আয়কর ও ই-টিআইএন

সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর এখন অগ্রিম কর: প্রত্যয়নপত্র, রিটার্নে সমন্বয় আর কর ফেরত

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬এনবিআর কল সেন্টার ০৯৬৪৩ ৭১৭১৭১etaxnbr.gov.bd
সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর এখন অগ্রিম কর: প্রত্যয়নপত্র, রিটার্নে সমন্বয় আর কর ফেরত

সংক্ষেপে

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে যে কর কেটে রাখা হয়, আগে সেটিই ছিল চূড়ান্ত কর। প্রথম আলোর ১৮ জুলাই ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন এই উৎসে কাটা কর চূড়ান্ত কর দায় নয়, বছর শেষে রিটার্নে সমন্বয় করা যায়। বেশি কাটা গেলে বাড়তি অংশ ফেরত পাওয়া যায়, আর প্রকৃত কর বেশি হলে বাকিটা দিতে হয়।

সমন্বয়ের জন্য দরকার উৎসে কর কর্তনের প্রত্যয়নপত্র। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মুনাফা থেকে কাটা করের প্রত্যয়নপত্র জেলা সঞ্চয় অফিস, ব্যুরো ও বিশেষ ব্যুরো অফিস থেকে দেওয়া হচ্ছে। ফেরত পেতে রিটার্ন দাখিল করতে হয়, আর রিটার্নে নিজের ব্যাংক হিসাবের নম্বর দিতে হয়।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিল

NBR-এর ই-রিটার্ন সিস্টেমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, উৎসে কাটা কর আর ফেরতের দাবি দেখানো যায়।

e-Return খুলুন
এই লেখায়
  1. কী বদলেছে
  2. কারা ফেরত পেতে পারেন, কাদের বাড়তি কর লাগতে পারে
  3. উৎসে কর প্রত্যয়নপত্র কোথায় পাবেন
  4. ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্র দেখাবেন যেভাবে
  5. কেনার সময় TIN আর রিটার্নের প্রমাণ
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. কী বদলেছে

আগের নিয়মে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর কাটার পর ওই আয় নিয়ে আর আলাদা হিসাব করতে হতো না, কাটা করই ছিল শেষ কথা। এখন এই মুনাফা মোট আয়ের সঙ্গে যোগ হয়, তার ওপর আপনার প্রকৃত কর হিসাব হয়, আর উৎসে কাটা কর সেই দায় থেকে বাদ যায়।

প্রথম আলোর উদাহরণটি এমন: বছরে ৩০ হাজার টাকা কর কাটা হয়েছে, কিন্তু সব হিসাব শেষে আপনার কর দাঁড়াল ২০ হাজার টাকা। তাহলে বাকি ১০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার যোগ্য। উল্টোটা হলে, অর্থাৎ আয় বেশি হওয়ায় প্রকৃত কর কাটা করের চেয়ে বেশি হলে, পার্থক্যটা রিটার্নের সময় দিতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমান আয়কর আইনে সঞ্চয়পত্রে অগ্রিম কর ১০ শতাংশ। আপনার কাছ থেকে ঠিক কত কাটা হয়েছে, তা দেখবেন প্রত্যয়নপত্রে।

হিসাবের ধাপপ্রথম আলোর উদাহরণ
বছরে মুনাফা থেকে কাটা কর৩০,০০০ টাকা
রিটার্নে সব আয় যোগ করে, রেয়াত বাদ দিয়ে প্রকৃত কর২০,০০০ টাকা
ফেরতযোগ্য অঙ্ক১০,০০০ টাকা

২. কারা ফেরত পেতে পারেন, কাদের বাড়তি কর লাগতে পারে

  • আয় করমুক্ত সীমার নিচে, কিন্তু মুনাফা থেকে কর কাটা হয়েছে: রিটার্ন দিলে কাটা কর ফেরতের সুযোগ আছে। ২০২৬-২৭ করবর্ষে সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা।
  • অবসরপ্রাপ্ত, গৃহিণী বা প্রবীণ, যাঁদের আয়ের বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা: মোট আয় কম হলে প্রকৃত কর কাটা করের চেয়ে কম দাঁড়াতে পারে, তাই হিসাব করে দেখুন।
  • বেশি আয়ের করদাতা, যাঁদের আয়ের শেষ ধাপে করহার ১০ শতাংশের বেশি: মুনাফা মোট আয়ে যোগ হওয়ায় কাটা করের চেয়ে বেশি কর দিতে হতে পারে।
ফেরত নিজে থেকে আসে না

কর ফেরত পেতে রিটার্ন দাখিল করতে হয়, রিটার্নে ব্যাংক হিসাবের নম্বর দিতে হয় আর কাটা করের কাগজ জমা দিতে হয়। প্রথম আলো জানিয়েছে, কর কর্মকর্তারা যাচাই করে ১২০ দিনের মধ্যে টাকা ব্যাংক হিসাবে পাঠান।

