
সংক্ষেপে
জন্ম নিবন্ধন মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন বা নতুন নম্বর যোগ করা এখন BDRIS-এ করা যায়, তবে কাজটা করেন সরকারি কর্মকর্তা। নিবন্ধন ইউনিয়ন পরিষদে হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়, আর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার (ডিডিএলজি) নম্বর বদলে দেন।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, এ জন্য মূল নিবন্ধন অফিসে যেতে হয় না। নিজের জন্ম সনদ, NID থাকলে সেটি, অথবা বাবা-মায়ের জন্ম সনদ বা NID নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা অফিসে গেলেই চলে।
আবেদন, সংশোধন আর সনদ যাচাইয়ের কাজ BDRIS থেকে হয়।
এই লেখায়
১. মোবাইল নম্বর কেন এত দরকারি
জন্ম নিবন্ধনের আবেদন, সংশোধন বা সনদ আবার ছাপানোর প্রতিটি ধাপে BDRIS মোবাইলে কোড পাঠায়। পুরোনো নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে, বা আবেদনের সময় দোকানদারের নম্বর দিয়ে থাকলে, পরে সংশোধনের আবেদনে গিয়ে আটকে যান। তাই আগে নম্বরটা নিজের নামে ঠিক করে নেওয়া ভালো।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তরে স্পষ্ট বলা আছে, নিবন্ধনের সব ধাপে নিবন্ধিত ব্যক্তি বা তাঁর বাবা, মা বা অভিভাবকের মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ১৭ ডিজিটে রূপান্তরের মতো কাজেও নিজের নম্বর লাগে।
কোনো অবস্থাতেই নিবন্ধন কার্যালয়ের দাপ্তরিক নম্বর বা কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করা যাবে না। কম্পিউটারের দোকানের নম্বরও দেবেন না, পরে কোড আপনার কাছে আসবে না।
২. জন্ম নিবন্ধন মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন: কোন অফিসে যাবেন
কোথায় যাবেন, তা ঠিক হয় আপনার নিবন্ধন কোন অফিসে হয়েছিল তার ওপর। সনদের ওপরের দিকে নিবন্ধক কার্যালয়ের নাম লেখা থাকে, সেটা দেখে নিন।
| সনদে নিবন্ধক কার্যালয় | কে নম্বর বদলাবেন | কোথায় যাবেন |
|---|---|---|
| ইউনিয়ন পরিষদ | উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) | সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদ বা ইউএনও কার্যালয় |
| সিটি করপোরেশন | উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার | জেলা প্রশাসকের কার্যালয় |
| পৌরসভা | উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার | জেলা প্রশাসকের কার্যালয় |
| ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড | উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার | জেলা প্রশাসকের কার্যালয় |
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এই কর্মকর্তারা নিজেদের ইউজার আইডি থেকে জন্ম ও মৃত্যু সনদে মোবাইল নম্বর সংশোধন বা সংযোজন করতে পারেন। আবেদনকারীকে নিবন্ধন কার্যালয়ে যেতে হয় না, সরাসরি জেলা বা উপজেলা থেকেই কাজ হয়।
ঢাকার উদাহরণ ধরা যাক। আপনার সনদ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে হলে নম্বর বদলাতে যাবেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখায়। আর গ্রামের বাড়ির ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ নিয়ে থাকলে সেই উপজেলার ইউএনও কার্যালয়ে। এখন যেখানে থাকেন, সেটা বিবেচ্য নয়। বিবেচ্য হলো সনদ কোন কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল।
