
সংক্ষেপে
মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন করার জন্য আলাদা আবেদন লাগে না। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির কোথাও জন্ম নিবন্ধন না থাকলে, যে নিবন্ধক মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন নেন, তিনিই আগে তাঁর জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করে তারপর মৃত্যু নিবন্ধন করেন।
মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য এভাবে জন্ম নিবন্ধন করতে হলে সেই জন্ম নিবন্ধনে কোনো ফি নেই, বিধিমালার ফির তালিকায় শর্ত হিসেবে তা লেখা। শুধু মৃত্যু নিবন্ধনের ফি দেরির হিসাবে প্রযোজ্য হয়।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি অনলাইন ব্যবস্থা। মৃত ব্যক্তির ১৭ সংখ্যার নম্বর থাকলে এখান থেকেই শুরু।
এই লেখায়
১. মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন কেন দরকার হয়
বাবা মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর জমির নামজারি বা ব্যাংকের টাকা তুলতে গিয়ে অনেকে প্রথম শোনেন, মৃত্যু সনদ লাগবে। তারপর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে শোনেন, বাবার জন্ম নিবন্ধন নেই, তাই মৃত্যু নিবন্ধনও আটকে আছে।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তরে বিষয়টা সোজাসুজি লেখা: জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন করা যাবে না, আর মৃত্যু নিবন্ধন না হলে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা যাবে না। অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন ফরমও শুরু হয় মৃত ব্যক্তির ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে।
ফলে মারা যাওয়া মানুষের জন্ম নিবন্ধনটা করাতে হয় মৃত্যুর পরে, আর বিধিমালায় সেটা হয় মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গেই।
আবেদন করবেন কে, সেটাও আইনে বলা আছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা, অভিভাবক বা নির্ধারিত ব্যক্তি মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধকের কাছে মৃত্যুর তথ্য দিতে বাধ্য। ৯ ধারায় ইউপি সদস্য ও সচিব, গ্রাম পুলিশ, কাউন্সিলর, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আর গোরস্থান বা শ্মশানের তত্ত্বাবধায়কও নিবন্ধকের কাছে তথ্য পাঠাতে পারেন। পরিবারের কেউ সাধারণত সামনে থেকে কাজটা করেন, কারণ সনদ তাঁদেরই লাগে।
২. বিধিমালা কী বলে: তিনটি অবস্থা
| মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধনের অবস্থা | কী হবে |
|---|---|
| অনলাইনে ১৭ সংখ্যার নিবন্ধন আছে | সেই নম্বর দিয়ে BDRIS-এ মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন। আইনানুগ উত্তরাধিকারী চাইলে মৃত্যুর আগে যেখানে স্থায়ীভাবে থাকতেন, সেখানকার নিবন্ধকের কাছেও আবেদন করতে পারেন। |
| জন্ম নিবন্ধন হয়েছিল অন্য নিবন্ধকের এলাকায় | যে নিবন্ধক আবেদন পেলেন, তিনি সেটি জন্ম নিবন্ধনের কার্যালয়ে পাঠাবেন, বিধিমালার ১১ বিধিতে তা লেখা। |
| কোথাও জন্ম নিবন্ধন হয়নি | আবেদন গ্রহণকারী নিবন্ধক আগে জন্ম নিবন্ধন, তারপর মৃত্যু নিবন্ধন করবেন। এই জন্ম নিবন্ধনে ফি নেই। |
আরেকটা অবস্থা পুরোনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, হাতে লেখা নিবন্ধন এখন আর একই নম্বরে অনলাইনে তোলা যায় না। যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল, সেখানকার বইয়ে তথ্য পাওয়া গেলে নিবন্ধক সেই তথ্য দিয়ে অনলাইন নিবন্ধন করে দেবেন, তবে নম্বর বদলে যাবে।
৩. মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন কিভাবে করব: ধাপগুলো