৩. উৎসে কর প্রত্যয়নপত্র কোথায় পাবেন

  • ১
    নিজের সঞ্চয় অফিসে যানযে জেলা সঞ্চয় অফিস, ব্যুরো বা বিশেষ ব্যুরো অফিসের আওতায় আপনার সঞ্চয়পত্র, সেখানে যান। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রত্যয়নপত্র এসব অফিস থেকে বিতরণ হচ্ছে।
  • ২
    সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য রাখুনসঞ্চয়পত্রের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা ক্রয়ের কাগজ, NID আর যে মোবাইল নম্বর দিয়ে কিনেছেন সেটি সঙ্গে রাখুন, তাতে অফিস দ্রুত আপনার হিসাব খুঁজে পায়।
  • ৩
    অনলাইনে বিনিয়োগের তথ্য মিলিয়ে নিনজাতীয় সঞ্চয় স্কিমের স্ব-সেবা সিস্টেমে ধারকের NID, পাসপোর্ট বা TIN নম্বর, জন্মতারিখ আর মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন-ইন করে বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য দেখা ও নামানো যায়। প্রত্যয়নপত্র এখান থেকে মেলে কি না অধিদপ্তর আলাদা করে বলেনি, তাই প্রত্যয়নপত্রের জন্য অফিসে যাওয়াই নিরাপদ।
  • ৪
    অঙ্কগুলো মিলিয়ে নিনপ্রত্যয়নপত্রে মুনাফার অঙ্ক আর কাটা করের অঙ্ক আপনার ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া মুনাফার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। গরমিল থাকলে অফিসেই ঠিক করিয়ে নিন।

৪. ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্র দেখাবেন যেভাবে

  • Income অংশে মুনাফা দেখান। অনলাইনে কেনা সঞ্চয়পত্রের তথ্য Import from NSD চাপলে নিজে থেকে চলে আসে। ২০১৯ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের তথ্য নিজে লিখতে হয়।
  • উৎসে কাটা কর দাবি করুন। Tax & Payment পাতায় Update Tax Payment Status চাপলে e-Return Ledger খোলে, সেখানে সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর দাবি করা যায়।
  • নতুন বিনিয়োগ থাকলে রেয়াতের ঘরে দিন। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের মধ্যে পড়ে, সীমা আর হিসাবের নিয়ম আমাদের করহারের লেখায় আছে।
  • সম্পদের বিবরণীতে সঞ্চয়পত্রের মূল বিনিয়োগ দেখান, যাতে বছরের আয় আর সম্পদের হিসাব মেলে।
  • ফেরত চাইলে নিজের নামের ব্যাংক হিসাবের নম্বর দিন।

রিটার্ন দেওয়ার আগে যা জোগাড় করবেন

৫. কেনার সময় TIN আর রিটার্নের প্রমাণ

প্রথম আলো জানিয়েছে, বর্তমান নিয়মে ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে TIN বাধ্যতামূলক। ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে রিটার্ন জমার প্রমাণ বা PSR-ও দেখাতে হয়। তাই বড় অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কেনার আগে TIN আর চলতি বছরের রিটার্ন গুছিয়ে রাখুন।

সারা বছরই এখন রিটার্ন দেওয়া যায়। তবে দেরিতে দিলে বাড়তি কর লাগতে পারে, আর ফেরতের টাকাও দেরিতে আসে। প্রত্যয়নপত্র হাতে পেলেই রিটার্নের কাজ সেরে ফেলুন।

প্রথম আলো আরও জানিয়েছে, জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, সর্বোচ্চ হার প্রায় ১১.৭৭ থেকে ১১.৯৮ শতাংশ। হার বদলালেও উৎসে কাটা করের সমন্বয়ের নিয়ম একই থাকবে, তবে নতুন কেনার আগে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ হার দেখে নিন।

৬. অনেকে যা জানতে চান

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কি করমুক্ত?
না। মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়। এখন সেই কর চূড়ান্ত নয়, রিটার্নে মোট আয়ের সঙ্গে হিসাব করে সমন্বয় হয়।
আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে কি কাটা টাকা ফেরত পাব?
রিটার্ন দাখিল করে প্রত্যয়নপত্রসহ দাবি করলে ফেরতের সুযোগ আছে। কর কর্মকর্তারা যাচাই করে ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠান।
উৎসে কর প্রত্যয়নপত্র কি অনলাইনে পাওয়া যায়?
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জেলা সঞ্চয় অফিস, ব্যুরো ও বিশেষ ব্যুরো অফিস থেকে বিতরণের কথা বলেছে। স্ব-সেবা সিস্টেমে বিনিয়োগের তথ্য দেখা ও নামানো যায়।
সঞ্চয়পত্রে কত শতাংশ কর কাটা হয়?
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমান আইনে অগ্রিম কর ১০ শতাংশ। আপনার ক্ষেত্রে কত কাটা হয়েছে, প্রত্যয়নপত্রে দেখুন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
আয়কর

জিরো রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম আসলে নেই: আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে যা করবেন

সব ঘরে শূন্য লিখে রিটার্ন দেওয়া দণ্ডনীয়। আয় সীমার নিচে হলে কর লাগে না, তবে প্রকৃত আয়, খরচ আর সম্পদ দেখাতে হয়।
আয়কর

টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার নিয়ম: কখন করা যায়, কোথায় আবেদন, কী শর্ত

আয় না থাকা, মৃত্যু, দেশ ছাড়া বা ডুপ্লিকেট TIN: আইনের ২৬২ ধারায় যেসব কারণে বাতিল চাওয়া যায়, আর যে শর্তে কর অফিস রাজি হয়।

অনেকে খোঁজেন