বাবা-মা বা যিনি নিবন্ধন করিয়েছিলেন, তাঁর কাছে জেনে নিন কোন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে সনদ নেওয়া হয়েছিল। পুরোনো ফটোকপি থাকলে তাতেও কার্যালয়ের নাম পাবেন। নম্বরই মনে না থাকলে আগে হারানো সনদ খোঁজার পথে যেতে হবে, সেটা আমাদের আলাদা লেখায় আছে।
৩. মোবাইল নম্বর বদলাতে কী কী লাগে
সঙ্গে নিয়ে যান
- ১সনদে নিবন্ধক কার্যালয় দেখুনইউনিয়ন পরিষদ হলে উপজেলা, আর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।
- ২কাগজ নিয়ে অফিসে যানসংশ্লিষ্ট শাখায় জানান, জন্ম সনদে মোবাইল নম্বর সংশোধন বা সংযোজন করতে চান। কোন আবেদনপত্র বা লিখিত দরখাস্ত লাগবে, অফিস বলে দেবে।
- ৩নতুন নম্বর মিলিয়ে নিননম্বর বসানোর পর অফিসকে আবার পড়ে শোনাতে বলুন। একটি অঙ্ক ভুল হলে আগের ঝামেলাই ফিরে আসবে।
- ৪পরে কোড এসে কি না দেখুনপরের বার সংশোধন বা পুনঃমুদ্রণের আবেদনে নতুন নম্বরে কোড আসছে কি না পরীক্ষা করুন।
এই কাজের জন্য আলাদা সরকারি ফির কথা রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রশ্নোত্তরে নেই। অফিস কোনো টাকা চাইলে সরকারি রসিদ চেয়ে নিন।
৪. এক মোবাইল নম্বরে কতজনের জন্ম নিবন্ধন রাখা যায়
সফটওয়্যারে একটি মোবাইল নম্বর পরিবারের সর্বোচ্চ ৫ জনের নিবন্ধনে ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সতর্ক করেছে, একটি নম্বর পাঁচটির বেশি নিবন্ধনে ব্যবহার করলে পরে সেসব নিবন্ধনের সন্ধান পাওয়া যাবে না।
- বাবা বা মায়ের এক নম্বরে নিজেদের আর সন্তানদের মিলিয়ে পাঁচজন পর্যন্ত রাখুন।
- পরিবার বড় হলে দ্বিতীয় একটি নম্বর ব্যবহার করুন।
- পরিবারে কারও ফোন না থাকলে নিবন্ধিত ব্যক্তি বা অভিভাবকের সম্মতিতে কোনো নিকটজনের নম্বর দেওয়া যায়।
- ইমেইল থাকলে সেটিও দিন, প্রশ্নোত্তরে বলা আছে এতে সুবিধা বাড়ে।
একটা উদাহরণ। হাবিবুর রহমান নিজের নম্বরে স্ত্রী আর চার সন্তানের নিবন্ধন করাতে চাইছিলেন। মোট ছয়জন হয়ে যায়। তিনি পাঁচজনকে নিজের নম্বরে রেখে বড় মেয়ের নিবন্ধনে স্ত্রীর নম্বর দিলেন। এতে পরে কারও রেকর্ড খুঁজে না পাওয়ার ঝুঁকি থাকল না।
৫. BDRIS বন্ধ থাকলে বা কাজ না হলে
নম্বর বদলানোর কাজটা BDRIS-এর ভেতরেই হয়, তাই সিস্টেম বন্ধ থাকলে অফিসও কিছু করতে পারে না। যেমন ১৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৬টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সব কাজ বন্ধ রাখার নোটিশ দিয়েছিল BDRIS। যাওয়ার আগে সাইট খুলছে কি না দেখে নিন।
- সাইটে রক্ষণাবেক্ষণের নোটিশ থাকলে সিস্টেম চালু হওয়ার পর অফিসে যান।
- অফিস 'সার্ভারে কাজ হচ্ছে না' বললে কবে আসবেন, তারিখটা জেনে নিন।
- নম্বর বদলানোর পর অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে আলাদা সংশোধনের আবেদন করতে হবে। সেটা মোবাইল নম্বর বদলের সঙ্গে আপনাআপনি হয় না।
৬. অনেকে যা জানতে চান
jonmo nibondhon mobile number change কি অনলাইনে নিজে করা যায়?
জন্ম নিবন্ধন মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করতে কি ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে?
অন্যের মোবাইল নম্বর দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করা যাবে?
birth certificate mobile number change করতে কত টাকা লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।