনদ | বিনা ফিতে |
| জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন | ১০০ টাকা |
| অন্য তথ্য সংশোধনের আবেদন | ৫০ টাকা |
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী সংশোধন বা পুনর্মুদ্রণ করতে হয় যে নিবন্ধন অফিসে নিবন্ধন হয়েছিল সেখান থেকেই, আইনত অন্য অফিস থেকে করার সুযোগ নেই। তবে অন্য জেলায় থাকলেও নিজে অনলাইনে মূল কার্যালয়ের নামে আবেদন করতে পারেন, বা স্থানীয় নিবন্ধন অফিসের সাহায্য নিতে পারেন। ভবিষ্যতে যেকোনো অফিস থেকে প্রতিলিপি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও কার্যালয় জানিয়েছে।
৫. কার্যালয়ে যাওয়ার আগে যা গুছিয়ে নেবেন
সঙ্গে নিন
নাম দিয়ে জন্ম নিবন্ধন বের করে দেওয়ার কথা বলা সাইট বা অ্যাপ সরকারি নয়। সরকারি যাচাই হয় শুধু everify.bdris.gov.bd-তে, আর সনদ দেয় নিবন্ধক কার্যালয়। কোনো সমস্যায় কল সেন্টার ১৬১৫২।
৬. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধন হারিয়ে গেলে কিভাবে বের করব?
জন্ম নিবন্ধন পুনর্মুদ্রণ ফি কত?
অন্য জেলায় থাকি, কোথা থেকে সনদ তুলব?
নম্বর ভুলে গেলে কি নাম দিয়ে অনলাইনে খোঁজা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।