
সংক্ষেপে
জন্ম নিবন্ধনে জন্মস্থান সংশোধনের আবেদন করতে হয় BDRIS-এর জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন অংশ থেকে, আর রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধন হয় যে নিবন্ধন অফিসে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেখান থেকেই। জন্মতারিখ ছাড়া অন্য তথ্য সংশোধনের সরকারি ফি ৫০ টাকা।
জন্মস্থান আর স্থায়ী ঠিকানা এক জিনিস নয়। একটা হলো আপনি কোথায় জন্মেছেন, আরেকটা আপনার বাড়ির ঠিকানা। পাসপোর্টে জন্মস্থান ছাপা হয় বলে এই ভুল সাধারণত পাসপোর্টের আগে চোখে পড়ে।
জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের সরকারি অনলাইন আবেদন এখান থেকেই করতে হয়।
এই লেখায়
১. জন্মস্থান আর ঠিকানা: আগে বুঝে নিন কোনটা ভুল
পাসপোর্টের ফরম পূরণ করতে বসে অনেকে দেখেন, জন্ম নিবন্ধনে জন্মস্থান লেখা মামার বাড়ির জেলা, অথচ NID-তে নিজের জেলা। কারও আবার জন্ম ঢাকার হাসপাতালে, কিন্তু সনদে গ্রামের ঠিকানাই জন্মস্থান হিসেবে বসানো।
BDRIS-এর জন্ম নিবন্ধন ফরমে জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা আর বর্তমান ঠিকানা আলাদা ঘর। আবার নিবন্ধন কোন কার্যালয়ে হবে, সেটা আবেদনের শুরুতে বেছে নিতে হয়, জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী। তাই জন্মস্থানের ঘরে ভুল থাকা আর ভুল কার্যালয়ে নিবন্ধন হওয়া দুটো আলাদা সমস্যা।
আবেদনের আগে দেখে নিন কোন ঘরটা ভুল। সনদ হাতে নিয়ে জন্মস্থানের ঘর আর ঠিকানার ঘর আলাদা করে পড়ুন। ঠিকানা ঠিক থাকলে শুধু জন্মস্থানের সংশোধনই যথেষ্ট।
| সমস্যা | যা করতে হবে |
|---|---|
| জন্মস্থানের জেলা, উপজেলা বা দেশ ভুল লেখা | জন্মস্থান সংশোধনের আবেদন, এই লেখার বিষয় |
| স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা ভুল | ঠিকানা সংশোধনের আবেদন, কাগজ আলাদা |
| নিবন্ধন হয়েছে এক কার্যালয়ে, আপনি চান অন্য কার্যালয়ে | সংশোধনে কার্যালয় বদলায় না, নিচে দেখুন |
২. জন্ম নিবন্ধনে জন্মস্থান সংশোধন কোথায় করবেন
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, যে নিবন্ধন অফিসে জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়, কোনো সংশোধন বা সনদ পুনর্মুদ্রণ লাগলে সেই অফিস থেকেই করতে হবে, আইনত অন্য অফিস থেকে করার সুযোগ নেই। তবে নাগরিক নিজে অনলাইনে মূল নিবন্ধন অফিস বরাবর কাগজসহ আবেদন করতে পারেন।
অর্থাৎ আপনি এখন চট্টগ্রামে থাকলেও নিবন্ধন যদি হয়ে থাকে গাইবান্ধার কোনো ইউনিয়ন পরিষদে, আবেদন যাবে সেই ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধকের কাছেই। জন্মস্থানের ঘর বদলালেও নিবন্ধনের কার্যালয় বদলায় না।
আগে কোথাও নিবন্ধন না হয়ে থাকলে নতুন নিবন্ধন জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা, যেকোনোটির কার্যালয়ে করা যায়। কিন্তু একবার নিবন্ধন হয়ে গেলে আরেক জায়গায় নতুন নিবন্ধন করা মানে দুটি সনদ, আর সেটা পরে বাতিল করাতে হয়।
৩. জন্মস্থান পরিবর্তনের আবেদন: ধাপ
- ১জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন অংশে যানBDRIS-এ জন্ম নিবন্ধন মেনু থেকে তথ্য সংশোধনের আবেদন খুলুন। ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ দিলে আপনার রেকর্ড আসবে।
- ২জন্মস্থানের ঘর বেছে নিনযে তথ্য বদলাবেন, শুধু সেটাই বেছে নিন। জন্মস্থানের দেশ, বিভাগ, জেলা আর উপজেলা ঠিকভাবে বসান।
- ৩প্রমাণ আপলোড করুনযে কাগজে আপনার জন্মস্থান লেখা আছে, তার স্পষ্ট ছবি দিন। কোন কাগজ গ্রহণযোগ্য, নিচের তালিকা দেখুন।
