
সংক্ষেপে
জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাতিল করার জন্য আবেদনকারীর হাতে কোনো অনলাইন বোতাম বা আলাদা ফরম নেই। আইন, বিধিমালা আর রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তরে যা আছে তা হলো, অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদন যাচাই করে মঞ্জুর বা বাতিল করেন নিবন্ধক। তাই ভুল আবেদন বাতিল করাতে হলে যে কার্যালয় বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে আবেদনপত্র নম্বর নিয়ে গিয়ে লিখিতভাবে জানাতে হয়।
সংশোধনের আবেদনেও একই কথা। আর সনদ একবার হয়ে গেলে সেটা আর আবেদন বাতিলের বিষয় থাকে না, তখন সংশোধন বা সনদ বাতিলের আলাদা নিয়ম চলে।
আবেদন মঞ্জুর বা বাতিল, পসিবল ডুপ্লিকেট আর মোবাইল নম্বরের নিয়ম নিয়ে সরকারি উত্তর এখানে।
এই লেখায়
১. জন্ম নিবন্ধন আবেদন কি বাতিল করা যায়
অনলাইনে ফরম জমা দেওয়ার পরই বেশির ভাগ মানুষ ভুলটা দেখেন। কারও বাবার নামের বানান ভুল, কেউ ভুল ইউনিয়ন বেছে ফেলেছেন, কেউ একই সন্তানের জন্য দুবার আবেদন করে ফেলেছেন। তখন প্রশ্ন আসে, আবেদনটা বাতিল করব কীভাবে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর ৯ বিধি অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন করার পর তার মুদ্রিত কপি নিবন্ধকের কাছে জমা দিতে হয়। নিবন্ধক আবেদন পেয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ লিখে দেন। আবেদন ঠিক থাকলে আর আগে কোথাও নিবন্ধন না হয়ে থাকলে সর্বোচ্চ ৫ কার্যদিবসে নিবন্ধন করে সনদ দেন। পুরো সিদ্ধান্তটা নিবন্ধকের হাতে।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, আবেদনপত্র বাতিল বা মঞ্জুর যা-ই করা হোক, তার লগ স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। অর্থাৎ ভুল আবেদন সিস্টেম থেকে মুছে যায় না, কার্যালয় সেটি বাতিল করলে রেকর্ডে বাতিল হিসেবেই থাকে। আবেদনকারী নিজে বাতিল করার কোনো বোতাম বা ফরমের কথা আইন, বিধিমালা বা ওই প্রশ্নোত্তরে আমরা পাইনি।
২. কোন অবস্থায় কী করবেন
| আপনার অবস্থা | করণীয় |
|---|---|
| অনলাইনে জমা দিয়েছেন, কার্যালয়ে প্রিন্ট কপি দেননি | ভুল কপি জমা দেবেন না। যে কার্যালয় বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে আবেদনপত্র নম্বর দিয়ে জানান যে আবেদনটি বাতিল চান, আর কীভাবে নতুন করে করবেন জেনে নিন। |
| কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন, সনদ এখনো হয়নি | দ্রুত একই কার্যালয়ে লিখিত আবেদন দিন। ভুলটা ছোট হলে নিবন্ধক যাচাইয়ের সময় কাগজ দেখে কী করা যায় বলবেন। |
| সনদ হয়ে গেছে, কিন্তু তথ্যে ভুল | এটা আর আবেদন বাতিল নয়। আইনের ১৫ ধারা আর বিধিমালার ১৫ বিধি অনুযায়ী সংশোধনের আবেদন করতে হবে। |
| একই মানুষের দুটি সনদ হয়ে গেছে | যেটি লাগবে না, সেটি বাতিলের আবেদন করতে হবে, বিধিমালার ফরম ৮ অনুযায়ী। |
| সংশোধনের আবেদনে ভুল তথ্য বা ভুল কাগজ দিয়েছেন | যে কার্যালয় বা কর্মকর্তার কাছে আবেদন গেছে, সেখানে লিখিতভাবে জানান। সিদ্ধান্ত তাঁদের। |
অনেকে খোঁজেন জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন ফরম। বিধিমালার ফরম ৮ দিয়ে সনদ সংশোধন বা সনদ বাতিলের আবেদন করা হয়, অনিষ্পন্ন আবেদন প্রত্যাহারের জন্য নয়।
৩. নিবন্ধক কার্যালয়ে আবেদন বাতিল করাবেন যেভাবে
- ১আবেদনপত্র নম্বর খুঁজে বের করুনজমার পর পর্দায় যে আবেদনপত্র নম্বর দেখিয়েছিল, সেটাই আসল চাবি। মনে না থাকলে BDRIS-এর আবেদন পত্র প্রিন্ট অংশে আবেদনের তথ্য দিয়ে আবার বের করার চেষ্টা করুন, না পারলে মোবাইলে আসা বার্তা দেখুন।
