
সংক্ষেপে
NID-তে শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়। পেশা বদলাতে লাগে প্রামাণিক কাগজ, আর আবেদন করা যায় অনলাইনে অথবা উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে।
পাস না করেও ভুল করে শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার বেশি লেখা থাকলে আলাদা পথ: ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামা করে তার কপিসহ আবেদন। এই দুই তথ্য কার্ডের সামনে দেখা যায় না বলে ফি হিসাবের পাতায় সাধারণত 'অন্যান্য তথ্য সংশোধন' ধরন বেছে নিতে হয়।
সংশোধনের আবেদন, ফি হিসাব আর আবেদনের অবস্থা এই নির্বাচন কমিশনের পোর্টালেই দেখা যায়।
এই লেখায়
১. NID শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন করতে কি কি লাগে
ভোটার হওয়ার সময় অনেকে তখনকার পড়াশোনার ঘরটাই লিখেছিলেন। কেউ তখন অষ্টম শ্রেণিতে, এখন স্নাতক। কারও ফরমে আবার অন্য কেউ ভুল ঘর বেছে দিয়েছিলেন। এই তথ্য বদলানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় কাগজের তালিকা দেওয়া আছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সেখানে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে। মানে আপনি যদি এখন স্নাতক পাস হন, তাহলে স্নাতকের সনদ বা মূল সনদ না পেলে যে কাগজ প্রতিষ্ঠান দিয়েছে, সেটির কপি। শুধু এসএসসি সনদ দিয়ে স্নাতক লেখানো যাবে না।
শিক্ষাগত যোগ্যতার আবেদনে হাতের কাছে রাখুন
২. nid পেশা পরিবর্তন: কার্ডে ছাপা হয় না, তবু ঠিক রাখা দরকার
পেশা নিয়ে পোর্টালের প্রশ্নোত্তর পরিষ্কার। প্রশ্নটা হুবহু এমন: আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই, কীভাবে করতে পারি। উত্তর হলো, অনলাইনে অথবা এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং, উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। সঙ্গে আলাদা করে লেখা আছে, আইডি কার্ডে এই তথ্য মুদ্রণ করা হয় না।
কার্ডে না থাকলেও তথ্যটা নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে থাকে। তাই চাকরি বদলেছেন, অবসরে গেছেন বা পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করেছেন, এমন হলে হালনাগাদ করে রাখা ভালো। পেশার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সনদের নাম পোর্টালে নেই। সাধারণ নিয়মে বলা আছে, সংশোধনের পক্ষে উপযুক্ত সনদ বা দলিলের সত্যায়িত কপি দিতে হবে।
| নতুন পেশা | যে কাগজ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে |
|---|---|
| সরকারি বা বেসরকারি চাকরি | নিয়োগপত্র বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র |
| ব্যবসা | নিজের নামে ট্রেড লাইসেন্স |
| শিক্ষার্থী | প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা অধ্যয়নের প্রত্যয়ন |
| অবসরপ্রাপ্ত | অবসরের আদেশ বা পেনশন বইয়ের কপি |
| গৃহিণী বা কৃষিকাজ | কোন কাগজ চলবে, উপজেলা নির্বাচন অফিসে আগে জেনে নিন |
পোর্টাল শুধু প্রামাণিক কাগজের কথা বলেছে, পেশাভিত্তিক তালিকা দেয়নি। ওপরের কাগজগুলো সাধারণ উদাহরণ। আপনার ক্ষেত্রে কোনটা গ্রহণযোগ্য, সেটা অফিসের সিদ্ধান্ত।
৩. পাস না করেও শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি লেখা থাকলে
উল্টো সমস্যাটা বেশি জটিল। কেউ এসএসসি দেননি বা পাস করেননি, অথচ NID-তে লেখা এসএসসি বা তার বেশি। পরে এসএসসি সনদ চাইলে দেখাতে পারেন না, আর জন্মতারিখ বা নামের অন্য সংশোধনেও প্রশ্ন ওঠে। পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে এই ঘটনার জন্য আলাদা উত্তর আছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসএসসি পাস করেননি মর্মে হলফনামা করে তার কপিসহ আবেদন করলে সংশোধন করা যাবে। হলফনামার খরচ বা স্ট্যাম্পের অঙ্ক পোর্টালে নেই, তাই সেটি আদালত এলাকায় নোটারি বা আইনজীবীর কাছ থেকে জেনে নিন।