- ১আগে খুঁজে দেখুন নিবন্ধন আছে কি নামৃত ব্যক্তির NID, পুরোনো জন্ম সনদ বা পাসপোর্টে জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকলে e-Verify পোর্টালে নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে মিলিয়ে দেখুন।
- ২নম্বর থাকলে অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনBDRIS-এর মৃত্যু নিবন্ধন মেনু থেকে আবেদন করুন, প্রিন্ট নিয়ে নিবন্ধক কার্যালয়ে জমা দিন।
- ৩নম্বর না থাকলে সরাসরি কার্যালয়েমৃত্যুর আগে তিনি যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের এলাকায় থাকতেন, সেখানকার নিবন্ধকের কাছে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন নিয়ে যান। বলুন যে তাঁর জন্ম নিবন্ধন নেই।
- ৪বয়স আর পরিচয়ের প্রমাণ দিনজন্ম নিবন্ধনের জন্য মৃত ব্যক্তির NID, শিক্ষা সনদ বা যে কাগজে জন্মতারিখ আছে, সেটি দিন। কোন কাগজ চলবে, সে সিদ্ধান্ত নিবন্ধকের।
- ৫সনদ বুঝে নিনকাগজ ঠিক থাকলে বিধিমালা অনুযায়ী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করে সনদ দেওয়ার কথা। জন্ম নিবন্ধনের নতুন নম্বরটিও লিখে রাখুন।
মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদনে যা লাগে
৪. ফি কত, কত দিন লাগে
বিধিমালার ২১ বিধির ফির তালিকায় শর্ত দেওয়া আছে, মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন হলে সেই জন্ম নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি প্রযোজ্য হবে না। ফি লাগবে শুধু মৃত্যু নিবন্ধনের, আর সেটা নির্ভর করে মৃত্যুর কত দিন পর আবেদন করছেন।
| মৃত্যুর পর আবেদন | মৃত্যু নিবন্ধনের ফি (দেশে) |
|---|---|
| ৪৫ দিনের মধ্যে | ফি নেই |
| ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর | ২৫ টাকা |
| ৫ বছর পরে | ৫০ টাকা |
| মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন (মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য) | ফি নেই |
ধরুন, বগুড়ার সেলিম রেজার বাবা ২০১৯ সালে মারা গেছেন, তাঁর কোনো জন্ম নিবন্ধন ছিল না। ২০২৬ সালে সেলিম নামজারির জন্য মৃত্যু সনদ চাইছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫ বছরের বেশি আগে, তাই মৃত্যু নিবন্ধনে ৫০ টাকা লাগবে, বাবার জন্ম নিবন্ধনে কিছু লাগবে না। ফি দিলে নির্ধারিত রসিদ নিতে হয়।
৫. ২০০৬ সালের আগে মারা গেলে, বা তথ্যে ভুল থাকলে
বিধিমালার ১১ বিধির শর্ত অনুযায়ী আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ, অর্থাৎ ২০০৬ সালের ৩ জুলাইয়ের আগে মারা যাওয়া কারও মৃত্যু নিবন্ধন এই আইন বা বিধিমালায় করা যায় না। তখন নামজারি, ওয়ারিশ সনদ বা ব্যাংকের কাজে মৃত্যুর কোন প্রমাণ চলবে, তা সংশ্লিষ্ট অফিসে জেনে নিন।
সেই সময়ের কারও শুধু জন্ম নিবন্ধন আলাদা করে করা যায় কি না, এ নিয়ে বিধিমালা বা রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রশ্নোত্তরে আমরা কিছু পাইনি। স্থানীয় নিবন্ধক কার্যালয়ই এ বিষয়ে বলতে পারবে।
মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সংশোধন দরকার হলে, যেমন নাম বা বাবার নাম ভুল, সংশোধন করতে হয় যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছে সেখান থেকে। বিধিমালার ফির তালিকায় জন্মতারিখ সংশোধনে ১০০ টাকা আর নাম, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানার মতো অন্য তথ্যে ৫০ টাকা।
৬. অনেকে যা জানতে চান
মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম কী?
মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধনে কত টাকা লাগে?
mrito bektir jonmo nibondhon online e kora jay?
মৃত বাবার পুরোনো হাতে লেখা জন্ম সনদ থাকলে কী হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।