- ৪আবেদনকারীর তথ্য আর OTPরেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, নিজের বা বাবা-মা-অভিভাবকের মোবাইল নম্বরই দিতে হবে। পরিবারে ফোন না থাকলে তাঁদের সম্মতিতে নিকটজনের নম্বর দেওয়া যায়।
- ৫প্রিন্ট আর ফিজমার পর আবেদনের প্রিন্ট নিন। নিবন্ধক কার্যালয়ে মূল কাগজ দেখিয়ে ৫০ টাকা ফি দিন, রসিদ নিন।
জন্মস্থানের প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে
জন্মস্থান সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট কাগজের তালিকা বিধিমালা বা রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রশ্নোত্তরে আমরা পাইনি। ওপরের কাগজগুলো নতুন জন্ম নিবন্ধনে জন্মের প্রমাণ হিসেবে চলে বলে এখানেও কাজে আসার কথা। শেষ কথা নিবন্ধকের।
৪. ফি কত, কত দিনে হয়
| সংশোধনের ধরন | সরকারি ফি (দেশে) | বিদেশে দূতাবাসে |
|---|---|---|
| জন্মতারিখ সংশোধন | ১০০ টাকা | ২ মার্কিন ডলার |
| জন্মতারিখ ছাড়া অন্য তথ্য, যেমন জন্মস্থান, নাম, ঠিকানা | ৫০ টাকা | ১ মার্কিন ডলার |
| সংশোধনের পর বাংলা ও ইংরেজি সনদের কপি | ফি নেই | ফি নেই |
দিনাজপুরের নুসরাত জাহানের সনদে জন্মস্থান লেখা দিনাজপুর, অথচ তাঁর জন্ম রংপুরের এক ক্লিনিকে, ছাড়পত্রও আছে। জন্মতারিখ ঠিক আছে, তাই তাঁর ফি ৫০ টাকা। সংশোধনের পর নতুন সনদ পেতে আলাদা টাকা লাগবে না।
সংশোধন কত দিনে হবে, তার নির্দিষ্ট সময় বিধিমালায় আমরা পাইনি। আবেদনের অবস্থা BDRIS-এর আবেদন অবস্থা অংশে দেখা যায়। নিবন্ধকের সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের ২০ ধারায় আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ আছে।
৫. জন্মস্থান সংশোধনে যে ভুলগুলো আবেদন আটকে দেয়
অনলাইনে জমা দেওয়ার পর নিজে আর কিছু বদলানো যায় না, তাই প্রথমবারেই কয়েকটা জিনিস দেখে নিন। আবেদন বাতিল হলে নতুন আবেদনে আবার ফি দিতে হতে পারে।
- একসঙ্গে ঠিকানাও বদলাতে চাইলে দুটো ঘরই এক আবেদনে ধরুন, আলাদা আলাদা আবেদন করবেন না।
- প্রমাণের কাগজে যে জেলার নাম, আবেদনে সেটাই লিখুন। মুখে বলা জায়গার নাম নয়।
- বিবাহিত নারী হলে মনে রাখুন, রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী আগে নিবন্ধন না থাকলে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় বা নিজের জন্মস্থানের ঠিকানায় নিবন্ধন করা যায়, কিন্তু সনদে স্বামীর নাম লেখার সুযোগ নেই।
- আবেদনের প্রিন্ট কপিতে আবেদন নম্বরটি লিখে রাখুন, স্ট্যাটাস দেখতে এটা লাগে।
৬. NID আর পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে নিন
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পাসপোর্টের আবেদন পূরণ করতে হয় NID বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী। তাই জন্ম নিবন্ধন আর NID-তে জন্মস্থান দুই রকম থাকলে পাসপোর্টের সময় কোনটা লিখবেন, তা নিয়ে আটকে যেতে পারেন।
- আগে ঠিক করুন সঠিক জন্মস্থান কোনটা, আর তার প্রমাণ আছে কোন কাগজে।
- জন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকলে এই লেখার ধাপে সংশোধন করুন।
- NID-তে ভুল থাকলে সেটা আলাদা প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে বা নির্বাচন অফিসে।
- দুই কাগজ মিলে গেলে তারপর পাসপোর্টের আবেদন করুন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধনে জন্মস্থান সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
জন্ম নিবন্ধন জন্মস্থান পরিবর্তন কোথা থেকে করব?
jonmo nibondhon jonmosthan vul hole ki passport hobe?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।