ধরুন, নেত্রকোনার তাহমিনা আক্তার নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। ভোটার হওয়ার সময় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা হয়েছিল এসএসসি। এখন তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামা করতে হবে, তারপর সেই কপি দিয়ে সংশোধনের আবেদন। নবম শ্রেণির প্রমাণ হিসেবে স্কুলের প্রত্যয়ন থাকলে সেটাও সঙ্গে রাখা ভালো, তবে পোর্টালের উত্তরে মূল কাগজ হলফনামাই।
৪. অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
- ১পোর্টালে নিবন্ধন বা লগইনNID সেবা পোর্টালে আগে অ্যাকাউন্ট না থাকলে রেজিস্টার অংশ থেকে অ্যাকাউন্ট খুলুন। পোর্টালের নির্দেশনায় বলা আছে, নিবন্ধনের পর কার্ডের তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন বা হালনাগাদের আবেদন করা যায়।
- ২ফি হিসাব করে নিনপোর্টালের ফিস পাতায় NID নম্বর দিয়ে আবেদনের ধরন বেছে নিন। শুধু পেশা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা হলে 'অন্যান্য তথ্য সংশোধন', সঙ্গে নামের মতো কার্ডের তথ্যও বদলালে 'জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন'। যে অঙ্ক দেখায়, সেটাই দিন।
- ৩সঠিক ঘরে নতুন তথ্য লিখুনসংশোধনের ঘরে শুধু যে তথ্য বদলাবেন, সেটাই লিখুন। শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখুন সনদে যেভাবে আছে, পেশা লিখুন যা এখন করছেন।
- ৪কাগজ আপলোড করুনসনদ, প্রত্যয়ন বা হলফনামার স্ক্যান কপি দিন। ঝাপসা ছবি দিলে আবেদন আটকে যেতে পারে।
- ৫দরকার হলে অফিসে যানউপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস মূল কাগজ বা সত্যায়িত কপি দেখতে চাইতে পারে। ডাক পেলে সেগুলো নিয়ে যান।
অনলাইনে না পারলে নির্বাচন কমিশনের সংশোধন ফরম-২ পূরণ করে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া যায়। ফরমের সংশোধনের ছকে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানার পাশাপাশি অন্যান্য নামে একটি ঘর আছে, শিক্ষা বা পেশার তথ্য সেখানেই লিখতে হয়।
৫. আবেদন না টিকলে বা আবার বদলাতে চাইলে
পোর্টালের নিয়মে এক তথ্য শুধু একবার সংশোধন করা যায়, আর যুক্তিসংগত না হলে কোনো সংশোধন গ্রহণ করা হয় না। তাই এখন স্নাতক চলছে বলে তাড়াহুড়ো করে স্নাতক লিখে দেবেন না। সনদ হাতে আসার পর আবেদন করলে প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না।
- অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী বাতিল বলে গণ্য হয়, তাই কাগজ আর তথ্য মিলিয়ে তবেই জমা দিন।
- সব সংশোধনের রেকর্ড কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে থেকে যায়।
- আবেদনের অবস্থা দেখতে NID পোর্টালে লগইন করুন, বা হেল্পলাইন ১০৫-এ ফোন করুন।
- অফিসে কেউ ফির বাইরে টাকা চাইলে উপজেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে লিখিত জানান।
যে পরীক্ষার সনদ আপনার হাতে নেই, সেটি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে লেখালে পরে সেটি বাদ দিতে হলফনামা আর আদালতের ঝামেলা লাগে। যে পরীক্ষার সনদ হাতে আছে, সেটাই লিখুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
nid শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন করতে কি কি লাগে?
এনআইডি কার্ডে পেশা কি দেখা যায়?
nid card shikkhagoto joggota vul thakle ki korbo?
শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের ফি কত?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।