- ২ঠিক কার্যালয়ে যানআবেদনে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের অঞ্চল বা ওয়ার্ড কার্যালয় বেছে নিয়েছিলেন, সেখানেই যান। আবেদনটি ওই কার্যালয়ের নিবন্ধকের কাছেই জমা আছে, অন্য অফিসে গেলে সাধারণত ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
- ৩লিখিত আবেদন দিনসাদা কাগজে নিবন্ধক বরাবর লিখুন: আবেদনপত্র নম্বর, যাঁর নিবন্ধন তাঁর নাম ও জন্ম তারিখ, কী ভুল হয়েছে আর আপনি আবেদনটি বাতিল চান। আবেদনকারী সই করবেন।
- ৪রিসিভ কপি রাখুনজমার প্রমাণ হিসেবে একটি কপিতে কার্যালয়ের সই বা সিল নিয়ে নিন। পরে নতুন আবেদনে কোনো প্রশ্ন উঠলে এটা কাজে লাগবে।
- ৫বাতিল হলো কি না জেনে তবেই নতুন আবেদনকার্যালয়কে জিজ্ঞেস করুন আগের আবেদনটি বাতিল হয়েছে কি না, আর নতুন আবেদন অনলাইনে করবেন নাকি তাঁরা নিজেরাই করে দেবেন।
কার্যালয়ে যা নিয়ে যাবেন
৪. আবার নতুন আবেদন করার আগে যা দেখবেন
অনেকে ভুল আবেদনের কথা কাউকে না জানিয়েই আরেকটি আবেদন করে ফেলেন। এতে ঝামেলা কমে না, বাড়ে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, আবেদনের নাম, বাবার নাম আর মায়ের নাম ডেটাবেসের অন্য কোনো রেকর্ডের সঙ্গে হুবহু মিলে গেলে সফটওয়্যার নিজে থেকেই পসিবল ডুপ্লিকেট দেখায়। তখন খোঁজখবর শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন আটকে থাকে।
- একটি মোবাইল নম্বর পরিবারের সর্বোচ্চ ৫ জনের নিবন্ধনে ব্যবহার করা যায়। বারবার আবেদনে একই নম্বর দিলে সীমা দ্রুত ফুরাতে পারে।
- নম্বর হতে হবে নিজের, বাবা-মায়ের বা অভিভাবকের। দোকান বা নিবন্ধন কার্যালয়ের কারও নম্বর দেওয়া নিষেধ।
- নতুন আবেদনে প্রতিটি বানান আর তারিখ আগে কাগজের সঙ্গে মিলিয়ে নিন, কারণ জমার পর আপনি নিজে আর কিছু বদলাতে পারবেন না।
আইনের ২১ ধারায় জন্ম নিবন্ধনে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দিলে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনধিক ১ বছর কারাদণ্ড বা দুটোই হতে পারে। ভুল আবেদন বাতিল না করে অন্য তথ্যে দ্বিতীয় সনদ নিলে পরে দুটি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
৫. সংশোধন আবেদন বাতিল বা নামঞ্জুর হলে
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন বাতিল করার জন্যও আলাদা অনলাইন পথ আমরা পাইনি। সংশোধনের আবেদন যে কার্যালয় বা কর্মকর্তার কাছে যায়, ভুল জানাতে হবে তাঁদেরই। ধরুন, সুমি তার মায়ের নামের ইংরেজি বানান ঠিক করতে আবেদন করেছিল, কিন্তু ভুল করে বাবার নামের ঘর বদলে ফেলেছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনপত্র নম্বর নিয়ে কার্যালয়ে গিয়ে লিখিতভাবে জানানো আর সঠিক আবেদন কীভাবে করবে তা জেনে নেওয়াই পথ।
উল্টোটাও হয়। আপনি বাতিল চাননি, কিন্তু কার্যালয় আবেদন নামঞ্জুর করেছে। আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধকের আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়। ইউনিয়ন পরিষদের আদেশের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে, পৌরসভা, ক্যান্টনমেন্ট বা সিটি করপোরেশনের আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, আর দূতাবাসের আদেশের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে।
যে ফি জমা দিয়েছেন, আবেদন বাতিল হলে তা ফেরত পাওয়ার কোনো নিয়ম আমরা আইন বা বিধিমালায় পাইনি। নতুন আবেদনে আবার ফি লাগবে কি না, কার্যালয়ে জেনে নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাতিল করার নিয়ম কী?
jonmo nibondhon songsodhon abedon batil kora jay?
জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন ফরম কোথায় পাব?
অনলাইনে আবেদন করে কার্যালয়ে জমা না দিলে কি নিজে থেকে বাতিল হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।